বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নীলয় আর নীলা একই অফিসে চাকুরী করে। নীলয় নীলাকে মনে মনে ভালবাসে। নীলয়ের ঠিক সামনে বসে নীলা। কিছুক্ষণ পরপর উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখে। নীলাও ব্যাপার'টা খুব উপভোগ করে। নীলাও নীলয়কে পছন্দ করে। কিন্তু তা বুঝতে দিতোনা। নীলা যদি একটু দেরি করে অফিসে আসতে। তাহলে নীলয়ের বুকে ছিনছিন ব্যাথা উঠে। চিন্তায় থাকে নীলার কি পথে কিছু হলো নাকি? নীলার ব্যাপারেও ঠিক তাই। আজ নীলাকে খুব চিন্তিত মনে হচ্ছে। কেমন যেন মুখটা ভার করে আছে। নীলয় বুঝতে পারছে কিছু একটা হয়েছে নাহয় নীলার মুখে সবসময় হাসি থাকে। লাঞ্চের সময় নীলয় গিয়ে জিজ্ঞেস করলো।
. কি ব্যাপার নীলা ম্যাডাম আজকে এরকম মুখ ভার করে আছেন কেন?
নীলা অসহায় চোখে নীলয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে বললো।
. বাড়ি থেকে বিয়ের জন্য তারা দিচ্ছে। কিন্তু আমি এখন বিয়ে করতে চাচ্ছিনা।
নীলয় ঘাবড়ে গেলেও স্বাভাবিক ভাবেই বললো।
. হুম ভালো তো বিয়ে করে ফেলো সমস্যা কি? মেয়ে যেহেতু হয়েছো বিয়ে তো করতেই হবে তাইনা?
নীলা একটু রেগে গিয়ে বললো।
. মেয়ে হয়েছি বলেই কি যাকে ইচ্ছে তাঁকেই বিয়ে করতে হবে নাকি?
. যাকে ইচ্ছে হবে কেন? নাকি কাউকে পছন্দ করো?
. তা কেন হবে?
. তাহলে বিয়ে করে ফেলো। আমরা সবাই তোমার বিয়ে খেতে যাবো অনেক মজা হবে।
. দয়া করে মজা রাখেন না। বাড়িতে একটু পারলে বুঝান।
. আমি? আমি কিভাবে?
. হুম আপনি বললে হবে।
. হবে তো?
. আরে হ্যা,
তারপর নীলয় নীলার বাড়িতে ফোন করে বুঝিয়ে বলে যে। নীলা যেহেতু এখন বিয়ে করতে চাচ্ছেনা সেহেতু থাক। নীলার মা রাজি'ও হয়ে যান। এ খবর শুনতে পেয়ে নীলা খুশি হয়ে নীলয়কে ফোন দেয়।
. হ্যালো, হ্যা নীলা বলো।
. আসলে অনেক ধন্যবাদ নীলয় ভাই। কালকে আপনার জন্য একটি উপহার থাকবে।
. আরেহ না, ধন্যবাদ দিয়ে পর করে দিয়োনা।
. কি যে বলেন।
পরেরদিন নীলয়ের জন্য নীলা একটি ঘড়ি উপহার দেয়। নীলয় খুব খুশি হয়। তার উপর পছন্দের মানুষের থেকে উপহার। একদিন নীলয় নীলাকে I Love You লিখে মেসেজ দেয়। নীলা মেসেজটা দেখে অনেক খুডি হয়। খুশিতে সে নাচতে নাচতে নিজের খাট ভেঙ্গে ফেলতেছিলো। ঠিক ঐ সময় আবার একটা মেসেজ পেলো Sorry Neela Messege Ta Vule Chole Geche Kichu Mone Koro Na, সাথে সাথে নীলা স্থব্দ হয়ে গিয়েছে। সে ভাবে, তাঁর কাছে যদি মেসেজটা ভুলেই এসে থাকে তাহলে কি অন্যকাউকে ভালবাসে? তাঁকে মেসেজ... এসব ভাবতে ভাবতে নীলার অনেক মন খারাপ হয়ে যায়। সে মুহুর্তে এফবিতে ঢুকে দেখে নীলয় অনলাইননে আছে। মেসেজ দিলো,
. নীলয় ভাই,, মেসেজটা কি আসলেই ভুলে দিয়েছিলেন?
