বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ভাইয়া বলল, কিসের কলকবজা দেখব?
গাড়ির। একটা গাড়ি কিনেছি।
ভাইয়া হাই তুলতে তুলতে বলল, খামাখা গাড়ি কিনেছ কেন?
বাবা হতাশ গলায় বললেন, গাড়ির প্রয়োজন আছে এ জন্যে কিনেছি। আমার তো নানা জায়গায় যেতে হয়। তোর মতো বিছানায় শুয়ে থাকলে হয় না।
ভাইয়া বলল, তুমি শুধু ইউনিভার্সিটি যাও সেখান থেকে বাসায় আস। তোমার জন্যে রিকশাই যথেষ্ট।
নতুন গাড়ির প্রতি ভাইয়ার অনাগ্রহ মা পুষিয়ে দিলেন। তার বয়স পাঁচ বছর কমে গেল। গলার স্বরে কিশোরী ভাব চলে এল। আমাকে আহ্লাদি গলায় বললেন, তোর বাবা বলেছে আমাকে নিয়ে লং ড্রাইভে যাবে। শাড়ি কোনটা পরব বল তো। বিয়ের শাড়িটা পরব?
পরতে পারো। বাবাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে শেরওয়ানি পাগড়ি পরিয়ে দাও।
মা বললেন, ঠাট্টা করিস না। চট করে যা মসজিদে ইমাম সাহেবকে নিয়ে আয় নতুন গাড়িতে দোয়া বখশে দিবেন।
ইমাম বাইরে থেকে আনতে হলো না, গাড়ির সঙ্গেই চলে এলেন। গাড়ির ড্রাইভার ইসমাইলকে দেখে মনে হলো দেওবন্ধ মাদ্রাসার শিক্ষক। হাঁটুর গোড়ালির ওপর পায়জামা। সবুজ পাঞ্জাবিও হাঁটু ছাড়িয়ে অনেক দূর নেমে গেছে। মুখ ভর্তি চাপ দাড়ি। চোখে সুরমা। নামাজ পড়ে কপালে স্থায়ী দাগ ফেলে দিয়েছেন। ভাইয়া হুড খুলে গাড়ির ইঞ্জিন পরীক্ষা করে বলল, ইঞ্জিন তার জীবনের শেষ প্রান্তে চলে এসেছে। যেকোনো দিন ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে ইন্তেকাল করবে। এই যে বসবে আর উঠবে না। বাবা কী মনে করে এই আবর্জনা কিনল।
ড্রাইভার ইসমাইল বলল, ইঞ্জিন খুব ভালো অবস্থায় আছে ভাইজান। বাঘের বাচ্চা ইঞ্জিন।
ভাইয়া বলল, বাঘের হলে খুবই ভালো কথা। হালুম হালুম করে গাড়ি চলবে, মন্দ কি।
বাবা এবং মা (বিয়ের বেনারসি পরে) বাঘের বাচ্চা ইঞ্জিনের গাড়িতে করে বের হলেন। রহিমার মা ঠোঁটে লিপস্টিক মেখে তাঁদের সঙ্গে গেল। সে বসল ড্রাইভারের পাশে। তার গাম্ভীর্য দেখার মতো। তার হাতে টকটকে লাল রঙের ভ্যানিটি ব্যাগ। দুই ঘণ্টা রিকশা করে ভাড়া করা সিএনজিতে তিনজন ফিরল। তিনজনেরই মুখ গম্ভীর। রহিমার মার চোখে পানি। বাবার নতুন কেনা গাড়ির ইঞ্জিন বসে গেছে। ড্রাইভার ইসমাইল গাড়ি ঠেলে নিয়ে গেছে গ্যারেজে।
যাই হোক বাঘের বাচ্চা ইঞ্জিন ঠিক করা হয়নি। যে টাকায় বাবা তাঁর ইউনিভার্সিটির প্রক্টরের কাছ থেকে গাড়ি কিনেছেন, তার কাছাকাছি টাকা লাগছে ইঞ্জিন সারতে। এই টাকা বাবার কাছে নেই। গাড়ি এখন বাসায়। ড্রাইভার ইসমাইল রোজ এই গাড়ি ঝাঁড়-পোছ করে। সপ্তাহে একদিন গাড়ির গোসল হয়। নিজের টাকায় সে একটা এয়ারফ্রেশনার কিনে গাড়িতে লাগিয়েছেন। নষ্ট গাড়ি আমাদের বাসায় মহা যত্নে আছে। রহিমার মাকে প্রায়ই সেজেগুজে নষ্ট গাড়ির পেছনের সিটে বসে থাকতে দেখা যায়।
এখন গাড়ির ড্রাইভার ইসমাইল সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়ে মূল গল্পে চলে যাব।
ইসমাইল
আমাদের সাম্প্রতিক অন্তর্ভুক্ত পারিবারিক সদস্যদের একজন ইসমাইল। বাড়ি নেত্রকোনার ধুন্ধুল গ্রামে। শ্যাওড়াপাড়া থানা। অতি ধার্মিক। ফজরের নামাজের পর কোরআন পাঠ দিয়ে সে দিন শুরু করে। কোনো নামাজের ওয়াক্ত আজান না দিলেও সে মাগরিবের আজান দেয়। প্রায়ই শোনা যায় সে রোজা।
বাসার কিছু কাজকর্মে সে সাহায্য করে। যেমন বাজার করা, উঠান ঝাঁট দেওয়া। টবে পানি দেওয়া। তার একটি কর্মদক্ষতায় ভাইয়া মুগ্ধ। ইসমাইল একটা মুরগি জবেহ করতে পারে। দুই হাঁটুতে মুরগির পা চেপে ধরে এই কাজটি সে করে।
রহিমার মা ইসমাইলের কর্মকাণ্ড নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে। ভাইয়ার সঙ্গে এই বিষয়ে সে মতবিনিময়ও করে। যেমন একদিন শুনলাম, সে ভাইয়াকে বলছে, লোকটা ভাবের মধ্যে আছে। মেয়েছেলে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে চোখ বন্ধ করে। মাথা ঘুরায়ে নেয়।
ভাইয়া বলল, মওলানা মানুষ। এটাই তো স্বাভাবিক।
রহিমার মা বলল, থুন ফালায়া কত মওলানা দেখলাম। ইশারার অপেক্ষা। ইশারা পাইলেই ফাল পাড়ব।
ইশারা দিচ্ছ না?
সময় হোক, সময় হইলেই দিব। তখন দেখা যাবে কত বড় মুন্সি।
ইশারাটা দিবে কীভাবে?
সব তো আপনেরে বলব না। একেক জনের জন্যে একেক ইশারা। আপনের জন্যে যে ইশারা খাটবে, মুন্সির জন্যে সেটা খাটবে না।
ভাইয়া আগ্রহ নিয়ে বলল, আমাকে একবার একটা ইশারা দিও তো, দেখি ঘটনা কী?
আমাদের সংসারের চাকা এইভাবেই ঘুরছে। বাবা ক্লসে যাচ্ছেন, ফিরে আসছেন। রহিমার মা নষ্ট গাড়ির দরজা খুলে পেছনের সিটে বসে থাকছে। সন্ধ্যা বেলায় ড্রাইভার ইসমাইল কলপাড়ে দাঁড়িয়ে আজান দিচ্ছে। ভাইয়া বই উল্টা করে পড়ছে। রহিমার মা অপেক্ষায় আছে ইশারার। এমন সময় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটল।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, মে ০৬, ২০১১
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now