বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জনম জনম-০৩ (শেষ)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ৪ ‘বাবা তোমরা এখনও ঘুমাওনি? কি এত কথা বল বাপ- ছেলে সারারাত ?’ সুরভীর চঞ্চল কণ্ঠে চমকে উঠলেন রায়হান সাহেব । টিভি দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়েছিল নিশ্চয়ই । সেরেছে , আধাঘণ্টা লেকচার শুনতে হবে এখন রাত জাগার অপকারিতা নিয়ে । -আম্মিজান এক্ষুনি ঘুমিয়ে যাব , এইতো বাবনকে মশারি টাঙিয়ে দিচ্ছি । -আচ্ছা, আমি ঘুমাই । ক্লাস আছে সকালে । সুরভীর ঘুম জড়ানো কণ্ঠ । রায়হান সাহেব বাবনের কাঁধে হাত রাখলেনঃ মেয়েটার নাম কি ? -পুনম! -বাহ, সুন্দর নাম তো ! পরিচয় ? -ওই স্কুলেই । -কীভাবে হল এত কাহিনী ? -কাহিনী কিচ্ছু না । এমনিতেই ভালো লাগত । সাধারণ বোকাসোকা মেয়ে , হঠাৎ করে দেখলে বুক কেঁপে উঠবে এমন না, সুযোগ পেলেই শাড়ি পড়ত, প্রায়ই ঝুঁটি করে চুল বাঁধত । রোজ দেরী করে স্কুলে আসত, হুজুর স্যারের ধমক খেয়ে গালফুলিয়ে বসে থাকত , স্যারের বেতের বাড়ি খাওয়ার সময় ভয়ে চোখ বন্ধ করে রাখত , কান্না চেপে রাখার ব্যর্থ চেস্টায় নাক মুখ লাল করে শেষে ফ্যাচফ্যাচ করত । অঙ্কে টেনেটুনে পাশমার্ক পেত । বুড়া মিয়ার ঠেলা গাড়ি থেকে আঁচার কিনত টিফিন পিরিয়ডে, খাওয়ার সময় চোখ বন্ধ হয়ে যেত আপনা আপনি । কানামাছি খেলতে গিয়ে স্যান্ডেল ছিঁড়ে ফেলে মায়ের পিটুনির ভয়ে মাঠেই কান্না শুরু করত । -বুঝলাম, প্রথম কথা বললি কখন ? -কথাতো বলা হয়নি কখনও ! নাম ধরেও ডাকিনি কখনও ! -কি বলিস ? -হ্যা ! আজ বলব কাল বলব করতে করতেই স্কুল শেষ হয়ে গেল ।সারারাত চিন্তা করতাম পরদিন স্কুলে গিয়ে কিছু একটা বলব , কিন্তু স্কুলে গেলেই হাঁটু কাঁপত । এরপর একই কলেজে ভর্তি হলাম, কিন্তু ও খুব চুপচাপ তো, কথা বলতে ভয় লাগত । কখন আবার গিয়ে স্যারদের কাছে নালিশ করে । আমি অনেক দূর থেকে দাড়িয়ে ওর আসা যাওয়া দেখতাম । ও মাঝে মাঝে ভুলে একটু চোখতুলে তাকাত আমার দিকে, আমি চোখ নামিয়ে নিতাম লজ্জায় । এমন ভান ধরতাম যেন চোখগুলো ভুলে ওর দিকে তাকিয়ে ছিল এতক্ষন । আবার আমি যখন বিকালে ক্রিকেট খেলতাম ও ছাদের উপর দাঁড়িয়ে আমার একের পর এক ওয়াইড বল করা দেখত । শেষমেশ ক্যাপ্টেন আমার হাত থেকে বল কেড়ে নিলে , আমি রাগের ভান করে লজ্জায় মাঠ ছেড়ে পালাতাম । ও এইসব দেখে হি হি করে হাসতো । এইতো । -চিঠি-ফিঠিও দিসনি কখনও ? রায়হান সাহেব অবিশ্বাসে