বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

চক্র—৫

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X --------------------- "তুমি কী বলতে চাচ্ছো, পরিষ্কার করে বলো" বললো তারেক। জোর গলায় কথাগুলো বলার চেষ্টা করলেও কোথায় যেন ছন্দপতন ঘটে গেছে। তারেকের গলায় সেই জোরটি ফুটে উঠে না। সব খুলে বলতে হবে? শুনুন তবে। আজকে আমি ঢাকা মেডিকেলে অ্যাসাইনমেন্ট যাবো এ তথ্য আপনি ছাড়া আর কেউ জানে না। তাহলে সেখানে পুলিশ কিভাবে আমার খোঁজে গেল? মানলাম পুলিশ পত্রিকা অফিস থেকে এ তথ্য সংগ্রহ করেছে। তাহলে সেখানে আমার ছবি হাতে ভাড়াটে দুজন গুন্ডার উপস্থিতিকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন আপনি? তাদেরকে আমার ছবিটাইবা কে সাপ্লাই দিলো? এখানেই শেষ নয়। মাদক ব্যবসায়ী চক্রের নাটের গুরু আবু সাঈদকে গ্রেপ্তারের সময় তার বাসা থেকে কিছু গোপন দলিল নিয়ে এসেছিলাম। সেই তথ্য শুধু আপনাকেই জানিয়েছি। অফিসে বা অফিসের বাইরে আর কেউই সে কথা জানেনা। আসলে কথাটি গোপন করার জন্য নয়, এমনিতেই এ বিষয়টি আর কারো সঙ্গেই শেয়ার করিনি আমি। মানে এ ব্যাপারে কারো সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। তাহলে কিসের খোঁজে আমার বাসা এবং অফিসের ড্রয়ার ভেঙ্গে তছনছ করা হয়েছে? কী এমন মূল্যবান মনিমুক্তা লুকিয়ে রেখেছি আমি অফিসের ডেস্কে? ঘটনার এখানেই শেষ নয়। আরো শুনতে চান? মেডিকেল কলেজে আমাকে খুঁজে না পেয়ে ওই দুই গুন্ডা কী করেছে জানেন? আপনার প্রিয় মন্ত্রীর সঙ্গে গিয়ে রুদ্ধদার বৈঠক করেছে। আর সেই বৈঠক শেষে পুরো ঢাকা শহর চষে বেড়িয়েছে আমার খোঁজে। ওই মন্ত্রীর সঙ্গে আপনার সখ্যতার কথাতো সাংবাদিক মহলে রীতিমতো কিংবদন্তি। বাড়ি গেলে মন্ত্রী নিজের হাতে আপনার জন্য শুঁটকি মাছ নিয়ে আসেন। এ দৃশ্যতো আমার নিজের চোখে দেখা। মন্ত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গতার নানা গল্প আপনিই আমাদের কাছে করেছেন। একদিকে পুলিশ, আর অন্যদিকে আপনার মন্ত্রীর পোষা গুন্ডা। আজ সারা দিন ফাঁদে আটকা পশুর মতো ছটফট করেছি আমি। তিক্ততায় মনটা ভরে যায় মন্ময়ের। এতোদিন যাকে গুরুর আসনে বসিয়ে শ্রদ্ধা করেছে তার কাছ থেকে এই আঘাত পেয়ে বুকটা ভেঙ্গে যায় তন্ময়ের। পাথরের মুর্তির মতো মুখোমুখি সোফায় বসে আছে তারেক। কথাগুলো বলতে বলতে কখন যে দু চোখ দিয়ে পানি গড়াতে শুরু করেছে নিজেও জানেনা তন্ময়। কতোটা নীচে নামলে একজন মানুষ নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য অন্যকে খুন করতে পারে! সৎ পুলিশ অফিসার হাফিজুর রহিমকে মিথ্যা অভিযোগে ফাসাতে এতোটুকু বাঁধলো না আপনাদের! তার স্ত্রী মুনমুনকেও তো আপনারাই হত্যা করেছেন। এ কাজে মন্ত্রীর দুই পোষা গুন্ডাকে ব্যবহার করা হয়েছে, এ কথা আমি লিখে দিতে পারি। আচ্ছা, আবু সাঈদকে ডিবি পুলিশের হেফাজতে খুন করলেন কিভাবে? এটা একটা প্রশ্ন বটে! আর এই প্রশ্নের উত্তরও আমি নিজের মতো করেই খুঁজে বের করেছি। শুধু মন্ত্রীই নয়, আপনাদের এই দুষ্টচক্রে পুলিশের বড় কর্তাও জড়িত। এর প্রমাণ অবশ্য টেকনাফে ইয়াবা বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়া টের পাইছিলাম। তখন নামগুলো খুঁজে পাইনি। এখন একটা একটা করে নাম সামনে আসছে। কাউকে ছাড়বো না আমি। এখন বুঝতে পারছি, কেন হঠাৎ করে আমার ড্রাগসের স্টোরিগুলা কিল করতে শুরু করলেন। আচ্ছা আপনার কাছে একটা শেষ প্রশ্ন, এই প্রশ্নটার জবাব আমি নিজে বের করতে পারছি না। আপনি ছাড়া মনে হয় এই মুহুর্তে এই প্রশ্নের