বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমার নানুর নানার বাবার ফুফুর বয়স তখন ৬ বছর । দেখতে অপরূপ সুন্দরী । একদম পরিদের মতন ।
আগেকার বউয়েরা বাড়ির বাইরে যেতো না । একদিন দুপুরে মেয়েটির মা মেয়েকে বললেন মাঠে গিয়ে ছাগল টা নিয়ে আসতে ।
ছোট মেয়ে তাই যেতে চাইল না । তখন মা বললেন, " তুই যা আমি এখানে আছি " । তখন মেয়েটি মাঠে গেল ।
ছাগলের দড়ি হাতে নিয়েই মেয়েটি চমকে উঠলো । সে দেখলো তার সামনে ৭ টি মেয়ে দাড়িয়ে আছে । তাদেরকে দেখে মেয়েটি ভয় পেলো । সেই ৭ জন মেয়ে ছোট মেয়েকে বলল, তুমি ভয় পেয়ো না । আমরা পরি । আমরা তোমার সাথে বন্ধুত্ব করতে এসেছি । তুমি আমাদের বন্ধু হবে?
মেয়েটি কি বলবে বুঝতে না পেরে বলল, আমি আমার মা কে জিজ্ঞাসা করে আসি । তখন পরিরা বলল, ঠিক আছে । তুমি যাও । আমরা অপেক্ষা করছি ।
মেয়েটি তার মাকে এসে বলল, মা ওখানে পরিরা এসেছে । ওরা বলছে আমার সাথে বন্ধুত্ব করবে । আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করতে এসেছি ।
মেয়েটির মা ভাবলেন, এখন যদি উনি মেয়েকে বারণ করেন তাহলে পরিরা রাগ করে উনার মেয়েকে মেরে ফেলতে পারে । তাই তিনি রাজি হলেন ।
মেয়েটিও এসে পরিদের বলল যে তার মা রাজি । এটা শুনে পরিরা ভীষণ খুশি হলো । তারা মেয়েটিকে বলল, আগামী মঙ্গল বার তোমাদের পুকুর পাড়ের কদম তলার নিচে আসবে । আমরা ওখানে বন্ধুত্ব করবো । তোমার মা কে বলবে তোমাকে সুন্দর করে সাজিয়ে দিতে ।
মঙ্গল বারে মেয়েটিকে তার মা সুন্দর করে সাজিয়ে বাজার থেকে মিস্টি কিনে দিয়ে কদম তলায় পাঠালেন ।
.
পরিরাও মিষ্টি, কাঁচা লবঙ্গ, এলাচি নিয়ে কদম তলায় আসলো । সারাদিন অনেক খেলা করে পরিরা মেয়েটিকে মিষ্টি, কাঁচা লবঙ্গ এলাচি দিয়ে বলল, এগুলো বাড়ির সবাইকে নিয়ে খেয়ো আমরা প্রতি মঙ্গলবার এখানে এসে খেলা করবো ।
.
মেয়েটিও তাদের কথা মতো মিষ্টি, কাঁচা লবঙ্গ এলাচি এনে সবাইকে দিল । এইগুলো সবাই দেখে বিশ্বাস করলো যে সত্যি সত্যি পরিরা এসেছে । কেননা কাঁচা লবঙ্গ এলাচি শুধু পরিস্থানেই ছিল । ( ভারতের কাশ্মীর ছিল পরিস্থান )
এভাবে কয়েক দিন কেটে যায় । একদিন মেয়েটির ভাবি মেয়েটিকে বলে, তুমি নাকি পরির সাথে বন্ধুত্ব করেছো? একদিন তো পরি দেখালে না ।
মেয়েটি পরে পরিদের বলল এই কথা । পরিরা বলল, তোমার ভাবিকে বলিও পরি আসবে ।
তারপর একদিন বিকেল বেলা মেয়েটির ভাবি উঠান ঝাড়ু দিচ্ছিলেন । হঠাৎ একটা বিশাল পাখি ভাবির নাক থেকে নোলক ছু মেরে নিয়ে গাছের ডালে বসে রইল । এতো বড় পাখি দেখে সবাই বুঝতে পারলো এটা পরি ।
.
এদিকে বছর বাড়ার সাথে সাথে মেয়ের বয়স ও বাড়তে লাগলো । কিন্তু মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব আসে না । মেয়ের বদনাম বেরুতে লাগলো । এত সুন্দরী মেয়ে ।। ১০ বছর পার হয়ে ১২ বছরে পা দিতে চলল । এই মেয়ের কেন বিয়ে হয় না??
মেয়ের মা ঠিক বুঝতে পারলেন পরিরা বিয়ে হতে দিচ্ছে না । একদিন মেয়েটির মা মেয়েটিকে বললেন, তুই তোর পরিদের বলিস আমি তাদের সাথে কথা বলতে চাই ।
মেয়েটি পরিদের কাছে অনুমতি চাইলো মাকে দেখা করাবার । পরিরাও অনুমতি দিল ।
মেয়ের মা পরিদের সাথে দেখা করতে গেলে পরিরা বলল, জ্বি মা বলুন কি বলতে চান আপনি আমাদের?
মেয়ের মা বলল,, তোমরা ও তো আমার মেয়ে । আর ওতো তোমাদেরই বোন । তোমরা কেন ওর বিয়ে হতে দিচ্ছ না?
