বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪৩

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Ruhul Amin Raj (০ পয়েন্ট)

X হ্যাঁ । আরেকটা ব্যাপার বলি- মা আপনার জন্য খুব চমৎকার একটা পাঞ্জাবি কিনে রেখেছেন। ঐ পাঞ্জাবিটা নেয়ার জন্যে হলেও আপনাকে আমাদের বাসায় আসতে হবে। আসব। কবে আসবেন? টুটুলকে খুঁজে পেলেই আসব। আপনি ওকে কোথায় খুঁজে পাবেন? আমি খুব সহজেই পাব। হারানো জিনিস খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে আমার খুব নাম ডাক আছে। আচ্ছা ঐদিন আপনি কী করে বললেন যে টুটুল ভাইয়ের কপালে একটা কাটা দাগ আছে? আমার কিছু সুপারন্যাচারাল ক্ষমতা আছে। আমি মাঝে মাঝে অনেক কিছু বলতে পারি। বলুন তো আমি কী পরে আছি? তোমার পরনে আকাশি রঙের শাড়ি । হলো না । আপনার আসলে কোনো ক্ষমতা নেই। ঠিক ধরছে। কিন্তু আপনি যখন বলেছিলেন যে আপনার সুপারন্যাচারাল ক্ষমতা আছে, আমি বিশ্বাস করেছিলাম। মনে হয়েছে তোমার একটু মন খারাপ হয়েছে? হ্যাঁ হয়েছে। টেলিফোন কি রেখে দেব? না না – প্লিজ আপনার ঠিকানা বলুন। আমি টেলিফোন নামিয়ে রাখলাম। অনেকক্ষণ কথা হয়েছে। আর না । মজিদ বোধহয় রিকশা ঠিক করে ফেলেছে। তবে ঠিক করলেও সে আমাকে বলবে না । অপেক্ষা করবে। এর মধ্যেই অতি দ্রুত রূপার সঙ্গে একটা কথা সেরে নেয়া দরকার । আমি টেলিফোন করতেই রূপার বাবা ধরলেন । আমি গম্ভীর গলায় বললাম, এটা কি রেলওয়ে বুকিং? তিনি ক্ষিপ্ত গলায় বলেলন, ফাজিল ছোকরা , হু আর ইউ? কী চাও তুমি? রূপাকে দেবেন? রাসকেল, ফাজলামি করার জায়গা পাও না । আমি তোমাকে এমন শিক্ষা দেব। আপনি এত রেগে গেছেন কেন? শাট আপ । আমি ভদ্রলোককে আরো খানিকক্ষণ হইচই করার সুযোগ দিলাম। আমি জানি হইচই শুনে রূপা এসে টেলিফোন ধরবে। হলোও তাই , রূপার গলা শোনা গেল- । সে করুণ গলায় বলল, তুমি চলে এস। কখন? এই এখন । আমি বারান্দায় দাড়িয়ে থাকব। আচ্ছা আসছি। অনেকবার আসছি বলেও তুমি আস নি- এইবার যদি না আস তাহলে …. তাহলে কী? রূপা খানিকক্ষণ চুপচাপ থেকে বলল,আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকব। রূপার বাবা সম্ভবত তার হাত থেকে টেলিফোনটা কেড়ে নিলেন। খট করে রিসিভার নামিয়ে রাখার শব্দ হলো । আজ ওদের বাড়িতে ভূমিকম্প হয়ে যাবে। রূপার বাবা,মা,ভাই-বোন কেউ আমাকে সহ্য করতে পারে না । রূপার বাবা তাঁর দারোয়ানকে বলে রেখেছেন কিছুতেই যেন আমাকে ঐ বাড়িতে ঢুকতে না দেয়া হয়। আজ কী হবে কে জানে? বাইরে এসে দেখি মজিদ রিকশা ঠিক করেছে। রিকশাঅলা রিকশার সিটে বসে ঘুমাচ্ছে। মজিদ শান্তমূখে ড্রাইভারের পাশে বসে বিশ্রাম করছে। আমার মনটা একটু খারাপ হয়ে গেল। আজও জামানকে জিজ্ঞেস করা হলো না- তার মুখে বসন্তের দাগ হলো কী করে। কিছু কিছু প্রশ্ন আছে যা কোনোদিনও করা হয় না । এটিও বোধহয় সেই জাতীয় কোনো প্রশ্ন। বিরিয়ানি খেয়ে অনেক রাতে ফিরলাম । অসহ্য গরম। সেই গরমে ছোট্ট একটা চৌকিতে আমি এবং মজিদ শুয়ে আছি । মজিদের হাতে হাতপাখা । সে দ্রুত তার পাখা নাড়ছে । গরম তাতে কমছে না, বরং বাড়ছে। মনে হচ্ছে ময়ূরাক্ষী নদীটাকে বের করতে হবে। নয়তো এই দুঃসহ রাত পার করা যাবে না । মজিদের হাতপাখার আন্দোলোন থেমে গেছে । সে গভীর ঘুমে অচেতন । ঘরে শুনশান নীরবতা । আমি ময়ূরাক্ষী নদীর কথা ভাবতে শুরু করলাম। সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্য পাল্টে গেল। এই নদী একেক সময় একেক ভাবে আসে । আজ এসেছে দুপুরের নদী হয়ে। প্রখর দুপুর । নদীর জলে আকাশের ঘন নীল ছায়া । ঝিম ধরে আছে চারদিক। হঠাৎ নদী মিলিয়ে গেল। মজিদ ঘুমের মধ্যেই বিশ্রী শব্দ করে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে । এই মজিদ এই। মজিদ চোখ মেলল। কী হয়েছে রে? কিছু না । স্বপ্ন দেখেছিস? হুঁ । দুঃস্বপ্ন?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৫৬ শেষ পাতা
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৫৫
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৫৩
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৫২
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৫০
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪৯
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪৮
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪৭
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪৬
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪৫
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪৪
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪২
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪১
→ ময়ূরাক্ষী পৃষ্টা ৪০

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now