নিজের পয়দাকৃত সন্তানের দিকে তাকিয়ে আছেন । তার নিজের ছেলে এমন কি করে হল ? ভাগ্যের নির্মম মস্করায় রুমুর ভাইগুলোর ডিএনএ পেয়েছে বাবন । হ্যাবলা শালাগুলোকে নিয়ে প্রায়ই তিনি খেপাতেন রুমুকে । রুমু রেগে মেগে ভাত খাওয়া বন্ধ করে দিত । তখন রায়হান সাহেব নিজ হাতে খাইয়ে দিতেন রুমুকে । -আরে বেনামে একটা দিয়েছিলাম তো, তার পরই ওর সাথে কথা বলার সব সাধ মিটে গিয়েছিল । সে কেঁদে কেটে ওই চিঠি নিয়েই ভোঁ করে হেডস্যারের রুমে গিয়ে হাজির । রায়হান সাহেব হো হো করে হেসে ফেললেন । -যাও, হেস না তো বাবা ! বাবন লজ্জায় লাল । -তা শেষমেশ কি হল , রাস্তায় রাস্তায় ঘুরিস কেন রাত বিরাতে ? হিমুর বাতাসে পেয়েছে নাকি আবার ! পুনমের বিয়ে ঠিক হয়েছে ? নাকি আমাকেই ঘটকালি করা লাগবে ? বাবন ঝিম মেরে গেল । বড় বড় নিঃশ্বাস নিচ্ছে । -কি হয়েছে বাবন ? -রাশেদের ছোট বোনের বিয়েতে স্কুলের সব বন্ধুকেই দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল । সবাই মিলে ঠিক করলাম আতশবাজি জ্বালানো হবে । পুনম এমনিতে ভীড় পছন্দ করে না, কিন্তু সবার সাথে আতশবাজি দেখতে উঠোনে এসেছিল । একটা আতশবাজি জ্বলে আর ও অবাক বিস্ময়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষন । ৪ নাম্বার আতশবাজিটা উপরে না উঠে সোজা ওর শাড়িতে গিয়ে পড়ে । আমি দৌড়ে পানি আনতে গেলাম । সিল্কের শাড়ি ছিল । দুই মিনিটেই ছটফট করতে করতে পুড়ে খাক হয়ে যায় পুনম । রায়হান সাহেব শক্ত করে বাবনকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন । -বাবন, আতশবাজিটা কে জ্বালিয়েছিল ? বাবনের হিচকে ওঠা কান্নার আর্তনাদ ছাড়া আর কিছু শোনা গেল না । -বলত বাবা কেন এমন হয় ? এমনই কেন হতে হবে ? -জীবনের সুখী সমাপ্তি বলে কিছু নেই বাবন, সব জীবনই দুঃখের চিত্রনাট্যে সাজান একটা উপন্যাস । যার শেষ খণ্ডে চিরন্তন বিরহ । বাবন বাবার বুকে ঘুমিয়ে পড়েছে, রায়হান সাহেব ঠিক বুঝতে পারছেন না চোখের পানি নাকি বৃষ্টির ঝাপটায় বুক ভিজে যাচ্ছে । ফজরের আজান ভেসে আসছে, ঝিরি ঝিরি দুঃখ জাগানিয়া আদ্র বাতাস , সেই আদ্রতায় কত শত মানুষের চোখের জল মিশে আছে কে জানে ? রোজ রাতের শেষে ভোর আসে কিন্তু সবার জীবনে সেই ভোর আলো ছড়ায় না , নিয়ে আসে ভয়ংকর একাকিত্বের হতাশা । তাদের কাছে সাঁঝের আঁধার আর ভোরের আবছা আলোর তেমন কোন পার্থক্য নেই। সমাপ্ত


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now