বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রিয়া

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রায়হান আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X অনিক একটি মেয়েকে ভালবাসে নাম প্রিয়া। অনিক প্রিয়ার চোখ ছাড়া আর কিছুই দেখেনি মাত্র। চোখ দেখেই অনিক প্রিয়ার মাঝে বিভোর হয়ে আছে। প্রিয়াকে সে অনেক দিন হলো সে ভালবাসে। কিন্তু এখনো বলতে পারেনি। আর সে তাও জানে ভালো করে। অনিকের প্রস্তাবে প্রিয়া কখনোই রাজি হবেনা। কোনদিন প্রিয়ার সাথে কথাও বলা হয়নি তাঁর। প্রতিদিন অফিস সময়ে দেখতে পাওয়া। একই রাস্তা, একই মোড়, সেই বটগাছের নিছে দাঁড়িয়ে থাকা। একদিন দুদিন করে করে অনিকের এখন অভ্যাসের সাথে মিশে গেছে। একদিন না দেখলে যেন তার সবকিছু শুন্য মনে হয় সব থেকেও। অফিস ছুটির দিন অনেক কষ্ট করে প্রিয়ার বাড়ির সামনে যায়। যদিও দেখতে পারবে কিনা তাও নিশ্চিত নয়। অনিকের মনে আছে একদিন দেখতে পেয়েছিলো। মাথায় ঘোমটা দেয়া তাও এক পাশ থেকে। পুরো মুখটা তাঁর দেখা হয়নি। অনিকের চাকুরীর বয়স তিন। এর মধ্যে বিয়ের জন্য অনেক প্যারা গেলেও সে বিয়ে করেনি। প্রতি মুহুর্তে প্রিয়ার কথাই মনে পড়ে আর ভাবে বিয়ে করতে হলে প্রিয়াকেই করবো নাহয় করবোনা। এর মধ্যে সে অনেক মেয়েকেই দেখতে গিয়েছে বিয়ের জন্য যদিও তাঁর বড় চাচার ইচ্ছায়। কারণ তাঁর বাবা নেই। চাচার কাছেই মানুষ। মা আছে তবে কিছুটা মাথায় সমস্যা আছে। কথাবার্তা কম বলে। অনিক এবার ঠিক করে রেখেছে যে এবার যদি তাঁর চাচা বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে বলে তাহলে প্রিয়ার কথা বলবে। কিন্তু কিভাবে বলবে তা নিয়ে সে বড় বিড়ম্বনায়। কিন্তু এবার কি হলো চাচাতো বিয়ের জন্য বলেনা। অনিকের ভয় হয় যদি প্রিয়ার অন্য কোথাও বিয়ে হয়ে যায়। হটাৎ কদিন ধরে অনিক প্রিয়াকে দেখতে পায়না। বাড়ির সামনে গিয়েও পেলোনা দেখতে। তবে যা বুঝতে পেরেছে কারো বিয়ে প্রিয়ার বাড়ির। অনিকের মনে কেমন একটা মোচড় দিলো। অনেক কষ্টে জানতে পারে বিয়ে প্রিয়ার না প্রিয়ার বড় বোন রিয়ার। মনে হলো সব কিছু ঠিক'ই আছে। বিয়ের দিন কোন আমন্ত্রণ ছাড়াই অনিক এসে অনেক চেষ্টা করে প্রিয়াকে দেখতে কিন্তু সব কষ্ট বিফলে। ভাবলো অনিক, বিয়ের জন্য প্রস্তাব দিয়ে দেখতে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই। তাই করলো এক বন্ধুকে দিয়ে তাঁর চাচাকে বলিয়ে প্রিয়াকে দেখার ব্যাবস্থা করা হলো। আজ অনিক দেখতে যাবে প্রিয়াকে। কিরকম অস্থির লাগছে। এর আগে অনেক মেয়েকে দেখতে গিয়েছে কিন্তু এরকম লাগেনি কখনো। সকাল ৮'টার পর থেকেই অনিক রেডি হচ্ছে এখন ১০'টা বাজে তাও এখনো তাঁর রেডি হওয়া হচ্ছেনা। সব কিরকম যেন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে বারবার। সবশেষে হলো অনিকের। চাচা,আর তাঁর ছোট মেয়ে, আর এক বন্ধু মিলে গিয়েছে। আর কেউ যায়নি কারণ চাচা মনে করেছিলো এ মেয়েকেউ অনিকের পছন্দ হবেনা। কিছু না কিছু ভুল ধরে না করেই দিবে। অনেক্ষণ ধরে বসে আছে অনিক, চাচা সহ বাঁকি সবাই। কিন্তু এখনো প্রিয়াকে আনেনি সামনে। কিছুক্ষণ পর মেয়ের বাপ মানে প্রিয়ার বাপ। কি যেন বলে গিয়েছে চাচার কানে কানে। চাচা পরে ডেকে বললো অনিককে। মেয়ে সামনে আনবেনা। কারণ দেখলেই বিয়ে হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। বক্তব্য প্রিয়ার নিজেই। অনিক ভাবে কিরকম মেয়েরে বাপ। তবে অন্য একটা রাস্তাও অবশ্য দিয়েছে। দেখতে পারবে কিন্তু বোরকা থাকবে। মুখও দেখতে পারবেনা। এরকম প্রস্তাবে কিছুটা না পুরোটা অবিশ্বাস্য হলেও অনিক রাজি হলো। কারন প্রিয়ার সাথে কথা তো বলতে পারবে। দেখে বিয়ে করার কিছু নেই। তো বাড়ির এক পাশে পুকুরপাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছে প্রিয়া। জায়গাটার চারদিক দিয়ে বাউন্ডারি করা যাকে বলে। খুব ছোট পুকুর। আর পাড়টা অনেকটা ছাদের মতো। কারণ অনেক উপর থেকে পাড়টা করা। এর বর্ণনা দেয়া যাবেনা। গিয়ে অনিক দেখে প্রিয়া বসে আছে এক পাশে। অনিকের কেমন যেন অসস্থি হচ্ছে। কি জিজ্ঞেস করবে? কি বলে কথোপকথন শুরু করবে তাই বুঝতে পারছেনা অনিক। অবশেষে কিরকম যেন ভয় ভয় কণ্ঠে বললো অনিক, . কি নাম আপনার? প্রিয়া নিচু চোখ করে বললো . জ্বী " ফারিহ প্রিয়া " আপনার? . অনিক আহমেদ। . আর কিছু জিজ্ঞেস করার আছে? . নাহ নেই। . তাহলে এবার যেতে পারেন মনে হয়। . হ্যা তা তো যাবোই। আচ্ছা আপনার আমাকে পছন্দ হয়নি? . জ্বী হ্যা এবং না দুটোই। পরিবারে ইচ্ছে পছন্দ আমার ইচ্ছে পছন্দ। . তাহলে নিশ্চিত থাকুন। বিয়েটা আমার সাথেই হবে। . কবুল বলা আগ পর্যন্ত কোন নিশ্চয়তা দিয়ে বলা যায়না। এপর্যন্তই কথাবার্তা অনিক আর প্রিয়ার। তাও প্রথমবারের মতো। অনিকের কিরকম বিশ্বজয়ের অনুভূতি হচ্ছে। মনে হচ্ছে তাঁর আর কিছু চাওয়ার নেই বিধাতা'র কাছে। মেয়ে দেখে সবাই বাসার দিকে রওনা দিলো। তারপরে বড়দেরর মধ্যে কি কথা হয়েছে অনিক জানেনা। অনিক তাঁর চাচার উপরে কথা বলার বা কিছু করার সাহস নেই। তাঁর চাচা যদি বলে এবিয়ে হবেনা। অনিকের ভালবাসা মাঠিচাপা দিতেও পিছুপা হবেনা। অনিকের এতো দূর আসার পিছনে সবচেয়ে বেশি অবদান যে তাঁর চাচার'ই। বাসায় এসে অনিক চাচার ছোট মেয়ে আনিকাকে জিজ্ঞেস করলো, . কিরে