বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অজানা অচেনা একটা বন ছিল। সেই বনকে কেন্দ্র করে তার আশেপাশে গড়ে উঠেছে সুন্দর একটা গ্রাম। এই গ্রামে লোকজন বেশি ছিলো না। তবে যারা আছে তারা বাঁচে এই বনের ওপর নির্ভর করে। পশু-পাখি গাছ-পালা প্রভৃতি বাজারে বিক্রি করে তারা যা পায় তা দিয়ে জীবন চলে তাদের। এই গ্রামে এক কাঠুরিয়ার মেয়ে ছিলো। নাম তার জান্নাতি। মিষ্টি মেয়ে জান্নাতির বয়স মাত্র সাত বছর। সে পড়তো মক্তবে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও পড়তো এই মিষ্টি মেয়ে জান্নাতি। তার বন্ধু ছিলো না। খেলার সাথী ও ছিলো না। সে মায়ের সাথেই খেলতো। বাবা সারাদিন বনে গাছ কাটতো আর তা বাজারে বিক্রি করে বাজার আনতো। তারা সুখেই ছিলো। হঠাত জান্নাতির বাবা চিন্তায় পড়ে যায়। কারণ এভাবে যদি বনের গাছ পালা কাটা হয় তাহলে তারা বাঁচবে কি করে। গাছ শুধুই কমছে; বাড়ছে না।
সেদিন সকালে জান্নাতি মোক্তব পড়ে আসছে। পথে দেখলো রাস্তায় একটা মৌমাছি পড়ে আছে, নড়াচড়া করতে পারছে না। জান্নাতি মৌমাছিকে দেখে চমকে উঠলো; যদি কামড় দেয়! দাড়িয়ে দেখছে জান্নাতি মৌমাছিটি কী করে। হঠাৎ মৌমাছি বললো বন্ধু আমাকে বাচাও। আমি তোমার বন্ধু হয়ে থাকবো। তোমায় অনেক মধু দিবো যা খেয়ে তুমি অনেক বড় হবে। জান্নাতি বললো সত্যি বলছো, তুমি আমার বন্ধু হবে? মৌমাছি বললো, হ্যাঁ, আমি তোমার বন্ধু হবো। জান্নাতি হাতে করে মৌমাছিটিকে বাড়ি নিয়ে আসলো। মা জান্নাতির হাতে মৌমাছি দেখে বললো মা কামড় দিবে, ওকে ফেলে দাও! জান্নাতি বললো, মা আমার বন্ধু এই মৌমাছি। আমাকে মধু দিবে আমার সাথে খেলবে। মা বললো তাহলে কাছে রাখো তবে সাবধান কামড় যেন না দেয়। জান্নাতি বললো আমার বন্ধু আমার ক্ষতি করবে না। মৌমাছি কে বললো তাই না বন্ধু? মৌমাছি বললো হ্যাঁ। জান্নাতিদের ছিলো একটা ছোট্ট ফুলের বাগান সেখানে রাখলো মৌমাছিকে। কয়দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে যায় মৌমাছি।
সেদিন সকালে মৌমাছি আর জান্নাতি মক্তবে যাচ্ছে। হঠাৎ মৌমাছি বললো বন্ধু আমাদের এখন মধু দেওয়ার সময় হয়েছে। তুমি যদি বলো তাহলে আমার সহপাটিদের আনতে পারি তোমার বাড়ির ফুল বাগানে। সেখানে একটা চাক বানিয়ে তোমাদের মধু দিতে পারি। জান্নাতি বললো ঠিক আছে তবে তোমার সহপাটিরা আসবে তো ? মৌমাছি বললো আসবে। কারণ আমি ওদের সবার র্সদার। আর ওরা যদি জানে আমি বেচে আছি তাহলে অনেক খুশি হবে। আর যদি জানে তুমি আমাকে বাচিয়েছো তাহলে আরো খুশি হবে। জান্নাতি বললো বন্ধু তুমি এখনই যাও, তোমার সহপাঠিদের ডাকো।
