বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
( শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের অবহেলিত পরিবারের স্মরণে)
চোখের সামনে বার বার ভেসে উঠছে ছোট্ট মেয়েটার ছবি। বাড়ী থেকে আসার সময় বলেছিলো 'বাপজান আমার লাইগা রাঙা চুড়ি
নিয়া আইবেন'। মেয়েটার জন্যই বেশি কষ্ট হচ্ছে। মেয়ের মা কেমন আছে কী জানি ?
- খালিদ ভাই ওঠো... । তোমার কিচ্ছু হয়নি ওঠো। মনরে শক্ত করো। সহকর্মী বখতিয়ার ঝাঁকুনি দিয়ে বললো আমাকে। চোখ দুটো ক্ষণকালের জন্য মেলা ছাড়া আর কিছুই করতে পারলাম না।
দূরে কোথাও সাজ্জাদ ভাই চিত্কার দিয়ে বললো 'জয় বাংলা ' । তার মানে আমাদের মাহমুদপুর শত্রু মুক্ত। বখতিয়ারের হাত
ভিজে স্যাতস্যাতে হয়ে গেছে আমার রক্তে। গুলিটা বুকের বাম পাজরে লেগেছে।
২.
- বাপজান আইবো কবে?
- কালকেই আইবো মা। তোমার লাইগা রাঙা
চুড়ি নিয়া আইবো।
মেয়ের অলক্ষে চোখ মুছেন হাজেরা বেগম।
৩.
৪৩ বছর পর
খালিদ মিঞার সেই ছোট্ট মেয়েটা আজ
অনেক বড়। সেই রাঙা চুড়ির বায়না ধরা
মেয়েটিরও মেয়ে হয়েছে। সেই মেয়েরও নাকি
বিয়ের বয়স হয়ে গেছে। হাজেরা বেগম
পরবাসী হয়েছে ৩০ বছর আগে। মা যেই কাজ
করে সেই কাজটাই করে রেহালা।
- আজকে সবাই আমদ-ফুর্তি করতাছে।
আমগো একটু ছুটি নাই।
ইট ভাঙার ফাকে শাড়ির আচঁল দিয়ে কপাল
মুছে বিড় বিড় করে বলে রেহালা।
রেহালার সামনের ইমারতে লাল সবুজের
বিজয় নিশান উড়ে।গান বজছে সাউন্ড
বক্সে
' আমরা তোমাদের ভুলবো না'... ।
- এই রেহালা কামে ফাকি মারছ ক্যান। বইয়া
থাকোনের টাইম নাই। দুই ঘন্টার মধ্যে
আড়াইশো ইট ভাঙবি।
সম্বিত ফিরে পেয়ে কাজ হাত দেয় রেহালা ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now