বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সিংহ ও চতুর শিয়াল

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X বনের রাজা সিংহ হাতির সাথে ভীষণ যুদ্ধ করার পর ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে নিজের আবাসে ফিরে গেল। সিংহ এতো বেশী ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েছিল যে, শিকার করার মতো শক্তি তার আর ছিল না। অন্যান্য জন্তুরা এই অবস্থা দেখে মর্মাহত হলো। সিংহ একটা উপায় চিন্তা করলো। সে শিয়ালকে বললো, শিকারে তাকে সাহায্য করতে। তাকে সে বনের পার্শ্ববর্তী তৃণবহুল লনে পাঠালো গরু বা গাধা যাকেই পায় মিষ্টিভাষায় মুগ্ধ করে যেন বনের ভেতর নিয়ে আসে। শিয়াল রাজি হলো এবং পার্বত্য জঙ্গল ছেড়ে ঝর্ণাসিক্ত এবং তৃণবহুল স্থানে এলো। গাছপালাহীন কঙ্করময় একটা স্থানে এসে শিয়াল বৃদ্ধ এক শীর্ণ গাধাকে পেল। বার্ধক্য এবং অক্ষমতার কারণে শিয়াল তাকে বাদ দিলো। গাধা বললো, যদি শুকনো মরুভূমিতে থাকি কিংবা থাকি বেহেশতের বাগানে, খোদার শোকর আদায় করছি এজন্যে যে তিনি আমার ভাগ্যে এমনটা রেখেছেন। শিয়াল গাধাকে তার ভাগ্যের ব্যাপারে সন্তুষ্ট দেখে ভাবলো এই সন্তুষ্টি তাকে প্রতারিত করার অন্তরায়। তাই সে ভিন্নদিকে কথা ঘুরিয়ে নিলো। বললো হ্যাঁ,আল্লাহ আমাদের জন্যে যে হালাল রুযির সংস্থান করেছেন,তার ওপর সন্তুষ্ট থাকা উচিত। তবে মনে রাখতে হবে এই রেযক ও রুযি চেষ্টা-প্রচেষ্টা ছাড়া আসে না। রুটি রুযির পেছনে শ্রম দিতে হয়,চেষ্টা প্রচেষ্টা চালাতে হয়। গাধা বললো,’এই যে চেষ্টা-প্রচেষ্টার শঙ্কা নিয়ে তুমি এতো বেশি ভাবছো,তার পেছনে কারণটা হলো আল্লাহর ওপর তোমার কোনো তাওয়াক্কুল বা নির্ভরতা নেই। আল্লাহর প্রতি যে তাওয়াক্কুল করে তার রিযিক,তার খাদ্য সংস্থানের ব্যবস্থা আল্লাহই করে দেন,তবে সেজন্যে প্রয়োজন অপেক্ষা করা, ধৈর্য ধরা।’ শিয়াল বললো, এ কী কথা বলছো তুমি। তাওয়াক্কুল করা তো সবার কাজ নয়,খুব কমই আছে যারা তাওয়াক্কুলের ব্যাপারে অভিজ্ঞ বা দক্ষ অর্থাৎ তাওয়াক্কুল করার মতো যোগ্যতা রাখে। গাধা শিয়ালকে বললো-তুমি ভুল বুঝেছো। উচ্চাভিলাষই আসলে যতোসব সমস্যার কারণ। অল্পে তুষ্টির কারণে না কেউ মারা যায়,আর না কেউ লোভের কারণে বাদশাহী পেয়ে যায়। শিয়াল গাধার এই কথা শুনে পুনরায় বললো-‘এইসব কী বলছো ? শোনো,চেষ্টা তদবীর করো,কাজ করো। তৎপর হও। আল্লাহ যেসব সামর্থ তোমাকে দিয়েছেন সেগুলোকে কাজে লাগাও।’ এভাবে তাওয়াক্কুল এবং চেষ্টা-প্রচেষ্টা নিয়ে গাধা আর শিয়ালের মাঝে দীর্ঘ তর্ক-বিতর্ক হলো। বিতর্ক করতে করতে প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে উভয়েই ক্লান্ত হয়ে গেল। শিয়াল তাই ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করলো। গাধাকে সে বললো-ওঠো! চলো এই প্রস্তরময় এলাকা ছেড়ে তৃণময় সবুজ লনের দিকে যাই। শিয়াল তৃণময় লনের কথা বলে এবং বিচিত্রভাবে গাধাকে অনুপ্রাণিত করে সিংহের আস্তানায় নিয়ে গেল। শিয়াল এবং গাধা উভয়েই সিংহের কাছে গিয়ে পৌঁছলো। সিংহ চাচ্ছিলো দূর থেকে হামলা করতে,কিন্তু গাধা দূর থেকে তাকে দেখতে পেয়ে পালালো এবং বুঝতে পেল আসলে প্রতারক শিয়াল এবং সিংহ তাকে মেরে ফেলে নিজেদের ক্ষুধা নিবারণ করতে চায়। গাধা পালিয়ে যাওয়ায় শিয়ালের সকল শ্রমই বিফলে গেল। তাই শিয়াল সিংহের ওপর রেগে গিয়ে বললো-কেন গাধা তোমার কাছে আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করো নি? তুমি কি জানো না দ্রুততা হলো শয়তানের কাজ,আর আল্লাহর দয়া এবং রহমত থাকে ধৈর্য ধারণ করার মধ্যে? সিংহ তার ভুল স্বীকার করে বললো, ভেবেছিলাম এখনো আগের মতোই শক্তিশালী আছি, তাছাড়া এতো বেশি ক্ষুধার্ত ছিলাম যে ধৈর্য ধারণ করার মতো অবস্থা ছিল না। সিংহ আবারো শিয়ালকে বললো, ঐ গাধাটিকে নিয়ে আসতে। এজন্যে সিংহ শিয়ালকে ভালো কিছু শিকারের প্রতিশ্রুতি দেয়। শিয়াল অনীহা সত্ত্বেও সিংহের কথা মেনে নিলো এবং পুনরায় গাধার কাছে গেল। গাধা ভীষণ রেগেমেগে শিয়ালকে বললো-আমি এমন কী অন্যায় করেছি যে তুমি আমাকে সিংহের কাছে নিয়ে গেছো? শিয়াল নতুন বুদ্ধি আঁটলো এবং গাধাকে বললো-ওখানে তো সিংহ ছিল না। এটা ছিল একটা তেলেসমাতি বা যাদুমন্ত্র,তাই দেখে তুমি ভেবেছো সিংহ। আমি আরো চেয়েছিলাম এই যাদু তোমাকে শেখাবো,কিন্তু ভুলে গিয়েছিলাম। গাধা বললো-হে ধূর্ত শিয়াল,তুমি এখান থেকে ভাগো। আমি তোমার ফাঁদে আর পা দেবো না। নিশ্চয়ই সিংহ তোমাকে পুনরায় আমাকে ফাঁদে ফেলার জন্যে পাঠিয়েছে। আর তুমি বন্ধুর মতো আচরণ করে আমার সাথে শত্রুতা করছো। ‘একজন খারাপ বন্ধু বিষাক্ত সাপের চেয়েও অনেক বেশি ভয়ংকর।’ শিয়াল বললো বন্ধুর ব্যাপারে তোমার এই অমূলক ধারণা হলো কেন? গাধা চেষ্টা করছিলো শিয়ালকে দূর করতে যাতে তার ষড়যন্ত্রের শিকার হতে না হয়। কিন্তু তৃণময় লনের লোভ ক্ষুধার্ত গাধাকে পুনরায় শিয়ালের ফাঁদে ফেলে দিলো। অবশেষে শিয়াল ঐ গাধাটিকে সিংহের কাছে নিয়ে গেল। সিংহ এবার আর গাধাকে পালাবার সুযোগ না দিয়ে আক্রমণ করলো এবং সিংহ তার ক্ষুধা মেটালো। তৃষ্ণা মেটাবার জন্যে ঝর্ণার কাছে গেল। এই ফাঁকে শিয়াল গাধার হৃদয় এবং কলিজা বের করে এনে খেল। সিংহ ফিরে এসে গাধার মৃতদেহকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করলো। কিন্তু গাধার হৃদয় এবং কলিজা দেখতে না পেয়ে সে ভীষণ বিরক্ত হয়ে গেল। শিয়ালকে বললো-‘হৃদয় এবং কলিজা কোথায় গেল। কোনো প্রাণী তো হৃদয় এবং কলিজাহীন হয় না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সিংহ ও চতুর শিয়াল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now