পিচ্চি,"তুর বাবায় পরে কি বলেছিলো রে ওনাদের সাথে? . হিহি, বলবো না। . কেন? . এমনিই আমার ইচ্ছা। . বুঝেছি অনেক চকলেট দিবো এবার তো বল। . অনেক চকলেটে হবেনা। আমার পেইন্ট করার জন্য রং এবং প্রয়োজনীয় অনেক জিনিষ লাগবে। . একটু সুযোগ পেয়েছিস তো.. আচ্ছা কাল পেয়ে যাবি এবার তো বল। . লক্ষি ভাই আমার। শুনেছি এটুকু শুধু যে বাবা বলছে যে মেয়েকে দেখতে গিয়েছিলা তাঁর বাবাকে যে " অবশেষে ছেলেটার মনে হয় আপনার মেয়েকে না দেখেই পছন্দ হয়েছে। আমার আর কিছুর দরকার নেই। দেনাপাওনার ব্যাপারে ভাববেন না। কিছুই লাগবেনা " এর পরে আমার ফোন আসছিলো আমি... বুঝতেই তো পারছো। পরে দুদিন পর চাচা অনিককে বিয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত করে যে বিয়ে ঠিক হয়েছে সামনের মাসের ৫ তারিখ রোজ শুক্রবার। অনিকের কাছে তো খুশিতে বাঁধ ভাঙ্গার খবর। তাঁর আর তর সইছেনা। কবে তার স্বপ্নে দেখা ভালবাসার মানুষটাকে আপন করে পাবে। একদিন যায়না অনিকের কাছে মনে হয় যেন এক মাস যাচ্ছে। বিয়ের দিন এসেছে । বিয়ের সব আয়োজন করা হয়েছে । বরযাত্রী গিয়েছে। তাঁদের বিয়ে হয়েছে। কিন্তু অনিক এখনো প্রিয়ার মুখটা দেখতে পারেনি। বাসর ঘর সাজানো হয়েছে। প্রিয়া নববধূ কিছুমাত্র সময় আগে বিয়ে হয়েছে। বধূবেশে বসে আছে প্রিয়া। অনিক বাসর ঘরে যেতে কিরকম অজানা ভয় পাচ্ছে। সে ভাবতে পারছেনা সে ছেলে হয়ে কেন ভয় পাবে? অবশেষে সে ঢুকলো বাসর ঘরে। পুরোটা ঘোমটা দেয়া। হাত পর্যন্ত দেখা যাচ্ছেনা। অনিক প্রিয়ার ঘোমটা সরালো। এ প্রথম প্রিয়ার পুরো মুখটা দেখতে পেয়েছে সে। চোখ থেকে বেশি সুন্দর গাল গুলো। তার চেয়ে বেশি সুন্দর চুল। আর চাহনির সাথে তো কোন কিছুর তুলনা করা যায়না। অনিক শুধু দেখেই যাচ্ছে। হটাৎ বললো, . আজ আমি অনেক খুশি প্রিয়া। পৃথিবীতে এ মুহুর্তে যতগুলো সবচেয়ে খুশির মানুষ থাকে তাঁদের মধ্যে আমি একজন। . আপনি তো আমাকে আগে থেকেই জানতেন তাইনা? . হ্যা, কেন বলুন তো? . চেনা চেনা লাগছিলো। কারণ কয়েকবার আপনাকে দেখেছিলাম আমাদের বাড়ির সামনে। তাছারা মনে হয় আপনার অফিস আমাদের কলেজের দিকে কোন জায়গায়। কারণ বটগাছ তলে দাঁড়িয়ে থাকার সময় দেখতাম প্রতিদিন একি জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতেন। মনে হয় কাউকে দেখার জন্য তাইনা? . আরেহ আপনি এতো কিছু কিভাবে জানেন? . খুব স্বাভাবিক দু বছর একি জায়গায় একজন লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তো চেনায় যায়। . হ্যা!! কিন্তু আমি তো লুকিয়ে দেখতাম। . হুম শুধু তাইনা। ওখানে একজন ফকির বসে থাকে সবসময়। যাবার