বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বোধ

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X বোধ Raptor Oni আজ শাহিনের মনটা খুবই খারাপ।অবশ্য এটা ওর জন্য নতুন কিছু নয়।কিছু কিছু মানুষ আছে,যাদের জন্মই হয় সারাজীবন কেবল হেরে যাবার জন্য।তাদের প্রতিদিন শুরু হয় কেবল অপমান আর হেয় হবার জন্য ।আর দিন শেষ হয় পরেরদিন কপালে আর কি কি আছে তা চিন্তা করতে করতে।শাহিন নিজেকে তাদেরই একজন মনে করে।আজ ওর বস্ ওকে সরাসরি চাকরী ছেড়ে দিতে বললেন।কারণ আর কিছু না,একটা ছোট ভুল।হিসাব করতে গিয়ে ছোট ভুল হয়েছে।তাতে মাত্র একশো টাকার গড়মিল। এতেই যে পাক্কা আধাঘন্টা বসের কথা শুনতে হবে,তা শাহিন চিন্তাও করে নি।এতদিন শুধু বস্ আকারে ইঙ্গিতে ওকে চাকরি ছেড়ে দিতে বলতেন।আজ বললেন সরাসরি।এতো অপমান শাহিন অনায়াসে সহ্য করে আসছিলো এতোদিন শুধু একজনের কথা চিন্তা করে।আর তিনি হলেন ওর খালা।তিনকুলে ওর একমাত্র আপন জীবিত আত্মীয়।গত মাসে তিনিও গত হলেন।আর তারপর থেকেই ওর জীবনটা দুর্বিসহ হয়ে উঠলো।এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে শাহিনের প্রতি একমাত্র দয়া আর ভালোবাসা নিয়ে যে মানুষটা ছিলেন,তিনি ছিলেন ওই খালা।তিনি চলে যাবার পর থেকে ওর দুঃখের কথা আর কেউই শোনে না।তাই আজ শাহিন ওর জীবনের চরমতম এক সিদ্ধান্ত নিলো।আজ ও সুইসাইড করবে।এর জন্য এই সন্ধ্যায় ও বের হয়েছে।একা একা রাস্তায় হাঁটছে আর হিসাব করছ নিজের জীবনের ব্যর্থতার ।হয়তো আর কখনো এই সুযোগ হবে না।ছোটবেলায় বাবা- মায়ের আদর পাওয়ার সৌভাগ্য বেশিদিন টেকে নি । ওর বয়স যখন মাত্র তিন বছর,তখন এক রোড অ্যাকসিডেন্ট ওর জীবন থেকে বাবা-মা কে কেড়ে নেয়।তারপর থেকে সে তার খালার কাছেই মানুষ।ওনার ও আপন বলে শাহিন ছাড়া কেউ ছিল না।তাই শাহিনকে নিজের সন্তানের মতই আগলে রেখেছিলেন।শাহিন ছিলো লাজুক,মুখচোরা আর চাপা স্বভাবের ছেলে।তার উপর খেলাধুলা পারতো না তেমন।তাই ক্লাসের বন্ধুরা ওকে কখনও খেলাতে নিতো না।আর কেউ সেভাবে ওর সাথে মিশতো ও না।গায়ের রঙ একটু কালো ছিল ওর।তাই কেউ সুযোগ পেলেই ওকে ক্ষেপাতো।তাই কারো সাথে মিশতো না ও।একা একা থাকতে হতো ওকে।আর সাথে থাকতো একরাশ বিষন্নতা।স্কুলের স্যাররা ওকে গর্দভ ছাড়া কোন কথাই বলতো না।কারণ ওর কাছ থেকে পড়া আদায় করা যে কোন শিক্ষকের কাছেই ছিল অনেক কঠিন কাজ।এরপরও এস.এস.