বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
¤¤¤ প্রাকপুরুষের চশমা ¤¤¤
(নবম পর্ব)
লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
সুজানা আতংক কাটিয়ে উঠে বুড়োর রেডিয়াল
আর্টারী চেপে পালস পরীক্ষা করে।
আর্টারীটা ক্ষীণ লয়ে তিরতিরিয়ে জানান দেয়
বুড়োটা বেঁচে আছে। সুজানা অনেক কষ্টে
ছেঁচড়ে বুড়োর দেহটা বেলকনি থেকে
এনে বিছানায় শুইয়ে দেয়। তারপর বাথরুম থেকে
একটু পানি এনে চোখে মুখে ছিটিয়ে দিতেই
বুড়ো তড়াক করে উঠে বসে। সুজানা আনন্দের
আতিশয্যে ওকে জড়িয়ে ধরে মধুর আলিঙ্গনে।
সুজানা: "আরিফ, আমার আরিফ। কি হয়েছিলো রে
তোর।" আরিফের প্রথমে কিছুই মনে থাকে না।
ও নিজেকে সুজানার আলিঙ্গনে আবিষ্কার করে
হতভম্ব হয়ে যায়। ও ভেবে পায় না এই বুড়িটার হঠাৎ
এত প্রেম উথলে উঠলো কেন। তাছাড়া চশমাটা
ছাড়া কিছুই ভাল করে দেখতে পাচ্ছে না ও।
নিজের চশমাটার কথা মনে পড়তেই ওর সেই
সানগ্লাসের কথাও মনে পড়ে গেল! তারপর
ধীরে ধীরে মনে পড়লো সেই যুদ্ধের
পটভূমি। তবে কি এতক্ষণ ও স্বপ্ন দেখছিলো?
আর সেই সানগ্লাসটাই বা কোথায়? আরিফ আলতো
করে নিজেকে সুজানার বাহুবন্ধন থেকে ছাড়িয়ে
নেয়। সুজানার মুখের দিকে তাকাতেই ওর
চোখে জলধারা দেখতে পায় আরিফ। নিজেকে
ধন্য মনে হয় ওর। যাক বাবা, বুড়িটা মাঝে মাঝে ওর
জন্যেও কাঁদে! বুড়ির চোখ মুছে দিতে দিতে
আরিফ জিজ্ঞাসা করে, "আমার সানগ্লাসটা কোথায়
রে সুজানা? ওটা পাচ্ছি না যে? " আরিফের প্রশ্ন
শুনে সুজানার মনে খটকা লাগে! এমন সময় তো
সামান্য একটা সানগ্লাসের খোজ করার কথা নয়! ও
পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে সুজানা: "কেন? সানগ্লাসে কি
হয়েছে?" আরিফ ব্যাপারটা এড়িয়ে যেতে চায়।ও
ভাবে সবটা খুলে বললে হয়তো সুজানা ভয় পাবে।
আরিফ: "না তো, তেমন কিছুই হয় নি। আমি
ঘুমানোর আগে ওটা পড়ে ঘুমিয়েছিলাম তো,
জেগে দেখি ওটা নেই। তাই জিজ্ঞাস করলাম।"
আরিফের মিথ্যাবলাটা সহজেই ধরে ফেলে সুজানা,
আরুফ যখন মিথ্যা বলে তখন ওর চোখ দুটো
অস্বাভাবিকভাবে ছোট হয়ে যায় (marked pupil
constriction ) আর বা চোখের পাপড়িটা কাঁপতে
থাকে ( Oocular recti muscle contraction) ।
সুজানা বুড়োটাকে শাঁসিয়ে বলে, সুজানা: "দেখ।
আমার সাথে মিথ্যা চলবে না। সেই ছোটবেলা
থেকেই আমি তোর মিথ্যা বলাটা ধরতে পারি।
আমার খেলনা লুকিয়ে, মিথ্যা বলে পার পেয়েছিলি,
এমন কোন দিনের কথা মনে পড়ে তোর?"
আরিফ কেবল মাথা নিচু করে বসে থাকে। ধরা
পড়ে গেছে ও। স্পষ্ট বুঝতে পারে সুজানা আজ
ওকে দিয়ে সত্যিটা বলিয়েই ছাড়বে। খানিক্ষণ
নিশ্চুপ থেকে সে কথা গুলি মনে মনে
গোছিয়ে নেয়। আরিফকে নিশ্চুপ দেখে
সুজানার অভিমানটা বেড়ে উঠে। বুড়োটা আজ
পেয়েছেটা কি? মিথ্যা বলে ধরা খাবে আবার সত্য
বলার সময় চুপ করে থাকবে? কি লুকাচ্ছে ও?
