বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ঘন্টাখানেক পরে দুর্গা ও মরিয়মকে ট্রাকে
তোলা হল। মরিয়মের মা জায়নামাযের উপরই মারা
গেছেন। দুর্গা ও মরিয়ম শরীরে কোন
রকমে কাপড় জড়িয়ে রেখেছে। ট্রাকে
আরো দশ-বারো জন মেয়েকে দেখল।
তাদের গায়েও নামমাত্র কাপড়ের টুকরো,
কামড়ের জন্য রক্ত ঝরছে অনেকের। রাত
আটটার মধ্যেই ট্রাক ভর্তি হয়ে গেল। ট্রাক থামল।
ট্রাক থেকে নামানোর পর যাদের শরীরে
যতটুকু কাপড় ছিল, খুলে ফেলে উলঙ্গ করা হল।
শরিফার প্রচণ্ড লজ্জা লাগছিল, মাটির সাথে মিশে
যেতে ইচ্ছে করছিল।
শরিফা দেখল, কিছু মেয়েকে হেডকোয়ার্টারে
নিয়ে যাওয়া হল, বাকিদের ব্যারাকের ভেতর।
যাদের জায়গা হল না ব্যারাকের ভেতর, তাদের
বারান্দায় দাঁড় করিয়ে রাখা হল। দুর্গা ও মরিয়মের
জায়গা হল ব্যারাকের ভেতরে। শরিফা দেখল,
পাকসেনারা কুকুরের মত জিভ চাটতে চাটতে
ব্যারাকের মধ্যে প্রবেশ করছে, উন্মত্ত
অট্টহাসিতে ফেটে পড়ছে। মেয়েদেরকে
টেনে নিয়ে লাথি মারতে মারতে মাটিতে
ফেলেই ধর্ষণ করতে লেগে গেল তারা,
পাগলের মত ধর্ষণ করছে। ধারালো দাঁত দিয়ে
স্তন, গাল, ঘাড়, পেট, পিঠ, কোমর, নিতম্বের
অংশ কামড়াতে কামড়াতে রক্তাক্ত করে দিচ্ছে।
এক সৈনিক দুর্গার পাশে থেকে মরিয়মকে টান
দিয়ে মাটিতে ফেলে দিল। শরিফা টের পেল,
দুর্গার সব রোম খাড়া হয়ে গেছে। সেনা
মরিয়মের কাছে যেতেই লাথি মারল মরিয়ম।
পাকসেনা ক্ষেপে গিয়ে ওর চুল ধরে
হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
শরিফা টের পেল, দুর্গা স্মৃতিচারণ করছে।
দুর্গা মরিয়মকে বলতো, “মরিয়ম, তোমার বর
তোমার চুল দেখেই পাগল হয়ে যাবে”
শরিফার মনে হতে লাগলো, ও নিজেই দুর্গা।
শরিফা দেখল, সেনাটি বন্দুকের বেয়োনেট
ঢুকিয়ে দিয়েছে মরিয়মের যোনিপথে। মরিয়ম
চিৎকার করছে। শুধু মরিয়ম না ধর্ষিত হতে থাকা সব
মেয়েই চিৎকার করছে। হঠাত দুর্গাকে একজন টান
মারল, মাটিতে ফেলে দিল। আরো ২জন সেনা
এগিয়ে এল। তিনজন মিলে দুর্গাকে ধর্ষণ করতে
লাগলো, রক্তাক্ত করতে লাগলো। শরিফা ব্যাথায়
চিৎকার করছে, কিন্তু দুর্গার চিৎকার শুনতে পেল
না। ভোর রাতের দিকে দুর্গাকে ছেড়ে দিল
তারা।
শরিফা ভেবেছিল, মরিয়ম বুঝি মারা গেছে। দূর
থেকে দেখতে পেল মরিয়মকে,
হেডকোয়ার্টারের উপরতলার বারান্দার মোটা
লোহা তারের উপর চুলের সাথে বেঁধে ঝুলিয়ে
রাখা হয়েছে। শরিফা জানে না, বুঝতে পারছে না,
দুর্গা কতক্ষণ ধরে কেঁদেছে। দুর্গার
চোখের পানি এখনো আছে? শরিফা দুর্গার
শরীরের সব ব্যাথা অনুভব করতে পারছে, কিন্তু
চোখের পানিকে বুঝতে পারছে না। শরিফা
আল্লাহকে ডাকছে, সে এই দুঃস্বপ্ন থেকে
মুক্তি চায়। ভোরের দিকে আরো গাড়ি এল। আবার
