বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

জনম জনম-০২

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ৩ আমি তখন বি.এ. সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি, তোর দাদু রিটায়ার্ড করেছেন প্রায় ১ বছর । এল-পি-আর এর টাকা আসা বন্ধ হয়েছে সবেমাত্র । ফ্যামেলি ইনকাম বলতে বড় ভাইয়ের ছোট খাট একটা চাকরী থেকে আসা অল্প কিছু পয়সা । তাই আমাদের বাসার অবস্থা টায়ার পাংচার হয়ে যাওয়া গাড়ীর মত হয়ে গেল, যেই কোন মুহূর্তে রাস্তায় বসে যাবে । সব দেখে শুনে আমি পড়াশুনা ছেড়ে একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরী নিলাম কেরানী হিসেবে । ভালোই যাচ্ছিল দিনকাল । ১০ থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ডিউটি এরপর গভীর রাত পর্যন্ত বন্ধুদের সাথে আড্ডা , কার্ড খেলা , সিনেমা দেখা এই সেই হেন তেন ! যা ওই বয়সের ছেলেরা করে আরকি । প্রথম বেতনের টাকা দিয়ে আমি পুরো এক প্যাকেট বেনসন সিগারেট কিনে ফেলেছিলেম , তারপর কয়েকদিন ওই প্যাকেট পকেটে নিয়ে বন্ধুদের আড্ডায় গিয়ে ভাব মারতাম । রাতে ঘুমানোর আগে প্যাকেট খুলে একটা সিগারেট খেতাম আর ভাবতাম, কেন মানুষ সুখ খুঁজে মরে ! এই সব করে যা টাকা বাঁচত বাবার হাতে তুলে দিতাম । বাবা যখন একটু করে মুচকি হাসত আমার হৃদপৃন্ডের দুপদুপ শব্দ আমি নিজ কানে শুনতে পেতাম । এর মাঝেই আমার পাশের ডেস্কে শাড়ি পরা একটা নতুন মেয়ে আসল, পিউ না কি যেন নাম ছিল ! টাইপিস্ট, তাকে আসলে গ্রামার দেখে না গ্ল্যামার দেখে নেয়া হয়েছিল তা নিয়ে আমার খুব সন্দেহ ছিল । হাজারটা বানান ভুল । টাইপ করার সময় হাতের চুড়িগুলো রিনরিন শব্দ করত । প্রথম দিকে আমি তেমন একটা পাত্তা দিতাম না , কাজের ফাঁকে টুকিটাকি কথা হত এই যা । একসময় আবিস্কার করলাম তার বাসা আমাদের কাছাকাছি । রাতে কাজ শেষ হতে একটু দেরী হলেই আমি তাকে পৌঁছে দিতাম সৌজন্যতার খাতিরে অথবা পিউ আমার জন্য অপেক্ষা করত কাজের বাহানা দেখিয়ে । একসময় আবিস্কার করলাম, আমরা প্রতিরাতেই কাজের শেষে একসাথে হেঁটে হেঁটে ঘরে ফিরছি। কি বৃষ্টি, কি শীত আর গরম ! তবে বৃষ্টির দিনগুলো ছিল একেবারেই আলাদা । একই ছাতার নিচে কাকভেজা হয়ে ঘরে ফেরা, বড় রাস্তার মোড়ে দাড়িয়ে গরম পেয়াজু আর চা খাওয়া । পরদিন গায়ে জ্বর নিয়ে সকালে উঠে ওর জন্য বাস স্ট্যান্ডে অপেক্ষা করার মাঝে অপার্থিব কোন অনুভূতি খুঁজে পেতাম আমি । গুন গুন করে পিউ গান গাইত আর আমি মুগ্ধ হয়ে শুনতাম । নীরবে চুপচাপ ভাবনার জগতে হারিয়ে গেলে পিউ টুক করে একটা খোঁচা দিত । মাঝে সাঝে দুজন একসাথে অফিস ফাঁকি দিয়ে ঘুরতে যেতাম নিরিবিলি কোন জায়গায় । আমি পিউর কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে যেতাম ,কখনও কখনও ওর দু'একফোঁটা চোখের জল আমার গালে এসে পড়ত , আমি জেগে গেলেও ওকে বুঝতে দিতাম না । কারো কাজল ভেজা চোখের চাহনি যে এত সুন্দর হতে পারে আমার বিশ্বাস হত না । কে আগে বলেছিল সেই শব্দটা আমার মনে নেই , কে আগে হাত ধরেছিলাম তাও মনে নেই । আমি বুঝতেই পারিনি কখন অবচেতনে ওকে নিয়ে ভাবতে শুরু করলাম, পিউকে ছাড়া আমি যেন অন্যকেউ । বন্ধুদের আড্ডা বিরক্তিকর লাগে, বেনসন টানতে ইচ্ছে হয়না । দিন রাত শুধু মাথার মাঝে ওর বলা, না বলা কথাগুলো ঘোরে । ঘুম ভাঙলে ওর কথা মনে হত, ঘুমাতে গেলে ওর কথা মনে হত, ঘুমের ভিতরেও ওর হাসির শব্দ শুনতে পেতাম । এর মাঝেই আমাদের অফিসে শাহারিয়ার ইকবাল নামে চোখে কালো রিমের চশমা বিশিষ্ট নতুন বস জয়েন করেন । দুর্দান্ত মেধাবি, চটপটে কাজ করেন । কিছু দিনের