নিজের বউয়ের কাছে কেউ কি কখনো কিছু
লুকায়? ওর মাথায় একটা গাট্টা দিয়ে সুজানা বলে, "কি
লুকাচ্ছিস? বল আমায়? একদম মিথ্যা বলবি না।" সুজানার
পিড়াপীড়িতে আরিফ ওকে সবকিছু খুলে বলতে
বাধ্য হয়। সব শুনে সুজানা সানগ্লাসটা ভেঙে
ফেলতে চায়। সুজানা: "ডাক্তারের স্মৃতি ওই
চশমাতেও রয়ে গেছে দেখছি! আমাদের উচিৎ
এখনই ওটা সাগরে ফেলে দিয়ে আসা।" মনে
মনে এটারই ভয় পাচ্ছিলো আরিফ এতক্ষণ! সব
শুনে সুজানা হয়তো ওটা ফেলে দিতে চাইবে।
কিন্তু আরিফ যে চশমাটার মায়ায় পড়ে গেছে। এত
সুন্দর আন্টিক চশমাটা কিছুতেই হাতছাড়া করতে চায় না
ও। তাই সে মরিয়া হয়ে বলে, আরিফ: "থাক না ওটা।
এই সুন্দর চশমাটা এভাবে নষ্ট না করলে হয় না?
প্লীজ সুজানা। তোর দোহাই লাগে।" সুজানা
আরিফকে একটু পাত্তা না দিয়ে বেলকনিত দিকে
এগিয়ে গেল। আরিফও ছুটলো পেছন পেছন।
বেলকনিতে যেয়ে সুজানা ইজি চেয়ার থেকে
সানগ্লাসটা তুলে সাগরের দিকে ছুড়ে ফেলতে
গেল। আরিফ খপ করে ওর হাতটা ধরে ফেলে
তাকে নিবারণ করলো। কিন্তু সুজানাও দমে যাওয়ার
পাত্রী ছিলো না। ও আরিফের সাথে ধস্তাধস্তি
শুরু করে দিল। শেষমেশ আরিফ বিরক্ত হয়ে
সুজানার গালে একটা চড় বসিয়ে দিল। সুজানার কাছে
এটা একটা বজ্রাঘাতের মতো লাগল। যে আরিফের
সাথে ও সারাটি জীবন সংসার করে গেছে সেই
কি না শেষ বয়সে এসে ওর গায়ে হাত তুলল! তাও
মামুলি একটা সানগ্লাসের জন্যে। এটাই কি বাকি ছিল
তবে? ওর চোখ ফেঁটে ঝরঝর ধারায় জল
বেরিয়ে এলো। আরিফের হাতে চশমাটা ফিরিয়ে
দিয়ে ও গটগট করে হেটে নিচে নেমে এল।
থাকুক আরিফ ওর চশমা নিয়ে। সুজানা আর একমুহুর্তও
থাকবে না ওর সাথে। সুজানার চোখে পানি
দেখেই আরিফ বুঝতে পারে কত বড় ভুল ও
করে ফেলেছে। চশমাটা পকেটে পুরে সেও
ছুটে সুজানার পেছন পেছন। আরিফ: "সুজানা, যাস
নে। দাঁড়া। প্লীজ। আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি
সত্যিই দুঃখিত। " কিন্তু সুজানা থামে না। ও তার রুমে
যেয়ে দরজায় খিল দেয়। কিছুক্ষণ দরজা ধাক্কিয়ে
আরিফও ক্লান্ত হয়ে হাল ছেড়ে দেয়। তারপর
গ্যারেজে গিয়ে গাড়ি ছুটিয়ে বেরিয়ে যায়। বদ্ধ
ঘরে সুজানা খানিক্ষণ বিছানায় বসে আপনমনে
কাঁদে। কেঁদে কেটে নিজেকে হালকা করতে
চায় । আরিফের গাড়ি চালিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার শব্দটা
সেও শুনতে পায়। ও হয়তো আঁচ করে
ফেলেছে আজ সুজানা ওকে ফেলে চলে
যাবেই। আবারো বিদায় মুহুর্তটা এড়িয়ে গেল ও।
একটা ছোট্ট ল্যাগেজ বের করে ঘরোয়া
দুটো শাড়ী আর হাতের কাছে প্রয়োজনীয়
কতগুলি জিনিস তাতে পুরে নেয় সুজানা। তারপর
ল্যাগেজটা নিয়ে দরজা খুলে বেরিয়ে আসে।
