বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ছায়াশহর

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X ৩ য় পর্ব বড়ই নির্জন পরিবেশ, ভাবলাম। আর গাছের ছায়ায় ঢাকা। সবগুলো বাড়ি বড় বড় গাছে ঘেরা। গাছের ঘন পাতা অন্ধকার করে রেখেছে। রোদ যেটুকু দেখো যাচ্ছে, রাস্তাতেই দেখা যাচ্ছে। সোনালী সরু একটা আঁকাবাঁকা ফিতের মতো পড়ে রয়েছে দু'পাশের ঘন ছায়ার মাঝখানে। এত অন্ধকার! জায়গাটার নাম গ্রীন ভ্যালি না রেখে ডার্ক ভ্যালি বা ব্ল্যাক ভ্যালি রাখলে ভাল হতো, মনে মনে ভাবলাম। " গেল কোথায় ছেলেটা?" তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বাইরের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করলেন বাবা। " আমি ওকে মেরেই ফেলব আজ, দেখো", এই কথাটা এর আগেও অনেকবার বলেছেন মা। প্রচণ্ড রেগে গেলে উনি এই কথাটাই বার বার বলেন। পুরো ব্লকে দুবার চক্কর মারলাম আমরা। সুজার ছায়াও কোথাও নজরে পড়ল না। পরের কয়েকটা ব্লকও ঘুরে দেখার কথা বললেন মিঃ জোনস। নীরবে মাথা ঝাঁকালেন বাবা। পথের একটা মোড় ঘুরতেই লাল ইঁটে তৈরি একটা উঁচু বিল্ডিং দেখা গেল। মিঃ জোনস সেটা দেখিয়ে বললেন, " ওই যে স্কুল।" অনেক পুরনো আমলের বাড়ি। বিশাল দরজার দুপাশে মোটা মোটা থাম। মিঃ জোনস বললেন, " অবশ্য স্কুল এখন বন্ধ।" তাই হবে, কারণ স্কুলটা একেবারে খাঁ খাঁ, কাউকে নজরে পড়ল না। স্কুলের পেছনে বেড়া দেওয়া খেলার মাঠটা নজরে পড়ল। ওটাও খাঁ খাঁ বিরাণ, কেউ নেই কোথাও। এত দূর এত তাড়াতাড়ি চলে এসেছে সুজা?", তীক্ষ্ণ হল মায়ের কণ্ঠস্বর। " ও কি আর হেঁটে চলে?", বাবা ব্যঙ্গ ভরে বললেন, " ও তো ওড়ে।" " চিন্তা করবেন না", মিঃ জোনস বললেন, " ওকে খুঁজে বের করবই আমরা"। স্টিয়ারিং হুইলে তাঁর আঙুলগুলো চেপে বসল। আরেকটা ছায়ায় ঢাকা ব্লকের মোড় ঘুরলাম আমরা। রাস্তায় সাইনবোর্ড চোখে পড়ল, লেখা আছে : ' সিমেট্রি ড্রাইভ '। " গোরস্থানের রাস্তা"! আপনমনে বিড়বিড় করলাম আমি। মস্ত এক গোরস্তান চোখে পড়ল। নীচু এক পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ওপর দিকে উঠে গেছে সারি সারি কবরফলক। গোড়ার দিকে একটা চ্যাপ্টা উঁচু হয়ে থাকা সমতল জায়গাতেও অসংখ্য কবরফলক আর স্মৃতিস্তম্ভ নজরে পড়ছে। প্রচুর ঝোপঝাড় আছে গোরস্থানে, তবে বড় গাছ তেমন নেই। ধীরেধীরে গোরস্থানের পাশ দিয়ে এগোল আমাদের গাড়ি। বাঁ পাশে দ্রুত সরে যাচ্ছে কবরফলকগুলো, আবছা ঝিলিকের মতো লাগছে। সারা শহরের মধ্যে একমাত্র এই জায়গাটিতেই যা রোদ আছে। "ওই যে আপনাদের ছেলে!", গাড়ি থেকে হাত বের করে দেখালেন মিঃ জোনস। ব্রেক কষে গাড়ি দাঁড় করিয়ে দিলেন। " উফ, বাঁচা গেল!", চেঁচিয়ে বলে উঠলেন মা। আমার পাশে কাত হয়ে সরে এসে জানলার বাইরে তাকালেন। নীচু, সাদা রঙ করা একসারি কবর ফলকের পাশ দিয়ে কেমন খ্যাপার মতো দৌড়ে চলেছে সুজা। " এখানে কি করছে ও?", অবাক হয়ে যেন নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করলাম। পাশের দরজাটা ঠেলে খুলে নেমে এলাম। গাড়ি থেকে নামলাম। ঘাস মারিয়ে এগিয়ে গেলাম কয়েক কদম। চিৎকার করে ডাকলাম ওকে। আমার ডাকে সাড়া দিল না সুজা। কবরফলকগুলোর পাশ দিয়ে দৌড়নোর সময় মাঝেমাঝে নীচের দিকে ঝুঁকে কি যেন দেখছে। এ রকম করছে কেন? আরও কয়েক পা এগোলাম। তারপরেই যেন প্রচণ্ড এক ধাক্কা খেয়ে থেমে গেলাম। ভয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। ওভাবে পাগলের মতো দৌড়নোর কারণটা বুঝে গেছি। কেউ যেন তাড়া করেছে ওকে! আবার কয়েক পা এগোলাম। নজর আমার সুজার দিকে। আবার ও নীচু হয়ে কি যেন দেখল। দিক পরিবর্তন করল। তারপর