বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কানে সমস্যা!! ☺

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রায়হান আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X হাই . ভ্রু কুঁচকে আমার দিকে তাকিয়ে আবার বইয়ে মনোযোগ দিল মেয়েটি।এমনভাবে তাকাল যেন আমি মহাভারত অশুদ্ধ করে ফেলেছি!! আমার দিকে এভাবে তাকানোর হেতুটা বুঝতে পারলাম না।একই ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্ট হওয়ার পরও মেয়েটির সাথে আমার পরিচয় নেই।আজ যখন দেখলাম মেয়েটি একা বসে বই পড়ছে তখন নিজে থেকেই পরিচিত হতে এলাম। -শুনছেন? -...... -ঐ হ্যালো! এবার বালিকা আমার দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকালো। -এটা রেখে দিন।কাজে লাগবে.. . বোধহয় কার্ডটা দেয়ার হেতু না বুঝে মেয়েটা আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।ভিজিটিং কার্ডটা মেয়েটির হাতে ধরিয়ে দিয়েই দ্রুতগতিতে ঐ স্থান হতে পলায়ন করলাম। . পরের দিন ভার্সিটির ক্যান্টিনে বসে মোবাইল গুতাচ্ছি। হঠাৎ টেবিলের উপর ঠকঠক শব্দ শুনে উপরে তাকাতেই পিলে চমকে উঠল।বালিকা আমার দিকে রিনা খানের লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে। -আমার নাক কান গলা, কোথায় সমস্যা দেখলেন আপনি? -কিছু খাবেন? (আমি) -মানে??? -মানে সকাল সকাল যা রাক্ষসী মুড নিয়ে দাড়িয়ে আছেন তাতে মনে হচ্ছে কাল থেকে এই অবধি কিছু খান নি!!কি খাবেন? -আমার প্রশ্নের উত্তর দেন। -হুম (মৃদু হেসে) -হুম মানে? আমাকে নাক কান আর গলা বিশেষজ্ঞের ভিজিটিং কার্ড দেয়ার মানে কি? -আমি ভাবছিলাম আপনি কানে কম শুনেন! -কি!!! ফাইজলামি করেন আমার সাথে? -একটু আধটু -কি বললেন? -এখন তো দেখছি আপনি সত্যিই কানে কম শুনেন! -ইচ্ছা করছে থাপ্পড় দিয়ে আপনার ৩২ টা দাত ফেলে দিতে। -আমার ৩২ টা দাত এখনো ওঠেনি !! মেয়েটি আমার দিকে বেশ কিছুক্ষণ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল।বোধহয় আমি কতটা ফাজিল তা পরিমাপের চেষ্টা করল!!পরিমাপ করতে পারল কিনা জানিনা তবে কিছু সময় পর রাক্ষস রানী কটকটির লুক নিয়ে ঐখান হতে সে প্রস্থান করিল। . ভার্সিটি জীবনের শুরু থেকেই অদ্ভুত এই মেয়েটির অদ্ভুত কার্যক্রমগুলো দেখে আসছি।ছেলে ফ্রেন্ড তো দূরের কথা, মেয়েটির কোনো মেয়ে ফ্রেন্ডও নেই। হয় এই কারণেই ডিপার্টমেন্টের সবাই যখন আড্ডায় ব্যাস্ত তখন সে হয়ত ক্লাসরুমের এক কোনায় একা একা বসে থাকত অথবা বটতলায় বসে বসে হিমু সমগ্র পড়ত।