এত সুন্দর বাড়িটার প্রতি মায়া পড়ে গিয়েছিলো
সুজানার। আজ কিছুতেই ছেড়ে যেতে ইচ্ছা
করছে না। বাড়ির প্রতিটা কক্ষে যেয়ে ও
শেষবারের মতো পুরোটা দেখে নিল। তারপর
আরিফের জন্যে ছোট্ট একটা নোট লিখলো
ও। "আরিফ, তোকে ফেলে যেতে খারাপই
লাগছে। কিন্তু আজকের ঘটনাটার পর আর তোর
সাথে থাকা চলে না। ভাল থাকিস, আর নিজের প্রতি
খেয়াল রাখিস। ইতি, সুজানা। " সাদামাটা এক বিদায়
সম্ভাষণ। পড়ে মনে হবে এতে আবেগের
লেশমাত্র নেই। কিন্তু ওটা লেখতে যেয়ে
সুজানার চোখ দিয়ে উপচে পড়া প্রতিটা জলকণা
সেই সুপ্ত আবেগকে ধারণ করে নিচে গড়িয়ে
পড়ে। এইটুকু লেখতে যেয়েই চোখের
পানিতে নোটটা ভিজে একাকার হয়ে যায়। নোটটা
টেবিলে সাজানো খাবারের পাশেই টেপ দিয়ে
আটকে রেখে ও বেরিয়ে পড়ে অজানা গন্তব্য
পানে। সদর দরজা দিয়ে বেরিয়ে , বাড়ির প্রধান
ফটকের সামনে আসতেই সুজানা সেই পরিচিত গাড়ির
ইঞ্জিনের শব্দ শুনতে পায়। আরিফ ফিরে
এসেছে! ওকে ল্যাগেজ হাতে বেরিয়ে
আসতে দেখে গাড়ি থেকে লাফিয়ে নামে
আরিফ। ওর হাতে সুজানার প্রিয় বেগুনি রঙের
টিউলিপ ফুল। প্রিয়তমার মান ভাঙাতে এক্ষুনি যেয়ে
দোকান থেকে কিনে এনেছে । ওর লাল
টকটকে ভেজা চোখ দুটো প্রমান দেয় সুজানা
থেকে কোন অংশেই কম কাঁদেনি ও। গাড়ি
থেকে নেমেই ও সুজানার দিকে ফুলের
তোড়াটা এগিয়ে দেয়। কিন্তু ক্ষুব্দ সুজানা সেটা
ছুড়ে ফেলে দেয়। এবার আরিফ হাটু গেড়ে
বসে সুজানার কোমড় জড়িয়ে ধরে, যেমন
করে একটা শিশু তার প্রিয় বারবি পুতুল কে আকঁড়ে
ধরে। কিছুতেই আজ সুজানাকে যেতে দেবে
না ও। সুজানার হাত থেকে ল্যাগেজটা পড়ে যায়।
সুজানা নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা
করে ব্যার্থ হয়। অবশেষে রেগে মেগে
বুড়োর পিঠে দমাদম কিল মারতে শুরু করে। আরিফ
তবুও ওকে ছাড়ে না। আর ছাড়বেই বা কেন? এই
বুড়ো বয়সে সুজানাই যে ওর বেঁচে থাকার
একমাত্র সহায়। ও চলে গেলে আরিফ কখনোই
একা বাঁচতে পারবে না। একটি মুহুর্তও না।
ধস্তাধস্তিতে সুজানা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
ক্লান্ত হয়ে আরিফের উপর হেলান দিয়ে দাঁড়ায় ও।
দেহের স্পর্ষে ও অনুভব করে আরিফ ফুঁপিয়ে
কাঁদছে। আর অভিমানটা ধরে রাখতে পারে না
সুজানা। আরিফকে জড়িয়ে ধরে ও হাউমাউ করে
কেঁদে উঠে। পারষ্পরিক ভালবাসা আর
নির্ভরশীলতা কে ওরা নতুন করে আবিষ্কার করে
আজ। দুজনেই স্পষ্ট বুঝে যায় তারা কেউই একে
অপরকে ছেড়ে একা বাঁচতে পারবে না।
সুজানাকে বুকে জড়িয়ে আরিফ ফের ঘরে
প্রবেশ করে। বুড়োবুড়ির শান্তির নীড়।
বার্ধক্যের শেষ ঠিকানা। বাড়িতে ঢুকেই সুজানা
আরিফকে ধরে খাবার টেবিলে বসিয়ে দেয়।
সুজানা: "বিকাল হয়ে গেছে, লাঞ্চ করবি কখন?