নীলয় কি রিপ্লে দিবে বুঝতে পারছেনা।
. আচ্ছা ধরো ভুলে না সত্য'ই দিয়েছি তখন কি বলতে?
. সেটা তো সত্যি করে দিলে বলতাম।
. আচ্ছা ধরে নাও সত্যি।
. পারবোনা।
. আচ্ছা আমি যদি বলি তোমাকে ভালবাসি। তুমি কি বিশ্বাস করবে?
. যদি, ধরো, এসব ছাড়া কথা বলেন দয়া করে।
. নীলা আমি তোমাকে সত্যি'ই ভালবাসি।
. হ্যা, পরের মেসেজে বলবেন ভুলে দিয়েছেন।
. সত্যিই খুব ভালবাসি,, আর মেসেজটা ভুলে যায়নি। দেয়ার পর ভাবলাম যদি তুমি রিয়েক্ট
এজন্য পরের মেসেজটা দিয়েছি।
. তার মানে মেসেজটা আমাকেই দিয়েছেন?
. হুম।
. কি বলছেন? সত্যি'ই?
. হ্যা,
. আমাকে ভাবতে হবে।
. কদিন সময় চাও?
. দুবছর।
. কিহহ এতো সময়?
. হ্যা, অপেক্ষা করতে পারবেন?
. হ্যা পারবো।
এভাবেই শুরু হয় তাঁদের মধুর সম্পর্ক। প্রতিদিন দেখতে হয়। যেদিন অফিস ছুটি থাকে সেদিন নীলয় গিয়ে নীলার বাসার নিচে দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর কে কোনদিন কি পোষাক পড়ে অফিসে আসবে তা ঠিক করে দেয়া। প্রতিদিন নীলা লাঞ্চ বানিয়ে নিয়ে আসে। তারপর দুজনে লাঞ্চের সময় একসাথে খায়। নীলয় যে সময় খায়। নীলা তাঁর মুখটির দিখে তাঁকিয়ে আল্লাহর কাছে পার্থনা করে। এ মানুষটাকেই যেন সে সারাজীবন রান্না করে খাওয়াতে পারে। তাঁদের ব্যাপার'টা অফিসের বাঁকি লোকজনদের বুঝতে অসুবিধে হলোনা। কিন্তু এখনো নীলা উত্তর দেয়নি। যখন ঠিক দুবছর হলো সেদিন তাঁদের বাসর রাত। মানে তাঁদের বিয়ের দিন। নীলাকে জিজ্ঞেস করলো,
. কি তোমার আজো দুবছর হয়নি?
. আমাকে আপনার কি ১ বছর এগুরোমাসের মনে হয়?
. বাহ ভালো মজা করতে জানোতো তুমি। আমি আমার উত্তর চাই।
. এখনো উত্তর পাননি?
. বা রে তুমি বুঝি আমাকে বলছো?
.তাহলে থাক আর শুনতেও হবেনা।
. কেন শুনতে হবেনা? তুমি কিন্তু এখন আমার বউ কথা না শুনলে মারবো।
. কিহহ? বিয়ে করতে না করতেই এই কথা? বাঁকি জীবন কিভাবে যাবে?
. হিহি মজা করলাম ।
শুরু হয় তাঁদের নতুন জীবন। অনেক ভালই কাটছে। রাগ, অভিমান, ভালোবাসায়। কিন্তু কেউ কাউকে না দেখে থাকতে পারেনা। অফিসের কাজে নীলয়কে একটু খুলনা যেতে হবে। ১০ দিনের জন্য। এ খবর নীলা শুনা মাত্র কেমন করে জানি আছে। খুব সকাল। নীলয় ঘুমুচ্ছে। নীলা দেখছে তাঁর বরের ঘুম। যখনি মনে হলো কাল থেকে ১০ দিন আর সে নীলয়ের বুকে মাথা রেখে ঘুমুতে পারবেনা তখনি মন খারাপ হয়ে গেলো এক মুহুর্তে। সে আস্তে করে নীলয়ের বুকে আবারো মাথা রেখে ডাক দেয়,
. এই শুনছো?