শুরু হল। সব দেখছে শরিফা। কিছুক্ষণ আগে
দেখলো একটা বাচ্চা মেয়েকে, যার বয়স
৮-৯এর বেশি হবে না। বারংবার ধর্ষণ শেষে দুইপা
দুইদিকে থেকে টেনে নাভি পর্যন্ত ছিঁড়ে
ফেলা হল।
শরিফা দেখতে লাগলো মরিয়মকে।
হেডকোয়ার্টার ঢোকার সময় ও বের হবার সময়
সৈন্যরা উন্মত্তভাবে আঘাত করতো মরিয়মকে,
মরিয়মের সাথে ঝুলন্ত মেয়েদেরকে। ঝুলন্ত
অবস্থাতেই মরিয়মকে পায়খানা করে দিতে দেখল
শরিফা। টের পেল দুর্গা ঝুঁকে বমি করছে।
আরেকটা মেয়ে, ১৩-১৪ বছরের হবে, দুর্গার
কাছে এসে দুর্গাকে ধরে বসলো। শরিফা
তাকিয়ে দেখলো, মনে হল, এই মেয়েটকে
কোথাও দেখেছে সে। শ্যামলা মেয়েটার
ঠোঁট পাতলা, কোকড়া চুল। মেয়েটা দুর্গাকে
ধরে রাখল, বলল, “মেয়েটা তোমার সই?”
দুর্গা মাথা নাড়ল। মেয়েটা বলল, “ওদিকে তাকিয়ো
না”। মেয়েটা দুর্গাকে বসিয়ে কোথায় যেন
গেল। শরিফা দেখল, তার আব্বাকে মেয়েটা
ডেকে নিয়ে এসেছে। মেয়েটা বলছে, “পানি
লাগবে। পানি। পানি লাগবে”
শরিফার আব্বা বলছে, “কার লাগবে?”
মেয়েটা কিছু বলার আগেই শরিফা দেখল, শরিফার
আব্বা লুঙ্গি খুলে দুর্গার মুখের উপর প্রসাব করে
দিল। বলতে লাগলো, “লে, মাগি, পানি খা। প্রাণ
ভরে খা”। প্রসাবের স্পর্শ গন্ধ সব টের পাচ্ছে
শরিফা। গা ঘিনঘিন করতে লাগলো। ও কিছুই করতে
পারবে না। দেখতে পারবে, অনুভব করতে
পারবে। টাইম-ট্রেভেল আর কতোক্ষণ?
শরিফা টের পেল, দুর্গা মাটিতে শুয়ে পড়েছে।
শুয়ে শুয়েই শরিফা দেখল, মরিয়মের ডান স্তনে
ছুরি চালিয়ে কেটে নিয়ে গেল এক সৈনিক, দরদর
করে রক্ত পড়ছে। আরেক সৈনিক মরিয়মের
যোনিপথে লাঠি ঢুকিয়ে দিয়েছে। শরিফা চোখ
বন্ধ করতে চাইছে, কিন্তু দুর্গা চোখ বন্ধ
করছে না। সেই মেয়েটা এগিয়ে আসলো,
দুর্গার মাথা কোলে তুলে নিয়ে বসে রইল। শরিফা
টের পেল, দুর্গা বিড়বিড় করে অস্ফুট স্বরে কথা
বলছে মেয়েটার সাথে। মেয়েটা দুর্গার মাথায়
হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। শরিফা দেখলো, সূর্য মাথার
উপরে। কিছু সৈন্য এসে মেয়েটাকে টেনে
নিয়ে গেল, অন্যসব মেয়েদের সাথে
কড়ারোদে দাঁড় করিয়ে রাখল। দুর্গা পড়ে রইল,
কতক্ষণ শরিফা জানে না। পাঁচজন সেনা এসে দাঁড়াল
দুর্গার সামনে। পাঁচজন মিলে আবার শুরু করল। দুর্গার
ঠোঁটের দুদিকের মাংস টেনে ছিঁড়ে ফেলল।
লোহার রড দিয়ে হাতের আঙুল থেতলে দিল।
শরিফা চিৎকার করছে, কিন্তু দুর্গার মুখ দিয়ে শব্দ
বের হচ্ছে না। শরিফা টের পাচ্ছে, দুর্গার
স্তনের উপর জলন্ত সিগারেট চেপে চেপে
ধরছে। কিছুক্ষণ পর হাত ও পায়ের নখ দিয়ে
মোটা সূচ ঢুকানো হচ্ছে।
শরিফা সহ্যশক্তিও নেই, টের পেল, দুর্গা লাথি মারার
চেষ্টা করছে, মেরেছেও ২টো। লাথি