আবার দু হাত সামনে বাড়িয়ে ছুটতে লাগল। তারপরেই বুঝলাম, উল্টো ভেবেছি আমি। আসলে সুজাকে কেউ তাড়া করেনি। সুজাই কাউকে তাড়া করেছে বা ধরতে চাইছে। নিশ্চয় কিটুকে। "হুঁ!", বুঝলাম। মা'ও বলেন, মাঝে মাঝে আমার অতিকল্পনা মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। তবে এরকম একটা সময়ে নিজের ভাইকে গোরস্থানের মধ্যে দিয়ে ওভাবে ছুটতে দেখলে ভয় পাওয়াই স্বাভাবিক। আবার সুজার নাম ধরে ডাকলাম। এবার আমার গলা শুনতে পেল ও। ফিরে তাকাল। উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছে ওকে। চেঁচিয়ে বলল, " ভাইয়া জলদি এসো। আমি একা পারছি না।" " সুজা, কি হয়েছে?" ছুটতে ছুটতে আমি জিজ্ঞেস করলাম ওকে। কিন্তু আমি যতজোরে দৌড়ই, ও তত জোরে দৌড়ে আমার কাছ থেকে দূরে সরে যায়। " জলদি এসো! ", চেঁচিয়ে বলল সুজা। " ও ওভাবে দৌড়চ্ছে কেন?" বাবার চিৎকার শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখি আমার ঠিক পেছনেই বাবা। মা ও আসছেন বাবার ঠিক পেছনে। " কিটুকে ধরতে পারছি না", চেঁচিয়ে বলল সুজা, " আমি ওকে ধরতে পারছি না। মাঝখানে একবার ধরেছিলাম, হাত ছাড়িয়ে ছুটে পালিয়ে গেল।" " কিটু, কিটু!" বাবাও চেঁচিয়ে ডাকলেন এবার কুকুরটাকে। কিন্তু কিটু ঘুরেও তাকাল না। কবরফলকগুলো শুঁকে শুঁকে দেখে ছুটে বেড়াতে লাগল। সুজার কাছে পৌঁছে গেলেন বাবা। বললেন, " এখানে এলে কিভাবে?" " কিটুর পিছু নিয়ে", ভীষণ উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছে সুজাকে, " বাগানে ঘোরাফেরা করতে করতে হঠাৎ উঠে দৌড় দিল। কত ডাকলাম, ঘুরেও তাকাল না। সোজা এখানে চলে এল। আমাকেও ওর পেছু পেছু আসতে হল। ভয় পাচ্ছিলাম, আমি না এলে হারিয়ে যাবে।" কিটুকে ধরতে এগিয়ে গেলেন বাবা। সুজা হাঁফাতে হাঁফাতে বলল, " ওই হাঁদা কুকুরটার কি হয়েছে, জানি না। অদ্ভুত আচরণ করছে।" বাবাও অনেক চেষ্টার পর ধরতে পারলেন কিটুকে। কোলে তুলে নিলেন। খুদে টেরিয়ারটা কুঁকড়ে, শরীর মুচড়ে নেমে যেতে চাইল বাবার কোল থেকে। কিন্তু বাবা কোনওমতেই ছাড়লেন না, শক্ত করে ধরে রাখলেন। দল বেঁধে গাড়ির কাছে ফিরে এলাম আমরা। গাড়ির গায়ে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন মিঃ জোনস। বললেন, " ওটার গলায় শেকল পরিয়ে দাও।" " শেকল তো আমরা ওকে কোনওদিন পরাই নি", গাড়ির পেছনের সিটে উঠে বসতে বসতে বলল সুজা। " তবে এখন মনে হচ্ছে লাগাতে হবে", বাবা বললেন, " এভাবে বার বার যদি দৌড়ে পালায়, তাহলে তো বিপদ! কে ওকে খুঁজবে এত!" রাগ করে পেছনের সিটে ওকে প্রায় ছুঁড়ে ফেললেন বাবা। সুজা ওকে কোলে তুলে নিল। বিনা প্রতিবাদে ওর কোলে গুটিসুটি মেরে রইল কিটু। কিটুর মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে দিলাম আমি। গাড়িতে উঠলাম সবাই। আমাদের সঙ্গে নিয়ে মিঃ জোনস তাঁর অফিসে নিয়ে চললেন। এরকম দৌড়ে পালাতে চাইল কেন কুকুরটা? আমার অবাক লাগছে। এর আগে তো কখনো ও এমন অস্বাভাবিক আচরণ করে নি! আমার মনে হলো, নতুন জায়গাটা ওরও পছন্দ হয়নি। সারাটা জীবন আমাদেরই মতো একটা বাড়িতে থেকেছে ও। ওখান থেকে চলে এসে হয়ত ওর সুজার মতোই খারাপ লাগছে, এই অপরিচিত পরিবেশ সহ্য করতে পারছে না। নতুন বাড়িঘর, নতুন রাস্তা, নতুন নতুন গন্ধ,,,,,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ছায়াশহর—০৬
→ ছায়াশহর
→ ছায়াশহর
→ ছায়াশহর
→ ছায়াশহর (পর্ব ১৩ এবং শেষ)
→ ছায়াশহর—১২
→ ছায়াশহর—১১
→ ছায়াশহর—১০
→ ছায়াশহর—১০
→ ছায়াশহর—০৯
→ ছায়াশহর—০৮
→ ছায়াশহর—০৭
→ ছায়াশহর—০৫
→ ছায়াশহর—০৪

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now