তার এই অদ্ভুত কাজকর্মগুলো আমাকে তার সাথে পরিচিত হতে অধিক আকর্ষিত করেছে। পরিচয় পর্বতেই একটা গজ-কচ্ছপ যুদ্ধ হয় গেল!!! . পরের দিন সরি বলার জন্য পুনরায় মেয়েটির কাছে আসলাম। -আমি দুঃখিত -কেনো? -কালকে ওভাবে কথা বলার জন্য -...... কথা না বললেও আমার উপর যে প্রচন্ড রেগে আছে সেটা বুঝতে পারছি।তাই আরেকটু রাগানোর জন্য বললাম -আপনি কি সত্যিই কানে শুনছেন না -এবার কিন্তু সত্যিই মেরে দিব। -হা হা হা আমি যে তার সাথে মজা করছি সেটা বোধহয় বালিকা বুঝতে পারল।অবাক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে ফিক করে হেসে দিল। -আপনি তো মহা ফাজিল (বালিকা) -সেটা আগে থেকে সার্টিফিকেট প্রাপ্ত। -হি হি হি -হুম।আমি আদিত্য -অদিতি -চলুন ক্লাসে যাওয়া যাক -হুম চলুন . বন্ধু হিসেবে এভাবেই আমাদের পথচলা শুরু।সম্বোধন টা আপনি থেকে সরাসরি তুইতে নেমে যেতে খুব বেশি সময় নেয়নি।ফ্রেন্ডশিপ হওয়ার পর আমি আবিস্কার করলাম অন্য এক অদিতিকে।বোধহয় আমাকে পেয়ে তার কথার ফুলঝুরি ছুটল। আড্ডাবাজি, ফান করা বা যে কোনো টপিকে তর্ক করতে যে ও এত পটু,ওর সাথে ফ্রেন্ডশিপ না হলে এটা কখনই বুঝতে পারতাম না।মারাত্নক ঝগড়াটেও ছিল ও। আমার সাথে মাঞ্জা মেরে ঝগড়া করত আবার যখন এসাইনমেন্ট করার সময় এসাইনমেন্ট করে দিত।খুব ভালোই কাটছিল সময়গুলো। . আজ ভার্সিটিতে একটু সকাল সকালই আসলাম।বসে বসে বই পড়ছি এমন সময় নীলা এসে বলল, -আদিত্য, কালকে স্যারের এই টপিক টা বুঝতে পারি নাই। একটু হেল্প করবা?? -কেন করব?? -আরে একটুই তো! -হুম, সমস্যাটা বল । নীরাকে টপিকটা বোঝাচ্ছি এর মধ্যে অদিতি এসে উপস্থিত।আমাদের দিকে কিছুটা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আবার স্বাভাবিকভাবে টেবিলে এসে বসল।কি বুঝলো জানি না, তবে কোনো কথা বলল না। ক্লাস শেষে সোজা ক্যান্টিনের দিকে হাটা দিল।প্রতিদিন সাধারনত আমাকে সাথে করেই যায়।এতটা দ্রুতই হাটছে যে আমি পিছন থেকে এত করে ডাকছি সেদিকে ওর কোনো খেয়াল নেই।সবচেয়ে মিরাক্কেলিয় ব্যাপার হল যে মেয়েটার কথার কারণে অন্যদিন ক্লাসে থাকায়ই দায় হয়ে যেতো সে আজ সারা টা ক্লাস আমার সাথে কোনো কথা বলে নি!! . রাত বারোটা বেজে তিরিশ মিনিট। একা একা ছাদে বসে আজকে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে ভাবছি।এতো চেষ্টা করলাম কিন্তু অদিতি আমার সাথে কথা বলছে না।ব্যাপার টা কি?আজ যে আমার জন্মদিন সেটাও বি ভূলে গিয়েছে?ইতিমধ্যে অনেকজনের কাছ থেকে জন্মদিনের উইশ পেয়ে গিয়েছি। ভেবেছিলাম অদিতির কাছ থেকেই জন্মদিনের প্রথম উইশ পাবো।কিন্তু এখন পর্যন্ত অদিতির টেক্সট বা ফোন কোনোটাই পাচ্ছি না।দুশ্চিন্তাও হচ্ছে। পাগলি তো। ইগোর বাধা উপেক্ষা করে ওকে ফোন করলাম।