সময় আপনি প্রতিদিন টাকা দিয়ে যেতেন। . কিভাবে দেখেছিলেন? . কারণ আপনার পরে আমরাও দিতে যেতাম। . তাহলে এটকুও তো জানার কথা যে আমি আপনাকে ভালবাসি। . হুম তাও জানি। রিয়া আপুর বিয়েতেই বুঝেছিলাম। আর রোজ যে আমাকেই দেখতেন সেটা থেকেও বুঝতে পারা যায়। কিন্তু আপনার বিয়ের আগে যা করেছেন সব ভুল। . কি করেছি? শুধু তো দূর থেকেই দেখেছি। তাও মনে হয় চোখের কাজল ছারা আর কিছুনা। তা তো কতো ছেলেই দেখে আপনাকে। . কিন্তু কত ছেলেই আমাকে দেখতে এতো কিছু করেনি। . দেখতে তো আর পারেনি। . ভালো হয়েছে দেখেননি। এখন স্ত্রী হয়েছি সারাদিন দেখলেও অসুবিধে নেই। কিন্তু আগে দেখলে পাপ হতো। . ভালবাসি বলা হয়নি এখনো। . তার মানে এখনি দেখা শেষ? . শেষ হবেনা কোনদিন। . তাহলে এখনি ভালবাসি বলার দরকার নেই আগে দেখা শেষ হোক। . তাহলে তো মনে হয় কোনদিনও ভালবাসি বলা হবেনা। . মুখে বললেই ভালবাসা হয়না। . তাহলে আর কিভাবে করবো? . উমমম কিভাবে, কিভাবে হ্যা প্রতিদিন সকালে একটা করে প্রেম পত্র লিখতে পারেন। . প্রতিদিন? . কেন ভয় পেলেন? . নাহ, সমস্যা হলো এখনো পর্যন্ত একটা চিঠিও লিখলাম না আর... . এটা এমনিই বললাম। প্রেম পত্র দিয়ে কিছু হবেনা। স্ত্রী তপ হয়েই আছি যা বলার বলতে পারবে'ই। . তাহলে? . পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হচ্ছে প্রথম শর্ত বা রাস্তা ভালবাসা প্রকাশ করার জন্য পারবেন? . ফযরের নামাজ'টা একটু মিস হয় আরকি। . তাহলে এশা থেকে ফযর পর্যন্ত আমার থেকে দূরে থাকবেন। . নাহ, কি বলেন সম্ভব না। আপনি পাশে থাকলে মিস হবেনা। . দেখা যাক পারেন কিনা। . আচ্ছা আমরা এতো কথা বলছি কেন? . সারা রাত কথা বলেই পাড় করবো। নাহয় গল্প বলেন শুনি। . গল্প পাড়িনা। তবে কিচ্চা বলতে পারি। . কিচ্চা কি আবার? . ঐটায়, নিজের মতো করে বানিয়ে মিথ্যে বলে একটা কাহিনি তৈরি করা তাই কিচ্চা। . আচ্ছা তাহলে বলেন তো দেখি কিরকম বানিয়ে মিথ্যে বলতে পারেন। আরম্ব করলো অনিক। পুরো তিনঘণ্টা পেড়িয়ে গিয়েছে। কোন সময় যে প্রিয়া অনিকের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে খেয়াল'ই নেই। অনিক যা পারে সত্য মিথ্যা বলেই যাচ্ছে। প্রায় ফযরের আগে ঘুম ভাঙ্গলো প্রিয়ার। সে দেখে অনিক এখনো বলেই যাচ্ছে বলেই যাচ্ছে। পুরোটা অবাক হলো প্রিয়া। এখনো অনিক বলতেই আছে। জিজ্ঞেল করলো, . আরেহ আপনি এখনো শুননি? . কিভাবে শুবো? আপনি তো আমার কাঁধে ঘুমুচ্ছিলেন। নড়লেতো আপনার ঘুম ভেঙ্গে যেতো। প্রিয়ার অনিকের প্রতি ভালবাসা আর শ্রদ্ধবোধ বেড়ে গিয়েছে আরো। . তাহলে যে এখনো কি বলে কিচ্চা বলেই যাচ্ছেন। . হুম কখন জানি আবার জেগে