বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
নাদিয়া আজকে ইন্টারভিউ, দিতে যাবে।
নিশাদ সেই চাকরি স্থলের এমডি।
নিশাদ আর সাথে কয়েক জন মিলে ইন্টারভিউ নিবে।
নাদিয়া ..ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছে আর দেখছে .একটা ছোট্ট বাচ্চা মেয়ে ..অফিস এর সারা রুম দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ..
মেয়েটির নাম নিধি..
নিধি যখন ..ওয়েটিং রুমে ঢুকে হেটে বেড়াচ্ছে.!
তখন ..নাদিয়া জিজ্ঞেস করলো
-এইযে আপনার নাম কি? (নাদিয়া)
-আমার নাম নিধি। তুমি কে?
-আমি নাদিয়া ..! তা ম্যাডাম এখানে কি করছেন?
-আমি এখানে কাজ করছি ..!
- ওরে বাবা তাই? তা কি কাজ?
-আপনাকে বলা যাবে না।
- হা হা হা তাই নাকি ..।
:
এর ভেতর ..নাদিয়া র ডাক আসে নাদিয়া চলে যায় ইন্টারভিউ দিতে । যাওয়া আগে নিধি কে চকলেট দিয়ে যায়। নিধি খুশি।
:
ইন্টারভিউ এর সময় নিধি রুমে যায়।
:
- বাবা ..(নিধি)
- কি হয়েছে মামুনি?? (নিশাদ)
-কিছু না কোলে নেও। ভালো লাগছে না।
-আচ্ছা আস।
:
:
এদিকে নাদিয়ার ইন্টারভিউ চলছে.।
-বাবা এই আন্টি টা খুব ভালো। এনাকে রেখে দেও আমাদের অফিসে।
-তাই? আচ্ছা আমাদের নিধি ম্যাডাম এর কথাই রাখা হবে। (আসরাফ অফিসের একজন উচ্চ পদের কর্মী)
-ধন্যবাদ আংকেল (নিধি)
-আচ্ছা. মিস :নাদিয়া আপনার চাকরি টা কনফার্ম। কাল থেকে জয়েন করুন (নিশাদ)
-ধন্যবাদ স্যার। (নাদিয়া)
:
:
এরপর নিধি কে নিয়ে নিশাদ নিজের কেবিনে চলে যায়।
:
:
নিধি কে অফিসের সবাই খুব পছন্দ করে এবং ভালবাসে। পিচ্চি মেয়েটা অফিস টা মাতিয়ে রাখে। গুটি গুটি পায়ে.। সবার দিকে নজর রাখে। এতে সবাই মজা পায় ..।
:
-জানো বাবা. অই আন্টি টা আজকে আমাকে চকলেট দিয়েছে।
-তাই ..,তুমি ধন্যবাদ দিয়েছ? আন্টিকে?
-ভুলে গেছিলাম। কাল দিবো।
-আচ্ছা ..
-চল না বাবা বাইরে।
-কোথায়?
-ঘুরতে ভালো লাগছে না। অনেক দিন তুমি নিয়ে যাও না।
-আচ্ছা.। আমার নিধি মামুনির ইচ্ছা ঘুরতে যাবো। .(কোলে নিয়ে)
-সত্যি? তুমি সবচেয়ে ভালো বাবা। আমার।
-আমার পাওনা টা?
-উম্মা! উম্মা উম্মা! হি হি হি
:
:
নিশাদ আর নিধি। একজন আরেক জনের জীবন। দুজন দুজন কে ছাড়া কিচ্ছু বুঝে না। কেউ কাউকে ছাড়া থাকে না।
:
আর নিধির মা.? সেতো নিধিকে বাবার কাছে রেখে চলে গেছে. অই তারাঁ দের গ্রামে।
যখন রাত নামে তখন ..বাবা মেয়ে তে ..আকাশের দেশে মেঘের ফাকে ফাকে যে তাঁরাদের গ্রাম সেখানে খুজে.।
:
:
নিধিকে ঘুরিয়ে বাসায় চলে আসে।
এভাবে চলছে.!
নাদিয়ার সাথে ..নিধির খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেছে। এখন প্রায় সবসময় অফিস সময় ধরে ..নাদিয়ার কাছে থাকে। নাদিয়ার সাথে কত কথা যে বলে !
নাদিয়ার ও ভালো লাগে.।
নাদিয়া ওকে অনেক কিছু কিনে দেয়। ..এদিকে নিশাদ ও একটু নিশ্চিন্তে থাকে.।
নিধির জন্য ..নাদিয়া আর নিশাদ এর ..ভেতর ও খুব ভালো ..একটা বন্ধুত্ব হয়েছে। .
