বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমি তুমি আর অমাবস্যা

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান অয়ন (০ পয়েন্ট)

X মোগাবুর বাড়ির কলিংবেলের ওপর হাতটা রেখে বাজাব নাকি তাই ভাবছি।ওকে কি বলব আমি? আর ও কি ভাববে পুরো ব্যাপারটা শুনে!আমার সাহায্যই বা ও করবে নাকি করবেনা তার ও কোন নিশ্চয়তা নেই! এইসব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে দিলাম কলিংবেলটা বাজিয়ে।কলিং বেল বাজিয়ে নিজেই চমকে গেলাম! মোগাবুর বাড়ির কলিং বেল থেকে ভৌতিক একটা হুহুহহুহুহুহুহুহুহ ধরণের শব্দ ভেসে আসল! কি আশ্চর্য ও প্রেত চর্চা করে বলে দেখছি বাড়ির কলিংবেলটাকেও একটা জীবন্ত ভুত বানিয়ে রেখেছে! আল্লাহ্ পাক ই ভাল জানেন ওর বাড়ির ভেতরে ঢোকার পর আর না জানি কত বিস্ময় আমার জন্য অপেক্ষা করছে......!!!!! ২ মিনিট অপেক্ষা করার পর হঠাৎ করে দরজাটা খুলে গেল আর ভেতর থেকে বের হয়ে আসলো মোগাবু।একটা কালো আলখাল্লা পড়ে আছে ও!দিনের বেলাতে ও তাই ওকে দেখতে একটা ভূতুরে পাদ্রির মত লাগছে! আমাকে দেখে মোগাবু বেশ খুশি হল,হাত ধরে টেনে বাড়ির ভেতরে নিয়ে আসলো ও আমায়। ওর বাড়ির ভেতর ঢুকে আমি অবাক হয়ে গেলাম!এই দিনের বেলাতে ও ওর বাড়িতে শুধু মোমের আলো ছাড়া আর কোন আলো নেই!পুরো জায়গাটা ঘিরে আশ্চর্য এক অন্ধকার!বাড়ির মেঝেতে জায়গায় জায়গায় বিভিন্ন ভূতুরে নকশা আঁকা! দেয়ালের ও একই অবস্থা!যেন পুরো বাড়িটাই একটা ভুতের রাজ্য! মোগাবুর বাড়ি দেখতে দেখতেই আমি ওকে বললাম যে,বন্ধু তোমার কাছে আজ আমি কিন্তু ভূত দেখতে নয় বরং অনেক বড় একটা বিপদে পড়ে এসেছি!এই ব্যাপারে আমাকে তুমি ছাড়া আর কেউ সাহায্য করতে পারবেনা! মোগাবু বললঃ আরে তোমার সাহায্য আমি করব কিন্তু আগে এটা দেখো"। আজকের নিউজ পেপারটা আমার সামনে এগিয়ে দিল ও। পার্কের বাচ্চার মৃত্যু সংবাদটার দিকে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাচ্ছে ও! আমাকে ও অবাক করে দিয়েই হঠাৎ আমি কিছু বলার আগেই বলল,"আবির এটা ভাল সংকেত না!আমাদের শহরে কোন একটা ভ্যাম্পায়ারের আগমন ঘটেছে!" আমি বল্লাম,"মোগাবু আমি এই ব্যাপারেই তোমার সাহায্য চাইতে এসেছি! মোগাবু আমার কথা শুনে আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল!ও হয়ত ভাবছে যে মানুষ কারো সাতে বা পাঁচে থাকেনা সে কিভাবে এমন একটা জটিল সমস্যার সাথে জড়িয়ে গেছে??? ওকে আর কোন সাসপেন্সে না রেখে আমি রিয়ার এই কয়দিনের সব ঘটনা খুলে বললাম! সব শোনার পর মোগাবু প্রায় পাঁচ মিনিট চোখ বন্ধ করে চুপ করে রইল!এর পর আমায় বলল,আবির আমাদের খুব বিপদ সামনে!তুমি যে ঘটনাটা আমায় বললে তা শুনে আমি ১০০% সিউর তোমার প্রেমিকা ভ্যাম্পায়ার ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে গেছে।আর এইসব ঘটনা সে নিজেই ঘটাচ্ছে,কিন্তু তার ইচ্ছায় নয়,সেই শয়তানের ইচ্ছায় যে এখন তার মাঝে বাস করছে!খুব দ্রুত এ্যাকশান না নিতে পারলে ওকে তুমি চিরদিনের জন্য হারাবে।" এইটুকু শোনার পরই আমি মোগাবুর হাত ধরে মিনতি করলাম যে,মোগাবু তুমি আমার রিয়াকে বাঁচাও ওর কিছু হয়ে গেলে আমিও আর নিজের প্রতি কোন দয়া করবনা।নিজেকে এক সেকেন্ডে আমি শেষ করে দেব! মোগাবু বললঃওহ আবির!এখন পাগলামি কোরনা!এখন মাথা ঠাণ্ডা রাখার সময়!তোমার প্রেমিকার আত্মা এখন শয়তানের কবলে আছে!তাই শয়তান এখন যা বলবে সে তাই করবে।কিন্তু তার সচেতন মন তোমায় ভালবাসে বলে সরাসরি তোমার কোন ক্ষতি করতে পারছে না!