বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
২.
হামিদ সাহেব রুমে ঘুরেঘুরে কথা বলছেন | একা
একা,নিজের সাথে | যখন ভীষন একা মনেহয় এই
পৃথিবীতে,তখনি তিনি এরকম করতে থাকেন |
ফলাফল,তিনি একটু একাকিত্বের মাঝেও সান্ত্বনা
খুজে পান |
দরজায় খটখট শব্দ হতেই কথা থামিয়ে দিলেন | তিনি
মোটামুটি অবাক আর কি |
আমার কাছে কি কারো আসার কথা ছিল,কে
আসবে?
আরেকবার শব্দ হল,খট খট খট ! হামিদ সাহেব
তড়িঘড়ি করে দরজার ছিটকিনি খুলে ফেললেন |
- আব্বা কেমন আছেন?
হামিদ সাহেব যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না
অর্নব এসেছে |
- এতদিন পর বাপের কথা মনে হল তোর |
অর্নব টুপ করে ঘরের মধ্যে ঢুকে একদম সটাং
হয়ে শুয়ে পড়ল বিছানায় | খুব ঘুম পাচ্ছে ওর |
- কিরে বেটা অসুস্থ নাকি?
- নাহ্
- তবে শুয়ে পড়লি যে? আচ্ছা শুয়ে থাক,তোর
জন্য লেবু চা করে নিয়ে আসি | আজ সকালে
বাজার থেকে কিনেছি,একদম টাটকা লেবু |
হামিদ সাহেবের ভীষন আনন্দ লাগছে | বাড়ি ছাড়ার
পর একমাত্র এই ছোট ছেলেটাই তার
খোজখবর রাখে | একদম ভালমত রাখে,কি
লক্ষী একটা |
চায়ের কাপে টানা দু'চুমুক দিয়ে অর্নব বলল,আব্বা
আপনি না একা থেকে ভালই আছেন | আমিও আর
থাকব না ভাবতেছি |
- তাইলে থাকবি কই?
- খালিদের বাসায় | কয়েকদিন ধরে তো ওর
বাসাতেই আছি | আমার বন্ধুরা তো আর আমার মত
বোকা না আব্বা | ওরা সবাই যে যার মত টাকা পয়সা
কামিয়ে একদম পেটফোলা বড়লোক |
- বাদ দে ! তুই যেমন আছিস খুব ভাল আছিস |
সততাই সবকিছুর আগে |
তারপরের কয়েকমিনিট কেটে গেল অস্বাভাবিক
নিরবতায় | হামিদ সাহেব গভীর মনোযোগে
ছেলেকে দেখছেন | চেহারায় কার যেন ছায়া
আছে |
কার হতে পারে? মরিয়মের নাকি ওর দাদির?
যার মতই হোক,অর্নবটা দেখতে খুব সুন্দর
হয়েছে | দেখলেই সুপুরুষত্বের তৃপ্তি এসে
যায় |
৩.
বসার ঘরে চোখ পড়তেই ভ্রু কুচকে গেল
অর্নবের | আজ রাতে চাদঁ এর বদলে সূর্য
উঠবে নাকি | ভাই-ভাবি,পোলাপান দেখি সব
একখানে |
মেজভাবি ওকে দেখা মাত্রই শুরু করে দিল
সুপরিচিত ঘ্যানানি,এইযে টো টো বাবাজি বাইরে
বাইরে কি কর সারাদিন? মদ জুয়া আর কত !
অর্নব খেপলো না,একদমই না | একটুতেই
খেপার পাত্র ও নয়,বরং কেমন মজা লাগছে |
- তোমার আম্মাজানকে পাওয়া যাচ্ছে না দুপুর
থেকে |
- হয়ত বাজারে গেছে আপকামিং পান মশলার খোজ
করতে | এসে পড়বে সময়মত |
- তা হলে তো হতই,কিন্তু চিঠি লিখে গেছে
একটা !