রাতে ঘুমাচ্ছিলেন যাওয়ার আগে ..নিধির যেন নাদিয়ার সাথে কথা না বললে এখন নাকি ঘুম আসে না। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ..নাদিয়ার সাথে গল্প করে তারপর ঘুমাতে যাবে.।
:
:
একদিন রাতে নিধির অনেক জ্বর আসে .।
যার জন্য নিশাদ অফিস থেকে ছুটি নেয়.।
কিন্তুু নিধির জ্বর কমছে না। এদিকে ..জ্বরের ঘোরে নিধি শুধু নাদিয়া কে নাদু নাদু বলে ডাকছে। নিধি নাদিয়াকে ..নাদু বলে ডাকে।
এদিকে অফিসে এসে নাদিয়া নিধি কে পায় না।
কেন যেন ..মন কেমন করে ওঠে। নাদিয়া ও যেন নিধি কে ছাড়া এখন থাকতে পারে না।
নাদিয়া অফিস থেকে জানতে পারে..নিধি অসুস্থ তাই নিশাদ ছুটি নিয়েছে।
নিধির অসুস্থতার কথা শুনে নিধি অফিস থেকে ঠিকানা নিয়ে ..নিশাদের বাসায় রওনা দেয়।
:
:
এদিকে ..নিধির জ্বর এখনো কমেনি। ওষুধ দেওয়া হয়েছে তারপর ও..কমছে না।
:
:
নিশাদ পাগল হয়ে যাচ্ছে। কি করবে। মা মরা মেয়েটা কে কিভাবে ..
হঠাৎ কলিং বেল বেজে ওঠে.।
নিশাদ খুলে দিয়ে দেখে নাদিয়া .।
:
:
- তুমি এখানে? (নিশাদ)
-হ্যাঁ অফিস থেকে জানতে পারলাম নিধি নাকি অসুস্থ.। তাই ..চলে এলাম।(নাদিয়া)
-কিন্তুু, ঠিকানা?
-অফিস থেকে নিয়েছি.!
-ওহ আচ্ছা ভেতরে এসো। তুমি এসে ভালোই করেছ. সেই রাত থেকে তোমাকে নাদু নাদু বলে ডাকছে. জ্বরের ঘোরে।
-আপনি আমাকে একবার ও জানালেন না? বাচ্চা মেয়েটা এভাবে কষ্ট পাচ্ছে। (প্রায় কান্না করে দেওয়ার মতো)
-না আসলে আমি ভেবেছিলাম। তোমার অসুবিধা হবে
-একটু বলতে এতো কষ্ট হতো। নিধি কোথায়?
-ভেতরে রুমে।(আঙ্গুল দিয়ে দেখালো)
:
:
নাদিয়া নিশাদের অপেক্ষায় না থেকে দৌড় দিয়ে রুমে যায়।
নিশাদ ..কিছুটা অবাক নাদিয়ার ব্যবহারে.।
:
:
তারপর নিধি সারাদিন নিধির পাশে বসে থাকে. কখনো মাথায় পানি দিচ্ছে। কখনো মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। আর নিধি খুব শক্ত করে জরিয়ে আছে।
নাদিয়ার কেয়ারে খুব দ্রুত. জ্বর সেরে যায়। এখনো জ্বর আছে তবে অল্প
নিধিকে নাদিয়া খাইয়ে দিচ্ছে.। নিশাদ অবাক ভাবে তাকিয়ে আছে ..!
নিধি কখনো নিশাদের হাতে ছাড়া খায় না। এই প্রথম। নিশাদের তাই খাওয়াতে অনেক কষ্ট হয়.। দৌড়াদৌড়ি করবে। খাবে না। এতো এতো বাহানা। অনেক বুঝিয়ে বুঝিয়ে খাওয়াতে হতো। আজকে চুপচাপ বসে খাচ্ছে।
নাদিয়া যখন প্লেট রেখে আসতে যায়। তখন নিধি নিশাদ কে কাছে ডাকে।
:
-বাবা বাবা। নাদু কে আমরা রেখে দেই প্লিজ? নামদুটো খুব ভালো। নাদুর কাছে থাকতে খুব ভালো লাগে। প্লিজ বাবা (নিধি)
-না মামুনি। তোমার নাদুর ত বাসা আছে তার বাব মা আছে ! ..সেতো তাদের কাছে থাকবে।
-প্লিজ বাবা আমার লক্ষি বাবা।
-আচ্ছা ঠিক আছে দেখি।
:
নাদিয়া দরজার কাছে দাড়িয়ে সব শুনছে। নিধি নাদিয়া কে দেখে। খাটের শেষ প্রান্তে দাড়িয়ে বলে
-জানো নাদু তুমি এখন থেকে আমার কাছেই থাকবে বাবা বলেছে অনেক মজা হবে।
-হ্যাঁ থাকবোই ত আমার নিধি ম্যাডাম এর কাছে। (নাদিয়া)
-তুমি আমাকে আর কখনো ম্যাডাম বলবে না।
-আচ্ছা, ঠিক আছে ..কিন্তুু এইযে আমি খাইয়ে দিলাম আদর করলাম তার পাওনা টা?
