বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রাচুর্য

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X গল্প: প্রাচুর্য লেখা: খুরশিদ জামান কাকন ππππππππππππππππππππππππ "স্যার, আপামনি সুটকেস নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে গেছে " ফোনের ওপাশ থেকে দারোয়ানের কথা গুলো শুনা মাত্রই সাদাফ অফিস থেকে তাড়াহুড়ো করে বাড়িতে এসে হাজির। সাদাফ ভালোবেসে অধরাকে বিয়ে করেছে বছর দুয়েক হলো। আর তাতেই এমন কি হলো যে অধরা তাকে ছেড়ে চলে যাবে। এসব ভাবনায় সাদাফের মাঝে বারবার ঘোরপ্যাঁচ খাচ্ছে। এমন সময়ে হঠাৎ টিবিলের কোণে ভাজ করে রাখা একটি কাগজ সাদাফের চোখে পড়ে। সাদাফ দৌড় দিয়ে গিয়ে কাগজটি হাতে নিয়ে পড়া শুরু করে। """চলে যাচ্ছি, সাথে তোমাকে মুক্তি দিয়ে যাচ্ছি, ভালো থেকো, কখনো যোগাযোগ করার চেষ্টা করিও না"""" ইতি- অধরা . সাদাফ ও অধরার ছয় বছরের বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব থেকে ধীরেধীরে ভালোবাসা। বছর দুয়েক আগে বেশ ঘটা করে অধরার বিয়ে ঠিক হয় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলের সাথে। কিন্তু এ বিয়েতে অধরার বিন্দুপরিমান মত নেই। কারণ সে মনেপ্রাণে সাদাফকে ভালোবাসে। আর তাকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে চায়। . অধরার বিয়ের খবরে পাগলপারা সাদাফ ভালোবাসার মানুষকে না পাওয়ার শোকে বিষপান করায় সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। বিয়ে বাড়িতে শানাইয়ের শব্দে মুখরিত চারদিকে হৈ-চৈ ফেলে দিয়ে বরের আগমন ঘটে। সবাই চারদিকে বরকে ঘিরে উৎসবে মাতোয়ারা। কিন্তু হঠাত এ খবর ভেসে আসে কনে অধরাকে কোথাও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। মুহূর্তেই আশপাশের আকাশ ভারী হয়ে উঠে বিয়ে পন্ড হওয়ার শোকে। . অধরা বধূ বেসে বিয়ের পিড়ি থেকে পালিয়ে হাসপাতালে তার প্রেমিক সাদাফের সংকটাপন্ন অবস্থায় উপস্থিত হয়। দ্বীর্ঘ দুদিন ডাক্তারদের নিবিড় পর্যবেক্ষনে সাদাফ সুস্থ হয়ে উঠে। পরে সাদাফ ও অধরার সুখের কথা ভেবে দু-পরিবারের সম্মতিতে বেশ ধুমধাম করে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ে নামক পবিত্র এক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর সাদাফ ও অধরার নতুন শুরুটা বেশ ভালোই চলছিলো। সাদাফ অফিসে থাকা অবস্থায় প্রতি মুহূর্তে ফোন করে স্বামীর খবরাখবর নিতে অধরার ব্যস্ত সময় পার। সাদাফও বা কম কিসে দিনশেষে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিদিনই স্ত্রী'র প্রতি ভালোবাসার উপহার স্বরূপ গোলাপ আনা যেনো তার রোজকার