বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমি খুব একটা সাহসী মানুষ তা বলব না।
তবে সে সময় মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারলাম। জয়গুন আর বড় মেয়েকে না দেখতে পাওয়ার কারণটা বুঝতে পারলাম। সম্ভবত লাশটা দেখে ভয়ের চোটে অন্য আধিয়ারদের বাড়িতে চলে গেছে।
আমি নেই- ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। হয়ত অন্যদের ডেকে আনার আগেই আমি চলে এসেছিলাম।
সুলতানার লাশটা নামাতে গেলাম না আমি। পুলিশি ব্যাপার। ওরা আসুক আগে। কতক্ষন আগে ফাঁস খেয়েছিল কে জানে। লাশটা দ্রুত ফুলে যাচ্ছে।
আমি উঠানে বেরিয়ে এলাম টর্চ হাতে। দেখতে পেলাম চারপাশের জমিগুলোর আধিয়ারদের বাড়ি থেকে হারিকেন হাতে লোকজন ছুতে আসছে ক্ষেতের মাঝ দিয়ে।
আমি তাজলদের মাটির বাড়িটার দিকে তাকালাম। শিরশির করে উঠল গা।
ভোররাতে পুলিশ যখন আসে তার একটু আগে সুলতানার লাশটা বেশি ফুলে গিয়ে শাড়ি ছিঁড়ে মেঝেতে পড়ে যায়। ঠিক একই সময়ে তাজলদের মাটির বাড়িটা অদ্ভুতভাবে হুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়ে।
একেবারে মিশে যায় বাড়িটা……” থামলেন সাত্তার সাহেব।
আস্তে আস্তে বললাম, "সুলতানা এমন করল কেন?"
হাসলেন তিনি, "সংসার। সংসার বড় আজব জিনিস। । বেধে রাখা যায় না, আবার ছেঁড়ার পরেও জোড়া দেয়ার বড় পাগল নেশায় টানে....... সুলতানাকে সংসারের নেশায় ধরেছিল,
তাজলের সংসারের নেশা। কাটাতে পারেনি সেটা। ফাঁসিতে ঝুলে নতুন করে ছেঁড়া সম্পর্কটা জুড়ে দিতে চেয়েছিল।"
চুপ হয়ে গেলেন দীর্ঘ কয়েকটা মুহূর্তের জন্য। চারপাশে ঝিঁ ঝিঁ পোঁকার একঘেয়ে ডাক।
আমি ঢোক গিললাম, “তারপর?”
“তারপর অনেক ঘটনা ঘটেছিল, সব বলার মত না।
তবে একটা ব্যাপার- ওরা মারা যাওয়ার পর আমার কোল্ড স্টোরেজে প্রায় রাতেই তাজল আর সুলতানাকে ঘুরে বেড়াতে দেখেছে অনেকে।
আমি নিজেও তালা বন্ধ করতে গিয়ে বেশ কয়েক রাতে দেখেছি।
আবছা অন্ধকারের মাঝে কোল্ড স্টোরেজের ভেতরে বাঁশের তাকগুলোতে বস্তার উপর পা ঝুলিয়ে বসে রয়েছে তাজল শেখ।পায়ে ঘোড়ার খুর,গলায় সাপ।
চুপচাপ বসে আছে প্রচন্ড ঠান্ডার মাঝে। কুয়াশার মত ধোঁয়া ওর চারপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। অদ্ভুত সুরে বিজাতীয় ভাষায় গুনগুণ করে গান গাওয়ার মত করে কিছু একটা বলে তাজল শেখ।
কাকে বলে জানিনা। কিন্তু ঐ সময়টায় পুরো এলাকার সব ঝিঁ ঝিঁ পোকা, শিয়াল, খাটাস- একদম চুপ মেরে যায়। কোনো প্রাণের সাড়া পাওয়া যায় না।”
হুক্কা টানতে গিয়ে খেয়াল করলেন আগুন নিভে গেছে। বিরক্ত হলেন যেন পাইপটার উপর। ফেলে দিলেন একপাশে পাইপটা। দীর্ঘ নীরবতা।
“জামাই, অনেক রাত হয়েছে। ঘুমায় পরো বাবা।” জয়গুন চাচী বললেন এক সময়।
আমি মাথা কাত করে উঠে দাঁড়ালাম। চারপাশে কুয়াশার মত বৃষ্টি, তার মাঝেই মেঘ সরে গিয়ে চাঁদের ঘোলাটে আলো ছড়িয়ে পরেছে চারপাশের ক্ষেত গুলোতে।
চাঁদের আলোতে মিহি বৃষ্টি। হঠাৎ খেয়াল করলাম চারপাশে ঝিঁ ঝিঁ পোকা, শিয়াল, কুকুর- কোনো কিছুর ডাক শোনা যাচ্ছে না!
গায়ে কাঁটা দিল! কেন যেন মনে হল অন্ধকার জমির সেই জায়গাটায় আলের ওপর থেকে কেউ একজন জ্বলজ্বলে হলুদ চোখে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে এইদিকে।
চোখের ভূল কিনা বুঝতে পারলাম না। তবে হঠাৎ যেন লাগল সেখানে কম বয়সী একটা মেয়ের আবছা অবয়ব প্রকট হচ্ছে ধীরে ধীরে প্রথম জনের পাশে.....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now