বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

যৌতুকের ভয়াবহতা

"ভিন্ন খবর" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রায়হান আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X সকালে ঘুমিয়ে ছিলাম । হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে দেখলাম অপরিচিত নাম্বার তাই রিসিভ না করেই আবার ঘুমিয়ে পরলাম। কিছুক্ষন পরে আবারো ফোন বাজছে। দেখলাম সেই অপরিচিত নাম্বার টি। রিসিভ করলাম, আমি:হ্যালো, কে বলছেন? অপরিচিত ব্যাক্তি:আপনি তুষার? :হ্যা। আপনি কে? :আপনি আমাকে চিনবেন না।আপনি যত তারাতারি সম্ভব "সুসমা ক্লিনিকে" চলে আসুন। :কেন? :আপনার একজন বান্ধবী অনেক অসুস্থ। :কি বলছেন??কে??? :তার নাম অহনা। :আচ্ছা।আমি আসতেছি। ফোন কেটে দিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। চট জলদি বেরিয়ে পরলাম ক্লিনিকের উদ্দেশ্যে। . গাড়িতে যাচ্ছি আর ভাবতেছি, আমি,ফয়সাল,নিরব,অহনা,সরনিকা আমরা খুব ভালো বন্ধু।প্রাইমারী স্কুল,হাইস্কুল একসাথেই কাটিয়েছি। বিপত্তি বাধলো দশম শ্রেনীতে এসে। একদিন আমরা সবাই মাঠে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। কিন্তু অহনা কে কেমন যেনো মনমরা লাগছিলো। জিজ্ঞেস করতেই বললো ওর মা ওর বিয়ে ঠিক করেছে। আমরা সবাই অনেক অবাক হলাম। ওর মতো ভালো ছাত্রী এভাবে ঝরে পরবে ভাবি নাই। ওদের বাসায় গিয়ে ওর ফ্যামিলিকে আমরা সবাই বুঝিয়েছিলাম কিন্তু লাভ হয় নাই। আমাদের স্যারেরা,এলাকার গন্য মান্য ব্যাক্তিবর্গ ও অনেক বুঝিয়েছে তবে কাজের কাজ কিছুই হয় নি। জোর করে অহনাকে ওর চেয়ে ৩ গুন বেশি বয়সের একজনের সাথে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়। . হঠাৎ গাড়ির হেলপারের ডাকে বাস্তবে ফিরলাম। ক্লিনিকের ভিতরে যেয়ে দেখি সরনিকা,ফয়সাল,নিরব দারিয়ে আছে। সবার মুখেই চিন্তার ছাপ। কর্তব্যরত নার্সের কাছ থেকে জানতে পারলাম অহনা বিষ খেয়েছে। . কলেজে আমরা চার জন একসাথে গেলেও অহনা পারে নি কলেজে যেতে। মাঝে মাঝেই খবর পেতাম অহনাকে ওর স্বামী যৌতুকের টাকার জন্য অমানুষিক নির্যাতন করতো। ইচ্ছে থাকলেও আমাদের কিছু করার ছিলো না। ওর পরিবারের লোভের বলি হতে হলো অহনাকে। . সরনিকা আমার দিকে একটা কাগজ এগিয়ে দিয়ে বললো, অহনা বিষ খাবার আগে লিখে গিয়েছে। কাগজ হাতে নিয়ে পড়লাম। পড়ার সময় অজান্তেই চোখের পানি পরছিলো। লেখার সারমর্ম ছিলো এটা, বিয়ের পর থেকেই ওর শশুড় বাড়ির লোকজন ওকে নির্যাতন করতে থাকে। কাগজে লেখা ছিলো নির্যাতনের লৌহ মর্ষক বর্ননা। আরো লেখা ছিলো, যাতে আর কোনো মেয়ে বাল্যবিবাহের কবলে না পরে। ওর মা-বাবার প্রতি লেখা ছিলো কিছু অনুরোধ। লেখা ছিলো আমাদের চার জনের সাথে পড়তে না পারার ক্ষোভ,বন্ধুত্ব এর কথা। আরো অনেক কিছু। লেখা টা পরে বুঝতে পেরেছি কত কস্ট পেলে এই ধরনের লেখা লিখেছে। . কেবিন থেকে ডাক্তার বের হলো। ফয়সাল জিজ্ঞেস করতেই বললো অহনা আর নেই! কথাটা শোনে সবাই দৌড়ে গেলাম কেবিনে। গিয়ে দেখি নিথর হয়ে পরে আছে অহনার দেহটা।ওর মা-বাবাও অঝোরে কাদছে।তবে অনেক দেরী করে ফেলেছে তারা বুঝতে।আগে বুঝলে হয়তো আজ এই পরিস্থিতি হতো না। নার্স এসে সাদা কাপড় দিয়ে ওর মুখ টা ঢেকে দিলো। হতবাক হয়ে গেছি অহনা কে দেখে। এই সেই অহনা যার সাথে আমরা সবসময় আড্ডা দিতাম।আমাদের ৫ জনের বন্ধুত্ব ছিলো সবার হিংসের কারন। আর আজ সেই অহনাই নেই!ভাবতেই কেমন অবাক লাগে! শুধুমাত্র ওর পরিবারের কারনেই অকালে চলে যেতে হলো অহনার মতো একটা মেধাবী মেয়েকে। যৌতুকের বলি হতে হলো তাকে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now