বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৫
রাগে সুজন ঠাকুর টেবিলে চড় মারছে,এতে
চায়ের গ্লাসের কিছুটা চা ছলকে এসে টেবিল
ভিজিয়ে দিচ্ছে। আর বলছে: তুই গাধা কোন
সন্দেহ নেই, কিন্তু তুই যে নিজেকে শাহিওয়াল
প্রজাতির গরু প্রমাণ করবি আমি কল্পনাও করি নাই।
আবির কিছু একটা বলার জন্য মুখ খুলতেই সুজন ঠাকুর
বলল: থাক আর কথা বলিস না, তুই কথা বললে আমার
মনে হবে একটা গাধা গরুর স্বরে ৩২টা দাঁত বের
করে ডাকছে হাম্বা হাম্বা করে।
সুজন ঠাকুরের সাথে আবিরের পরিচয় কলেজ
লাইফে। ক্লাস শেষ হওয়া মাত্র সুজন চুপচাপ কারো
সাথে কথা না বলে ঝুপড়ী ঘরে ফিরে যেত।
এলাকার ছেলেরাও তাকে একটু আকটু এড়িয়ে
চলত। কানাঘুষা ছিল সুজন আর তার বাবা প্রেত সাধনা
করে, কাচা মাছ খায়, ৩ মাস গোসল করে না, রাত
বিরাতে বাপ-বেটাকে শ্মশানে দেখা যায়, তাদের
চোখের দিকে একমিনিট তাকিয়ে থাকলে অন্ধ
হয়ে যেতে হবে ইত্যাদি। সুতরাং সবাই প্রাণপণে
চেষ্টা করত সুজন ঠাকুরের কাছ থেকে পালিয়ে
বাঁচতে। আবির ছিল ব্যতিক্রম সে দেখে দেখে
সুজনের পাশে বসতে চাইত, আলাপ জমাতে চাইত।
নিতান্ত অনিচ্ছায় সুজন তার সাথে কথা বলত। একবার
প্রায় ৪ দিন সুজন কলেজে আসেনি,কলেজ
থেকে ফেরার পথে আবির তার ঝুপড়ী ঘরে
যাওয়ার ইচ্ছে দেখাতেই বন্ধুরা তাকে ফেলে
উল্টো হাঁটা দিল।
দিনের আলোয় সুজনদের ঝুপড়িটা স্বাভাবিক
লাগলেও,চারপাশ এত ছমছমে নীরব যে রাতের
বেলায় দুর্বল হার্টের মানুষ নির্ঘাত হার্ট ফেল
করবে ভয়ে।আস্তে করে ঝুপড়ির ঢাকনা সরিয়ে
আবির আবিষ্কার করল সুজনের বাবা মেঝেতে পাটি
বিছিয়ে ঘুমিয়ে আছে আর সুজনের এক পা
প্লাস্টার করা অবস্থায় ঝুপড়ির দেয়ালে টানা দেওয়া।
সেই তিন মাস প্রতিদিন কলেজ শেষে ঘরে
ফেরার সময় আবির সুজনের সাথে ঘণ্টা খানেক
আলাপ করে যেত। আলোচনায় যা বুঝল তার
সারমর্ম হল সুজনের বাবা ছোটখাটো যাদুটোনা
করলেও তারা পিশাচ শ্রেণীর না।
নিরু যেদিন হাতুড়ী দিয়ে পিটিয়ে তার হৃদয়
ভেঙ্গে খানখান করে দিল সেই রাতে আবির
প্রায় শখানেক ঘুমের ওষুধ খেল, ইঁদুরের বিষ ও
এনেছিল কিন্তু খাওয়ার সময় পায়নি। হাতে নিতেই
মৃত্যুভয়ে মাথা ঘুরে চিৎপটাং ! হসপিটালে জ্ঞান
ফিরল সুজনের চড় খেয়ে, ভাগ্য ভাল সবাই
আশেপাশেই ছিল না হয় আরও কয়েকটা কিলঘুষি
খেতে হত।তখনই সুজন কানে কানে বলেছিল:
আমি সব শুনেছি, তুই সুস্থ হয়ে ঝুপড়িতে আসিস,
সমাধান একটা হবে বিষয়টার!
