বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ইব্রাহীম ( আ )

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X ইব্রাহীম ( আ ) এর কাহিনী কোরআন শরীফের বহু সূরায় প্রসঙ্গক্রমে আলোচিত হয়েছে। ইব্রাহীম ( আ ) এর মর্যাদা এতো উচ্চে যে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন স্বয়ং কোরআনে তাঁকে খলীল বা বন্ধু বলে সম্বোধন করেছেন। তৌরাতেও হযরত ইব্রাহীম ( আ ) এর নবুয়্যত এবং জীবন সম্পর্কে আলোচিত হয়েছে। সেখানেও ইব্রাহীম ( আ ) কে খলীলুল্লাহ বলে ভূষিত করা হয়েছে। কোরআন মজিদে এসেছে হযরত ইব্রাহীম ( আ ) শিশুকাল থেকে যুবক বয়স পর্যন্ত নিজের গোত্র ছেড়ে দূরে জীবন যাপন করেন। ইব্রাহীম ( আ ) ছিলেন খুব কৃতী এক যুবক। তিনি নিজের পরিবারের কাছে ফিরে এসে বুঝতে পেরেছেন যে তাঁর গোত্রের লোকজন মূর্তিপূজক। ইব্রাহীম ( আ ) এ অবস্থাটা সহ্য করতে পারছিলেন না। ইব্রাহীম ( আ ) এর অভিভাবক ছিলেন তাঁর চাচা আযার। তিনি এ বিষয়টা নিয়ে চাচা আযারের সাথে কথা বললেন এবং তাকেও তৌহিদ তথা একক আল্লাহর ইবাদাতের দাওয়াত দিলেন। কিন্তু চাচা আযার দাওয়াত গ্রহণ করলেন না। ইব্রাহীম তাঁর গোত্রের নক্ষত্রপূজকদের সাথেও কথা বললেন। কিন্তু তারাও তাঁর দাওয়াত কবুল করলো না। অবশেষে একদিন যখন লোকজন তাদের ধর্মীয় উৎসবে যোগ দেওয়ার জন্যে শহরের বাইরে গেল,ইব্রাহীম ( আ ) তখন মূর্তি পূজার মন্দিরে গেলেন এবং বড়ো মূর্তিটা ছাড়া বাকি সব মূর্তি ভেঙ্গে ফেললেন। আর কুড়ালটা বড়ো মূর্তিটির কাঁধে রেখে দিলেন। লোকজন ফিরে এসে যখন এ অবস্থা দেখলো,ইব্রাহীম ( আ ) কে জিজ্ঞেস করলো ‘এই কাজ কি তুমি করেছো ?’ ইব্রাহীম বড়ো মূর্তিটিকে দেখিয়ে বললো ‘এই কাজ বড়ো মূর্তিটি করেছে।’আমার কথা যদি বিশ্বাস না হয় তাহলে মূর্তিটিকেই জিজ্ঞেস করো। লোকজন ইব্রাহীমকে বললো ‘তুমি তো জানো মূর্তিরা কথা বলতে পারে না। ইব্রাহীম এ কথাটিই শুনতে চেয়েছেন। এবার বললেন, জীবীত যেই খোদা এই পৃথিবীর সকল বস্তুর স্রষ্টা তাকে বাদ দিয়ে তোমরা তোমাদের নিজেদের হাতে তৈরী নির্জীব মূর্তির পূজা করছো? নমরূদ ছিলেন সমকালীন শাসক। সে এই ঘটনা শুনে ইব্রাহীম ( আ ) কে আগুনে পুড়িয়ে মারার আদেশ দিলো। আদেশ পালন করার জন্যে বিশাল অগ্নিকুণ্ড বানানো হলো এবং ইব্রাহীম ( আ ) কে ঐ অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করা হলো। নিক্ষেপ করার সাথে সাথে অলৌকিক এক ঘটনা ঘটলো। আগুন ঠাণ্ডা হয়ে গেল এবং তার দাহ্য শক্তি হারিয়ে গেল। ইব্রাহীম ( আ ) আগুন থেকে মুক্ত হবার পর জনগণকে তৌহিদের দিকে আহ্বান জানালেন। কিন্তু স্বল্পসংখ্যক লোক তাঁর ওপর ঈমান আনে। ইব্রাহীম ( আ ) এ অবস্থা দেখে হতাশ হলেন। তিনি তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর অনুসারীদের নিয়ে এই গোত্র ত্যাগ করলেন। পবিত্র এক ভূখণ্ডে গিয়ে বসবাস করতে লাগলেন এবং আল্লাহর ইবাদাতে মশগুল হয়ে গেলেন। এসময় তিনি বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হবার পরও আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁকে সন্তান লাভের সুসংবাদ দেন। ইসমাঈলের জন্মের পর আল্লাহর আদেশে তাকে মক্কার জলহীন দুর্গম পার্বত্য এলাকায় মা-সহ রেখে আসেন। এখানেই ইসমাঈল বড়ো হয়। বড়ো হবার পর আল্লাহর আদেশে ইব্রাহীম ( আ ) কাবা শরীফ নির্মাণে হাত দেন। ইসমাঈলও সহযোগিতা করে। কাবা নির্মাণের পর আল্লাহ হজ্জ্ব পালনের আদেশ দেন। আল্লাহ রাব্বুল ইব্রাহীম ( আ ) কে পরীক্ষা করার জন্যে ইসমাঈলকে জবাই করার স্বপ্ন দেখান। ইব্রাহীম স্বপ্নের কথা সন্তানকে বলেন। ইসমাইলও আল্লাহ যা চায় তা-ই করার কথা বললেন। তাই হলো। ইসমাঈলকে শুইয়ে দেওয়া হলো,তারপর গলায় তীক্ষèধার ছুরি চালানো হলো। কিন্তু ছুরি ইসমাঈলের গলা কাটলো না। বারবার চেষ্টার পর অবশেষে ওহী নাযিল হলো-‘হে ইব্রাহীম! তুমি তোমার স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিয়েছো। আমরা তা গ্রহণ করলাম।তবে ঐ জবাইর স্থলে আমরা তোমাকে বিশাল কোরবানীর বিধান পাঠালাম। তারপর থেকে পশু কোরবানীর প্রথা চালু হয়। মৌলাভির দৃষ্টিতে ইব্রাহীম ( আ ) হলেন আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ মনের প্রতীক। অগ্নিকুণ্ডে যখন ইব্রাহীম ( আ ) কে ফেলা হলো,তখন জিব্রাঈল সাহায্যের হাত বাড়াতে চেয়েছিলেন,কিন্তু ইব্রাহীম কারো সাহায্য নিতে অস্বীকার করলেন। কেননা তিনি মনে করতেন কোনো মাধ্যম বা সরঞ্জামের সহযোগিতা নেওয়াটা পার্থিব জগতের ব্যাপার। কিন্তু আল্লাহর সাথে বা চরম সত্যে উপনীত হবার পথে তা অন্তরায়। আল্লাহর প্রতি এতো বেশি আস্থা এভং ভালোবাসা ছিলো তাঁর,যে তিনি তাঁদের মাঝখানে কোনো কিছুর অস্তিত্বকেই মেনে নিতে পারেন নি। ইব্রাহীম ( আ ) এর দুই সন্তান হলেন সত্য প্রেমিকের শিষ্যের প্রতীক। প্রেমের পথে তাঁরা সবকিছু নির্দ্বিধায় ত্যাগ করতে সদাপ্রস্তুত। এই আধ্যাত্মিক বোধের কারণেই ইসমাঈল ( আ ) জবাই হতে বাবার কথায় রাজি হয়েছিলেন নির্দ্বিধায়। পাঠক ! আধ্যাত্মিকতার জগত সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগত। এই জগতে যে কখনো প্রবেশ করে নি, তাঁর পক্ষে অনেক কিছুরই হিসাব মেলানো কষ্ট হতে পারে। আল্লাহর জন্যে জীবনের সর্বস্ব ত্যাগ করার মানসিকতা নিয়ে তাঁরই সন্তুষ্টির লক্ষ্যে আমাদের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ হওয়া উচিত। তবেই স্বার্থক হবে মৌলাভি বর্ণিত এইসব কোরানিক গল্প বলা। আল্লাহ আমাদের সেই যোগ্যতা দান করুন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now