মৌমাছি গেলো তার সহপাটিদের আনতে। এদিকে জান্নাতি মক্তব থেকে এসে মাকে সব বললো। সেখানে ছিলো বাবাও। বাবা বললো বেশ ভালোই হলো মধু বিক্রি করতে পারবো। মা তোকে এবার স্কুলে ভর্তি করে দিতে পারবো। জান্নাতি বললো আমি এখন স্কুলে ভর্তি হবো না বাবা। বাবা বললো কেন ? জান্নাতি বললো সামানে মাসে আমি কুরআন ধরবো। আমি চাই না স্কুলের পড়ার কারণে এই দিকে সমস্যা হক। মা বললো ঠিক আছে তোর বন্ধু আসবে কখন? এই কথা বলতে বলতেই এলো এক দল মৌমাছি। এসে ভো ভো করছে। বন্ধু মৌমাছি বললো বন্ধু আমরা এসেছি। তুমি বলো এবার আমরা কোথায় বাসা বানাবো। জান্নাতি বললো যেথায় তোমাদের ভালো লাগে সেথায় বাসা বানাও। তারা সবাই ফুল বাগানেই বাসা বানালো। প্রায় সাত দিন লাগলো বাসা বানাতে মৌমাছিদের। তারপর থেকে মধু দেওয়া শুরু করে মৌমাছিরা। বাবা কাঠ এবং মধু বিক্রি করে অনেক টাকা পায়। ওদের আর অভাব থাকে না। বেশ ভালোই কাটছিলো ওদের দিনগুলো। জান্নাতিরা অন্য অন্য কাঠুরিয়াদের চাইতে ভালো হতে লাগলো।
এক বছর পর।
জান্নাতি স্কুলে ভর্তি হয়েছে কুরআন ও ধরেছে। এই সে বন আর যেন বন নাই। হয়েছে ধূ ধূ ফাঁকা একটা মাঠ। নেই সেই ফুল ফলের গাছ। যা থেকে মধু সংগ্রহ করবে মৌমাছিরা। বড় চিন্তায় পড়ে যায় জান্নাতির পরিবার। বাবা মা চিন্তা করছে। জান্নাতি বাবাকে এসে বললো বাবা তুমি আর গাছ কেটো না। নইলে বন্ধুরা চলে যাবে। বাবা বললো মা রে আমি না হয় বাদ দিলাম গাছ কাটা। কিন্তু হাজার হাজার মানুষ আছে তাদের কে নিষেধ করবে। এর মধ্যে এসে যায় বন্ধু মৌমাছি। এসে বললো, বন্ধু সর্বনাশ হয়ে গেছে! শুধু এখানে না পুরো বনের সব মৌমাছি বিক্ষোভ শুরু করেছে। তাদের নাই খাওয়ার ফল, ফলের গাছ। তারা এখান থেকে চলে যাবে। তারা বলছে আর এখানে থাকবেনা। তারা সেখানে যাবে যেখানে খাদ্য পাবে পেট ভরে। জান্নাতি কাঁদছে। মৌমাছি বললো কি করবো বন্ধু আমাদের বাধ্য হয়ে চলে যেতে হচ্ছে। জান্নাতি বললো বন্ধু তোমরা আর আসবে না ? মৌমাছি বললো আসলে বন্ধু তোমাদের দেশের মানুষ ভালো না। গাছপালা কেটে ফেলল, কিন্তু একবার ভাবলো না তারা বাচবে কিভাবে। নিশ্বাস নেয় তো গাছের মাধ্যমেই। সেই গাছ কেটে তারাই তো মৃত্যুর দিকে পা দিচ্ছে। গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। সবাই জানে তারপরও গাছগুলো কেটে ফেলে। জান্নাতি বললো বন্ধু এই পথ থেকে বাঁচবো কিভাবে? মৌমাছি বললো তোমাদের গ্রামে যত কাঠুরিয়া আছে তারা যদি এলাকা ভাগ ভাগ করে নিতো এবং যে যে কয়টা গাছ কাটবে সেই কয়টা গাছ লাগাতো তাহলে বনকে রক্ষা করা যেতো। এখনো সময় আছে।
জান্নাতির কাছ থেকে বিদায় নিলো মৌমাছি। জান্নাতি কাঁদছে আর বলছে বন্ধু তুমি আর আসবে না? মৌমাছি তখন বললো হ্যাঁ আসবো যদি আবারো সেই বন এই জায়গায় হয়- এই বলে চলে গেলো বিক্ষোভকারী দল-বল নিয়ে। অন্য অচেনা অজানা কোনো বনে মৌমাছির দল রওনা হয়। জান্নাতির বাবা ভাবতে লাগলো আসলেই তারা ভুল করেছে। এবং বললো মৌমাছিই আমার চোখ খুলে দিলো। তাই তিনি গাছ লাগানো শুরু করলেন মৌমাছিরা যেন আবার আসে সেই আশায়। জান্নাতি ও আশায় আছে , আসবে বন্ধু মৌমাছির দল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now