বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমার পাগল

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান অয়ন (০ পয়েন্ট)

X ফোনটা ধপাশ করে রেখে দেয় রেখা! ঐদিকে ক্রিং ক্রিং রিংটোন অবিরত বেজেই চলছে রেখার ফোনে। আজ খুব বেশি রাগ হয়েছে ওর প্রতি। সেই দুপুর থেকে বলছি আজ একটু তাড়াতাড়ি এসো বিকেলে ঘুরতো যাবো। আর উনি সন্ধার পর ফোন করে বলছেন সরি পাগলি...অফিসের কাজের চাপ বেশি। আজ নয়, অন্য একদিন ঘুরতে যাবো। . থাকো তোমার কাজ নিয়ে। আমি তোমার কে? অফিস নিয়েই পড়ে থাকো তুমি। এটুকু বলেই ফোনটা রেখে দিয়েছে রেখা। আর হেলাল ফোন করেই চলছে। . খুব সুন্দর ম্যাচিং করে শাড়ী- ব্লাউজ পড়েছে রেখা। হেলাল সব সময় রেখাকে শাড়ী পড়তে বলে। শাড়ী পড়লে নাকি রেখাকে পরীর মতো সুন্দর লাগে। শাড়ীটা খুলে ফেলে রেখা। চোখদুটো ছলছল করছে ওর। কতো আশা নিয়ে সেজেছিলো স্বামীর সাথে ঘুরতে যাওয়ার জন্য। তা আর হলো না। হালকা লিপিস্টিক দিয়েছিলো ঠোটে। হেলাল ঠোটে লিপিস্টিক নিতে মানা করে। যদি ঘুরতে বের হই তবে কোনরকম হালকা কালারের টা নিতে বলে। যেনো ঘুরে এসে কিছু দিয়ে ঠোট মুছলে উঠে যায়। . রাত প্রায় ৮ টা বাজে। রেখা ঘুমোয়নি। খাটে নিরব হয়ে অভিমানী ভাব ধরে মন খারাপ করে শুয়ে আছে। হঠাৎ গাড়ির শব্দ আসে রেখার কানে। হেলাল এসেছে। দাড়োয়ান গেইট খুলে দেয়ার সাথে সাথেই গাড়িটা ভিতরে ঢুকিয়েই তাড়াতাড়ি চলে আসে ভিতরে। রেখা শুনতে পায় হেলাল কাজের বুয়াকে বলছে রেখা কই খালা? কাজের মেয়ে হলেও এই বয়স্ক মহিলাকে যথেষ্ট সম্মানের সাথে খালা বলে ডাকে হেলাল। খালা বলছে... বউমা তো সেই সন্ধা থেকেই মন ভার করে শুয়ে আছে ঘরে। কিছু খায়নি এখনো। আপা (হেলালের মা) থাকলে না হয় শুনে দেখতো কি হয়েছে। আমি কিছু বলতে গেলে কথা বলে না। . হেলাল ঘরে ঢুকেই বিছানায় শুয়ে পড়ে। কিছুক্ষন নিরব থেকে বলে সরি পাগলি... আর এমনটা হবে না। অফিসের কাজের ভীষন চাপ ছিলো। তবুও নীরব হয়ে অন্যদিকে মুখ করে শুয়ে আছে রেখা। হেলাল হাতটা রেখার মাথায় রাখে। চুলে বিলি কেটে বলে খুব ক্ষুধা লেগেছে গো, চলো খাবো। রেখা ছোট্ট করে জবাব দেয় আমার ক্ষিধে নেই। আপনার ইচ্ছে হলে খালাকে বলুন ভাত বেড়ে দিবে, খেয়ে শুয়ে পড়ুন। ভোরে উঠেই তো আবার অফিসে যেতে হবে আপনাকে। এই বলে আবার নীরব হয়ে যায় রেখা। . হেলাল উঠে বাথরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসে। খাটে এসে ধপাশ করে শুয়ে পড়ে। কাজের খালা বাইরে থেকে ডেকে বলে তোমরা খেয়ে যাও বাবা। হেলাল বলে আপনি খেয়ে সব খাবার ফ্রিজে রেখে শুয়ে পড়েন খালা। আমাদের আজ ক্ষিধে নেই, খাবো না। অনেক্ষন চলে যায়। নিরব ঘর। হেলাল হাতটা রেখার উপড় রাখতে গিয়েও সরিয়ে আনে। প্রতিদিন হেলাল রেখাকে জড়িয়ে না ধরলে ঘুম আসে না। রেখা অপরদিকে শুয়ে অনুভব করে হেলাল ছটফট করছে। রাগ না করলে এতোক্ষন কয়টা চুমো দিতো তার হিসেব নেই। প্রতিরাতে রুটিন করে রেখাকে আদর করে বুকের উপর না শোওয়ালে ঘুম ই আসেনা হেলালের। সেই মানুষটা আজ রেখাকে ছোয়ার সাহস ও পাচ্ছে না। হয়তো রেখার মন খারাপের কথা ভেবেই ওকে কাছে