পড়েন সেটা তো আর বলা যায়না তাই। . আজব তো। এজন্য সারারাত জেগে থাকবেন এভাবে? . আপনিই বলেছিলেন আজ সারারাত শুনবেন। . বলেছিলাম এজন্য ঘুমাবেননা নাকি? এখন ঘুমান তো তারাতারি। . নাহ এখন আর ঘুমুতে পারবোনা। . কি বলেন? কেন? . ফযরের আযানের সময় হয়ে গিয়েছে। নামাজ পড়তে যেতে হবে। প্রিয়া এবার আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারলোনা। সাথে সাথে জড়িয়ে ধরলো অনিককে। . এতো ভালবাসেন? . হ্যা। . কেন? . কারণ নেই। . শুধু শুধুই? . হ্যা। এবার ছাড়েন আমি বেরোবো নামাজ পড়তে। অনিক বাহিরে চলে গিয়েছে নামাজ পড়তে। প্রিয়া মনে মনে ভাবে "আমি ধন্য এরকম একজন জীবন সঙ্গি পেয়ে " সে সারাজীবন অনিকের সুখে দুঃখে পাশে থাকার শপত করে। কিছুদিন পর। অনিক বিয়ের পর প্রথম দিনমাত্র অফিসে গিয়েছে। গিয়েই এক ঘন্টা পরে ফোন দিয়েছে প্রিয়াকে। . আসসালামু আলাইকুম। (প্রিয়া) . ওয়ালাইকুম আসসালাম। (অনিক) . কি মনে করে? . ভালবাসবো বলে। . তাই? কিভাবে বলুন তো। . ঘাটের পাশে যে ছোট ড্রয়ার'টা আছে ওটা খুলে দেখো। . কি আছে ড্রয়ারে? অফিসের কাগজপত্র? ভুলে ফেলে রেখে গিয়েছেন নাকি? . আগে তো খুলে দেখো। প্রিয়া ড্রয়ার'টা খুলে শুধু একটা খাম পেয়েছে। . একটা খাম আছে। কি আছে এতে? . প্রেমিপত্র। . কি বলেন? সত্যি? . হুম। আমি ফোন রাখছি। পড়ো তুমি। অনিক ফোন রেখে দিলো। প্রিয়া খুব আগ্রহী ও কৌতূহল হয়ে চিঠিটা খুলে পড়তে শুরু করস, . প্রিয় প্রিয়া/স্ত্রী/বউ তোমাকে দেখে যেরকম আমার কোনদিন স্বাদ মিঠবেনা। তেমনি আমি কোনদিন কারো জন্য চিঠি লিখিনি বলে কি হয়েছে। তোমাকে নিয়ে লিখে শেষ করতে পারবোনা। অতএব চিন্তা করোনা প্রতিদিন আমার ভালবাসার হাতে দিয়ে লেখা একটি করে চিঠি পেয়ে যাবে। . প্রিয়ার চোখে পানি। মনে সীমাহিন আনন্দ। ভেবে সে অনেক ভাগ্যবতী। এরকম স্বামী সবার কপালে জুটেনা। হয়তো সে অপেক্ষা করেছে বলে। নিজেকে পবিত্র রেখেছে বলে এরকম একজন স্বামী পেয়েছে। প্রিয়া ভাবে চিঠিতে তো তুমি করেই বলেছে। তো মুখে বললে কি অমন সমস্যা হয় তাঁর? ভেবে অফিসের লাঞ্চ'র সময়ে ফোন দিয়ে বললো, " আপনি আমাকে আর আপনি করে বলতে পারেবেন না এটাই চুড়ান্ত " কথাগুলো অনিক রিসিভ করার সাথে সাথেই বলে কেটে দেয় প্রিয়া। কিন্তু সে খেয়াল করেনি ফোনে অনিক তুমি করেই বলেছে। কেন এরকমটা হলো সে নিজেই জানেনা। একদিন প্রিয়া অনিককে জিজ্ঞেস করে, . আচ্ছা আপনিযে আমাকে এতো ভালবাসেন। এতো কিছু দেন। কখনো আমার কাছ থেকে কিছু চান না? . হুম চাইতো। . কি সেটা? . তোমার সন্তানের বাবা হবো। প্রিয়া লজ্জা পেয়ে বললো, . ইশশশ, এটা তো চাইলেও হবেন