বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নামহীন ভালবাসার গল্প

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রায়হান আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X আশিক- কিরে তোর কি খবর...! মৌ- শরীর ভাল, মন ভাল না...! (কথা বলছিল আশিক আর মৌসুমি) আশিক- তোর আবার কি হইল? কোনো বয়ফ্রেন্ড নাই চিন্তা করিস কার? মৌ- দোস্ত এক তোরা ফুল নিয়ে আসবি? আশিক- আজকে কি কোনো বিশেষ দিন? তুই ফুল দিয়ে কি করবি? মৌ- আজকে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় বিশেষ দিন! আশিক- তোর মনে কি রং লাগছে নাকি? এখন বললি মন খারাপ, এখন আবার ফুল দিয়া কি করবি?(আশিক এই কথা বলে হাসতে থাকে) মৌ- যে ছিল তার জন্যই মন খারাপ! আজকে রিফাতের মৃত্যু-বার্ষিকী!(এটা বলেই মৌসুমি কেদে দিল কলেজের বকুল-গাছটির নিচে বসে।আশিক থ মেরে বসে আছে এটা শুনে!এটা কি শুনছে! মেয়ের মাথায় কি সমস্যা নাকি! মাঝে মাঝে অজ্ঞান হয়ে যায়, কিন্তু এইরকম ত কোনোদিন বলে নাই।) ঠিক দুই বছর আগে এই দিনটায় রিফাত মারা যায়...!অথচ এই দুই বছর কলেজে কেউ মৌসুমির মনের কথা জানত না!সবার সাথেই হাসি-খুশি ছিল । মনের মধ্যে সকল কষ্ট চাপা দিয়ে। ঠিক দুই বছর পূর্বের ঘটনা!---- রিফাত- জানু তোমায় খুব দেখতে ইচ্ছে করছে! মৌ- কালকেই না দেখলা! রিফাত- তাতে কি হইছে! তোমাকে ত সবসময় দেখতে ইচ্ছে করে! মৌ- আজকে শুক্রবার! বাসা থেকে বের হওয়া যাবে না! রিফাত- আমার জন্যও পারবে না? মৌ- ওরে আমার পরানের সোয়ামী রে.. কালকে তাহলে লিমার সাথে এভাবে হেসে কথা বলছিলে কেন? যাও, লিমাকে গিয়া দেখ!(লিমা রিফাতের কাজিন! একই সাথে পড়ে!বাসাও এক সাথে। তাই মৌসুমী এটা সহ্য করতে পারে না!) রিফাত- আরে..! লিমারে নাকি কালকে এক পোলা নাম জিগাইছে....! লিমা নাকি ওই পোলারে পাম দিয়া ভূল নাম বলছে..! আর আমার নাম্বার দিয়া বলছে :- রাইতে কল দিয়েন।পরে পোলা আমারে কল দিছিল। দিছি পোলারে ঝারি! মৌ- লিমা তোমার নাম্বার দিবে কেন? তুমি কি লিমার বয়ফ্রেন্ড? রিফাত- কি ফাইজলামি করছ! জান না, লিমা আমার কাজিন! ত কি হইছে আমার নাম্বার দিছে!(রাগ করে বলল রিফাত) মৌ- কাজিন না কি ভাল করেই জানি!( মৌসুমি রিফাতকে শুধু শুধু রাগাচ্ছে! স্কুলের সামনে দেখা করে সারপ্রাইজ দিবে) রিফাত- তোমাকে দেখতে চাইছি! আসবা? মৌ- আমি পারমু না দেখা করতে!(এটা বলে কল রেখে দিল। আর একটু সাঝতে থাকল) রিফাতও মোবাইল বন্ধ করে স্কুলের সামনে ফাস্ট-ফুডে বসে লাচ্চি খাচ্ছিল।