কিন্তু ফোন তুলছে না। ডিশিসন নিলাম যতক্ষণ না পর্যন্ত ও ফোন ধরছে ততক্ষণ ডায়াল করে যাবো।বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টা করার পর অদিতি ফোন রিসিভ করল, -হ্যালো (আমি) -ঐ তোর সমস্যা কী? এতোবার ফোন দিচ্ছিস কেন? -জন্মদিনের শুভেচ্ছা.. -আজকে আমার জন্মদিন না -আরে বাপু, পুরোটা শোন। জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাবি না? -না। -কেনো? -তোকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য অনেকেই আছে। -মানে? -মানে কিছু না। ফোন রাখছি -ঐ সব কিছু জানি না।কালকে আমার বার্থডে উপলক্ষে ভার্সিটি ক্যান্টিনে ছোটোখাটো একটা পার্টির আয়োজন করছি। যদি তুই না আসিস তাহলে সোজা কোর বাসায় গিয়ে হাজির হবো। -দেখা যাক!! ফোনটা কেটে দিল।আমি জানি ও আসবে। কারন এখন পর্যন্ত যতবার ওর বাসায় যেতে চেয়েছি, ততবারই ও অযুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে গিয়েছে।তাই অন্তত আমাকে ওর বাসায় দেখতে না চাওয়ার কারনে হলেও অদিতি কাল আসবে। . হঠাৎ করে ওর এরুপ আচরনের হেতু টা বুঝতে পারছি না।সকালে নীলার সাথে একত্রে দেখার পরই ও এরকম করছে।আচ্ছা অদিতি আমাকে নীলার সাথে দেখে জেলাস ফিল করছে নাতো?? হয়তো আমার সাথে অন্য কোনো মেয়েকে সহ্য করতে পারছে না!! আর সেটাই যদি হয় তাহলে ও নিশ্চিত আমাকে........ আনমনেই হেসে উঠলাম।অদিতি যে আমার জীবনের একটা বিরাট অংশ দখল করে আছে আজকে সেটা আজকে অনুভত হল। একে আমি কোনোভাবেই হারাতে পারবো না।অপেক্ষা শুধু আগামী কালের!! . পার্টির শুরুতেই বার্থডের কেক কাটা হল।কাটা কেকের প্রথম টুকরো টা নীলার মুখে উঠিয়ে দিলাম।তারপর কিছুটা ওর মুখে মাখিয়ে দিলাম।দেখলাম অদিতি রাগে ফোঁসফোঁস করতেছে।না পারছে কিছু বলতে, না বেরিয়ে আসতে । ওর এই অবস্থাটা দেখে খুব হাসি পাচ্ছে।আচ্ছা আরেকটু রাগালে কেমন হয়!! . নীলাকে হাটু গেড়ে প্রপোজ করার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গালে একটা থাপ্পড় অনুভূত হল।অবাক হলেও বুঝতে বাকী রইল থাপ্পড় টা অদিতিই মেরেছে। থাপ্পড় মেরেই অদিতি আমাকে হাত ধরে টেনে ক্যান্টিনের বাইরে নিয়ে আসল, -শোন,তোকে একটা গল্প বলার আছে।এবং সেটা তোকে শুনতেই হবে। তারপর তুই নীলা-ফিলা যার সাথে প্রেম করিস না কেন আমার কোনো অসুবিধা নেই। . থাপ্পড় টা একটু জোড়েই মেরেছে।যা রেগেছে তাতে করে গল্প না শুনতে চাইলে আরেক টা মেরে দিবে।না শুনে উপায় নেই . -হুম বল। (আমি) -"একটা মেয়ে।বাবার রাজকন্যা আর মায়ের লক্ষি মেয়ে সে।পরিবারের প্রান, হৃৎপিন্ড মেয়েটি। বাবা-মায়ের আনন্দ, ভালোবাসার উৎস সে।