সি. পরীক্ষায় ওর রেজাল্ট কিভাবে যেন অনেক ভালো হলো।এরপর যখন ও কলেজে উঠলো,তখন গ্রুপ চেঞ্জ করে সাইন্স থেকে কমার্সে যেতে হলো।কারণ,সাইন্স গ্রুপে থাকলে পড়তে অনেক খরচ হবে।তুলনায় কমার্সে খরচ কম।খালার উপর চাপ যাতে কম পড়ে,তাই সে নিজের ইঞ্জিনিয়ার হবার স্বপ্নকে জলাঞ্জলি দিয়ে কমার্সে ভর্তি হলো।স্বপ্ন পোড়ার দগদগে ঘা শুকাতে না শুকাতেই আরেক যন্ত্রনা।হঠাৎ এইচ.এস.সি. পরীক্ষার আগে অসুস্থ হয়ে পড়ে ও।এজন্য পরীক্ষা খারাপ হয়, সাথে রেজাল্ট ও।একসময়ে বাধ্য হয়েই ও ভর্তি হয় বেসরকারি এক কলেজে।আর সেখানেই প্রেমে পড়ে প্রথম।মেয়েটার নাম ছিলো লুবনা।খুব সুন্দর ছিলো দেখতে।সেই সাথে গানও গাইতে পারতো চমৎকার।পুরো কলেজের সব ছেলে ওর পিছনে লাইন দিয়ে ঘুরতো।কিন্তু লুবনা কাউকে পাত্তা দিতো না।একই বিভাগে পড়ার কারণে শাহিনের সাথে ওর কথা হতো প্রায়ই।শাহিন ওকে কতোটা ভালোবেসে ফেলেছিলো,তা ও নিজেও জানতো না।এক ভ্যালেন্টাইন ডে তে মনে অনেক সাহস নিয়ে একগুচ্ছ ফুল নিয়ে শাহিন লুবনার খোঁজে বের হয়েছিলো।লুবনাকে সে খুঁজে পেল একসময়ে,কিন্তু তখন লুবনা আর কারো হাত ধরে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখায় বিভোর।ফুলগুলো আর দেয়া হলো না।না বলা কথাগুলো আর বলা হলো না।আর না দেখা কষ্টগুলো পিছু ছাড়লো না।সেদিন শাহিন কতোটা কষ্ট পেয়েছিলো,তা বলে বোঝানো যাবে না।তবে সেদিনের সেই ফুলগুলোকে সে আজো ফেলে দেয় নি।তারপর একসময়ে সেই কষ্টও চাপা পড়ে গেল বাস্তবতার আড়ালে।আবার রূঢ় বাস্তবতার সামনে পড়লো শাহিন।শাহিন অনার্স পাস করার পর হঠাৎ একদিন অসুস্থ হয়ে পড়লেন ওর খালা।ডাক্তারের কাছে যাবার পর ধরা পড়লো ক্যান্সার।টাকার অভাবে খালার চিকিৎসা হলো না ঠিকমতো।খালার মৃত্যুর জন্য শাহিনের নিজেকেই বেশি দায়ী মনে হতে লাগলো।তার উপর প্রতিদিন বসের কাছে অপমান-জীবনটা সত্যিই অসহ্য লাগছে শাহিনের কাছে।তাই আজ শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিলো শাহিন,এই যন্ত্রনাদায়ক জীবন আর রাখবে না।কিন্তু গলায় দড়ি,বিষ বা ছুরি কোনটাই ভালো লাগে নি ওর।কেমন যেন ভয় ভয় লাগে। তাই ঠিক করলো,বুড়িগঙ্গা ব্রিজের উপর দিয়ে লাফ দিয়ে পড়বে।এমনিতেই ও সাঁতার জানে না।তার উপর এতো উঁচু দিয়ে লাফ দিলে বাঁচার সম্ভাবনাও কম।এত কথা ভাবতে ভাবতে শাহিন কখন যে বুড়িগঙ্গা ব্রিজের কাছে চলে এসেছে,তা ও নিজেও বলতে পারবে না।