মাঝেই আমাদের সবার প্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি । হীরে চিনতে ওনার ভুল হত না । শাহারিয়ার সাহেব পিউকে এক বছরের মাথায় অফিসার বানিয়ে দোতালায় নিয়ে যান । অফিসারদের নাইট পার্টিতে আসা যাওয়া শুরু হয় পিউর, কয়েক মাসের ব্যবধানেই আমি সেই পিউ আর এই পিউর মাঝে কোন মিল খুঁজে পেতে ব্যর্থ হলাম । কাজ শেষে রোজ দাড়িয়ে থাকতাম অফিসের বাহিরে, ইকবাল সাহেবের গাড়িতে ওঠার আগে পিউ একটু ফিরেও চাইত না । কখনো কখনো আমি একা একা হেঁটে ঘরে ফিরতাম, আবার কখনও ফিরতাম না । খুব গভীর রাত পর্যন্ত যখন পিউ আর ইকবাল সাহেব মিটিং করতেন , আমি রাতের শহরের ঘুমন্ত নীরবতার মাঝে কান পেতে পিউর হাসির শব্দ শুনতাম । আমাদের ভালবাসার অপমান সহ্য না করতে পেরে অবুঝ চোখগুলো নীরবে পানি ঝরাত । কখনও কখনও বৃষ্টি সেই অভিমান মুছে দিত, নাহয় সেই ভেজা চোখ বিষন্ন ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে যেত পার্কের বেঞ্চে ! আশ্চর্য এত বছর পরেও রায়হান সাহেবের বুকের মাঝে কষ্টের তীব্র মাদকতাময় অনুভূতি হচ্ছে , চশমাটা কিছুতেই চোখের কোনে জমে থাকা পানি লুকোতে পারছে না । বাবন মাথা তুলে বাবার কাঁধে হালকা করে মাথা ছোঁয়াল। মৃদু কণ্ঠে নীরবতা ভাঙলঃ বাবা ! -বল বাবন! -তুমি কি পিউকে খুব ঘৃণা কর ? -হু ! -আজো ? -হুম্ম ! -কেন বাবা ? রায়হান সাহেব ছেলের হাত ধরে দাঁত চেপে বললেনঃ ও আমার প্রথম সন্তানকে খুন করেছে ! -মানে কি ? বাবন চমকে উঠল । -আমরা কাউকে না জানিয়ে বিয়ে করেছিলাম এর ছয় মাস আগে ! আমি আমার সন্তানের দোহাই দিয়ে পিউ কে ফিরে আসার কথা বলায় ও এব্রোশান করিয়ে ফেলে । এরপরই আমি ওই অফিসের চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছিলাম ! -উনি এখন কোথায় আছেন জান তুমি ? -হুম্ম ! -ইকবাল সাহেবের সাথেই আছেন ? -নাহ ! -উনি এখন কেমন আছেন জান ? -হৃদয়হীনারা সুখেই থাকে অন্য কারো হয়ে, অলীক কল্পনায় ! -বাবা ! মা কি জানত সব কথা ? -এই ঘটনার পর আমার খুব ভয়ানক জন্ডিস হয়েছিল। ডাক্তাররা তো বলেই দিয়েছিল কবর খুঁড়ে ফেলতে । আমিও সমস্ত যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনতাম । রুমুরা আমাদের পাশের বাসাতেই থাকত , মৃত্যুপথযাত্রীকে সেই যে দেখতে এসেছিল, নিজে সেই পথের যাত্রী হওয়ার আগ পর্যন্ত আমাকে ছেড়ে যায়নি । তুই তো জানিস বাকী কথা ! তোর মা তখন আমার হাত শক্ত করে ধরেছিল বলেই তো শুধু ওর জন্য আবার বেঁচে থাকতে ইচ্ছে হয়েছিল ! -তুমি কি মাকে কখনও পিউর মত ভালবাসতে পেরেছিলে ? বাবনের কণ্ঠ হালকা কেঁপে উঠল । -ভালবাসা শব্দটা একই হলেও সব ভালবাসা আর ঘৃণা একহয়না । রুমু আমাকে কেমন ভালবাসত , আমি ঠিক বোঝাতে পারব না । কোন মানুষ কাউকে এতটা মায়ায় বাঁধতে পারে না । বাবন তার বাবার চোখে তাকিয়ে জানতে চাইলঃ বাবা, তুমি বেঁচে আছ কী নিয়ে ? -জীবন-মৃত্যুর যিনি সৃষ্টিকর্তা, তিনি এরপর আর একটা জীবন রেখেছেন । হয়ত সেই জীবনে সব না পাওয়া পুরন হবে সেই আশায় ! -কেন এমনই হয় সবসময় বলত বাবা ? -এই এক জীবন সব ইচ্ছে পুরনের জন্য যথেষ্ট নয় বাবন ! -আমি মানি না বাবা ! -আমাদেরকে এই চক্র ভাঙ্গার বা বোঝার ক্ষমতা দেয়া হয়নি । মানুষ আসলে খুব অসহায় সৃষ্টি, প্রিয় মানুষের নগন্য অবহেলাও সে সহ্য করতে পারে না । বাবন তার বাবার চেহারায় একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকেও বুঝতে পারছে না কতটা দুঃখ পেলে মানুষ এতটা হাসতে পারে !


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৬৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now