. হুম্মম্ম
ঘুমঘুম মুখে।
. খুলনা না গেলে হয়না?
. না হয়না তো। তুমিতো আগে ছিলে। বুঝতেই পারছো।
. এতোদিন কেন? এক মুহুর্ত থাকতে পারিনা না দেখে আর ১০ দিন? না আমি যেতে দিবোনা তোমাকে। বসকে বুঝিয়ে বলোনা।
. কি বলবো? যে আমার বউ আমাকে এক মুহুর্ত না দেখে থাকতে পারেনা?
. কেন তুমি বুঝি থাকতে পারবে?
. কেন পারবোনা? শুনো পাগলী দূরে গেলে ভালবাসা বাড়ে আরো গভীর হয়।
. এমনিতেই অনেক গভীর দরকার নেই আর। আমি যেতে দিবোনা ব্যাস।
.
অনেক বুঝিয়েও লাভ হয়নি। পরেরদিন রেডি হচ্ছে নীলয় খুলনা যাবে বলে। মুখটা কালো হয়ে আছে নীলার। কিছুক্ষণ পর সত্যি'ই কেঁদে দিবে। তাই আগেই জড়িয়ে ধরলো নীলয়।
. সোনা বউ আমার কাঁদেনা আর। তোমার চোখের জল দেখে যদি বের হই। তাহলে কি আমার মঙ্গল হবে? তুমি বলো?
. এরকম বলোনা। এইযে আমি হাসছি তুমি যাও। সাবধানে যেয়ো।
নীলা রাতে অনেক ভয়ংকর এক দুঃস্বপ্ন দেখেছে। এটা নিয়েই তার শত চিন্তা হচ্ছে। নিজের কোন ক্ষতি যদি সে স্বপ্নে দেখতো তাহলে তার কিছুই যায়-আসতো না। কিন্তু দুঃস্বপ্ন'টা হলো তাঁর পৃথিবী নীলয়কে নিয়ে। সে দেখেছে নীলয় ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা যায়। নাহ সে আর ভাবতে পারছেনা। আল্লহর কাছে নামাজ পড়ে পড়ে নীলয়ের জন্য দোয়া করতে থাকলো। সব স্বাভাবিক ছিলো পাঁচ সাত দিন। দেখে নীলার আশংকা একটু কাটে। তবুও তার ভয় হয়। যদি নীলয়ের কিছু হয়ে যায়। তাহলে সে সহ্য করতে পারবেনা। ফেরার দিন হলো নীলয়ের। ট্রেনে বসে ফোনে মেসেজিং করতে করতে হটাৎ নীলয়ের কোন রিপ্লে নেই। নীলার মনের মনের মধ্যে মোচড় দিয়ে উঠলো । ফোন করে পেলোনা ফোন বন্ধ বলে। নীলার মধ্যে কি যেন শুন্যতা অনূভব করছে। যা কিছুমাত্র আগে সময়ে ছিলোনা। ৫ মিনিট পর সে টিভিতে ব্রেকিং নিউজ শুনলো " ট্রেন দুর্ঘটনায় খুলনাতে ৫০০ জনের মৃতু " নীলার আর ভাল লাগছেনা। অনেক চেষ্টা করলো ফোনে পেলোনা। অতঃপর নীলয় আর কোনদিনও বাসায় ফেরেনি। নীলার দুঃস্বপ্ন'ই সত্যি হলো। এই ঘটনাই বা কাহিনিই হচ্ছে নীলার মানসিক রোগির হওয়ার পিছনের গল্প।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now