বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
স্বপ্ন(পর্ব-২)
সাব্বির আহমেদ শাওন
৪
নুরুজী ইমনের লিখাটা নিয়ে বসেছেন। ইমন
নুরুজী কে রিকুয়েস্ট করেছিলো বাসায় যাবারর
আগে যেনো তিনি লিখাটা না পড়ে। নুরুজীর
ইমনের কথাটা রেখেছেন। তিনি খুলেন নি। বাসায়
এসে সব কাজ শেষ করেই তিনি লিখাটা নিয়ে
বসেছেন।
তিনি লিখাটা পডার আগে ইমন কে নিয়ে কিছু
লিখলেন তার কম্পিউটারে।
নামঃইমন
বয়সঃ ২১-২৩ এর মাঝে।
মন্তব্যঃ ছেলেটা অত্যান্ত ধৈর্যশীল। তার কাছের
মানুষ খুব কম। নিজে নিজের কাছে অনেক একা।
কারো সাথে কোন কিছু শেয়ার করতে পারে
না। যার কারনে স্বপ্নের বিবরন সহজ ভাবে দিতে
পারছিলো না। খাতা কলমের সাহায্য নিতে হয়েছে।
ছেলেটার লেখালেখির অভ্যাস রয়েছে। খুব
সম্ভবত তার সব কথা সে লিখে রাখে। কারন অতি
অল্প সময়ে অনেক লিখা লিখে ফেলেছে
সে। এবং কলম চালানো দেখেই বোঝা
যাচ্ছিলো এই কাজটায় সে বেশ অভ্যস্ত।
ছেলেটা অনেক বড়লোক ঘরের ছেলে।
আসার সময় গাড়ি দিয়ে এসেছে। গাড়িটা ছিলো
"জাগুয়ার " ব্যান্ড এর। কারন এই গাড়ীর ডুয়েল
টার্বো ইঞ্জিনের শব্দ অনেক দুর থেকে
শুনলেই বোঝা যায়। আর ছেলেটা আসার আগে
ও যাওয়ার সময় তিনি এই গাড়ীর ইঞ্জিনের শব্দ
পেয়েছেন।
নুরুজী ইমনের লিখাটা পড়তে শুরু করলেন
"স্বপ্নটা আমি যখন প্রথমবার দেখি আমার বয়স খুব
বেশি হবে না। বেশি হলে ৫-৬। তখন সবে মাত্র
বুঝতে শুরু করেছি। এক রাতে আমি দেখলাম
আমার বিছানার চারপাশে শুধু রক্ত আর আর রক্ত।
আমি এদিক ওদিক তাকাতে থাকলাম দেখি দরজার
সামনে একটি লোক দাড়িয়ে আছে। তার সারা
শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। পেটের কিছু অংশ
খুবলে আছে। লোকটার মুখে কোন যন্ত্রনা
ছিলো না। ছিলো শুধু প্রশ্নবোধক চিহ্ন।
লোকটা হাসছিলো। তখন আমার সামনে দিয়ে একটি
তরুনী বয়সের মেয়ে তেড়ে যায় লোকটার
দিকে। তার হাতে একটি ছুড়ি। সেটি দিয়ে একের
পর এক আঘাত করতে থাকে লোকটার বুকে।
লোকটা কোন প্রতিবাদ করার চেষ্টা করছে না।
আস্তে আস্তে লোকটা নিথর হয়ে যায়। সেদিন
ছিলো আমার প্রথম খারাপ রাত। আমার ঘুম ভেঙে
যায়। আমি সারারাত কাদি। আম্মুর কাছে চলে যাই। তবুও
ভয় আমার কাটে না। এই বুঝি রক্ত আমার কাছে
আসলো। এই বুঝি লোকটা আমার দিকে তেড়ে
আসলো।
আমি সেদিন বুঝতে পারি নি সেদিন থেকেই আমার
খারাপ সময় শুরু হবে। তার পরদিন রাতে আমি ঠিক
একই স্বপ্ন দেখি। আবার সেই ভয়। আবার সেই
কান্না। অনেক ডাক্তারের কাছে গিয়েছি।হুজুরের
কাছে গিয়েছি। তাবিজ কবজ হয়েছে। কোন ফল
হয়নি। আমি এই স্বপ্ন নিয়ে বড় হতে থাকি। একদিন
রাতে আমার ঘুম ভেঙে যায়। আমি পানি খেয়ে
আলো জ্বালাই। দেখি সে লোকটা আমার পাশে
বসে আছে। গা দিয়ে রক্ত ঝড়ছে।আমার দিকে
তাকিয়ে একটা হাসি দিলো। আমার দিকে এগিয়ে
আসতে থাকে। আমি ওখানেই অজ্ঞান হয়ে যাই।
এভাবে স্বপ্ন দেখা ওই লোক কে দেখা আমার
প্রতিদিনের রুটিন হয়ে যায়। স্বপ্নে বাস্তবে একটি
মিল। লোকটি আমার কাছে এগিয়ে আসে। কিন্তু
আমাকে স্পর্শ করতে পারেনা। তার আগে আমি