রুটিন। . দিনেদিনে সাদাফ তার কর্মস্থলে পদোন্নতি পেয়ে উচ্চপদস্থ পদে অধীনস্থ হয়। সাদাফের ব্যস্ততার মাত্রা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। সারাদিন মিটিং, সিমিনার, অফিস সামলানোর পর রাত গভীরে বাড়ি ফেরা যেনো সাদাফের দৈনিকের রুটিন হয়ে দাঁড়ায়। অধরা প্রতিরাতে স্বামীর সাথে খাওয়া করবে বলে রাত জেগে অপেক্ষায় থাকা যেনো শুধুই ব্যর্থতার প্রতিফল। সাদাফ রাতে বাড়িতে ফিরলেও, বাহির থেকে খেয়ে ফিরে। যার ফলে নীরবে অভিমানের চূড়া গড়া অধরা না খেয়েই রাত্রি কাটিয়ে দেয়। ক্ষনে ক্ষনে উন্নতির পথে ধাবিত হওয়া সাদাফের আচরণে অনেক পরিবর্তন ঘটতে থাকে। . সারাদিন একলা একা ঘরে শুয়ে বসে কাটানো অধরা তার একাকীত্ব কাটিয়ে উঠার জন্য চাকরি করতে চায়। কিন্তু এতে সাদাফের কঠোর হুসিয়ারী। তার স্ত্রী শুধুই ঘর সংসার সামলাবে। সাদাফের কি সয়-সম্প্রতি কম রয়েছে যে তার স্ত্রীকে চাকরি করে উপার্জন করতে হবে, সাদাফের এসব মনগলানো যুক্তি অধরার অভিমান ভাঙ্গতে পারে না। অধরার কোল উজ্জ্বল করে তাদের প্রথম সন্তান পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখে। অধরা তার ছোট্ট ফুটফুটে ছেলের নাম দেয় মুন। অধরা ভেবেছিলো মুনের ছোয়ায় এসে সাদাফের আচরনের মধ্যে পরিবর্তন ঘটবে। কিন্তু অধরা তার স্বামীর মধ্যে এর কোন প্রতিফলন দেখতে পায় না। . বিত্তশালী সাদাফের অর্থ সম্পদের অভাব না থাকলেও সময়ের বড্ড অভাব ছিলো। যা তার স্ত্রী ও সন্তান কখনো সাদাফের নিকট পায়নি। বিয়ের আগে যে সাদাফ অধরার পথ চেয়ে সারাবেলা অপেক্ষায় রত থাকতো। বিয়ের পর সে সাদাফ অর্থকড়ির প্রাচুর্য গড়তেই ব্যস্ত। অধরার প্রতি সাদাফের ভালোবাসা আর আগের মতো নেই। সাদাফ অধরার ও তার উত্তরসূরি সন্তানের জন্যে প্রাচুর্যে ভরপুর অট্টালিকা গড়তে পারলেও, কখনো ভালোবাসার তাজমহল গড়তে পারে নি। . আচ্চা একটা সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত গড়তে অর্থ সম্পদের প্রাচুর্যই কি প্রধান? সাদাফের প্রাচুর্যতায় ভরপুর এতো সম্পদ কখনো অধরার মন গলাতে পারে নি। অধরা তো বেশি কিছু চায় নি। শুধু চেয়েছিলো স্বামী সংসার নিয়ে সুখে দিন কাটে কাটাতে। অধরা ভালোবেসে ভালোবাসার মানুষটিকে স্বামী হিসেবে ঠিকই পেয়েছে কিন্তু তার কাঙ্ক্ষিত ভালোবাসা পায়নি। বিপরীতে পেয়েছে শুধুই অবহেলা, অবজ্ঞা ও তাচ্ছিল্যতা। অধরা সাদাফকে স্বামী হিসেবে পেয়ে শুধুই দেখেছে অর্থ সম্পদের প্রাচুর্যে গড়া এক সম্পদশালী অাত্ব-অহংকারে ভরপুর মানুষের প্রতিচ্ছায়া। . আর তাই অধরা মিছে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আর সাদাফের সাথে থাকতে চায়নি। তাই