খেয়ে সৈন্যগুলো দুর্গাকে ফেলে রেখে
যাচ্ছে। শরিফা ভাবল, শেষ বুঝি। কিছুক্ষণ পর পাঁচজন
ফিরে এল গরম সিদ্ধ ডিম নিয়ে... শরিফা টের
পাচ্ছে, দুর্গার যোনিপথে সিদ্ধ ডিম ঢোকাচ্ছে
তারা। শরিফা চিৎকার করছে, কিন্তু দুর্গার মুখে শব্দ
নেই। দুর্গার কোন নড়াচড়া নেই। শরিফা
দেখলো, ঘন্টাখানেক পর দুর্গাকে তুলে নিয়ে
যাচ্ছে। এই পাকি পুরুষদের নিয়ে একসময় কত
ফ্যান্টাসি ছিল শরিফার... একটা জাতির সবাই এতোটা
বর্বর কিভাবে হয়? শরিফা টের পেল, দুর্গা
শুন্যে। হঠাত ধুপ করে পড়ল একটা বড় গর্তে।
পচা গন্ধ টের পাচ্ছে শরিফা। শরিফার নিচে নগ্ন
আরো অনেক মেয়ের শরীর। দুর্গার হাতের
কাছে শরিফা ভাঙ্গা কাচের চুড়ি, চুলের স্পর্শ
পেল। শরিফা চোখ বন্ধ করতে চাইছে, কিন্তু ওর
নিয়ন্ত্রণে নেই দুর্গার শরীর। দেখল, আরো
অনেকগুলো মেয়ের নগ্ন শরীর দুর্গার
শরীরের উপর পড়ছে। সবার শরীর রক্তাক্ত,
ছিন্নভিন্ন, এখানে ওখানে রক্তজমাট বেঁধে
আছে। আচ্ছা, মেয়েগুলো কি বেঁচে আছে?
শরিফা টের পাচ্ছে, দুর্গা মারা যাচ্ছে ধীরে
ধীরে...
ক্লার্কের ওটির টেবিলে ওঠে বসলো শরিফা।
মাথা ঝুকেই বমি করতে লাগলো।
ক্লার্ক ও রবিন তাকিয়ে আছে ওর দিকে। শরিফা
ক্লার্কের দিকে তাকিয়ে বলল, “I need to go
to hospital”
শরিফা thorough-check up করালো নিজের। কিছুই
ধরা পড়ল না। নিজেই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে
থাকলো। ক্লার্ক ওর কেবিনে এসে বলল, “তুমি
সম্পূর্ণ সুস্থ। শুধু তোমার আত্মা গিয়েছিল
অতীতে”
শরিফা কোন উত্তর না দিয়ে শুয়ে পড়ল।
সপ্তাহখানেকের মধ্যে শরিফা বাংলাদেশে ফিরল।
শরিফা দেখলো, এয়ারপোর্টে আব্বার
লোকেরা দাঁড়িয়ে আছে। শরিফার আব্বা ব্যস্ত
মানুষ, ধর্মকর্ম নিয়ে থাকেন, অনেক শিষ্য তার।
শরিফা বাসায় পৌঁছল রাত ১০টার দিকে। এই সেই বাসা।
বাসাটার মাঝখানে তুলসী গাছের বেদী ছিল,
সেটার জায়গায় স্নানঘর করা হয়েছিল। শরিফা
বৈঠকঘরে গেল, কিছু সেগুন কাঠের আসবাব
এখনো নষ্ট হয় নি। রান্নাঘরে গেল, উনুনটা
আগের জায়গাতেই আছে। আম্মা অনেক
অনুরোধ করা সত্ত্বেও শরিফা মুখে তুলে নি কিছু।
না খেয়েই শুয়ে পড়ল। রাত ১২টা। শরিফা জানে,
বাসার সবাই শুয়ে পড়েছে। শরিফা রান্নাঘরের দিকে
গেল। রান্নাঘরে আলো জ্বলছে। শরিফা দেখল,
তার ষাটোর্ধ আব্বা ১৩বছরের কাজের
মেয়েটাকে... এই বাসার প্রথমদিনের অভ্যাসটা
আজো যায় নি আব্বার। শরিফা বটি তুলে নিল,
কোপাতে লাগলো, বলতে লাগলো, “আমি
দুর্গা, আমি দুর্গা, আমি দুর্গা”। রান্নাঘরটা লাল হয়ে
গেল, আর শরিফার পরনে সবুজ শাড়ী, শাড়ীটাও
লাল হয়ে গেল। ঢাকার ড্রেনগুলো,
রাস্তাগুলোও এমনই লাল হয়েছিল ৭১-এ... ’
*
শাওন বলল, “গল্প নিশ্চয় এতটুকু নয়?”