সুজনের ধমকে আবির বাস্তবে ফিতে আসে।
সে কিছুই বুঝতে পারছে না,সুজনের কথা মতই
তো ত্রংখা মারমার কাছে গিয়েছিল। কিন্তু এখন
সুজন এত খেপেছে কেন?
-তুই নাম জিজ্ঞেস করেছিলি? নিশ্চিত সে ত্রংখা
কিনা?
-হুম্ম করেছিলাম তো, কিন্তু উত্তর দেয়নি। হতাশা
আবিরের কণ্ঠে।
-মারমা মাঝিটা তোকে কোথায় যাবি জিজ্ঞেস না
করেই, জায়গা মত নিয়ে গেল, আবার নিয়ে
এলো? রাগ ঝরে পড়ছে সুজন ঠাকুরের
কণ্ঠে!
-হুম্ম, অবাক হচ্ছিস কেন?
-তুই বলতে চাইছিস জবাই করার কোন ইচ্ছে না
থাকা স্বত্বেও ত্রংখা আর ওই বাচ্চাটাকে নিজ হাতে
জবাই করেছিস তুই?
-অনেকটা সেরকমই! আচ্ছা ত্রংখা তো ওদেরই
মানুষ, ওকে কেন জবাই করাল আমাকে দিয়ে?
-শোন তোকে ওরা আলাদা করে সিলেক্ট
করেছে, নিশ্চিত ত্রংখা ওদের সাথে কোন
বেইমানি করেছিল।
-কি বলিস, কারা এরা?
-আরে কি বোঝালাম এতক্ষণ। ব্ল্যাক ম্যাজিক দুই
প্রকার একটা নিরীহ প্রজাতির,আমি এদের কাছেই
তোকে পাঠিয়েছিলাম।এরা প্রেমিক-প্রেমিকার
মিলন,বিদেশ যাত্রা,ধ্বজভঙ্গ রোগী ঠিক করা ছাড়া
আর কিচ্ছু পারে না। অন্যটা যারা করে তারা ইফ্রিতের
উপাসক! এরা খুব ভয়ংকর, খুব অল্প কিছু মানুষকে
এরা মিডিয়াম হিসেবে সিলেক্ট করে। তোর
ভিতরে ওরা তেমন কিছু দেখতে পেয়েছে
বলেই সিলেক্ট করেছে!
-এখন উপায়? আবিরের কণ্ঠে উৎকণ্ঠা!
-হাম্বা হাম্বা করিস না! উপায় গিয়ে বাবা ইফ্রিতকে
জিজ্ঞেস করো। কত করে বললাম আগে নাম
জিজ্ঞেস করবি, নিজে নিজে রাস্তা চিনে উপস্থিত
হবি , নাহ উনার ঘুম পেয়েছিল ! যাও এখন বাবা
ইফ্রিত রক্ত খাওয়াবে আদর করে, তার কোলে
ঘুমাও গিয়ে।
-কিছু একটা তো বল!ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলল
আবির।
-দেখ! বলেও লাভ হবে না, হয় তোর পরিণতি
ত্রংখা মারমার মত হবে, আর নাহয় তুই ওদেরই
একজন হবি।
-তোর কি মনে হয়, কি হবে আমার? আবিরের
চোখে জিজ্ঞাসা।
-ওরা খুব সতর্কতার সাথে মিডিয়াম সিলেক্ট করে,
আমার মনে হয় ওরা ভুল করেনি! সুজন দৃঢ়তার
সাথে জবাব দিল।
আবিদ মুচকি হাসল।
৬
ইফ্রিতের কথা সত্যি হলে আজ রাতের মধ্যেই
কিছু একটা হবে। আবির অস্থির, দুশ্চিন্তায় কপাল
কুচকে আছে।মনের গহীনে নীরুর স্মৃতিরা
উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। রাত প্রায় শেষ, তবে কি পুরো
ব্যাপারটাই ধোঁকা?
