বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভুতসংগম-শেষ পর্ব

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মুহাঃ এ.এস শেখ (০ পয়েন্ট)

X ।। ভুতসংগম-শেষ পর্ব ।। ।গর্তে মানে কবরের ভিতরে স্যাঁতস্যাঁতে কাঁদামাটি, সাধারণ কবরের চাইতে একটু বেশি গভীর । ভিতরে মশা আর কীটপতঙ্গের ছড়াছড়ি । বেশ ঝোপঝাড়ও আছে । কিছুতেই উপরে উঠতে পারলাম না । নিরুপায় হয়ে টর্চলাইট জ্বালালাম । টর্চলাইটের আলো প্রায় নিভু নিভু করছে, মনে হয় ব্যাটারির পাওয়ার শেষ হয়ে আসছে । একে তো চারদিক জনমানবহীন বনজঙ্গল তার উপর আবার ঘোর অন্ধকার । ভয়ে আমার শিড়দাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা হিমশীতল একটা অনুভূতি পা এর তলায় গিয়ে ঠেকল । কবরের ভিতরে আমি একা একজন জীবিত মানুষ ভেবে আমার ঘাম বেরিয়ে যাচ্ছিল । কিছুক্ষণ আগে একটা কিসের যেন ভৌতিক আওয়াঁজ শুনতে পেলাম । আমার গলা দিয়ে কোন শব্দ বের হচ্ছে না, জোরে চিৎকার করলাম, “আমাকে বাচাঁও, আমি ভাঙ্গা কবরে পড়ে আটকে গেছি, আমাকে বাচাঁও” অনেক জোরে চিৎকার করলাম কিন্তু গলা দিয়ে শুধু ফ্যাঁসফ্যাঁস মৃদু আওয়াজ বের হল । নিজেই নিজের বিপদ ডেকে আনলাম মনে হচ্ছে । কেন যে এই জঙ্গলের কবরস্থানে এলাম, মোবারক মামাই বা কোথায় হারিয়ে গেল । নিজের হতবুদ্ধির জন্য নিজেকে ধিক্কার দিলাম । কত কাল যে এভাবে আটকে আছি আমি বলতে পারবো না, মনে হচ্ছে কয়েক হাজার বছর হবে আমি এখানে আটকে আছি । হঠাৎ সেই ভৌতিক শব্দটা আবার হল…হররর… রর..র..গর..রররর র..রর, এবার আরো জোরে আরো কাছে মনে হল । হঠাৎ নীল রং এর ৮-১০ টা চোখ কবরের উপর থেকে আমার দিকে তাকাল । আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে । রেডিয়ামের মত দপদপ করছে চোখগুলো, আমি বুঝতে পারলাম এগুলো শেয়াল, নিশাচর বলে রাতে চোখ এমন দেখাচ্ছে । মনে হচ্ছে ওরা আমার অবস্থা দেখে কিছুটা হতাশ কারণ আমি একটা কবরের ভিতরে আটকে, কিন্তু জীবিত । মৃত লাশের মাংস খাওয়ার জন্য ওরা এসেছিল । জীবিত মানুষের মাংস খাবে কিনা তা ঐ মুহুর্তে আমার ধারনা ছিলনা । তবে এই পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে আমাকে আগে থেকে কোন সতর্ক ব্যবস্থা নিতে হবে । তাই দোরী না করে ব্যাগ খুলে তা থেকে লাইটার টা খুঁজে বের করলাম, কবরের ভিতরের শুকনো আর ভেঁজা ডালপালা দিয়ে আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করলাম, কয়েকবার চেষ্টার পর আগুন ধরলো । আগুনের উজ্জ্বলতা আর ধোঁয়ায় শেয়াল গুলো কোথায় যেন পালিয়ে গেল । কবরের ভিতরে ধোঁয়ায় আমার কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল, কিন্তু সহ্য করতেই হবে নইলে নির্ঘাত শেয়াল আমাকে জীবিত খুবলে খাবে । আগুন জ্বালাতে পেরে মনে অনেকটা সাহস ফিরে পেলাম কিন্তু কবরের ভিতরে বেশি ডালপালা নেই । যার কারণে মনে হচ্ছে না বেশিক্ষণ আগুন জ্বালাতে পারবো । হয়তো ১ ঘন্টা পর আগুন নিভে যাবে । আমি ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করলাম । নোকিয়া মোবাইল কিন্তু নেটওয়ার্কের কোন কভারেজ পাচ্ছে না । মোবাইলের অপশনে গিয়ে স্টপওয়াচ এ ৪৫ মিনিট দিয়ে অন করে দিলাম । কারণ যা করার এই সময়ের মধ্যেই করতে হবে, ৪৫ মিনিট পর আগুন নিভে যাবে । মোবাইলের টর্চ দিয়ে পরে রাস্তা খুঁজতে কাজে লাগবে তাই এখন মোবাইলের চার্জ টর্চ জ্বালিয়ে শেষ করা যাবে না । বিপদে মানুষের মাথা সঠিকভাবে কাজ করে না তাই বিপদকে জয় করার জন্য চাই মাথা ঠান্ডা রাখা । আমি চোখ বন্ধ করে আমার শৈশবের কিছু সুখ স্মৃতির কথা স্বরন করলাম, বাবা-মা, ভাই বোনদের কথা, বন্ধুদের কথা স্বরণ করলাম । আর মনে মনে ভাবলাম আমি মরবো না আমি অবশ্যই এখান থেকে বেঁচে ফিরবো । এভাবে দু- তিন মিনিট মনে মনে চিন্তা করলাম আর মনে সাহস ফিরে এলো । পকেটের মোবাইলটা বের করে দেখলাম আর ৪০ মিনিট বাকি আছে । প্রথমে ব্যাগ খুলে সব কিছু বের করলাম, পানির বোতলের সবটুকু পানিই প্রায় শেষ । টর্চলাইটের ব্যাটারির পাওয়ারও প্রায় ফুরিয়ে গেছে, ম্যাকগাইভার ছুড়ি, সানগ্লাস, টিফিন বক্স, কলম আর ডায়েরী ছাড়া তেমন কিছুই নেই, বাকি জিনিস গুলো কবরস্থানে আসার আগে নানুর বাসায় রেখে এসেছিলাম । প্যান্টের ডান পকেটে একটা লাইটার বাম পকেটে মোবাইল । সব কিছু বিভিন্ন পকেটে নেয়া হয়ে গেছে, কি করতে হবে তা আগে থেকেই ঠিক করে ফেললাম । ব্যাগ চিড়ে একটা দড়ির মত তৈরী করবো, সাথে জুতোর ফিতে দিয়ে যে দড়ি হবে সবগুলো গিঁট দিয়ে জোড়া লাগিয়ে পানির বোতল এ বেঁধে ছুড়ে মারবো বাহিরে যাতে কোন বাঁশঝাড়ে বা ঝোপঝাড়ে আটকে যায় । যেই চিন্তা সেই কাজ । দেরী না করে প্রথমেই জুতোর ফিতে খুলে ফেললাম, দুই ফিতা খুলে গিঁট দিয়ে জোড়া দিলাম, এরপর ছুড়ি দিয়ে ব্যাগটাকে চিড়ে চিকন মত অনেকগুলো অংশে ভাগ করে একইভাবে গিঁট দিয়ে দড়ি বানালাম । সব গুলো জোড়া দিয়ে প্রায় ১০ হাত লম্বা একটা দড়ি তৈরী হল । মোবাইলের স্টপওয়াচে দেখলাম আর মাত্র ২০ মিনিট বাকি আছে, বোতল দিয়ে বেঁধে অনেকবার চেষ্টা করলাম । বোতল প্রায় পানি শুন্য হালকা তাই ছুড়ে দিলেও তা দুরে যাচ্ছে না । কি করবো ভেবে পাচ্ছি না । হঠাৎ পায়ের জুতোর দিকে আমার চোখ গেল, আমি চট জলদি বোতল খুলে লম্বা দড়িটা জুতোর সাথে বাধঁলাম আর ছুড়ে দিলাম বাইরে । মনে হল কোন ঝোপের সাথে বা বাঁশঝাড়ের সাথেআটকে গেছে । দড়ি ধরে উঠতে গিয়ে দড়ি ছিড়ে ভিতরে পরে গেলাম । বাম হাতের কনুইয়ে বেশ চোট পেলাম । আমার ওজন নেয়ার জন্য দড়িটা যথেষ্ট শক্ত ছিল না । সকল আশা সাথে সাথে কর্পুরের মত উড়ে গেল । ভাবলাম আর কোন উপায় নেই । শুধু স্রষ্টাই এখন আমাকে বাঁচাতে পারেন । পকেট থেকে মোবাইল বের করে দেখলাম আর ১০ মিনিট বাকি আছে কিন্তু তার আগেই আগুন নিভে গেছে । চারদিকে মেঘের গর্জন, বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে । মনে হচ্ছে বৃষ্টি হবে । আমি কবরের ভিতরে আটকে গেছি । বৃষ্টি হলে আমার অবস্থা কি হবে তা বুঝতে পারছি না । মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হল আর কবরের পানিও বাড়তে