--- মা ওর যে বিয়ে হবে না ।
---- ওর তো ছোট একটা বোনও আছে । ওই মেয়েকেও তো বিয়ে দিতে হবে ।
---- আপনি ছোট মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিন ।
--- বড় মেয়েকে রেখে ছোট মেয়েকে বিয়ে দিবো কি করে? বড় মেয়ের যে বদনাম বেরুবে । তোমরা ওর বিয়ে হওয়ার ব্যবস্থা করো ।
--- ঠিক আছে বিয়ে হবে । কিন্তু কোনো সন্তান থাকবে না । আর যেখানেই বিয়ে দিবেন আমাদের কথা জানিয়ে দিবেন । আমরা এখন প্রতি সপ্তাহে আসি দেখা করতে কিন্তু বিয়ের পর প্রতি মাসে একবার আসবো । রাতে ডাক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে । কেউ বাধা দিতে পারবে না ।
---- ঠিক আছে । তাই হবে ।
.
পরদিনই একটি প্রস্তাব এলো মেয়েটির জন্য । তারা সব শর্ত মেনে নিলো । অনেক ধুম ধাম করে বিয়ে হলো ।
.
বিয়ের পর পরিরা মেয়েটির শ্বশুর বাড়ি মাসে এক বার যেতো । মাঝ রাতে ডাক দিলে মেয়েটি ঘর থেকে বেরিয়ে আসতো ।
একদিন মেয়েটির শ্বশুড়ি আর ননদ মেয়েটিকে বলে, তুমি যদি সত্যি সত্যি পরিদের সাথে বন্ধুত্ব করে থাকো তাহলে আমাদেরকে কাঁচা লবঙ্গ এলাচি দেখাও । মেয়েটি ও পরিদের কাছ থেকে কাঁচা লবঙ্গ এলাচি এনে দেখালো ।
আরও কিছু দিন পর মেয়েটির শ্বশুড়ি বলে, তুমি যদি আমাদের ডুমুরের ফুল দেখাতে পারো তাহলে বিশ্বাস করবো ।
মেয়েটি এই কথা পরিদের বলল । তখন পরিরা মেয়েটিকে বলল, তুমি গোসল করে ভেজা কাপড় গায়ে রেখে একটি ডুমুরের গাছ থেকে শ্বাস বন্ধ করে এক কোপে একটা ডাল কেটে ঘরের এক কোনে গেঁথে দিবে । রাতে আমরা তোমাকে ডাক দিলে দেখবে ডালের মধ্যে বড় একটা ফুল ফুটে আছে । তখন তুমি সবাইকে ডেকে দেখাবে ।
.
মেয়েটি ও পরিদের কথা মত কাজ করলো । মাঝ রাতে পরিরা মেয়েটিকে ডাক দিতেই মেয়েটি উঠে দেখে সত্যি সত্যি ফুট ফোটে আছে । মেয়েটি তার শ্বশুর বাড়ির সবাইকে দেখলো ডুমুরের ফুল ।
.
এইভাবে কেটে যায় বছর । কিন্তু কোনো বাচ্চা নেই তাদের । আস্তে আস্তে মেয়েটির উপর অত্যাচার শুরু হয় । ঘরে বাইরে সব কাজ করায় । তারা বলে, আমরা শুধু কলা গাছ দিয়ে কি করবো? সুন্দর দেখে আমাদের চলবে না । আমাদের বংশ বাড়াতে হবে ।
দিন নেই রাত নেই মেয়েটির উপর অত্যাচার চলতে থাকে ।
.
এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে একদিন মেয়েটি পরিদের সব বলল ।
পরিরা তখন খুব রাগ করলো । কারণ বাচ্চা থাকবে না সেটা বিয়ের আগেই বলা হয়েছিল । পরিদর শর্ত ভঙ্গ করছে তারা । তারপর পরিরা বলল, ঠিক আছে বাচ্চা হবে । একটা ছেলে হবে । কিন্তু ছেলেটা বাঁচবে না ।
এরপর ঠিক ঠিকই একটা ছেলে জন্ম নিলো । কিন্তু ছেলেটি জন্মের সাথে সাথেই মারা গেল । তার কিছুক্ষণ পর মেয়েটিও মারা গেল । মুলত পরিরা রাগ করে তাদের কে মেরেছে । একে একে মেয়েটির শ্বশুর বাড়ির সবাইকে পরিরা মেরে ফেলল ।
তার পর থেকে রাতে গ্রামের মধ্যে ঘোড়ার খুড়ের শব্দ শুনা যেতো । কিন্তু কেউ কোনোদিন ঘোড়া দেখতে পেলো না ।
.
ঐ গ্রামের এক বৌ শ্বাশুড়ি রাতে চিড়া ভাজছিল । সারা রাত চিড়া ভাজার পরও তাদের ঝুড়ি ভরে না । এর পর বৌ চিড়া ঝুড়িতে রাখতে গিয়ে দেখে একটা বিশাল ঘোড়া । বিভিন্ন রঙের রং সেই ঘোড়ার গায়ে । এটা দেখে বৌ চিৎকার দিয়ে সাথে সাথে মারা গেল । তারপর থেকে গ্রামের এক পাশ থেকে মরা শুরু হলো । গ্রামের ছোট বড় সবাই মারা যেতে লাগলো ।
.
অনেক অনেক বছর সেই গ্রামে কেউ বসবাস করতে পারে নি। তবে এখন সেখানে মানুষ বসবাস করে ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now