খুব দূর হতে কুকুরের করুন কান্না ভেসে
আসছে।বারান্দায় চেয়ারে বসে আবির একদৃষ্টিতে
চেয়ে আছে মুঠোফোনের দিকে। প্রায়
ঘণ্টাখানেক প্রশ্রাব চেপে রেখেছে,তলপেট
টনটন করছে ব্যথায়, নাহ এইবার উঠা দরকার।
আহ শান্তি! ঠিক এমন সময় বেরসিক রিংটোন
বেজে উঠল। মাঝপথে এই জিনিস থামানোর সাধ্য
কারো নেই। যতটা সম্ভব তাড়াহুড়ো করে আবির
বের হল টয়লেট থেকে। বেজেই চলেছে
মুঠোফোন। এত দূর থেকে নাম্বার বোঝা
যাচ্ছে না,আর যাওয়ার কথাও না, চোখের পানিতে
দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছে। ৫ম বারে কল রিসিভ করল
সে।খুব পরিচিত কারো অস্থির কণ্ঠঃ হ্যালো, আবির
হ্যালো!
-হুম্ম নীরু, বলো!
-শুধুই নীরু? আর কিচ্ছু না?
-নাহ! আবির দাঁত চেপে কান্না থামাল।
-আমি তোমার সাথে একটু কথা বলতে চাই আবির!
-আগামীকাল এসো তাহলে আগের সময়ে।
-কোথায়? নীরুর কণ্ঠের অস্পষ্ট কান্নার
আওয়াজ ভেসে আসছে।
-শেষবার যেখানে দেখা হয়েছিল! বলেই আবির
খট করে লাইনটা কেটে দিল।
এরপর প্রায় ৯বার রিং পড়ল পরপর,আরেকবার
রিংটোন বাজতেই আবির আছাড় দিয়ে ফোনটার
চেঁচামেচি থামিয়ে দিয়ে সযত্নে লুকিয়ে রাখা
চাপাতিটা বের করল তার ব্যাক-প্যাক থেকে, রক্ত
শুকিয়ে কালো হয়ে আছে। আবির গভীর মমতায়
হাত বুলালো চাপাতিটার ধারালো প্রান্তে।
৭
লামার বিলছড়ি, কুয়াশায় তিন চার হাত দূরের সব কিছু
অস্পষ্ট লাগছে।চোখে ছানি পড়া মানুষ ছাড়া আর
কারো চারপাশ এমন আবছা লাগে কিনা কে জানে?
আবিদ অপেক্ষা করছে মাঝির জন্য। কাউকে
কোন খবর দেয়নি সে। তবুও নিশ্চিত, মাঝি
আসবেই। ওই যে দেখা যাচ্ছে, খুব দ্রুত দাড়
বেয়ে কে যেন আসছে।টর্চের আলোয়
নিশ্চিত হল ওইটা মারমা মাঝিই, খালি গা,এতদূর থেকেও
বোঝা যাচ্ছে। দ্রুত দাড় বাওয়ায় ঘামে চিকচিক
করছে শরীর।আর একটু কাছে আসতেই দেখা
গেল নৌকায় আরও একজন আছে শাল মুড়ি দেওয়া
আর ঠিক তার পাশেই বসে আছে একটা
বিশালদেহী কালো কুকুর। নৌকা তীরে ভিড়তেই
শাল মুড়ি দেওয়া লোকটা দাড়িয়ে হাত বাড়িয়ে দিল।
আবির হাত ধরে নৌকায় লাফ দিতেই মনে হল এই
স্পর্শ তার চেনা, এই মানুষটাকে খুব ভালো করে
চিনে সে। লোকটা মাথা থেকে শাল নামাতেই
আবির চমকে উঠল।
সুজন মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করল: আসতে
কষ্ট হয়নিতো কোন?
আবির প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে জানতে চাইল: আজ
প্রভু আসবেতো?
- তোর জন্যই অপেক্ষা করছেন প্রভু । সুজন
ঠাকুরের হাসির শব্দ রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে খান
খান করে দিল।
আবির পিঠ থেকে ব্যাগটা নামিয়ে আবার চেক
করে দেখল, নাহ জমাট বাঁধা তাজা রক্তের
বোতলগুলো ঠিক-ঠাক আছে। একটু করে
বোতলের ঢাকনা খুলল সে, কত পরিচিত নোনতা
মিষ্টি ঘ্রান !
সমাপ্ত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now