বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ব্রীজ তৈরীর ভয়ানক শর্ত
-------------------------------
১৯৯৯ সালের কথা। কুটুম পেচাঁ গ্রামের
প্রধান যাতায়াতের রাস্তায় একটা
ব্রীজের দরকার ছিলো। সেই গ্রামের
মানুষরা তাদের চেয়ারম্যানকে ব্রীজের
ব্যাপারে জানায়। চেয়ারম্যান এলাকার
মানুষের কথা চিন্তা করে খুব দ্রতই একটা
ব্রীজ তৈরীর সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় ২
মাসের ভিতরেই ব্রীজের কাজ শুরু হয়ে
যায়। সেখানে বাইরের কর্মচারী কাজ
করার পাশাপাশি স্থানীয় কিছু
কর্মচারীও কাজে যোগ দেয়। ব্রীজের
সম্পুর্ন কাজ সবসময় দেখাশুনার জন্য
স্থানীয় এক লোককে নিয়োগ দেওয়া। তার
নাম ইউনুস মিয়া। ইউনুস মিয়ার বাড়িটা
ব্রীজের কাজের স্থান থেকে প্রায় ২০০
হাত দূরে। তো ইউনুস মিয়ার কাজ দেখাশুনা
করতে কোনোও সমস্যা হত না। একদিন ইউনুস
মিয়া সারাদিন ব্রীজের ঢালাইয়ের
কাজে অংশগ্রহন করে সারাদিন কাজ করে
বাড়িতে চলে গেলো। রাত গভীর না হতেই
তার ঘুম ধরে যায়। সে ঘুমিয়ে পড়ে। হটাৎ
এক বিভতস স্বপ্নে তার ঘুম ভেঙে যায়। সে
স্বপ্নে দেখলো কেউ একজন বিভতস
চেহারার মানুষ তাকে বলছে-''ব্রীজের
কাজ হবে না,তোরা কাজ বন্ধ করে দে,
আমাকে কষ্ট দিয়ে তোরা কাজ করতে
পারবি না।""
ইউনুস মিয়া প্রচন্ড ভয় পেয়ে যায় এবং
সাথে সাথেই তার বউ এর সাথে এই ঘটনা
শেয়ার করে। তার বউও প্রচন্ড ভয় পেয়ে
যায়। তারা ভাবতে থাকে কেনো এই স্বপ্ন
তারা দেখলো!! ব্রীজের কাজ হলে কার
বা ক্ষতি হবে!! তারা অনেক চিন্তা করে
সে রাতটা না ঘুমিয়েই কাটিয়ে দিলো।
ভোর বেলা তারা ঘর থেকে বের হয়ে
ব্রীজের কাছে এসে দেখে ব্রীজের
সমস্যা ঢালাই ভেঙে পড়ে আছে। অর্থাৎ
তারা গতকাল যে ঢালাই করেছিলো তা
সব ভেঙে মাটিতে পড়ে আছে। এই অবস্থা
দেখে তারা আর ঠিক থাকতে পারলো না।
তারা সমস্ত কর্মচারীদের ডেকে
পাঠালো। সমস্ত কর্মচারীরা এই ঘটানা
দেখে অবাক। ইউনুস মিয়া সকলকে
রাগান্নিত স্বরে জিজ্ঞাস করলো এই কাজ
কে করেছে? কে এই ঢালাই এর কাজ নষ্ট
করেছে?? সবাই উত্তর দিলো তারা
জানেনা। এবার ইউনুস মিয়া বহুত
দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। গতরাতে তার
দেখা সপ্নটিই যে সত্যি হতে লাগলো।
ইউনুস মিয়া কাউকে আর তেমন কিছু না
বলে সকলকে আবার ঢালাই শুরু করার
অনুমতি দেয়। সকলে আবার ঢালাই শুরু করে।
ঢালাই শেষ হলে সকলে সবাই বাড়ি চলে
যায়। এদিকে ইউনুস মিয়া একাই ব্রীজে
বসে থাকে আর ভাবতে থাকে কে এই
ব্রীজটা ভাংতে পাড়ে। এভাবে ভাবতে
ভাবতে কখন যে রাত গভীর হয়ে যায় তা
ইউনুস মিয়া বুঝতেই পারে না। হটাৎ এক
বিকট শব্দে ব্রীজের ঢালাই গুলো খঁসে
পড়তে থাকে। এই দৃশ্য দেখে ইউনুস মিয়া
আর সহ্য করতে পারে না। সে চারপাশে
ঘুরতে ঘুরতে চিৎকার করতে থাকে আর
জিজ্ঞেস করতে থাকে কে তুমি? আর
কেনোই বা এই ব্রীজ ভেংগে দিচ্ছো??
