বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অমিমাংসিত ৬-(১০)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান selfiAan Razon (০ পয়েন্ট)

X আমি বিমূঢ়ের মত মাথা নাড়ালাম, “জানি না, আপনি মাদ্রাসায় চলেন।” আমি ভ্যান ওয়ালাকে নিয়ে মাদ্রাসাটা খঁজে বের করলাম। আমার স্বপ্নে দেখা মাদ্রাসাটার সঙ্গে খুব একটা মিল নেই। পুকুরটা বেশ ছোট, পানিও পরিষ্কার। শ্যাওলা নেই। তবে মিলও রয়েছে। মসজিদের সেই বারান্দা অবিকল এক। এখানে এসেই আমি প্রথম রহস্যটার সাথে জড়িয়ে পড়ি। মাদ্রাসার প্রধান ঈমাম মোহাম্মদ ইদ্রীস শেখের সঙ্গে পরিচয় যখন হল তিনি আমাকে দেখে অবাক হলেন ঠিকি, কিন্তু ভয় পেলেন না। মাদ্রাসার শত শত ছাত্র ততক্ষণে আমাকে দেখতে চলে এসেছে। মসজিদের বারান্দায় বসে আমি প্রথম ইদ্রীস সাহেবের কাছে জানতে পারলাম- আমি “মোঃ নজরুল হোসেন” গত চার দিন ধরে এই হিঙ্গুলী মাদ্রাসায় ছিলাম! এবং গত কাল বিকেলে আমার মৃত্যু হয়েছে- মৃত্যুর আগে আমি বলে গেছি এখানের গোরস্থানে আমাকে কবর দিতে। এবং আমার ফুফুর জন্য চিঠিও লিখে গেছি আমি! গত রাতে আমাকে তারা সবাই কবর দিয়েছে গোরস্থানে! আমি মসজিদের বারান্দায় বসে ঘোরের মধ্যে সেই চিঠিটা হাতে নিয়ে পড়লাম যেটা ‘আমি’ ঈমাম সাহেবকে দিয়েছি আমার ফুফুকে দিতে! আমার’ই হাতের লেখা! আমি কাঁপতে শুরু করলাম মৃগী রোগীর মত। সে অবস্থাতেই আমি কবরটা খুঁড়তে অনুরোধ করলাম ঈমাম সাহেবকে। বলা বাহুল্য আমি বলার আগেই কবর খোঁড়া শুরু হয়ে গেছে। মোয়াজ্জ্বেন সহ আরো কয়েকজন লোক কবরটা খুঁড়লো। আমি নিজে সেখানে যাওয়ার শক্তি পাচ্ছিলাম না। তাই ঈমাম সাহেব আমাকে ধরে নিয়ে গেলেন সেখানে। এটা সেই জায়গা, গত কাল রাতে স্বপ্নে যেখানে আমি কবর দিতে দেখেছিলাম কাউকে! দিনের বেলা সূর্যের আলোতেও আমার ভয়ংকর একটা অশুভ ভয় করছিল কবরটার পাশে দাঁড়িয়ে। কাঁদা আর পানিতে অর্ধেক ডুবে আছে কাফন জড়ানো লাশটা। কবরের ভেতর অনেক পানি। একজন লোক নামল কবরে মুখ দেখানোর জন্য। মুখের কাপড় সরানোর পর যাকে দেখলাম- আয়নায় একে আমি বহুবার দেখেছি- আমি, মোঃ নজরুল হোসেন। কাঁদা লেগে থাকলেও না চেনার কোনো কারণ নেই...... আধ খোলা চোখে পৃথিবী দেখছে কবরের পানিতে ভাসতে ভাসতে। নিজের পায়ের ওপর ভর টিকিয়ে রাখতে পারলাম না আর...... এ যদি নজরুল হোসেন হয়, তাহলে আমি কে? আর আমিই যদি আসল জন হয়ে থাকি- তবে এ কে? আমি সেদিন গোরস্থানে মৃগী রোগীর মত কাঁপতে কাঁপতে জ্ঞান হারাই। ঈমাম সাহেব উপায় না দেখে আমাকে মস্তান নগর হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে আমি প্রচন্ড জ্বরের মাঝে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তিন দিন ছিলাম। অবশ্য টানা তিন দিন অজ্ঞান থাকিনি। মাঝে