-উফ্ তোমার আর বাবা খালি পাপ্পি চাই.! তোমরা ত আমার থেকেও ছোট. (মাজায় হাত দিয়ে)
-আচ্ছা থাক লাগবে না
-আচ্ছা দিচ্ছিলা .!কাছে আস। ..উম্মা উম্মা উম্মা! হয়েছে?
-হ্যাঁ চল ঘুমাতে হবে এখন ..!
:
:
নিশাদ মুগদাপাড়ায় হয়ে দৃশ্য দেখছে। নিধি যেন ওর মা কে ফিরে পেয়েছে।
নিধি ঘুমিয়ে গেছে। নাদিয়া এখনও বসে আছে।
:
-তুমি এবার চলে যেতে পারো। বিকেল হয়ে যাচ্ছে। অনেক করলে ত ওর জন্য।
-হ্যাঁ যাবো আরেক টুকরো থেকে যাই।
-না না আর প্রয়োজন নেই।
-তারিয়ে দিচ্ছেন?
-আরে না না কি বল। আসলে তুমি সেই সকাল থেকে ..এতো কিছু করলে ..তোমার ও বিশ্রাম এর প্রয়োজন আছে।
-আমি ঠিক আছি।
-আর নাদিয়া আমি দুখিঃত আসলে নিধি তখন ..অই কথা গুলো বলেছে তার জন্য।
-না না ঠিক আছে। বাচ্চা মানুষ ..আমি কিছু মনে করিনি!
-আসলে মা মরা মেয়েত কখনো মায়ের আদর পায়নি! তাই হয়তো তোমার কাছ থেকে সেটা পেয়েই।
-হ্যাঁ, কিন্তুু আপনি আর বিবাহ করেননি কেন? অন্তত ও একটা মা পেতো।
-আমাদের ভালবেসে বিয়ে করা। নিধিকে দুনিয়ায় আলো দেখাতে গিয়ে নীলা চলে যায় আমাদের ছেড়ে। ..আমি কখনো ভুলতে পারি নি আর অন্য কেউ. নিধিকে মায়ের স্নেহ, মমতা মায়া ভালবাসা দেবে কিনা এই ভেবে।
-আচ্ছা আমি আসি। আর রাতে কেমন কি আছে আমাকে সব একটা জানাবেন। কোনো অসুবিধা হলে জানাবেন প্লিজ অন্তত নিধির জন্য।
-আচ্ছা.!তোমাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না। তুমি সত্যিই আজকে ওর মায়ের কর্তব্য গুলো পালন করেছ।
-এসব বলে আমার লজ্জা দিবেন না। আমি যা করেছি সব ভালবাসা, স্নেহ মায়া এসব থেকে করেছি। নিধির প্রতি আমার আলাদা একটা টান অনুভব হয়।
:
:
নিধি সুস্থ হয়ে গেছে আবার অফিসে যায়।
সেদিন নিধি ঘুরতে যেতে চাইছিল কিন্তুু সেদিনই আবার ..নিশাদের একটা জরুরি মিটিং পড়ে।
নিধি কখনো জেদ করে না। ঠিক মায়ের মতো অভিমান করবে কিন্তু বলবে না।
তাই মন খারাপ করে নাদিয়ার কাছে গিয়ে চুপচাপ বসে আছে ..
-কি আমার নিধির মন খারাপ কেন?
-কিছু না।
নাদিয়া বুঝতে পারে কেন মন খারাপ আজকে ঘুরতে যাওয়ার দিন কিন্তুু নিশাদ মিটিং এ ব্যস্ত। তাই সে মন খারাপ করে বসে আছে
-আচ্ছা আমার সাথে ঘুরতে যাবে?
