বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কবিতামৃত

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "কবিতামৃত" লিখেছেন-নিপাতনেসিদ্ধ আমি রাইস নগরের রাইস মিয়া, ভাত খায় ডাইল দিয়া। ভাত তো অনেক কিছু দিয়েই খাওয়া যায়, থাক এখন খাওয়াদাওয়ার কথা। রাইস মিয়ার কথা বলি। রাইস বেশি লেখাপড়া করেনি যদিও কোন সমস্যা ছিল না, তবুও পড়লনা। গ্রাম্য পরিবেশে বড় হওয়া রাইস মিয়ার মন বড় সরল। সরল মনেই ভালবেসেছিল গ্রামেরই এক কন্যাকে। তার ভাষায় সে নাকি “আসমানের তারা”। বন্ধু মহলে রাইসের সেইরকম প্রভাব। বন্ধুদের কাছে সবসময় বুদ্ধি চায় তার তারাকে কিভাবে আপন করে পাবে? বন্ধুরা যে বুদ্ধিগুলো দেয় তার একটাও কাজে লাগেনা। অবশেষে এক বন্ধু বলল- দোস্তো তুই সুন্দর কইরা কবিতা লেইখা ওরে শুনা, দেখ কাজে লাগে কিনা। রাইস মিয়ার পছন্দ হল বিষয়টা। সে একদিন কবিতা লিখে সামনাসামনি গিয়ে উপস্থিত। - খাড়াও তুমার লগে আমার কথা আছে। - পথ ছাড়েন, কেও দেইখা ফালাইলে সমস্যা হইব। - আইচ্ছা যাওনের আগে আমার একখান কবিতা শুইনা যাও। - কি কইলেন? আপনে কইবেন কবিতা? আপনের ভাষার ঠিক আছে? সরেন আমার যাইতে হইব। - না, শুইনা যাইবা। আইচ্ছা সময় নষ্ট করুম না। শুন- “তুমারে দেখার লাইগা উঠছি ওই মগডালে ঘার ঘুরাইয়া দ্যাখতে গিয়া পড়ছি ওই বেটার চালে বেটা দেইখা আমারে বসায় দিলো দুই গালে দৌড়াইয়া গিয়া লাফ দিলাম ঠাণ্ডা ওই খালে কতো কিছুই না করলাম তুমি না জানলে মইরা যামু কসম, তুমি না মানলে।“ - এইডা কোন কবিতা কইলেন! সরেন আমি যামু। রাইস মিয়া হতাশ হয়ে সরে দাঁড়াল। ওই দিকে ওর বন্ধুরা কপাল চাপড়াতে লাগলো। - এইডা তুই কি কইলি দোস্ত? এমনে কেও কবিতা কয়? এই ভাষায়? - তো ঢং কইরা কমু নাকি? আমি যেমনে কথা কমু তেমনে কবিতা লেখুম। অন্য ভাষায় কমু কেন? -আইচ্ছা তোর যেমনে ইচ্ছা তেমনে ক। আমাগোরে ডাকিস না। কয়েকদিন পর আবার দেখা হল। বন্ধুরা বলল ভালো করে কবিতা বলতে কিন্তু সামনে গেলে তার সবকিছু গড়বড় হয়ে যায়। - আবার আসছেন আপনে? আপনার লজ্জা শরম নাই? আপনে পড়াশুনা করবার পারেননা? - “পড়াশুনা গ্যাছে আমার গুল্লায় তুমার কথা মাথায় খালি চিল্লায় দোস্তরা আমারে খালি কিলায় এইসব আমারে খালি খালি জ্বালায়” - কি! আপনেরে আমি জ্বালাই? আমি চিল্লাই? সরেন, সরেন সামনে থেইকা। রাইস মিয়া আবার সরে দাঁড়ায়। বন্ধুরাও বলে- আমরা তরে কিলাই? - দোস্তো মিলানোর লাইগা কইছিলাম। বিকালে বসে বন্ধুরা চা খচ্ছিল। এমন সময় এক বন্ধু বলে উঠলো- দোস্তো ছাইড়া দে, ওর মনে হয় অন্য কুন জায়গা লাইন আছে। কাম হইব না। রাইস মিয়া উত্তেজিত হয়ে বন্ধুর গালে একটা চড় মেরে দেয়। বন্ধুর সাথে আরও কিছুক্ষণ রাগারাগি করে চলে যায়। অতঃপর ওই বন্ধুর সাথে কিছুদিন রাগ করার পর ভুল বুঝতে পেরে রাইস মিয়া মাফ চাইতে যায়- “দোস্তো প্রেমে পইড়া আমার মাথা গ্যাছে ঘুইরা বংশ আমার উচ্চ নাম হইল ভূঁইয়া অখন তোর সামনে মান ইজ্জত ভুইলা তর পায়ডা ধইরা মাথা নত কইরা.. - ওই থামা তর কবিতা। আর কইছনা তাইলে আবার মেজাজ গরম হইয়া যাইব। যাহ মাফ কইরা দিলাম তয় আমারে আর কবিতা শুনাবিনা। মাইরা