বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হযরত মূসা ( আ ) আল্লাহর কিতাব এবং শরীয়তপ্রাপ্ত সম্মানিত নবীদের একজন। পবিত্র কোরআনে ১৬৬ বার মূসা ( আ ) এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন সূরাতেও প্রসঙ্গক্রমে তাঁর জীবনের বহু গল্পের অবতারণা করা হয়েছে। হযরত মূসা ( আ ) আল্লাহর কুদরতে বহুরকম মোজেযা বা অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছেন। এইসব অলৌকিক ঘটনার মধ্যে রয়েছে সমুদ্রের পানিকে বিভক্ত করে রাস্তা তৈরী করা, তাঁর লাঠি সাপ হয়ে যাওয়া,হাত নূরানী হয়ে যাওয়া,মানুষের মাথার ওপরে তুর পাহাড়কে তুলে ধরা ইত্যাদি।
মূসা ( আ ) এর জন্ম এবং তাঁর বেড়ে ওঠার ঘটনাও একটা অলৌকিক ব্যাপার। তিনি এমন এক সময় পৃথিবীতে এসেছিলেন যখন ফেরাউনের লোকজন তার আদেশে পুত্র শিশুদেরকে মেরে ফেলতো। তাই মূসা ( আ ) এর মা নিরুপায় হয়ে নিজের পুত্রসন্তানকে লুকিয়ে রাখলেন এবং আল্লাহর আদেশক্রমে তাঁর সন্তানটিকে একটি বাক্সে ঢুকিয়ে নীল নদীতে ছেড়ে দেয়। ফেরাউনের প্রাসাদের কর্মচারীরা বাক্সটিকে নীল নদী থেকে তুলে প্রাসাদে নিয়ে গেল। ফেরাউনের নিঃসন্তান স্ত্রী আসিয়া শিশুটিকে দেখে মুগ্ধ হয়ে গেল এবং ফেরাউনের কাছে আবেদন জানালো শিশুটিকে যেন হত্যা করা না হয়। শিশুটিকে যেন জীবিত রাখা হয় এবং নিজের সন্তান হিসেবে মেনে নেয়। ফেরাউন সব মেনে নিল।
তারপর শুরু হলো ছেলেটিকে দুধ খাওয়ানোর জন্যে একজন ধাইমাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা। যতো মা-কেই আনা হলো শিশু মূসা কারো দুধই খেলেন না। অবশেষে মূসার বোন বললো সে একজনকে চেনে। এভাবে নিজের প্রকৃত মা-ই মূসাকে দুধ খাওয়ানোর দায়িত্ব পেলো। মায়ের কোল ফিরে পেল সন্তান। এভাবে মূসা বেড়ে উঠতে লাগলো ফেরাউনের প্রাসাদে। কালের পরিক্রমায় এক সময় মূসা যৌবনে পা দিলেন। একদিন তিনি দেখতে পেলেন বনী ইসরাইলের এক লোকের ওপর ফেরাউনের এক সেনা ভীষণভাবে অত্যাচার চালাচ্ছে। মূসা ( আ ) ঐ মজলুম লোকটিকে রক্ষা করতে গিয়ে ফেরাউনের সেনার সাথে কলহে লিপ্ত হলেন এবং এক পর্যায়ে ঐ সেনা মরেই গেল। এই ঘটনার পর মূসা ( আ ) মিশর ত্যাগ করতে বাধ্য হলেন। গেলেন মাদিয়ানে।
মাদিয়ানে যাবার পর নবী শোয়াইবের সাথে তাঁর দেখা হলো,পরিচয় হলো। তাঁর সাথেই মূসা ( আ ) কাজে লিপ্ত হলেন। শোয়াইব ( আ ) এর এক কন্যাকে মূসা বিয়ে করলেন এবং সেখানে ১০ বছর রাখালবৃত্তিতে কাটালেন। তারপর পরিবার-পরিজনসহ মাদিয়ান থেকে মিশরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। কিছুদূর অতিক্রম করার পর রাস্তা হারিয়ে বসলেন। এমন সময় তূর পাহাড়ের দিকে একটা আলো দেখতে পেলেন। মূসা ( আ ) ভাবলেন ঐ আলোর সাথে নিশ্চয়ই কেউ না কেউ আছে,তাকে গিয়ে রাস্তার কথাটা জিজ্ঞেস করা যাক। এই আশায় তিনি সঙ্গীদের রেখে, তূর পাহাড়ের দিকে গেলেন। কিন্তু আলোর কাছাকাছি যেতেই সেখানকার একটি গাছের দিক থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মূসা ( আ ) এর সাথে কথা বললেন। এভাবেই মূসা ( আ ) নবুয়্যতির দায়িত্বে অভিষিক্ত হলেন।
