বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ভিট্রোলেজ
লিখেছেন একজন আমি
আবরার ধরা পড়েছে । আমার ছোটবোন এসে
জানিয়ে গেল ।খবরটা শুনে কেন জানি ভালো
লাগল না ।অথচ আমারতো আনন্দ হ্ওয়ার কথা !যার
জন্য আমার আজকের এ অভিশপ্ত জীবন ,সে
ধরা পড়েছে পুলিশের হাতে । এর চেয়ে খুশির
আর কি হতে পারে ! কিন্তু সত্যি আমি এটা চাইনি ।
আমি চাইনি ও ধরা পড়ুক । কেন চাইনি তাও জানিনা ?
মনে হয় নিজের অগোচরে আজো কোথাও
লুকিয়ে আছে ওর জন্য একটু ভালোবাসা ।
আবরারের সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল এলির এক
কাজিনের বিয়েতে । চোখে মোটা ফ্রেমের
চশমা , গোলগাল , নাদুস নুদুস একটা ছেলে
আবরার । মুখে সবসময় লেগেই আছে হাসি। এনাম
মেডিকেল কলেজে এবছর ভর্তি হয়েছে ।এলি
আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো ।টুকটাক কথা
হলো ।
এলি আর আমি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের
এবারের ইন্টার পরীক্ষার্থী ।ওর আর আমাদের
বাসা পাশাপাশি । আমার বেস্ট ফ্রেন্ড । আমি
দেখতে ছিলাম বেশ ।সে তুলনায় এলি মোটামুটি
দেখতে । আমার সাথে কোথাও বেড়াতে
গেলে ও বেশ বিব্রত হতো । সবার এটেনশান
আমার দিকে থাকত আর ও হয়ে পড়ত একা । ওর খুব
মন খারাপ হত । চোখ ছলছল করত ।ও এটা সবার কাছ
থেকে লুকাতে পারলেও আমার কাছে পারেনা ।
তাই আমি সাধারণত যে কোন ধরণের প্রোগ্রাম
এভয়েড করে চলতাম ।কারণ আমি একা কোথাও
যেতাম না । এলি আমার সাথে যেত সবজায়গায় । ওর
মন খারাপ হয় এমন কিছু আমি করিনা । আল্লাহর কাছে
কৃতজ্ঞ যে এতো ভালো একটা মেয়েকে
বন্ধু হিসেবে পেয়েছি ।সবাই বলে প্রিয়াংকা আর
এলি যেন দুই দেহ এক প্রাণ ।এলি ছাত্রী
হিসেবেও খুব ভালো ।বলবিদ্যার জটিল সব অংক
আমি ওর কাছ থেকেই বুঝে নেই ।
একদিন ফোনে একটা আননোন নাম্বার থেকে
ফোন আসে ।
হ্যালো
কে ? প্রিয়াংকা ?
জ্বী ।আপনি ?
আমি আবরার । এলির কাজিন
জী বলুন
বিকালে ফ্রি আছো ?
কেন ?
তোমাকে নিয়ে ঘুরতে বের হব
ফাইজলামি করেন ?
কেন ফাইজলামির কি দেখলা ?
আমি আপনার সাথে ঘুরতে যাবো কেন ?
কারণ আমি তোমাকে ভালোবাসি
ফোনটা রেখে দিলাম । আবার কল আসছে ।
সাইলেন্ট মোডে দিয়ে রাখলাম ।
এলিদের বাসায় গেলাম । ওকে বললাম সব । ওর
মুখটা যেন নিভে গেল ।ওকে শুধু বললাম
আমার নাম্বারটা ওনাকে দিয়ে ভালো করিস নি ।
আমি চলে এলাম বাসায় । আবরার প্রতিদিন ফোন দিত
। প্রথম প্রথম খুব বিরক্ত লাগত । অনেক বকাঝকা
করতাম । ওর সেদিকে ভ্রুক্ষেপ ও নাই ।ও যেন
আমাকে জয় করার মিশনে নেমেছে । প্রতিদিন
অল্প অল্প করে ভালো লাগা ।কখন যে এই
চশমাধারী নাদুসনুদুস ছেলেটাকে ভালোবেসে
ফেললাম নিজেও জানিনা ।ও আমার মনে অদ্ভুত
কোন উপায়ে বানিয়ে ফেলল ভালোবাসার ঘর ।
আবরার আর আমি প্রতিরাতে ফোনে এক আকাশ
স্বপ্ন বুনতাম ।ঘর বাঁধার স্বপ্ন , ওর বুকে মাথা
রেখে বাঁচার স্বপ্ন । ও আমাকে নিয়ে কুমিল্লা
বোটানিক্যাল গার্ডেনে যেত ডেটিং এ । প্রতি
বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে আসত আর শুক্রবার
আমাকে নিয়ে ঘুরত ।দুজন একটা রিকশা নিয়ে সারা
কুমিল্লা শহর চষে বেড়াতাম ।ধর্মসাগর , ওয়ার
সিমেট্রি কিংবা শালবন বিহারেও যেতাম মাঝে মাঝে ।
দুনিয়াটাকে তখন বড় সুন্দর আর মোহনীয় লাগত ।
