বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৪
‘বাবা তোমরা এখনও ঘুমাওনি? কি এত কথা বল বাপ-
ছেলে সারারাত ?’ সুরভীর চঞ্চল কণ্ঠে চমকে
উঠলেন রায়হান সাহেব । টিভি দেখতে দেখতে
ঘুমিয়ে পড়েছিল নিশ্চয়ই । সেরেছে , আধাঘণ্টা
লেকচার শুনতে হবে এখন রাত জাগার অপকারিতা
নিয়ে ।
-আম্মিজান এক্ষুনি ঘুমিয়ে যাব , এইতো বাবনকে
মশারি টাঙিয়ে দিচ্ছি ।
-আচ্ছা, আমি ঘুমাই । ক্লাস আছে সকালে ।
সুরভীর ঘুম জড়ানো কণ্ঠ ।
রায়হান সাহেব বাবনের কাঁধে হাত রাখলেনঃ
মেয়েটার নাম কি ?
-পুনম!
-বাহ, সুন্দর নাম তো ! পরিচয় ?
-ওই স্কুলেই ।
-কীভাবে হল এত কাহিনী ?
-কাহিনী কিচ্ছু না । এমনিতেই ভালো লাগত । সাধারণ
বোকাসোকা মেয়ে , হঠাৎ করে দেখলে বুক
কেঁপে উঠবে এমন না, সুযোগ পেলেই শাড়ি
পড়ত, প্রায়ই ঝুঁটি করে চুল বাঁধত । রোজ দেরী
করে স্কুলে আসত, হুজুর স্যারের ধমক খেয়ে
গালফুলিয়ে বসে থাকত , স্যারের বেতের বাড়ি
খাওয়ার সময় ভয়ে চোখ বন্ধ করে রাখত , কান্না
চেপে রাখার ব্যর্থ চেস্টায় নাক মুখ লাল করে
শেষে ফ্যাচফ্যাচ করত । অঙ্কে টেনেটুনে
পাশমার্ক পেত । বুড়া মিয়ার ঠেলা গাড়ি থেকে আঁচার
কিনত টিফিন পিরিয়ডে, খাওয়ার সময় চোখ বন্ধ
হয়ে যেত আপনা আপনি । কানামাছি খেলতে গিয়ে
স্যান্ডেল ছিঁড়ে ফেলে মায়ের পিটুনির ভয়ে
মাঠেই কান্না শুরু করত ।
-বুঝলাম, প্রথম কথা বললি কখন ?
-কথাতো বলা হয়নি কখনও ! নাম ধরেও ডাকিনি
কখনও !
-কি বলিস ?
-হ্যা ! আজ বলব কাল বলব করতে করতেই স্কুল
শেষ হয়ে গেল ।সারারাত চিন্তা করতাম পরদিন
স্কুলে গিয়ে কিছু একটা বলব , কিন্তু স্কুলে
গেলেই হাঁটু কাঁপত । এরপর একই কলেজে ভর্তি
হলাম, কিন্তু ও খুব চুপচাপ তো, কথা বলতে ভয়
লাগত । কখন আবার গিয়ে স্যারদের কাছে নালিশ
করে । আমি অনেক দূর থেকে দাড়িয়ে ওর আসা
যাওয়া দেখতাম । ও মাঝে মাঝে ভুলে একটু
চোখতুলে তাকাত আমার দিকে, আমি চোখ
নামিয়ে নিতাম লজ্জায় । এমন ভান ধরতাম যেন
চোখগুলো ভুলে ওর দিকে তাকিয়ে ছিল
এতক্ষন । আবার আমি যখন বিকালে ক্রিকেট
খেলতাম ও ছাদের উপর দাঁড়িয়ে আমার একের পর
এক ওয়াইড বল করা দেখত । শেষমেশ ক্যাপ্টেন
আমার হাত থেকে বল কেড়ে নিলে , আমি
রাগের ভান করে লজ্জায় মাঠ ছেড়ে পালাতাম । ও
এইসব দেখে হি হি করে হাসতো । এইতো ।
-চিঠি-ফিঠিও দিসনি কখনও ? রায়হান সাহেব অবিশ্বাসে
নিজের পয়দাকৃত সন্তানের দিকে তাকিয়ে আছেন
। তার নিজের ছেলে এমন কি করে হল ?
