বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অবুঝ আবেগ অথবা ভালবাসা
.
.
[ ডেডিকেটেড টুঃ আমার সব হারামী
বন্ধুবান্ধবদের ]
.
আমরা যতই সাহসী হই না কেন ভালবাসার মানুষটার
সামনে গেলে বুকের ভিতরে কিরকম মোচড়
দিয়ে উঠে। মুখে কথা আসেনা। কি বলবো
বোঝতে পারিনা।
প্রিথীবিতে অনেক সুন্দরীদের দেখলে
হয়তো ভাল লাগে।
.
কিন্তু ভালবাসার মানুষটাকে দেখলে এক অন্যরকম
অনুভূতি হয়। বুকের মাঝে কি যেন একটা উঠা-নামা
করে। যতো কিছুই দেখি! ভালবাসার মানুষটাকে
দেখার মাঝে যা সুখ আছে অন্য কিছুতে নেই।
.
মানুষটার কথা চব্বিশঘণ্টা ভাবলেও খারাপ লাগেনা,
বিরক্ত লাগেনা। বরং ভাবতে ভালই লাগে। তাঁর
চোখ,কান,নাক, চুল সবই ভাল লাগে। হোক সে
কালো। ভালবাসা যে অন্ধ। কারো ক্ষেত্রে
হয়তো প্রথম দেখাতেই ভালো লেগে যায়
আর পরে ভালবাসা।
.
কারো ক্ষেত্রে হয়তো ভালবাসাটা তৈরি হয়
আস্তে আস্তে। একসাথে থাকার কিছু মুহুর্ত।
হোক দূরে আর কাছে। বা মনের জানালায়, দুনিয়ায়।
যখন একেবারে পিচ্চি ছিলাম। সকালে মসজিদের
হুজুরের কাছে আরবি পড়তাম।
.
আমি কিছুটা পাগলাটে টাইপের ছিলাম, আছি। সেখানে
প্রথম দেখেছিলাম। বয়স তখন কতো হবে সাত
কি আট। ছেলে-মেয়েদের এক সাথেই
পড়াতো। আমার বাড়ি থেকে পাঞ্জাখানা পাঁচ মিনিটের
রাস্তা।
.
আর প্রতিদিনই কাকতালীয় ভাবে আমি যখন তাঁর বাড়ির
সামনে যেতাম ঠিক তখনই সে বের হতো আর
এক সাথেই যেতাম। আমিও কথা বলতাম না আর
সে'ও না। যেদিন একটু আগে উঠে পাঁচটা
পঁয়তাল্লিশ বাজে যেতাম ঐদিনও এক হতাম আবার
একটু দেরী করে ছয়টা দশ বা বিশ ঐদিন কাহিনি
এক।
.
আমার দেখতে খুব ভাল লাগে। কিছু বলিনা। তাঁর
চুলগুলো খুব কালো ছিলো আর বড়। মাথায় যখন
কাপড় দিয়ে রাখতো তখন আরো অন্যরকম
লাগতো। আমি শুধু হা করে তাঁকিয়ে থাকতাম। বিষয়টা
হুজুরসহ সহপাঠীরাও খেয়াল করে, চোখে
পড়ে।
.
আবার যখন সে তাকাতো আমি অন্যদিকে তাঁকিয়ে
থাকতাম। আবার আমি তাঁকালে সে-ও। সে খুব
ভালো করেই জানে আমি তাঁকে দেখছি তাই যদি
কারো আড়ালে চলে যেতো তাহলে সরে
গিয়ে আমার সোজাসুজি বসতো যেন আমার
দেখতে অসুবিধে না হয়।
.
আর তা নাহলে আমি আমার বসার জায়গা পরিবর্তন
করবো নিশ্চিত! একদিন সহপাঠীরা সবাই আসতে
দেরী করলো। আমি আর সে শুধু আগে
গিয়েছিলাম। হুজুর আমরা মাত্র দুজন দেখে তাঁর
শুয়ার ঘরে চলে গেলেন। আমাকে
বলেছিলো, বাঁকিরা আসলে ডাক দিতে।
.
ভিতরে শুধু আমরা দুজন বলে। কেউ কারো।
দিকে তাঁকাচ্ছিনা। আগেরদিন হুজুর পড়া "সবক"
দিয়েছিলো । আমি মনে করে শিখেছিলাম। আমি
এমনিতে লেখাপড়ায় অমনোযোগী। নীরবতা
ভেঙ্গে সে বললো, " আজকে কি আর
পড়াবে না? "
.
আমি উত্তরে কি বলবো বোঝতে পারছিলাম না!