ফালামু। - দোস্তো দ্যাখ তর তারা আইতাছে। - দোস্তো অখন কি করুম? কবিতা বানাই নাই তো। - রাইস ভাই, একটু শুনেন। - কি হইছে তুমার? কানতাছ ক্যান? ক্যাডা কি কইছে? আমার কবিতায় রাগ করছ? আইচ্ছা আমি আর তুমারে জালামুনা কথা দিলাম, সত্যি। - আব্বা আমার বিয়ার লাইগা পাত্র দ্যাখতাছে... কথাটি বলেই সে কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে চলে গেলো। রাইস বুঝতে পারে এই মেয়েটা তাকে ভীষণ ভালোবাসে। এতদিন বুঝতে দেয়নি। বন্ধুরা তাকে সাহস দেয় যেন সে সরাসরি ওর বাবার কাছে প্রস্তাব নিয়ে যায়। রাইস মিয়া সাহস করে সরাসরি মেয়ের বাবার কাছে যায়। - “আপনের মাইয়ারে আমি করতে চাই বিয়া আলতা, স্নো, টিকলি আর গয়নাগাটি দিয়া চান্দের রাইতে ওই মাঠে চান্দুয়া টাঙাইয়া গেরামের সবচেয়ে বড় কাজী ডাকাইয়া আপনের মাইয়ারে আমি লইয়া যামু তুইলা” - ট্যাকা পয়সা কামাও তো? - “কি হইব এতো ট্যাকা পয়সা দিয়া আপনের মাইয়ারে আমি রাখমু ভালবাসিয়া” - বাহ! বাহ! আইচ্ছা যাও সামনের শুক্কুরবারে আমার মাইয়ারে তুমার লগে বিয়া দিমু। রাইসের বন্ধুরাতো হতবাক। রাইস নিজেও বুঝতে পারেনি এতো সহজে ওর বাবা মেনে নেবে। বিয়ের রাতে- - দোস্তো আইজকা তর বদখত কবিতা তোর বউরে শুনাইস না। - নারে দোস্তো আইজ ভালো কবিতা লিখছি, রাগ করবনা । - আইচ্ছা আমরা ওই বাড়িত আছি, সকালে ডাকিস। - আইচ্ছা যা। - দ্যাখলা, তুমার বাপে আমার কবিতা শুইনা আমার লগে তুমারে বিয়া দিলো। - জী দ্যাখলাম, আমার বাপে কবিতা পছন্দ করে ঠিকই কিন্তু কানে একটু কম শুনে। আপনে বিয়ার কথা কইছেন আর ছন্দ মিলায়তেছেন দেইখা মনে করছে আপনে সুন্দর কিছু কইতাছেন। তাই আপনেরে পছন্দ হইছে। - আইচ্ছা যেমনেই হোক, বিয়া তো হইছে। অখন আমার একটা কবিতা শুন। - আইজকাও সেই... - আইজকা ভালো কইরা কমু শুন- “তোমায় দেখে আমার মন করছে উতলা বেড়ে গেছে এই বুকের...... - না, আপনার আগের ভাষায় কন। ওইডাই শুনতে ভালো লাগে। - তাই! আগের ভাষায় কমু? আইচ্ছা শুন- “তুমারে দেইখা আমার মন করতাছে উতলা বাইড়া গ্যাছে এই বুকের জ্বালা সেইদিন নাকি তুমারে দ্যাখছে আমার খালা উনি কয় তুমি দ্যাখতে নাকি কালা হের ভাগ্নি নাকি দ্যাখতে আরও ধলা আমি আইজ তারে দেখায় দিছি কলা” - কি! আমি দ্যাখতে কালা? কই তুমার খালা? ডাইকা আনো নাইলে তুমারে দিমু কান মলা। অখনই নিয়া আস ওই খালারে ...যাও বাইরাও এইখান থেইকা, অখনই বাইরাও। কি আর করা। বের হয়ে বন্ধুদের ডাকে রাইস। বন্ধুরা শুনে আবার কপাল চাপড়ায়- বিয়ার রাইতে কেও এইগুলান কয়? - দোস্তো ভালবাইসা কইছিলাম। অখন কি করুম? - মরগা। তোর বউ তুই দ্যাখ। তোর মরার কবিতা নিয়া তুই থাক , আমরা গেলাম। রাইস মিয়া নিরুপায় হয়ে ঘরের দরজায় বসে থাকে। কিছুক্ষণ পর আবার কবিতা শুরু করে- “তুমারে দ্যাখার লাইগা চান্দে আর সূর্যে যুদ্ধ লাগাইছে আসমান থেইকা পরী নাইমা কি সুন্দর ঘর বানাইছে! সেই ঘরে নাকি একখান তারা আইসা বইছে তার আলো দেইখা জোনাকিরা মুখ লুকাইছে তারাডা আমার, কিন্তু আমারেই ঘরের বাইরে রাখছে” - হইছে আর ঢং ধরতে হইব না। ঘরে আসো।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now