না চাইলেও হবেন। . তাই? . হুম তাই। আর কিছু? . তোমার হাসি দেখতে চাই সারাজীবন। . সবই তো আমার সুখ। . তোমার সুখই আমার সুখ যে। . আর পারিনা আপনার সাথে। . পাড়ার কি খুব দরকার? . নাহ তাই চাইনা মোটেও। প্রতিদিন অফিস যাওয়ার আগে একটি করে চিঠি দেয়া বন্ধ হয়নি অনিকের। প্রিয়া প্রতিনয়ত আশ্চর্যান্বিত হয়েই চলেছে। এভাবেও ভালবাসা যায় তাহলে। মেয়েদের সবচেয়ে বড় গয়না যেরকম তাঁদের লজ্জা। সেরকম স্বামীর পবিত্র ভালবাসা ছাড়াও স্ত্রীরা আসলেই অসুম্পূর্ণ। কিছুদিন পর প্রিয়াও অনিককে বলে, .ভালবাসি বলা হয়নি। অনিক হেসে বলে, . তাহলে আমিও শর্ত দেই কি বলো? . হুম অবশ্যই দেবেন। . শর্ত দেয়ার কিছু নেই আমার কাছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ তুমি এমনিতেই পড়ো। আর তাছারা হলো। আমার প্রতিদিনের চিঠি তোমাকে মন দিয়ে পড়তে হবে। আর আমি দু বাচ্চার বাবা হতে চাই, পারবে? . হিহি চিঠিতো মন দিয়েই পড়ি। আর বাচ্চার ব্যাপারে একটু সমস্যা আছে। আপনাকে তিন বাচ্চার বাবা হতে হবে। সবার ছোট থাকবে ছেলে আর দুজন থাকবে বড়। ছোট দুটো সারাদিনিই দুষ্টুমি করবে আর বড়টা শাষন করবে। ভালো হবেনা? . ওরে বাপরে, আচ্ছা আমাদের বিয়ের কদিন হলো? . এইতো ৬মাস, কেন? . তাহলে চলো কাল'ই হানিমুনে যেতে হবে। আপত্তি আছে? . আছে। কাল আনিকার জন্মদিন। . তাহলে পরের সাপ্তাহ? . হুম। অনেকদিন পাড় হয়েছে। সম্পর্ক যেন সেই নতুন'ই রয়ে গিয়েছে। দুজনের একে অপরের প্রতি বিশ্বাস, আস্তা, আর সীমাহীন ভালবাসার কারণেই। আর আল্লাহ্র অশেষ দোয়া। প্রিয়া গর্ভবতী হয়েছে। সবার মুখে একটু বাড়তি হাসি। সুখের উচ্ছাস। অনেকদিন যাবার পর ডাক্তার আশ্বাস দিলো সন্তান ছেলে হবে। এনিয়ে মাঝে মাঝে অনিক প্রিয়াকে খ্যাপায়। যে সবার বড় ছেলে হবে। আর ছোট দুটোকে সেই শাষন করবে। তা শুনে প্রিয়া খুব মজা পায়। কিন্তু দেখায় খ্যাপছে। অবশেষে সন্তান হয়েছে তবে ডাক্তারের কথা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। মেয়ে সন্তান হয়েছে। এখন অনিককে খ্যাপায় প্রিয়া। দুজনের জান, প্রাণ, জীবন আর নিশ্বাস হয় মেয়েটি। মেয়ে বড় হয়েছে। সাধারণত মেয়েরা মা'র থেকে বাবার প্রতি বেশি টান থাকে। তাই হয়েছে সারাদিন আব্বু আব্বু করে। অনিককে দেখলে পরেই আর মায়ের কোলে থাকেনা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রিয়া তুমি জেওনা???বাই_আব্দুল্লাহ আল মামুন
→ প্রিয়া
→ টুনটুনি পাখি প্রিয়া
→ রামন আর ইমলিপ্রিয়ার গল্প
→ সুভ আর প্রিয়া
→ প্রিয়া, তোমায় বলা হলো না।

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now