এই জন্যই তোমাকে স্বপ্নের মাঝে শেষ করে দেয়ার চেষ্টা করছে শয়তানের দেবতা "অজ্জু জাহাদ" যে বাদুরটা তোমার প্রেমিকা কে সংক্রমিত করেছিল সে রিয়ার রক্ত কোন এক গোপন জায়গায় লুকিয়ে রেখেছে তাই এখন রিয়া সম্পূর্ণ ভাবে শয়তানের আওতায় চলে গেছে!এখন ও শয়তানের হাতের পুতুল ওকে দিয়ে শয়তানের দেবতা "অজ্জু জাহাদ" তার সব পৈশাচিক কাজ করিয়ে নিচ্ছে!ওকে বাঁচাতে হলে আমাদের আগে সেই বাদুড়ের লুকিয়ে রাখা রিয়ার শরীরের রক্ত আমাদের খুঁজে বের করতে হবে আর সেটাকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলার মাধ্যমে রিয়া কে ওই শয়তানের কবল থেকে রক্ষা করে আনতে হবে! কিন্তু আমি তোমাকে সাবধান করতে চাই একটা ব্যাপারে যে এই কাজ কিন্তু সহজ হবে না!এই কাজ করতে গিয়ে রিয়া,তোমার বা আমার যে কারোরই জীবন নাশ হওয়ার আশঙ্কা আছে!তুমি পারবে এই কঠিন কাজ করতে??কারন শয়তান যখনি আমরা রিয়াকে বাঁচাতে চেষ্টা করব তখনি আমাদের বাধা দিবে!তাই ভেবে দেখো আরেকবার...। আমি কোন কিছু চিন্তা না করেই সোজা বললম,আমি তৈরী মোগাবু,রিয়াকে বাঁচাতে আমি সব করতে পারব সব!।।তুমি শুধু ব্যাবস্থা কর! মোগাবু তারপর আমায় বলল,"তবে এস আমার সাথে" একটা অন্ধকার রুমের ভেতর নিয়ে গিয়ে মোগাবু কয়েকটা শুকিয়ে যাওয়া রসুন দিয়ে বানানো মালা দিল আমাকে গলায় পড়তে। আমিও দ্রুত ওর নির্দেশ পালন করলাম।ও আমাকে বলল কোনভাবেই আমি যেন এই জিনিস গলা থেকে না খুলি! আর আমায় ও বলল আজ রাতে ও আমার বাসায় আসবে রিয়াকে বাঁচানোর কাজ টা শুরু করতে। তবে ও আমায় মানা করে দিল রিয়া কে ওর আসল পরিচয় দিতে নাহলে সব শুরু হওয়ার আগেই পণ্ড হয়ে যাবে! আমার মনের ভেতর অজানা এক ভয় কাজ করছিল ওর কথাগুলো শুনে কিন্তু তারপর ও নিজেকে মনে মনে বারেবারে বোঝাচ্ছিলাম যে আমাকে ভয় করলে চলবে না!রিয়াকে বাঁচাতে হলে আজ থেকে ভয় নামক জিনিসটা আমার মন থেকে মুছে ফেলতে হবে। যে কোন ঘটনা ঘটানোর প্রস্তুতি রাখতে হবে! এরপর মোগাবু আমায় একটা রুপার বোতলে করে কিছু পবিত্র পানি দিল আর বলল অবস্থা বেগতিক দেখলে এটা যেন রিয়ার ওপর ছিটিয়ে দেই তবে কিছুটা সময় ও শয়তান থেকে মুক্ত থাকবে! রাতে মোগাবু আসবে আমার বাড়িতে এমন প্রতিশ্রুতি নিয়েই আমি ওর বাড়ির থেকে বের হয়ে যখন আমার বাড়ির দিকে রওয়ানা হই তখন ঘড়িতে বাজছিল দুপুর ১টা। বাড়িতে ফিরেই দ্রুত আমার গাড়িটা পার্ক করে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে গেলাম! বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে কলিং বেলটা চাপার আগে দরজাটা হালকা করে ধাক্কা দিতেই দরজাটা খুলে গেল!ভেতরে ঢুকলাম আমি।রিয়া লিভিং রুমে বসে একমনে টিভি দেখছে আমি যে এসে ওর পেছনে দাঁড়িয়ে আছে ও সেটা বুঝতেই পারলনা!এতোটাই মগ্ন ও! টিভিতে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেল চলছে। সেখানে দেখাচ্ছে একটা বাঘ এর হরিণ শিকার করার দৃশ্য!বাঘটা যখন অনেক দৌড়ানোর পর হরিণটার নাগাল পেল রিয়ার সে কি খুশি সেই দৃশ্য দেখে!সে দুলে দুলে হাসছে যখন বাঘটা হরিণটাকে একটা কাগজের মত ধরে ছিঁড়ে ফেলছে সেই দৃশ্য দেখে! আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম এই মর্মান্তিক দৃশ্য সহ্য করা যায় না! ধীর পায়ে আমি এগিয়ে গিয়ে রিয়ার কাঁধে হাত রাখলাম।ও চমকে উঠে পেছনে ঘুরে তাকাল!ও আমার চোখের দিকে চোখ রাখতেই আমার ১২টা বেজে গেল ওর চোখের মণি গায়েব ওর চোখ থেকে!শুধু সাদা অংশগুলোই দেখা যাচ্ছে চোখের!ভয়ঙ্কর দৃশ্য।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now