আমি আবরারের হাতটা চেপে ধরে রাখতাম শক্ত
করে যেন এ হাত ফসকে না যায় কখনো । আমি
টের পেতাম ওর প্রচন্ড ভালোবাসা ।
একদিন ও আমাকে ওর এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে যায় ।
আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি । ওই বাসাটা সেদিন খালি
ছিলো ।ওই বাসায় যেতেই আমি ওর অভিপ্রায়
বুঝে গেলাম । খুব রাগ হলো ওর উপর । আমি
আবরারের কাছে এমন কিছু আশা করিনি । রাগ করে
চলে এলাম ।তারপর থেকে ও ফোনের পর
ফোন দিতে লাগল । আমি কল রিসিভ করলাম না । ও
এলিকে দিয়ে অনেক রিকোয়েস্ট করাল ।কিন্তু
আমার ওর সাথে কথা বলার রুচি হলো না ।
অবশেষে এক সপ্তাহ পর এক রাতে আবরারের
ফোন রিসিভ করলাম ।ও অনেক সরি বলল । আমার
সাথে কথা বলতে বলতে ঝর ঝর করে কেঁদে
দিল ছোট বাচ্চাদের মত । আর সামলাতে পারিনি ।
ওকে মাফ করে দিয়েছিলাম । ও দেখা করতে
চাইল ।তখন রাত নয়টা বাজে । আমি ওকে বললাম
চলে এসো
তোমার অপেক্ষায় আছি
নিয়ে এক বুক ভালোবাসা
ও বলল
সখী ,
আমি আজিকে সাত সমুদ্র তের নদী পাড়ি দিয়ে
হলেও তোমার কাছে পৌঁছাব । অপেক্ষা কর
আমার অপেক্ষা শেষ হলো প্রচন্ড চিত্কারে ।
কেউ একজন জানালা দিয়ে এসিড ছুঁড়ে
মেরেছে । আমার মুখের বাঁ পাশ , বাম চোখ
আর শরীর বাম পাশ একেবারে ঝলসে গেল ।
গত দুই মাস আমি একটা ঘোরের মাঝে ছিলাম ।
হসপিটালে কাটানো সে সময়গুলো আমার
জীবনের অভিশপ্ত সময় ।কি দুঃসহ নিদারুণ কষ্ট !!
একটা মানুষ আরেকটা মানুষকে এতোটা কষ্ট দিতে
পারে !! আমার বাম চোখ একেবারে নষ্ট হয়ে
গেছে । এখন এক চোখে দুনিয়া দেখি ।আয়নার
সামনে দাঁড়াতে ভয় হয় ।কত দিন আয়নায় নিজের মুখ
দেখি না ! আমি জানিনা কেন আবরার এমন করেছিল
। সেদিনের সে প্রত্যাখ্যানের প্রতিশোধ
এমনভাবে সে নেবে আজো বিশ্বাস হয় না । ও
আমার বাসার ওয়াল টপকে ভেতরে ঢুকেছিল ।
এসিড মেরেই আবার ওয়াল টপকাবার সময় আমাদের
দারোয়ান দেখেছে ।অবিশ্বাস ই বা করি কিভাবে ?
এই বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের দোলাচলে জীবন
আমার ।প্রতিটা ক্ষণ এ অভিশপ্ত জীবন থেকে
মুক্তির প্রার্থনা করেই কাটে ।
প্রিয়াংকার ডায়রীটা বন্ধ করল এলি । ওর ঠোঁটের
কোণে এক চিলতে হাসি । মনে মনে
প্রিয়াংকাকে উদ্দেশ্য করে বলল
প্রিয়াংকা , তুই কথনোই জানবিনা যে সেদিন আবরার
নয় , আমিই ছুঁড়েছিলাম এসিড । আবরার ভাইকে আমি
ভালোবাসতাম । কিন্তু এফেয়ার হলো তোর
সাথে । কারণ তুই সুন্দরী । এটা আমি মানতে পারিনি
। তোর সাথে কোথাও গেলে লোকে
তোকে দেখত , আমার দিকে ফিরে ও তাকাত না
। আমি এটাও মানতে পারিনি ।আমি লেখাপড়া , গান ,
আবৃত্তি ,ডিবেট সবকিছুতেই তোর চেয়ে
ভালো ছিলাম । আর তোর যোগ্যতা তোর সাদা
চামড়া আর ওই মুখ । আর এই সাদা চামড়ার কারণে আমি
জায়গায় জায়গায় হেরেছি তোর কাছে ।আমি
দেখতে ভালো না এটা মনে পড়ত তোর দিকে
তাকালেই ।এ এমন এক কষ্ট যা বিধাতা নিজ হাতে
দিয়েছেন । তাই এসিড মেরে তোর সুন্দর মুখটা
ঝলসে দিলাম । এখন তুই আমার চেয়ে শত গুণ কুত্
সিত । এখন তোর সাথে কোথাও গেলে
লোকে আমার সাথে কথা বলবে আর তোকে
ঘৃণা করবে । আর তোকে ভালোবাসার অপরাধের
শাস্তি ভোগ করবে তোর নাগর আবরার ।
এলির চোখমুখে ফুটে উঠে একটা তৃপ্তির চিহ্ন ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now