কোনো উত্তর পায় না ইউনুস মিয়া।
এবার ইউনুস মিয়া কোনো উপায় না পেয়ে
বাড়ির দিকে যাওয়ার জন্য হাটতে শুরু
করে। ঠিক তখনই পেছন থেকে কেউ একজন
তাকে ডাক দেয়। ইউনুস মিয়া হতবাক
চোখে পিছনে ঘুরে তাকায়। সে দেখতে
পায় একজন প্রচন্ড লম্বা সাদা ধবধবে
জামা পড়া এক মহিলা। তার মুখটা দেখা
যাচ্ছে না। শুধু অনুমান করা যাচ্ছে যে এটা
একটা মহিলা।
ইউনুস মিয়া এই মহিলাকে দেখেই বুঝতে
পারে যে এটা কোনো মানুষ না এটা অন্য
কিছু।
ইউনুস মিয়া ক্লান্ত স্বরে ওই মহিলাকে
জিজ্ঞেস করে কে আপনি আর কি চান?
কেনো ব্রীজটা বারবার ভেঙ্গে দিচ্ছেন??
এবার মহিলা উত্তর ভয়ংকর স্বরে উত্তর
দেয়- ""আমি এই ব্রীজের নিচের
স্থানটিতে যুগ যুগ ধরে বাস করতেছি।
তোমরা আমার ঘর ভেঙ্গে দিচ্ছো। আমি
কখনই এটা হতে দিবো না। যদি সকলে
বাঁচতে চাও তাহলে এখানে ব্রীজ করা বন্ধ
কর""
এবার ইউনুস মিয়া বলেন-""তুমি অন্য
কোথাও বাড়ি বানাও, এটা গ্রামের
মানুষের যাতায়াতের রাস্তা, এখানে
রাস্তার পাশ দিয়ে অনেক মানুষ যাতায়াত
করে, অনেকে রাস্তার ধারে প্রসাব
পায়খানা করে তারপরেও তুমি এখানে
কিভাবে থাকো??""
এবার মহিলাটি কিছুটা শান্ত হয়ে
বলে-""হুম, তুমি ঠিকই বলেছো। আমার অন্য
কোথাও বাড়ি বানানো উচিত। কিন্তু
আমার একটা শর্ত আছে। যদি তোমরা
আমাকে একটা জ্যান্ত বাচ্চা খাওয়াতে
পারো তাহলেই আমি এখান থেকে চলে
যাব, তাছাড়া হাজার চেষ্টা করে
আমাকে এখান থেকে তাড়াতে পারবে
না।""
এবার ইউনুস মিয়া থতমত খেয়ে যায়। তিনি
ওই মহিলাকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করে
কিন্তু ওই মহিলা ছোট বাচ্চা ছাড়া কিছুই
বুঝতে চায় না। এখন কোনো উপায় না
পেয়ে ইউনুস মিয়া ওই মহিলার কাছ থেকে
কিছুদিন সময় চায়। মহিলাটি সময় দিতে
রাজি হয়।
তারপর ইউনুস মিয়া বাড়িতে এসে তার
বউকে সব খুলে বলে। তিনি আর তার বউ
দেরি না করে চেয়ারম্যান সাহেব কে সব
ঘটনা খুলে বলে। চেয়ারম্যান বহুত চিন্তায়
পড়ে যায়। তারপরও যেহেতু আর কোনো
উপায় নেই তাই চেয়ারম্যান সাহেব
ইউনুসকে অনুমতি দেন বাচ্চা খোজার জন্য।
তাতে যত টাকাই লাগুক না কেন বাচ্চা
চেয়ারম্যান সাহেবের চাইই চাই। অবশেষে
অনেক খুজতে খুজতে ২ লক্ষ্য টাকার
বিনিময়ে এক নিতান্ত গরীব এক মহিলা
তার বাচ্চা বিক্রি করে দেয় ইউনুস মিয়ার
কাছে। যদিও ইউনুস মিয়ার এই কাজগুলো
করতে বুকটা বারাবার কেঁপে উঠতো, তবুও
কোনো উপায় না পেয়ে ইউনুস মিয়া এই
কাজ করতে থাকে।
অবশেষে ইউনুস মিয়া আর চেয়ারম্যান
সাহেব একত্রে উপস্থিত থেকে কয়েকজন
সাহসী কর্মচারী নিয়ে গভীর রাত্রে ওই
বাচ্চাটিকে পলিথিনের কাপড় দিয়ে
মুড়িয়ে মাটিতে রাখে। তারপর ঢালাই এর
কাজ আবার শুরু করে। এভাবে কিছুক্ষন
ঢালাই করার পর ইউনুস মিয়া মাটিতে
রাখা বাচ্চাটির পলিথিন খুলে দেখে
সেখানে বাচ্চাটি নেই। ব্যাস কাজ ওকে।
তারপরের দিন দেখা গেলো ঢালাই সম্পুর্ন
ঠিক আছে, আগের দিনগুলোর মত
ভাঙ্গেনি। অবশেষে কিছুদিনের মদ্ধে
ব্রীজের কাজ সম্পন্ন করা হয়, পরবর্তীতে
আর কোনো সমস্যা হয় নাই।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now