থাকল । পানি বাড়তে বাড়তে আমার কোমড় পর্যন্ত হয়ে গেল । এতক্ষণ আমি ভয় পেয়েছিলাম বৃষ্টির জন্য কিন্তু এখন স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করতে থাকলাম যাতে বৃষ্টি আরও কিছুক্ষণ হয়, কারণ কবর পুরোপুরি পানিতে ভরে গেলে আমি সাতরে মাটিতে উঠে যেতে পারবো । বৃষ্টি হল প্রায় ৩ ঘন্টা মত, ঘড়ি নেই তাই সঠিক বলতে পারবো না । কবরটা পুরোপুরি পানিতে ভরে গেছে । আমি আর দেরী না করে হামাগুড়ি দিয়ে কোন রকমে উপরে উঠে এলাম । হাত পা প্রায় অবশ হয়ে এল । এতক্ষণ আমি সাতরে ছিলাম পানিতে ভেসে পা দুটোর একটাতেও আর শক্তি পাচ্ছি না, তারপরও দাড়ালাম, এখান থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বের হতে হবে । জুতো জোড়ার একটা কবরের পানিতে ভাসছে অন্যটা বাঁশঝাড়ে আটকে আছে । জুতো দুটো পায়ে পরলাম, পকেট হাতরে মোবাইলটা বের করলাম, পানিতে ভিজে বন্ধ হয়ে আছে । ডান পকেটে লাইটারটা বের করলাম, আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করলাম কিন্তু আগুন জ্বলছে না । মনে হচ্ছে ভেজা বা গ্যাস শেষ কিন্তু চকমকি পাথরের আলোর স্ফুলিঙ্গ বের হচ্ছে, অনেকটা ক্যামেরার ফ্লাশের আলোর মত । লাইটারের চকমকি পাথরের আলোর ঝলকানিতে অনেকটা আলো তৈরী হলে সবকিছু এক নজর দেখে কোন দিকে যাব তা ঠিক করে নিলাম । এভাবে ফ্লাশ করে করে আমি প্রায় ঘন্টা খানেক পর রাস্তা খুঁজে পেলাম । রাস্তা ধরে সোজা হাটতেই সামনে কিছু গ্রামবাসী হাতে হ্যারিকেন ও মশাল দেখতে পেলাম । পরে বুঝতে পারলাম ওরা আমাকেই খুঁজতে বের হয়েছিল । তাদের সাথে কয়েকজন পুলিশও ছিল । আমাকে নানু জ্বিজ্ঞেস করলেন কি হয়েছিল? আমি সব কিছু বিস্তর বর্নণা করলাম, শুনে গ্রামবাসী ও পুলিশ খুবই অবাক হলেন, কারণ মোবারক মামা নাকি ৩ বছর আগে গুম হয়েছিলেন । তার লাশ আজও পাওয়া যায়নি । তবে পুলিশ অনুসন্ধান চালাচ্ছে তার গুমের ব্যাপারে । আমি নিজেকে বিশ্বাস করতে পারলাম না । মোবারক মামা মৃত হলে আমার সাথে কথা বললেন কিভাবে আর ওনাকে নিয়ে আমি একটা কবরস্থানে ঘুরে বেরিয়েছি । আসলেই উনি মৃত তাই যতবারই নানুর সাথে দেখা করতে বলেছিলাম উনি রাজি হননি । ও.সি. সাহেবকে সব খুলে বললাম, শুনে তিনি হাসলেন কিনা বুঝতে পারলাম না । পরদিন সকালে ও.সি. সাহেব ও দুইজন কনস্টেবল সহ আমি যেখানটায় আটকা পরে ছিলাম সেখানে গেলাম । পাশে একটা কবরের ফলকে লেখা “দেখা হবে নির্জনে কথা হবে মনে মনে” আমি তার অর্থ কিছুই বুঝতে পারলাম না । তবে আমার অনুরোধে ও.সি. সাহেব গোয়েন্দা পুলিশ ও মেডিকেল অফিসার সহ ঐ কবরস্থানের ১০টি কবর খনন ও ময়না তদন্ত করেন এবং অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, তার একটি কবরের লাশ ছিল মোবারক মামার । তাকে সন্ত্রাসী খুনিরা গুমখুন করে এখানে কবর দিয়েছিল । আজ এত দিন পরেও ঘটনাটি মনে পড়লে আমার সারা শরীর কাঁটা দিয়ে উঠে হিমশীতল এক অনুভুতিতে, কারণ ঘটনাটি সত্যিই ঘটেছিল । ¤¤¤¤ সমাপ্ত ¤¤¤¤


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now