তখনই রিফাতের বন্ধু প্রান্ত আসল মোটর-বাইক নিয়ে! প্রান্ত- কিরে দোস্ত তর মোবাইল বন্ধ কেন? রিফাত- মন খারাপ রে! যারে এত ভালবাসি সেও আমায় সন্দেহ করে! আমি নাকি লিমারে ভালবাসি! প্রান্ত- আরে ব্যাপার না! চল সিগারেট খাই! মন ভাল হয়ে যাবে! রিফাত- মৌসুমি জানলে কষ্ট পাবে! প্রান্ত- জানবে কেমনে! আমরা ত ভৈরব ব্রীজে গিয়ে খামু! ঘোরা-ঘোরিও করলাম! মনটা ভাল হয়ে যাবে! রিফাত- চল তাহলে! বাইক কিন্তু আমি চালামু! প্রান্ত- তুই চাবি লাগা! আমি সিগারেট নিতাছি! (দুই বন্ধু চলে গেল ঘুরতে! এইদিকে মৌসুমি সারপ্রাইজ দিতে গোলাপ ফুল নিয়ে এসে দেখে রিফাত নাই! কল দিয়াও কোনো খবর পাইল না! বার বার মহিলা সুন্দরভাবে মিষ্টি কন্ঠে বলছে: আপনার ডায়ালকৃত নাম্বারটি এই মুহুর্তে বন্ধ আছে!এই মিষ্টি কন্ঠও এখন মৌসুমির কাছে তেতো মনে হচ্ছে! আর চিন্তা হচ্ছে!) প্রান্ত- এই জায়গায় কোনো মানুষ নাই! থামা গাড়ি! (মোটরসাইকেল থামিয়ে চাবিটা যখন রিফাত পকেটে রাখতে যাবে তখন মনে হইল তার মোবাইল বন্ধ! তারাতাড়ি ওপেন করে দেখে ৫ টা মেসেজ! এর মধ্যে একটা "আমি তোমার অপেক্ষায় বসে আছি।প্লিজ রাগ কর না। তখন মজা করেছিলাম।২ ঘন্টা বসে থাকার পরও আসছনা। আর এক ঘন্টা থাকব। চলে এস প্লিজ!") রিফাত- মামা তারাতাড়ি উঠ! মৌসুমি আমার জন্য একা একা বসে আছে! (গতি ৯০-৯৫ কিমি/ঘন্টা রিফাত চিন্তিত! আর এইদিকে মৌসুমি রাগে মোবাইল বন্ধ করে বসে আছে। ৩ ঘন্টা অপেক্ষার পর সেও রাগ করে বাড়িতে চলে আসে) পরের দিন স্কুলে রাগ নিয়ে আসে মৌসুমি, রিফাতের উপর ঝারবে! প্রিয়া- কিরে মৌ! তুই এখানে! (মৌসুমির বান্ধবী প্রিয়া।) মৌ- তাহলে কোথায় থাকব? জামাইয়ের বাড়ি? প্রিয়া- তর জামাই মারা গেছে! আর তুই স্কুলে পড়তে আসছিস! (এই কথা শুনার পর মৌসুমি প্রিয়াকে একটা থাপ্পর মারে!) মৌ- এগুলা নিয়া মজা করবি না। প্রিয়া- কালকে সন্ধ্যায় মোটরসাইকেল এক্সিডেন্টে রিফাত মারা গেছে আর প্রান্ত হাসপাতালে। (প্রিয়া কেদে কেদে বলছিল। আর মৌসুমি শুনে অজ্ঞান হয়ে পরে গেল। সেই থেকে মাঝে মাঝে অজ্ঞান হয়ে যায় মৌসুমি। তিন দিন কিছুই খায়নি। দরজা বন্ধ করে সুয়ে সুয়ে শুধু কান্না করত।) আজকে সকালেই কলেজে এসে একা একা বকুল গাছের নিচে বসে থাকার পরই আশিক এসেছিল কথা বলতে। এখন আশিকের চোখেও পানি আশিক- দোস্ত চল ফুল নিয়ে রিফাতের কবরে রেখে আসি আর দোয়া করি। (চোখ মুছে মৌসুমিও আবার স্বাভাবিক হয়ে ফুল কিনতে গেল আশিকের সাথে রিফাতের কবরে রাখবে বলে! ওইদিনও রিফাতকে ফুল দিতে পারেনি। আজকে দিবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now