খাবার সব জুড়িয়ে গেল যে।" আরিফের মুখে হাসি
ফুটে। এই তো মান অভিমান ভুলে সুজানা স্বরূপে
ফিরে এসেছে। বাধ্য ছেলের মতো আরিফ
ডায়ানিং টেবিলে বসে পড়ে। আরিফের প্লেটে
খাবার বেড়ে দেওয়ার ফাঁকে ওর অলক্ষেই সুজানা
টেপ দিয়ে আটকানো নোটটা তুলে নেয়।
তারপর ওটাকে ছিড়ে কুটিকুটি করে প্যাডাল বীনে
ছুড়ে ফেলে। লাঞ্চ শেষে আরিফ কিচেনে
থালাবাসন ধুতে সুজানাকে যথাসম্ভব সাহায্য করে।
তারপর ওরা দুজন বেলকনির ইজি চেয়ারটায় গিয়ে
বসে। বার্ধক্যে শুকিয়ে যাওয়া দেহ দুটো
সহজেই এক চেয়ারেই এটে যায়। আরিফের
বুকে মাথা রেখে সুজানা চেয়ারে দোল খায়।
সাগরের বিমল বাতাস ওর চুলকে এলোমেলো
করে দেয়। ওর চুলের মিষ্টি সুবাস আরিফের
মনকে মাতিয়ে তুলে। এমন রোমান্টিক
পরিবেশে আরিফ একটা প্রেমের কবিতা আবৃতি করা
শুরু করে। যৌবনে অসাধারণ কবিতা আবৃতি করতো
ও। বার্ধক্যের করাল গ্রাসে গলার সেই ধারটা
হারিয়ে গেছে। তবুও তা শুনতে একটুও খারাপ
লাগে না সুজানার। পরম আগ্রহ নিয়ে ও শুনে যায়
কবিতাগুলি। সুজানার সংস্পর্শে আরিফ সেদিনকার
মতো পকেটে থাকা সানগ্লাসটার কথা একে
বারেই ভুলে যায়। যেন ওটার কোন অস্তিত্বই
নেই। সন্ধাটা ওরা দুজন এক সাথে ড্রয়িংরুমে বসে
টিভি দেখে কাটায়। আজ বাল্টিস শহরের মেয়র
নির্বাচন ছিল। ওরা কেউই আজ ভোট দিতে যায় নি।
আসলে এই বুড়ো বয়সে রাজনীতির ঘৃণ্য
খেলার নটের পুতুল হতে চায় নি ওরা। তবুও
কেবল কৌতুহলের বশবর্তী হয়েই ওরা নির্বাচনী
ফলাফল গুলি দেখতে লাগলো। দিনের শেষে
সবগুলি কেন্দ্রের ফলাফল গুণে আন্দ্রে ডি
মারে নামক পার্থীকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হল।
লোকটা একজন অবসর প্রাপ্ত সফল সাংবাদিক।
বাল্টিকো ওয়ারশে ( বাল্টিক থেকে ওয়ারশো)
নামক দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ছিল লোকটা। বলতে
গেলে আশির দশকে সেই প্রথম একক
প্রচেষ্টায় পত্রিকাটা বের করে। তারপর বহু কাঠখড়
পুড়িয়ে পত্রিকার জনপ্রিয়তাকে আজকের
অবস্থানে নিয়ে আসে ও। আজ ওই পত্রিকার হাত
ধরেই ও কোটিপতি। পাশাপাশি উর্ধতন রাজনৈতিক
মহলেও ওর ব্যাপক নাম জশ। অনেক প্রতিষ্টিত
রাজনৈতিক নেতারাও ওকে সমীহ করে চলেন।
বলা তো যায় না। একটু এদিক সেদিক হলেই
পত্রিকায় উল্টাপাল্টা কিছু একটা ছাপিয়ে দিয়ে ও যে
কারো রাজনৈতিক ক্যারিয়ার কে ধ্বংস করে দিতে
পারে। নির্বাচনে বিজয়ী হয়েই টাকার কুমড়োটা
আগামী রোববার সিটি হলে শহরের সকল
অধিবাসীদের জন্যে একটা বিশাল নৈশভোজের
আয়োজন করেছে। সবকটা টিভি চ্যানেল ওকে