অধরা সব ছেরে তার কলিজার টুকরো সন্তান মুনকে নিয়ে সাদাফের প্রাচুর্যে গড়া অট্টালিকা থেকে নিজ পিতৃগৃহে চলে আসে। অধরা চায়না তার কলিজার টুকরো সন্তান প্রাচুর্যে গড়া অট্টালিকার ছোয়ায় থেকে তার বাবার মতো মমত্ববোধ হীন হোক। অধরা তার মুনকে মানুষের মতো করে মানুষ গড়তে চায়। . সতের বছরের ব্যবধানে মুন আজ অনেক বড় হয়েছে। অধরার একমাত্র অবলম্বন মুন এবার মেডিকেলে চান্স পেয়ে ভর্তি হয়েছে। মুন পথিমধ্যে যেতে যেতে দেখতে পায় একজন উষ্কখুষ্ক চুলের মধ্যবয়স্ক লোক রাজপথের মধ্য দিয়ে হেটে চলছে। পিছন থেকে দ্রুত বেগে ছুটে আসা ট্রাক প্রতিনিয়ত হুইসেল বাজিয়ে চলছে কিন্তু লোকটির সরে যাবার কোন নামগন্ধ নেই। মুহূর্তেই দৌড় দিয়ে এসে মুন লোকটিকে নিয়ে মাঝ রাস্তা থেকে কিনারায় লাফ দেয়। কিন্তু দ্রুত বেগে ছুটে আসা ট্রাকের হাত থেকে অজ্ঞাত লোকটিকে বাঁচাতে গিয়ে মুন খানিকটা চোট পায়। . ছেলের চোটের খবর পেয়ে দিশেহারা অধরা হাসপাতালে ছুটে আসে। ভিতরে আইসিওতে ডাক্তারদের নিবিড় পর্যবেক্ষনে রয়েছে অধরার কলিজার টুকরো মুন আর বাহিরে গেটে কে যেনো অপেক্ষায় এদিকওদিক ছোটাছুটি করছে। অধরা আরো এগিয়ে গেলে দেখতে পায় এ যে সেই সাদাফ, যে প্রাচুর্যের ঘোড়ে ভুলে যেতে বসেছিলো প্রিয়জনের ভালোবাসা। নির্মম বাস্তবতায় আজ বিত্তশালী সাদাফ সব হারিয়ে গন্তব্যহীন পথের পথিক। . ভিতর থেকে ডাক্তার বেড়িয়ে এসে জানায় মুন সম্পূর্ণ আশঙ্কা মুক্ত। অধরা ছুটে যায় তার সন্তানের কাছে। আর বাইরে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকে সাদাফ। খানিকবাদে অধরা ও মুন বেরিয়ে আসে। স্ত্রী-সন্তানকে দেখে সাদাফ তাড়াহুড়ো করে আবার গন্তব্যহীন পথ চলতে শুরু করে। পিছন থেকে মুন সাদাফকে বাবা বলে ডাকতে শুরু করে। "বাবা, চলো আমাদের সাথে যাবে।" সাদাফ অশ্রু ভেজা চোখে জীবনে প্রথমবারের মতো তার সন্তানকে জরিয়ে ধরে। অতঃপর মুন তার বাবা-মাকে সাথে নিয়ে আবার পুনরায় সুখের সংসারের সূচনা করে। যেখানে অর্থ-সম্পদের প্রাচুর্য না থাকলেও রয়েছে ভালোবাসার অসীম প্রাচুর্য।।।। . . [প্রাচুর্যে গড়া অট্টালিকা হয়তো পারে সমাজে সাময়িক সময়ের জন্যে মানসম্মান, প্রভাবপ্রতিপত্তি বৃদ্ধি করতে, কিন্তু কখনো সম্পূর্ণ রুপে একজন মানুষকে সুখী করতে পারে না। পরস্পর সুসম্পর্ক ও ভালোবাসার ভিত্তি মজবুত করতে প্রাচুর্য কখনো প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে না, পারষ্পারিক বোঝাপড়া ও সর্বদা একে অপরের পাশে থাকা থাকায় পারে একটি সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত করতে]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now