জবাব আর কেউ দিতে পারবে না। প্রশ্নটা হচ্ছে, কতো টাকার বিনিময়ে আপনি নিজেকে বিক্রি করেছেন? আমার জানামতে অন্তত দুজন মানুষের খুনের দোষে দোষী হয়েছেন? আমার মতো একজন নিরপরাধ মানুষের জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছেন। পাগলা কুত্তার মতো পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছেন আমার পেছনে? এসবের দাম কতো? বলেন, কতো টাকায় নিজের বিবেক বিক্রি করেছেন? আপনার ছেলেতো বড় হচ্ছে, একদিন যদি সেও ড্রাগ অ্যাডিক্ট হয়ে পড়ে তাহলে কী নিজেকে ক্ষমা করতে পারবেন? এসব প্রশ্নের কোনো জবাব নেই তারেক আহমেদের কাছে। চুাপচাপ তন্ময়ের কথাগুলো শুনে যায়। জবাব দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ছেলেছে যেন। তন্ময়ের অকাট্য যুক্তির সামনে দাঁড়াতে পারে না সে। বেডরুমের দরজায় শব্দ হতে দুজন এক সঙ্গে চমকে সেদিকে তাকায়। দরজায় ঝোলানো পর্দা ধরে কাঁপছে মিনা ভাবি। উত্তেজনার বশে হয়তো গলা চড়ে গিয়েছিল তন্ময়ের। আর তাতেই ঘুম ভেঙ্গে গেছে মিনার। কতোক্ষণ ধরে তাদের কথোপকথন শুনছে মিনা জানা নেই তন্ময় কিংবা তারেকের। বোকার মতো মিনার দিকে তাকিয়ে থাকে দুজন। এ সময় তাদের তিনজনকে চমকে দিয়ে কল বেলটা বেজে উঠে। চট করে দেয়ালে ঝোলানো ঘড়ির দিকে তাকায় তন্ময়। পৌনে একটা। এতো রাতে কে এলো? চিতার মতো খিপ্র গতিতে লাফ দিয়ে দরজার কাছে এগিয়ে যায় তন্ময়। ছোট্ট ফুটোটি দিয়ে দেখে বাইরে অচেনা দুজন দাঁড়ানো। এর আগে কখনো না দেখলেও এক নিমিষেই বুঝে যায়, তাকে ধরতে মন্ত্রীর পোষা দুই গুন্ডা এসেছে। তন্ময় আরো বুঝতে পারে, একটু আগে টয়লেটে যাবার অযুহাতে সেখান থেকে মোবাইল ফোনে এই দুজনকে খবর দিয়েছে তন্ময়। যুক্তি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও তন্ময়ের মন মেনে নিতে পারছিলো না তারেকের এই কুৎসিত রূপটিকে। দোরগোড়ায় দুজন বাড়াটে খুনিকে দেখে যুক্তি ও মনের বিভেদটা কেটে যায়। মুহুর্তেই পরবর্তী কর্মপন্থা ঠিক করে নেয় তন্ময়। ছুটে আসে তারেকের কাছে। তারেক ও তার স্ত্রী মিনাকে ঠেলে বেডরুমে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে দরজাটি বন্ধ করে দেয়। এর পর লিভিং রুমের বারান্দা থেকে এক লাফে রাস্তায় নেমে আসে। দোতলার বারান্দা থেকে লাফ দিতে কোনো কষ্টই হয় না। একটু দূরে অন্ধকারে অপেক্ষায় থাকা আমিনুলের মোটর সাইকেল তৈরিই ছিল। শমসের আর মবিনকে আসতে দেখেই মটর সাইকেল স্টার্ট দিয়ে রেডি হয়ে ছিল আমিনুল। এর আগে অবশ্য আরেকটি জরুরি কাজ সেরে নিয়েছে। ফটোগ্রাফারের সহজাত রিফ্লেক্স থেকেই কাজটা করে আমিনুল। ল্যাম্প পোস্টের আলোর নীচে শমসের ও মবিন আসা মাত্রই ক্যামেরার সাটার টেপে। এই আবছা অন্ধকারে ফ্ল্যাশ ছাড়া ছবি খুব ভালো আসা কথা না; কিন্তু আমিনুল জানে তার এ অত্যাধুনিক নাইকন ক্যামেরাটি বরাবরের মতো এবারও এর সর্বোচ্চ দক্ষতা দেখাবে। এর আগেও নানা দুর্লভ মুহুর্তে দারুন সাড়া পেয়েছে এটির কাছ থেকে। যেন প্রয়োজন বুঝে সময় সময় সাধ্যের চেয়ে বেশি করে এই যন্ত্রটি। আমিনুলের মুখে হাসি ফোটে। সারা দিনে এই দুই গুন্ডার পেছনে ছুটে গাড়ির নম্বর প্লেট ছাড়া কাজের কোনো ছবি তুলতে পারেনি। দুই সন্ত্রাসীর যে কয়টা স্ন্যাপ নিয়েছে সেগুলো হয় পেছন থেকে, নয়তো সাইড থেকে এসেছে। চেহারা বোঝা যায় না। এবারই প্রথম একেবারে সরাসরি মুখের ছবি তোলা গেছে। মনের মতো একটা ছবি তোলার আনন্দে সশব্দে মটর সাইকেলের পিকআপ দাবায় আমিনুল। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now