মূসা ( আ ) কে আল্লাহ ফেরাউনকে হেদায়েত করার জন্যে এবং বনী ইসরাইলকে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে বাঁচাবার জন্যে পাঠিয়েছেন। তিনি তাই ফেরাউনের কাছে গেলেন এবং বললেন, আল্লাহর নবী তোমাকে সর্বশক্তিমান আল্লাহ এবং তাঁর সত্য দ্বীনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। সেইসাথে বনী ইসরাইলের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। ফেরাউন বললো, তুমি যদি আল্লাহর নবীই হয়ে থাকো,তাহলে মোজেযা বা অলৌকিক কিছু দেখাও। মূসা ( আ ) বহু মোজেযা দেখালেন। সেগুলোকে ফেরাউন যাদু বলে অভিহিত করলো এবং যাদুকরদের বললো মূসার সাথে যাদু প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে।
যাদুকররা সাপের যাদু নিয়ে এলো। তাদের যাদুর সাপগুলো যখন বেরিয়ে এলো,তখন মূসা ( আ ) আল্লাহর আদেশে তাঁর হাতের লাঠিটা মাটিতে ফেললেন। আর ঐ লাঠি বিশাল এক সাপে পরিনত হয়ে যাদুকরদের সকল সাপ খেয়ে ফেললো। এই ঘটনা দেখে যাদুকরেরা বুঝতে পারে যে,এটা যাদু নয় বরং ঐশী মোজেযা। তারা সাথে সাথে সিজদায় পড়ে গেল এবং এক আল্লাহর ওপর ঈমান আনলো। তারপরও ফেরাউন ঈমান আনলো না। মূসা ( আ ) তাঁর ভাই হারুনকে নিয়ে দাওয়াতী কাজ চালিয়ে যেতে লাগলেন,কেবল ফেরাউনকেই নয় বরং তার দরবারের সবাইকে একত্ববাদী দ্বীনের দাওয়াত দিয়ে যেতে লাগলেন।
ফেরাউনের কওম কয়েকবার খোদায়ী আযাবের সম্মুখীন হবার পরও আল্লাহর ওপর ঈমান আনে নি বরং বিদ্রোহ করলো। পরে মূসা ( আ ) এবং বনী ইসরাঈল গোত্র এক রাতে আল্লাহর আদেশে মিশর থেকে বাইরে চলে গেল। ফেরাউন এই ঘটনা জানার পর তার সেনাবাহিনী পাঠিয়ে মূসা ( আ ) এবং তাঁর সঙ্গীদের ধরে আনার জন্যে। ততোক্ষণে মূসা ( আ ) তাঁর সাথীদের নিয়ে নীল নদীর তীরে গিয়ে পৌঁছলেন। এখানে তাঁদের মুক্তির কোনো উপায় ছিল না। ফেরাউন এবং তার সেনাদের ভয় কাজ করতে লাগলো সবার মনে।
অবশেষে মূসা ( আ ) আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলেন। আল্লাহ তাঁকে আদেশ দিলেন তাঁর লাঠি দিয়ে যেন সমুদ্রের বুকে আঘাত হানে। মূসা ( আ ) তাই করলেন,লাঠি দিয়ে আঘাত করলেন সমুদ্রের বুকে। অমনি সমুদ্রের পানি বিভক্ত হয়ে গেল এবং পারাপারের পথ তৈরী হয়ে গেল। সেই পথে পার হয়ে গেলেন মূসা ( আ ) এবং তাঁর সঙ্গী সাথীগণ। ফেরাউন এবং তার সৈন্যরা মূসা ( আ ) এর পিছু নিয়ে সমুদ্রে তৈরী ঐশী পথ দিয়ে পার হবার চেষ্টা করলো। কিন্তু হঠাৎ সমুদ্রের পানি তাদের ওপর পাহাড়ের ধসের মতো এসে পড়লো। এভাবে ফেরাউন তার দলবলসহ ডুবে গেল সমুদ্রের তলায়।
মূসা ( আ ) এর আরো বহু মোজেযার কথা বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে। মৌলাভি সেগুলোকে তাঁর আধ্যাত্মিক দর্শন প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। আসলে ইসলামের ইতিহাস সচেতনতা এবং কোরআনের ওপর ব্যাপক পড়ালেখার কারণেই মৌলাভি বহুল পঠিত এবং সমাজে প্রচলিত এইসব উপাদানকে কাজে লাগিয়ে কালজয়ী সাহিত্য রচনা করতে সক্ষম হয়েছেন। আট শ’ বছর পর তাই আজো আমরা তাঁকে স্মরণ করছি,তাঁর সাহিত্য থেকে অনুপ্রাণিত হচ্ছি। এটাও এক ধরনের অলৌকিক ঘটনা। আর এই অলৌকিকতার পেছনে রয়েছে কোরআনের মাহাত্ম্য। যারা সঙ্গ দিলেন সবার প্রতি রইলো অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ধন্যবাদ সবাইকে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now