ভাগ্যের নির্মম মস্করায় রুমুর ভাইগুলোর ডিএনএ
পেয়েছে বাবন । হ্যাবলা শালাগুলোকে নিয়ে
প্রায়ই তিনি খেপাতেন রুমুকে । রুমু রেগে
মেগে ভাত খাওয়া বন্ধ করে দিত । তখন রায়হান
সাহেব নিজ হাতে খাইয়ে দিতেন রুমুকে ।
-আরে বেনামে একটা দিয়েছিলাম তো, তার পরই
ওর সাথে কথা বলার সব সাধ মিটে গিয়েছিল । সে
কেঁদে কেটে ওই চিঠি নিয়েই ভোঁ করে
হেডস্যারের রুমে গিয়ে হাজির ।
রায়হান সাহেব হো হো করে হেসে
ফেললেন ।
-যাও, হেস না তো বাবা ! বাবন লজ্জায় লাল ।
-তা শেষমেশ কি হল , রাস্তায় রাস্তায় ঘুরিস কেন
রাত বিরাতে ? হিমুর বাতাসে পেয়েছে নাকি
আবার ! পুনমের বিয়ে ঠিক হয়েছে ? নাকি
আমাকেই ঘটকালি করা লাগবে ?
বাবন ঝিম মেরে গেল । বড় বড় নিঃশ্বাস নিচ্ছে ।
-কি হয়েছে বাবন ?
-রাশেদের ছোট বোনের বিয়েতে স্কুলের
সব বন্ধুকেই দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল । সবাই মিলে
ঠিক করলাম আতশবাজি জ্বালানো হবে । পুনম
এমনিতে ভীড় পছন্দ করে না, কিন্তু সবার সাথে
আতশবাজি দেখতে উঠোনে এসেছিল । একটা
আতশবাজি জ্বলে আর ও অবাক বিস্ময়ে আকাশের
দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষন । ৪ নাম্বার
আতশবাজিটা উপরে না উঠে সোজা ওর শাড়িতে
গিয়ে পড়ে । আমি দৌড়ে পানি আনতে গেলাম ।
সিল্কের শাড়ি ছিল । দুই মিনিটেই ছটফট করতে
করতে পুড়ে খাক হয়ে যায় পুনম । রায়হান সাহেব
শক্ত করে বাবনকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন ।
-বাবন, আতশবাজিটা কে জ্বালিয়েছিল ?
বাবনের হিচকে ওঠা কান্নার আর্তনাদ ছাড়া আর কিছু
শোনা গেল না ।
-বলত বাবা কেন এমন হয় ? এমনই কেন হতে
হবে ?
-জীবনের সুখী সমাপ্তি বলে কিছু নেই বাবন,
সব জীবনই দুঃখের চিত্রনাট্যে সাজান একটা
উপন্যাস । যার শেষ খণ্ডে চিরন্তন বিরহ ।
বাবন বাবার বুকে ঘুমিয়ে পড়েছে, রায়হান সাহেব
ঠিক বুঝতে পারছেন না চোখের পানি নাকি বৃষ্টির
ঝাপটায় বুক ভিজে যাচ্ছে । ফজরের আজান
ভেসে আসছে, ঝিরি ঝিরি দুঃখ জাগানিয়া আদ্র বাতাস ,
সেই আদ্রতায় কত শত মানুষের চোখের জল
মিশে আছে কে জানে ? রোজ রাতের
শেষে ভোর আসে কিন্তু সবার জীবনে
সেই ভোর আলো ছড়ায় না , নিয়ে আসে
ভয়ংকর একাকিত্বের হতাশা । তাদের কাছে সাঁঝের
আঁধার আর ভোরের আবছা আলোর তেমন
কোন পার্থক্য নেই।
সমাপ্ত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now