নবম শ্রেনীতে পড়াকালীন সময়ে কোনো এক সড়ক দূর্ঘটনায় বাবা মা মারা গেলে মামার কাছে আশ্রিত হয় মেয়েটি।আকস্মিক এই ধাক্কাটি সামলে উঠতে তার বেশ সময় লেগে যায়।ফলে ভার্সিটিতে এসে একটি ছেলের সাথে পরিচয় হওয়ার আগ অবধি তার জীবনে ছিল না কোনো আনন্দ উচ্ছ্বাস। ছেলেটি তার জীবনে আনন্দ ফিরিয়ে আনে অনুভব করায় ভালোবাসা।ছেলেটিকে সে অনেক ভালোবেসে ফেলেছে,কিন্তু সাহসের অভাবে বলতে পারছে না। ইদানীং ছেলেটি তাকে... -দাড়া,দাড়া...বাকী গল্পটা আমি বলছি "ভার্সিটিতে এসে মেয়েটিকে দেখে প্রথম দেখাতেই ভালো লেগে যায় ছেলেটির।মেয়েটির সাথে পরিচয় হওয়ার আগ অবধি তাকে যে কতবার লুকিয়ে লুকিয়ে দেখেছে তার ইয়ত্তা নেই।ফ্রেন্ডশিপ হওয়ার পর মেয়েটি যখন হাত নেড়ে নেড়ে ঝগড়া করত কিংবা যখন হাঁসতে হাঁসতে লুটিয়ে পড়ত, ছেলেটি তখন মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতো।মেয়েটি বোধহয় জানেনা রাগলে তার গাল দুটো টুকটুকে লাল হয়ে যায়।মেয়েটির এই রক্তিম গালদুটো দেখতে ছেলেটি যে তাকে ইচ্ছে করে রাগায় সেটিও বোধহয় মেয়েটি বুঝতে পারেনি।সবমিলিয়ে ছেলেটি মেয়েটিকে খুব খুব ভালোবেসে ফেলেছে।সে সর্বদাই মেয়েটির বোবা জীবনে কথা হয়ে থাকতে চায়। হতে চায় তার আনন্দ উল্লাসের একমাত্র কারণ।মেয়েটিকে সে যে এত ভালোবাসে তা সে প্রকাশ করার কোনো মাধ্যম খুঁজে পাচ্ছিল না।সে এটাও নিশ্চিত ছিলো না যে মেয়েটি তাকে সত্যি সত্যি ভালোবাসে কিনা। তাই সে মেয়েটিকে দেখিয়ে দেখিয়ে তার ক্লাসের অন্য মেয়েদের সাথে কথা বলতো যাতে মেয়েটি তাকে ভালোবাসে কিনা সেটা সে নিশ্চিত হতে পারে। মেয়েটি যে তাকে ভালোবাসে সেটার প্রমানও সে পেয়ে গিয়েছে".. -আমি কাউকে ভালোবাসি না (অভিমানী কন্ঠে) -তুই না... মেয়েটি হল নীলা -বললেই হল!!আমাকে বাদে অন্য কাউকে ভালবাসি বললে ঠ্যাং খুলে হাতে ধরিয়ে দিব (রাগে রাগান্বিত) -তুই মাইয়া না কটকটি? -কি বললি!!!!!! -গল্পের আরেকটু আছে। শোন "পরিচয় থেকে এই অবধি বিভিন্ন সময়ে বালক লক্ষ করিয়াছে যে বালিকা তাহার কানে একটু কম শুনে।তাই বালক চায় বালিকার স্থায়ী দায়িত্ব নেয়ার পর সর্বপ্রথম তাকে একজন কর্ন বিশেষজ্ঞের শরনাপন্ন করাইতে" (আসলে অদিতির কানে কোনো সমস্যা না।এই কথাটা বললে ও খুব রেগে যায় তো, তাই বারবার এটা বলে ওর রাগান্বিত কিউট মুখটা দর্শন করি) -তবে রে...... হাত উচিয়ে বালককে মারতে আসার সাথে সাথেই বালিকা বালকের বাহুডোরে আবদ্ধ হইল। . অনন্তকাল বেচে থাকুক তাদের এই ভালোবাসা মিশ্রিত ঝগড়া...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now