মাঝে জ্ঞান ফিরতো। কিন্তু বেশিক্ষণ জেগে থাকতে পারতাম না। প্রচন্ড ভয় আর জ্বরের ঘোরে বার বার জ্ঞান হারাতাম। বলা বাহুল্য এই দীর্ঘ সময়ে আমি স্বপ্ন দেখতাম ছেঁড়া ছেঁড়া ভাবে। ক িন্তু প্রতিটাই একটার সাথে আরেকটা যুক্ত। আশ্চর্যের বিষয় হল এই দীর্ঘ সময়ে আমি নাকি কিছুই খাইনি। আমার ঠিক মনে নেই কখন স্বপ্ন দেখা শুরু করি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে। কেবল মনে আছে প্রথমবার হঠাৎ করেই আমার নাকে মুখে পানি ঢোকা শুরু করে। মাথায় যেতেই ভীষণ জোরে কেঁশে উঠে চোখ মেলে তাকাই। ঘুটঘুটে অন্ধকার চারপাশে! আমি পানির ভেতরে রয়েছি অর্ধেক! ভেসে আছি পানিতে! অবাক হয়ে চারপাশে হাত বুলাতে লাগলাম। নিজেকে আবিষ্কার করলাম হাটু পানি জমে থাকা একটা ছোট ঘরের ভেতর। সেটা যে একটা কবর বুঝতে সময় লাগল আমার। জায়গাটা কবর কারণ মাথার ওপরে হাত দিতেই বুঝলাম শক্ত বাঁশের টুকরো দিয়ে ঢেকে দেয়া। চার কোনা আয়তাকার ছোট একটা ঘরের মত। হাটু পর্যন্ত পানিতে ডুবে আছি। উঠে দাঁড়ানো যায় না, মাথা লেগে যায় বাঁশের ছাদের সাথে। ওপরে ছাদ মাটি দিয়ে ঢেকে থাকায় সমস্ত গায়ের শক্তি দিয়েও ধাক্কা দিয়ে বাঁশের পড়ত গুলো সরাতে পারলাম না। তবে অবাক হবার বিষয় হলঃ আমি এক সময় খেয়াল করলাম আমার গায়ে কাপড় বলতে একটুকরো থান কাপড়। কি রঙের সেটা বুঝতে না পারলেও বুঝতে পারলাম কাপড়টা বেশ লম্বা। আমি অজানা একটা ভয় পেতে শুরু করলাম। কারণ যতই সময় যেতে লাগলো, মনে হল আমি দম নিতে পারছি না...... বাতাসের জন্য ফুসফুসটা আঁকু পাঁকু করা শুরু করেছে...... আমি পাগলের মত মাথার ওপরের ছাদটা ধাক্কা মেরে ওঠাতে চাইলাম। কিন্তু একটু নড়েই স্থির হয়ে গেল। আমি আবারও ধাক্কা দিতে লাগলাম। শক্তি কমে আসছে শরীরের...... ধাক্কা দিয়ে একচুলও নড়াতে পারছি না আর। মনে হল কবরের ওপর খুব ভারী কিছু একটা জিনিস চাপিয়ে দেয়া হল...... আমার ভয়টা দ্রুত আতংকে রুপ নেয়া শুরু করল। আমি অক্সিজেনের জন্য দেয়াল খাঁমচাতে লাগলাম, আচঁড়াতে লাগলাম পাগলের মত...পানিতে পা ছুড়তে লাগলাম পশুর মত...... তার মাঝেই খেয়াল করলাম এই ঘুটঘুটে অন্ধকার কবরের অন্য মাথায় কেউ একজন বসে আছে...... কেবল অবয়বটা বোঝা যায়...... অন্ধকারেও বুঝতে পারলাম সেই ন্যাড়া ফ্যাকাসে মেয়েটা জ্বলন্ত অঙ্গার চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। স্থির হয়ে বসে আছে কবরের পানির মাঝে...... আমি জান্তব একটা চিৎকার করে নিঃশ্বাস নেয়ার জন্য দেয়াল খাঁমচাতে লাগলাম। কিন্তু ফুসফুসের বাতাস ফুরিয়ে এসেছে...... ধীরে ধীরে পানিতে ডুবতে শুরু করেছি... এখনো মেয়েটা আমার দিকে স্থির চোখে চেয়ে আছে......


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now