- কি লিখছে? আমি বাড়ি ছেড়ে চিরদিনের জন্য
চলে যাচ্ছি,আর আসব না | এই টাইপের?
- হুম
-ও,তবে আমার এসে তো কোন কাজ হল না |
আম্মার কাছেই আসছিলাম,পান খেতে | হরেক
মশলা দিয়ে পান,খুব খেতে ইচ্ছে করছিল |
থাক,যাই |
মেজভাবি রাগে কটমট করছেন,যতসব
আহাম্মকের পাল্লায় পড়েছি আমি ! বাড়ির সবগুলা
একেকটা আস্ত আহাম্মক !
সোফার একপাশে গুটিসুটি মেরে বসে থাকা
অর্নবকে দেখছে তাশফি,অনেকক্ষন ধরে |
অর্নব মাথা নামিয়ে আছে, তাশফিকে দেখতে
পায়নি |
তাশফির খুব,একদম ভীষনভাবে ইচ্ছে করছে এই
বোকাসোকা চেহারার ছেলেটাকে অনেক
আদর করতে,ইচ্ছেমত |
হঠাৎ এরকম ইচ্ছে হওয়ার কারণটা ও নিজেই
জানেনা,অত জানতে ইচ্ছেও হয় না |
সামনে দাড়িয়ে থাকা তাশফিকে দেখে একটু
ঘাবড়ে অর্নব বলল,শাড়িটা এখনো পড়ে আছো?
- হুম কেন,খুব বেশি সুন্দর লাগছে?
- তোমার আব্বু কোথায়?
- আব্বু আসবে কোথ্থেকে,আব্বু তো
বিদেশ |
- ওহ সরি,ভুল হয়ে গেছে | ইয়ে মানে আম্মু...
- আমার বড়খালা আজ হসপিটাল থেকে রিলিজ
পেয়েছে তো তাই অফিস শেষে আম্মু তার
বাসায় গেছে | আজ রাতে ফিরবে না বলেছে |
- তারমানে পুরা বাড়িতে তুমি একা?
- হুম | না না,কাজের মেয়েটা আছে তো |
- ভালই হয়েছে,বেশি লজ্জা পেতে হবে না |
- বিড়বিড় করে কি বলছেন স্যার?
- তাশফি আমি দু'প্লেট ভাত খাব | বাসায় আম্মা নেই
তো তাই খেতে পারিনি....আর আমার ঐ বন্ধুর
বাসায় গিয়ে দেখি তালা মারা | কোথায় গেছে কে
জানে | দিতে পারবে,খুব খিদে লেগেছে
জানো |
- এক্ষুনি আনছি |
এক দৌড়ে রান্নাঘরে এসে পড়ল তাশফি | আর এক
সেকেন্ড ওখানে থাকলে,স্যার চোখের পানি
দেখে ফেলত | একটা মানুষ এত সরল হয় কি
করে?
অতিরিক্ত মায়ায় পড়লেও যে চোখে পানি এসে
ভরে যায়,তা আজ প্রথম জানলো মেয়েটা |
রাস্তাটা এখনি কেমন খালি হয়ে গেছে | মানুষজন
তেমন একটা নেই,আর কয়েকটা রিকশার এদিক
ওদিক ছুটে চলা |
পিচঢালা পথটায় মানুষ,রিকশা সবকিছুর ছায়া পড়ছে |
জোছনা দিয়ে গড়া একেকটা ছায়া | আকাশে যে
আজ বিশাল একটা চাদঁ,তাইতো এত জোছনা !
সেসব ছায়ার উপর নিশ্চুপ হেটে চলেছে একটা
বোকাসোকা চেহারার ছেলে | ছেলেটানা একটু
একটু করে ঘামছে | কারণ পাশে থাকা শাড়ি পড়া
মেয়েটা তার একটা হাত শক্ত মুঠোতে ধরে
আছে | যে মুঠো থেকেই ডানা ঝাপটাচ্ছে
শুভ্র এক মায়াপাখি |
-------------------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now