-তুমি নিয়ে যাবে?? সত্যি?
-তুমি গেলে অবশ্যই নিয়ে যাবো।
-হ্যাঁ যাবোত। চল যাই ..
-হ্যাঁ যাবো তার আগে এই কাজ গুলো শেষ করি?
-আচ্ছা আমি বাবা কে জানিয়ে আসি।
-আচ্ছা ম্যাডাম
-আমার? (নিধি মাজায় হাত দিয়ে ব্রু কুচকে)
-ভুল হয়ে গেছে।
-আচ্ছা আমি যাই (আবার হাসি দিয়ে)
নিশাদ রাজি হয়ে যায়। ..
দুজনে ঘুরতে যায়।
নিশাদের মিটিং শেষ.। নাদিয়া কে ফোন দেয় ..।নাদিয়া পার্কে যেতে বলে।
সময় প্রায় সন্ধ্যা নামবে নামবে এমন। নাদিয়া নিধি পার্কে বসে আছে ।
নিশাদ দেখতে পেয়ে কাছে এগিয়ে যায়। নিধি চকলেট খাচ্ছে।
-নিধি মা ..
-বাবা আজকে খুব মজা করছি। নাদু আমাকে অনেক জায়গায় ঘুড়িয়েছ।
-তাই ..(নিশাদ হাটু ভেঙে নিধির সামনে বসে)
-জানো বাবা আজকে নাদু না..আমাকে দাদু দিদা আর মামার সাথে দেখা করিয়েছে । আর বলছে নাদুকে যেন নাদুমাম্মুনি বলে ডাকি।
-....(নিশাদ চুপ)
-বাবা চকলেট খাবে?
-না তুমি খাও। তুমি একটু এদিকে এস।
-নিধি তুমি এখানে বস আমি বাবা র সাথে একটু কথা বলি?
-আচ্ছা।
:
:
-নিধিকে তুমি এসব কি বলছ?
-কি বলেছি?
-কেন এসব বলেছ?
-আমি শুধু নিধির মা হতে চাই। (নাদিয়া মাথা নিচু করে)
-কিন্তুু তোমার পরিবার?
-দেখেন আজকে আমার পরিবারের সাথে নিধিকে দেখা করিয়েছি। আর আগে থেকেই ..আমার পরিবার জানে। এবং তারা রাজি। এখন আপনি ..
-এটা সম্ভব না।
-কেন?
-আমি. আমি বুঝাতে পারবো না।
-দেখুন. .আমি শুধু নিধির কথা ভেবে। ওকে ওর মায়ের আদর, মায়া মমতা এগুলো ফিরিয়ে দিতে চাই।
-কিন্তুু ..
-আর কোনো কিন্তুু না প্লিজ.। আমরা বিয়ে করছি এটাই ফাইনাল।
-হ্যাঁ তা শুধু নিধির মা হওয়ার জন্য?
-হ্যাঁ.।
-আর আমার?
-আপনার আবার কি? (লজ্জা মুখ মাথা নিচু করে)
-আমার একজন কাজের মহিলা লাগবে। নিজের রান্না আর ভাল্লাগেনা।
-কি?? (রেগে গিয়ে নাদিয়া জিজ্ঞেস করে।)
আর কিছু বলতে যাবে তখন নিধি এসে পড়ে
-এতো কি কথা বল. তোমরা। আমি ওইখানে একা একা বসে আছি। সন্ধ্যা হয়ে গেছে বাড়ি যাবো চল। বাবা নাদু মাম্মুনি যাবে না আমাদের বাসায়?
-হ্যাঁ মাম্মুনি তোমার নাদু মাম্মুনি. আমাদের সাথেই যাবে।
-সত্যি বাবা?
-হ্যা ..
-তাহলে চল ..
-আস কোলে আস (নাদিয়া)
-না আজকে তোমাদের দুজনের হাত ধরে হেটে হেটে যাবো।
-আচ্ছা ম্যাডাম এর যে ইচ্ছা (নিশাদ নাদিয়া দুজনে একসাথে)
-আবার আমাকে ম্যাডাম। আর বাবা তুমিও?
-আচ্ছা আর হবেনা! (এবারও দুজনে)
-আচ্ছা এবারের মতো ক্ষমা করে দিলাম।চল।
:
:
তারপর সন্ধ্যা হালকা আলো আধারের খেলা র সময়। তারা তিনজন হেটে হেটে বাড়ির পথে রওনা দিল। আর তিনজনের নতুন একটা জীবন শুরু হল
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now