মাথা নাড়িয়ে বললাম "না"। তারপর সে বললো, "
কালকের পড়া শিখছেন? আমি আবারো মাথা নাড়িয়ে
বললাম "হ"। আপনি করে ঐ একবারই বলেছিলো।
.
এরপরে তুই করেই বলতো। যদিও মাসে কথা
হতো একটা কি না সন্দেহ। চোখাচোখিই হতো
বেশি। একই প্রাইমারীতে পড়তাম। আমার এক
শ্রেণী নিচে পড়তো। ছুটির পড়ে আমরা সবাই
হৈ, হুল্য করে বলতাম," আজকে ছুটি গরম গরম রুটি
"
.
ইত্যাদি ইত্যাদি একেকদিন একটা এখন ঠিক মনে
পড়ছেনা। ছুটির ঘন্টা বাজতেই সবাই ফাইজলামু করে
বই দিয়ে একে অন্যের পিঠে বাড়ি দিতাম। একদিন
ছুটির পড়ে সে দিলো পিঠে বই দিয়ে বাড়ি। আমি
শুধু পিছন ফিরে বলেছিলাম "কাল আমার পালা" সে
মুচকি হেসে বাড়ির মধ্যে ঢুকে যায়।
.
কিন্তু পরে আর দিতে পারিনি। ভয় করতো। ভাবতাম
সে তো মেয়ে কেউ মানুষ যদি জিজ্ঞেস
করে তুই ওর পিঠে বাড়ি দিলি কেন? ছোটবেলা
থেকে গানের প্রতি বেশিই আশ্বস্ত,
আসক্ত,দুর্বল। বাড়িতে তখন ছোট কাকার একটা
মুবাইল ছিলো।
.
(Bounce) বাউন্স গেমটা খেলতাম লুকিয়ে লুকিয়ে।
সারাক্ষণই মুখে গান লেগেই থাকতো। একদিন
স্কুলে গিয়ে রুমে ঢুকে আর বের হয়নি। এর
কারন ছিলো ঐদিন নতুন একটা টি-শার্ট পড়ে
স্কুলে গিয়েছিলাম।
.
নতুন কাপড়-চোপড় পড়লে আমার অনেক লজ্জা
করে সত্যি কথা। তাই সে এর মধ্যে রুমের
সামনে দিয়ে আসা যাওয়া করে ফেলেছে। আমি
দেখিনি। পড়ে একজন বলেছিলো।
.
আমি টেবিলে মাথা ঠুকিয়ে গান গাইছিলাম শুধুই। মাথা
তুলতেই দেখি সে দরোজার সামনে। আমি
তাঁকালাম দেখে মুচকি হাসি দিয়ে চলে গেলো।
টিফিন টাইম, কেউ বাড়িতে গিয়েছে খেয়ে
আসতে।
.
কেউ মাঠে "দারিবান্দা" ( আমাদের গ্রামের ভাষায়।
খেলাটার নাম কি জানিনা শুদ্ব করে। মনে হয়
দারিয়াবান্দা হবে) খেলছে। হটাৎ চোখ পড়লো
সে-ও খেলছে। আমিও গেলাম দৌড় দিয়ে
খেলতে।
.
দুজনের কলম এক পিচ্চির কাছে রেখেছিলাম।
টিফিন টাইম পার হবার পর যখন খেলা শেষ।
অনেকেই দৌড় দিয়ে গিয়ে ক্লাসে বসে আছে।
আমি সে আর পিচ্চিটা দাঁড়িয়ে আছি।
.
এর কারন হলো আমাদের দুজনের কলমের রং
একই ছিলো। লাগলো প্যাঁচ। কে কোনটা নিবে
এটা নিয়ে কথা কাটাকাটি। তারপর পিচ্চিটা দুজনকে
নিজের হাতে দুই কলম দিয়ে দিলো যেহেতু
কলমের কালার এক।
.
আমার মনে আছে কলমটা আমার কাছে অনেকদিন
যত্ন করে রেখেছিলাম। একদিন ছোটবোন
নিজের কলম না পেয়ে এই কলমটা নিয়ে
প্রাইভেটে গিয়ে হারিয়ে বসলো। প্রাইমারিতে
অনেক সৃতি রয়েছে।
.
কত কাহিনি, কতো হাসি, খেলা। এখন মনে হলে
নিজের অজান্তে হাসি আসে। প্রাইমারীর শেষ
দিন। স্যার আমাদের বোঝিয়ে বিদায় দিচ্ছেন। মাত্র
কিছুদিন পর পরিক্ষা সমাপনী। তখন এতোটা খারাপ
লাগেনি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now