লাইভ মিডিয়া কভারেজ দিচ্ছে। ক্যামেরার সামনে
দাঁড়িয়ে আকর্ণ বিস্তৃত হাসি হেসে ও একের পর
এক নির্বাচনী ওয়াদা করেই চলছে ও। শহরের
এই উন্নয়ন করব, সেই উন্নয়ন করব, মেট্র
সার্ভিস বসাবো, দ্রুতগতির ফোর জি নেটওয়ার্ক
কানেকশন লাগাবো আরো অনেক হাবিজাবি। নতুন
মেয়র কে নিয়ে আরিফ বা সুজানার তেমন কোন
মাথা ব্যাথা নেই। ওরা কেবল মিথ্যে ওয়াদাগুলিকে
বিনোদনমূলক কৌতুক হিসেবেই শুনছে। আরিফের
মনে হল নবনির্বাচিত মেয়রের ভাল কৌতুকাভিনেতা
হয়ে উঠার জন্যে একবার বাংলাদেশ ভ্রমণ করা
উচিৎ। বাংলাদেশের জৈনিক প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী
ইশতিহারে দশ টাকায় চাল, বিনামূল্যে সার, ঘরে ঘরে
চাকুরীর কথা বলে নির্বাচন শেষে ৫০ টাকায় চাল,
বিনামূল্যে বুলেট ও ঘরে ঘরে লাশ পাঠানোর
ব্যাবস্থা করেছিলেন। সেই প্রশানমন্ত্রীর শিষ্য
হতে পারলে মেয়র আন্দ্রে ডি মারে কে আর
কোন নির্বাচন নিয়েই ভাবতে হবে না। বাকশালীয়
কায়দায় সহজে সকল নির্বাচনেই জনমতকে
নিজের পকেটে বাগিয়ে নিতে পারবেন। সন্ধাটা
এক সাথে কাটিয়ে রাতেও ডিনার তৈরীতে আরিফ
সুজানাকে যথাসাধ্য সাহায্য করে। রাতের খাবারের
পর বাসনকোসন ধুয়ে মুছে ওরা বেডরুমে চলে
যায়। ধস্তাধস্তির ফলে শরীরটা আজ বড্ড
ম্যাজম্যাজ করছে সুজানার। ওদিকে আরিফেরও
কেমন যেন জর জর একটা ভাব। তাই আজ একটু
তাড়াতাড়িই বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ে ওরা। মাঝরাতে
আবারো সুজানার ঘুম ভেঙে যায়। তবে এবার
কোন অদ্ভুত শব্দ শুনে নয়। ঘুমের মধ্যে ও
হঠাৎ তার স্তনে কারো হাতের স্পর্ষ পেয়ে
জেগে উঠেছে। চোখ মেলে দেখে
আরিফের হাতটা ওর বুক থেকে নেমে পেটের
দিকে চলে যাচ্ছে। তারপর সুজানার পেটের চামড়াটা
টিপে ধরে, এক অদৃশ্য সুতা দিয়ে পেটটা সেলাই
করতে শুরু করলো। ঠিক যেন ভুরি বেরিয়ে থাকা
কারো আবডোমেন সেলাই করে বন্ধ করে
দিচ্ছে। সুজানা আরিফের মুখের দিকে তাকায়? ওকি
ঘুমের ঘোরে এসব করছে না কি বুড়ো
বয়সের ভিমরতি? সুজানা ওর চোখের পাতাটা
দেখতে পায় না। সেই সানগ্লাসটা ওর চোখ
দুটো ঢেকে আছে। দেখে বুঝার উপায় নেই
ও ঘুমে না সজাগ।সুজানা চশমাটা খুলতে যেয়েও
হাতটা সরিয়ে নেয়। এই চশমার জন্যেই আজ
দুপুরে ঘরে লঙ্কাকাণ্ড ঘটে গেছে। ওটা
খুলতে গেলে এবার ও হয়তো আরেকটা
ঝামেলা বাঁধবে। এই মুহুর্তে আরিফের সাথে
কোন ঝামেলায় যেতে চায় না সুজানা। তাই ও
কোলবালিশটা ওদের মাঝখানে রেখে পাশ ফিরে
ফের ঘুমিয়ে পড়ে।
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now