অজ্ঞান হয়ে যাই, ঘুম ভেঙে যায়। কিছু না কিছু
একটা হয়। আমি ভয়ে একা একা কাঁদি। কয়েকবার
আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছি। পারি নি কোন এক
অজানা কারনে। আমি আম্মু কে আব্বুকে ভয়ে
কিছু বলতে পারি না। পাছে তারা আমাকে পাগল ভাবে
পাগলাগারদ এ পাঠিয়ে দেয় সে ভয়ে। এর কি সমাধান
আমি জানিনা। তবে এই রক্ত মাখা লোককে আমি
আর দেখতে চাই না। আমি স্বাভাবিক জীবন কাটাতে
চাই। ডাক্তার প্লিজ আমাকে সাহায্য করুন। আমি বাঁচতে
চাই।
নুরুজী লিখাটা পড়া শেষ করে যত্ন করে রেখে
দিলেন। আর "ছেলেটা অনেক ধৈর্যশীল "
কথাটার নিচে আন্ডার লাইন করে দিলেন।
মধ্যরাতে হটাত করেই নুরুজীর ঘুম ভেঙে যায়।
তার মোবাইল টা বেজে চলেছে। মোবাইল
নামক যন্ত্রটা নুরুজী সাথে রাখা যেদিন থেকে
শুরু করেছে সেদিন থেকেই এই যন্ত্রটা
পেইন দিয়ে যাচ্ছে। নুরুজী ফোনটা রিসিভ
করেন। হ্যালো বলেন।
ওপার থেকে ভারী গলায় একটা আওয়াজ আসে
"নুরুল ইসলাম জীবন বলছেন?"
নুরুজী হ্যা সূচক উত্তর জানায়।
গলাটা আরো গম্ভীর করে লোকটা বলেন
"আপনি ইমনের কেইস টা ছেড়ে দিন। ওকে
আপনার দেখা লাগবে না। যতো টাকা লাগে
পাবেন।
নুরুজী ধাক্কার মতো খান কিছুটা। তিনি বলেন
"আপনি কে বলছেন? "
ওপার থেকে উত্তর আসে " আমি যে ই হই
আপনি ইমনের ট্রিটমেন্ট করবেন না সোজা কথা।
তার জন্য আপনি যথেষ্ট মূল্য পাবেন।
নুরুজী সোজা জানিয়ে দেয় "আমার অর্থের
দরকার নেই। আমি ইমনের কেইস টা ছাড়ছিনা।"
লোকটা এইবার উগ্র ভাবে কথা বলা শুরু করে
"তাহলে তো আপনার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে
যাবে। ভালো চান তো ইমন থেকে দুরে থাকুন।
নুরুজী হাসেন তিনি বলেন " প্লিজ আমার সাথে
বাংলা ছবির ডায়লগ মারবেন না। কি করবেন করেন
দেখা যাবে।"
লোকটা আরো ক্ষেপে গিয়ে বলেন "ভালো
হবে না। পস্তাতে হবে আপনাকে। অনেক
পস্তাতে হবে এর জন্য বেশি সাহস ভালো না"
লোকটা ফোন কেটে দিয়েছে। নুরুজী
হাসছেন। নুরুজী পুরোপুরি সফল। তিনি
লোকটাকে ২মিনিট ৩০সেকেন্ড কথা বলাতে
সক্ষম হয়েছে। যার ফলে খুব সহজের
লোকটার লোকেশন বের করা যাবে। লাভের
লাভ আরো একটি হয়েছে। লোকটিকে রাগিয়ে
দেয়া গেছে। যার ফলে লোকটার কথার মধ্যে
সাময়িক সময়ের জন্য আঞ্চলিক টান চলে
এসেছিলো। এখন ইমনের থেকে একটু
খোঁজখবর নিলেই লোকটা আসোলে কে
বের করা যাবে।রাগ চমৎকার একটা জিনিস। মানুষের
ভিতরের সকল লুকায়িত তথ্য প্রকাশ পায় এই রাগের
মাধ্যমে। তবে নুরুজী ও জেদ করে কি করে
ফেললো সে বুঝতে পারছে না। কাজটা কি ঠিক
হলো? তার যদি সত্যি ই কোন বিপদ হয়। যাই হয়
হোক ইমন ছেলেটাকে সাহায্য করা দরকার।
নুরুজী একটি ফোনকলের মাধ্যমে অনেক
কিছুই পেয়ে গেছেন। তিনি আগে ভাবছিলেন
ইমনের এই সমস্যা শুধুই স্বপ্নঘটিত। অথবা নরমাল
ব্রেইন ডিজঅর্ডার। কিন্তু এখন একটা ব্যপার ক্লিয়ার
হয়ে গেছে ব্যাপার টা শুধুই স্বপ্ন ঘটিত নয়। এর
পিছনে লুকিয়ে আছে বড় কোন ঘটনা। যা
নুরুজী কে খুঁজে বের করতেই হবে। আর
এই ঘটনার রহস্য উন্মোচন ই হবে ইমনের
একমাত্র ঔষধ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now