নেয়ার চেষ্টা করছে না। রেখা বুঝতে পারে মানুষটার ভীষন কষ্ট হচ্ছে। বউ পাগল লোকটা কখনোই আমাকে জড়িয়ে না ধরলে ঘুমোতে পারবে না। একটুপর রেখা ঘুমের ভান করে ঘুরে শোয় হেলালের দিকে। চোখ হালকা খুলে দেখে হেলাল অন্যদিকে মুখ করে সিগারেট টানছে। অবাক রেখা! সিগারেট ঘরে থাকলেও হেলাল কখনো সিগারেট খায়না। মাঝে-মাঝে বন্ধুরা আসলে তাদের খাওয়ায়। খুব জোড়া- জুড়ির পর উনি ২/১ টান দেয়। কিন্তু আজকের টানাটা অন্যরকম। মনের কষ্টে টানছে সিগারেট বুঝতে পারে রেখা। . আরো কিছুক্ষন যাবার পর রেখা ঘুমের ভান করে একটা হাত হেলালের উপর তুলে দেয়। একটুপর জড়িয়ে ধরে বুকের সাথে। এভাবে ঘন্টাখানেক যায়। রেখা ঘুমের অভিনয় করে চোখ বুঝে আছে। হঠাৎ রেখা অনুভব করে হেলাল ওর হাতটা সরিয়ে উঠে পড়েছে। রেখার থুতনি ধরে কপালে একটা চুমু দেয় হেলাল। সাথে সাথে ২/১ ফোটা জল গড়িয়ে পড়ে রেখার গালে ও মুখে! চোখ খোলে রেখা। লোকটা মুখ বুঝে শব্দ না করে কাঁদছে। বুকের ভিতরটা নড়ে ওটে রেখার। নিজেকে খুব বেশি অপরাধী মনে হয় ওর। যেই মানুষটা কোন কিছুর আবদার কখনো অপূর্ণ রাখেনা। ছিঃ...একটা আবদার রাখতে পারেনি বলে আজ লোকটাকে কতো কষ্ট দিচ্ছি। শোয়া থেকে উঠে পড়ে রেখা। হেলালকে টেনে তুলে বুকের সাথে আকড়ে ধরে। বলে সরি হেলাল। আমার ঠিক হয়নি তোমাকে কষ্ট দেয়া। ফুপিয়ে কাঁদছে এখন রেখা। হেলাল মাথায় হাত বুলিয়ে বলে ঠিকাছে। চলো খাবো এখন। খুব ক্ষুদা লেগেছে। দুজন একসাথে খেয়ে নেয়। হেলাল এসে শুয়ে পড়ছে। কিছুক্ষন পর রেখা ও এসে শুয়ে পড়ে। অনেক্ষন নীরবতা। হঠাৎ হেলালের একটা হাত টেনে নিয়ে নিজের পেটের কাছে রাখে রেখা। হেলাল আকড়ে ধরে রেখাকে। কিছুক্ষন আবার নীরবতা। শোয়া থেকে উঠে বালিশটা ঠেলে সরিয়ে দিয়ে হেলালের বুকের উপর মাথা রাখে রেখা। হেলাল মাথায় হাত বুলায়। আবার নড়ে ওঠে রেখা... -এই কি হলো! একটু আদর করে জড়িয়ে ধরো তো। চুমু দাও আমাকে...। (রেখা) রেখা হেলালের বুকে মাথা রেখে শোয়। হেলাল রেখার মাথাটা ধরে মুখের কাছে নিয়ে আসে মুখটা। দুই গালে দুটো চুমো দিয়ে ঠোটেও একটা একে দেয়। এরপর আরেকটু আকড়ে ধরে বলে কালকে কক্সবাজার ঘুরতে যাবার জন্য অফিস থেকে ছুটি নিয়ে আসতেই এতো দেরি হলো। ২/৩ দিনের ফাইল/কাগজ আজকেই শেষ করেছি। এ জন্যই এতো দেরি। . আমার কিচ্ছু লাগবে না পাগল। আমি বুঝতে পেরেছি তুমি এইভাবে আমাকে বুকে জড়িয়ে রাখলে পৃথিবীর আর কোন সুখ ই লাগবে না। (রেখা) ওকে পাগলি...তুমি তো এভাবেই এই বুকে সারাজীবন লুকিয়ে থাকবে। আমি পুষে রাখবো তোমায়। আর শোনো পাগলি...এখন এভাবেই এই বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে যাও। কাল ভোরেই খাওয়া-দাওয়া করে সব কাপড়-চোপড় গুছিয়ে নেবে। ৯/১০ টার মধ্যেই রওনা হবো কক্সবাজার। রেখা আরেকটু জড়িয়ে ধরে বলে...ওকে ***আমার পাগল***


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমার ক্রিকেট পাগল বন্ধু
→ প্রাপ্তি আমার পাগলি
→ আমার অবুঝ পাগলিটা
→ একটি মেয়ের গল্প-"আমার পাগলটা"
→ হারিয়ে যাস না যেন,,,,,,,,আমার পাগলীটা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now