হঠাৎ খেয়াল হলো ওর,কারণ বাতাসে উৎকট গন্ধ।বুড়িগঙ্গা নদীর পানির গন্ধ পেলে যে কারো বমি আসবে।অন্যসময় হলে শাহিনের ও আসতো।কিন্তু আজ এই গন্ধ ওর কাছে বড় ভালো লাগছে।অমাবস্যার অন্ধকার,তার উপর হঠাৎ লোডশেডিং,মিশমিশে অন্ধকারে ঢেকে গেছে চারিদিক।সুইসাইড করার উপযুক্ত পরিবেশ।হঠাৎ নারীকন্ঠের একটা চিৎকারে থমকে যায় ও।"আমার পোলাডারে কেউ বাঁচান।কেউ বাঁচান আমার মানিকেরে।"অন্ধকারে এক বাচ্চা কোলে নারীর অবয়ব দেখে শাহিন।"কি হইছে?"জানতে চায় ও।"একটু আগে আমার কাছে আইসা আমার মানিক কইলো,আম্মা আইজকা এক বিয়ার অনুষ্ঠান থাইক্যা ঝুটা বিরানি পাইছি।চলো আমরা খাইয়া লই।আমি কইলাম,বাজান তুমিই খাও,আমার খিদা নাই।পোলার আমার বিরানি খাওয়ার পর থাইক্যা প্যাটে ব্যথা।তারপর বমি।এহন মূর্ছা গেছে।আপনে ওর বাঁচান বাই।"মহিলা বিলাপের সুরে বলে।"দেখেন,বাঁচানোর মালিক তো আল্লাহ্।আমরা শুধু চেষ্টা করতে পারি।ছেলেটার বাপ কই?"শাহিন বলে।"মানিকের বয়স যহন এক বছর,তহন হে আমারে ছাইড়া চইলা গেছে।"কাঁদতে কাঁদতে বলে মহিলা।"আচ্ছা,চল েন।দেখি,কি করা যায়।"মুখে একথা বললো শাহিন। আর মনে মনে ভাবলো,আজ মনে হয় আর সুইসাইড করা হবে না।আরেকদিন চেষ্টা করতে হবে। দুই ঘন্টা পর,মানিক কে মিটফোর্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো।ঔষধ আর স্যালাইন দেয়া হলো ওকে।এখন ও অনেকটা সুস্থ।অবশ্য মানিকের মা কে তেমন কিছুই করা লাগে নি।যা করার ওই অচেনা মানুষটাই করেছে,যার সাথে রাস্তায় হঠাৎ দেখা। ঔষধপত্রের দামও সে দিয়েছে।যাবার আগে সে মানিকের মা কে যে কথাটা বলে গেছে,তা মানিকের মার মাথায় ঢোকে নি।সে বলেছে,"এখন মনে হচ্ছে এই দুনিয়াটা একেবারে খারাপ না।আরো কিছুদিন বাঁচলে মন্দ হয় না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ‘স্যার’ সম্বোধনের বিকল্প খুঁজতে হবে
→ ব্যক্তির গুণাবলি ও মানবিক মূল্যবোধ
→ এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও মানুষের বিবেকবোধ কোথায়?
→ ♦সম্বোধনে উৎসাহ♦
→ বোধের অভাব-২
→ বোধের অভাব!
→ বোধ এর উন্মেষ
→ ফিরে আসুক মদিনার ভ্রাতৃত্ববোধ
→ সুবোধ তুমি কোথায়?
→ দুঃখবোধন
→ নির্বোধের স্বান্তনা
→ চোখে অপলক মায়া , কিন্তু গভীর এক দুঃখবোধ !
→ চোখে অপলক মায়া , কিন্তু গভীর এক দুঃখবোধ !
→ বোধন
→ অকালবোধক ২য় পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now