অপু বলল, “কিভাব বুঝলে?”
“টুইস্ট ছাড়া ডিরেক্টর অপুর মুভি হয় কখনো?
আগের প্লটেও ছিল”
“তাহলে টুইস্টটা আন্দাজ করো”
“সম্ভবত এপিলগে থাকবে, সেই ১৩-১৪ বছরের
শ্যামলা মেয়েটি বেঁচে ছিল। প্রেগন্যান্ট হয়ে
গেছিল।অস্ট্রেলিয়ান Dr. Geoffrey Davisএর
অধীনে যে ৪লাখ ৪০হাজার মেয়ের অ্যাবরশন
হয়েছিল তাদের মধ্যে সেও ছিল। যে ২লাখ
ধর্ষিতার ভাগ্যে ছিল ঐ গর্তগুলোতে মৃত্যু,
তাদের থেকেও খুব বেশি ভালো ভাগ্য হয় নি
বাকি ৪লাখ ৪০হাজারের। মেয়েটিকে পরিবার গ্রহণ
করেনি। পচাত্তরের পর যখন রাজাকারেরা ফিরে
আসতে থাকে, সেরকম কোন এক সময়ে
মেয়েটি দেশ ছেড়েছিল লজ্জা, কষ্ট, হতাশা ও
অভিমানে। অস্ট্রেলিয়াতে এসে এক
ফার্মাসিস্টকে বিয়ে করে। আর সেই ঘরের
ছেলে হল ক্লার্ক”
অপু টেবিলে তুড়ি মেরে বললো, “ভেরি গুড।
এপিলগে দুর্গা ও সেই মেয়েটির ডায়লগ
দেখানো হবে। মহিলা ক্লার্ককে তার স্মৃতির কথা
বলবেন, দুর্গার কথা বলবেন”
“So it was preplanned by Clark.”
“হুম”
“আরেকটা ব্যাপার”
“বুঝেছি”
“কী?”
“আরেকটা রহস্য রেখে দেবো”
“শরিফার শরীরে কী শরিফাই ফিরেছিল? না
দুর্গা?”
“এপিলগে ক্লার্ক বলবে, আত্মা অতীত
ভ্রমণের সময় যে শরীরে আশ্রয় নিয়েছে,
সেই শরীরের মৃত্যুতে কি হয়-সে জানে না।
তার কোন ভিজিটেই শরীরের মৃত্যু ঘটে নি। তাই
শরিফার শরীরে কে- সে জানে না”
“হুম। শুরুটা অনেক বেশি Erotic। মুভিটা অনেক
বেশি Vulgar হয়ে যাচ্ছে না?”
“Erotic দেখেই লোকজন দেখবে।
ডকুমেন্টারি ফিল্ম ক’জন দেখে বলো? আমি
আরো অনেক কিছুই ঠিক করেছি”
“কী?”
“আমরা ট্রেইলারে শুধু ক্লার্ক ও শরিফার
সেন্সুয়াল সিনগুলোই দেখাবো”
“হুম। এতে দর্শক বাড়বে। প্রযোজকেরও মন
ভরবে”
“হুম। কিন্তু মুভিতে রাখবো না। যারা masturbate
করতে ঢুকবে, বমি করতে করতে বের হবে”
“আই থিঙ্ক, রাখলেও প্রব্লেম হবে না। ক্ষরণ
দুদিক থেকেই হোক। নরমাল ইন্টারকোর্স ও
রেপের ডিফরেন্সটাও ফুটে উঠবে, তাই না?”
“দেখা যাক”
“সেন্সরবোর্ড ছাড়পত্র দেবে কি?”
“সেন্সরবোর্ড কোনকালে কোন ভালো
মুভিকে একবারে ছাড়পত্র দিয়েছে?”
collected
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now