বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রেম ও ঘৃণার গল্প

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X .. ... ঘটনা (১)...... .. ... রকি এখন একটি কফিশপে বসে আছে। আসলে বসে নেই।একজনের জন্য অপেক্ষা করছে। মিমি... মিমির জন্যই অপেক্ষা করছে। রকি কফিশপের দরজার দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ দেখলো মিমি দরজা দিয়ে ঢুকছে । আজকে মিমিকে লাল শাড়ী আর স্লিভলেস ব্লাউজে মাত্রাতিরিক্ত আকর্ষণীয় লাগছে। সুতীক্ষ্ণ ভ্রু যুগল, ঠোটে টকটকে লাল লিপস্টিক, ঘন কালো রেশমি খোলা চুল বাতাসে উড়ছে, চোখে কাজল আর মাতাল করা বাঁকা চাহনি.... রকি অবাক হয়ে হয়ে মিমির রুপের ঘোরের মধ্যে চলে গেল। মিমি কখন এসে টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সেদিকে রকির খেয়ালই নেই। মিমি বুঝতে পেরে রকির হাতের একটা আঙুল মুখে নিয়ে কামরে দেয়।তখন রকির সম্বিত ফেরে। রকি ২টা ব্লাক কফি ওর্ডার করে মিমি কে বসতে বলে.... ওয়েটার কফি দিয়ে যায়....... .. ... :কি দেখছিলে অমন করে? :তোমাকে.... :আজকে নতুন করে দেখছো বুঝি? :আজকে নয় প্রতিবার নতুন করেই দেখি তোমাকে...আচ্ছা তুমি জ্বীন পরী টাইপের কিছু নয়তো? :মানে? :মানে হল, একটা মেয়ের এতটা সুন্দরি হবার কোন দরকার নেই।মাঝে মাঝে মনে হয় এই বুঝি হারিয়ে যাবে জ্বীন পরীর মত। :তাই বুঝি? বেঁধে রাখলেই পারো তোমার কাছে... সেটা তো করবে না, তাই না? :সময় দাও... সময় হলে সব হবে। :নিচ্ছো তো সময়.. সাথে আমাকেও... পুরোটা উজার করেই দিচ্ছি আর তুমিও চেটেপুটেই সব টা নিচ্ছো। :হয়েছে... কফি শেষ করো তোমাকে নিয়ে আজ লং ড্রাইভে যাবো..... :কোথায় যাবে....??? :যেখানে ইচ্ছে..... কেন তোমার আপত্তি আছে? :আপত্তি থাকলে রাত ৮টার পর তোমার ডাক শুনে সব ফেলে কফিশপে আসতাম রকি? তুমি বুঝোনা আমাকে?? :বুঝি মিমি... বুঝি.... নাও কফি শেষ করো... . অতঃপর কফি শেষ করে মিমি উঠে গিয়ে রকির গাড়িতে বসে পড়লো। রকিও এসে গাড়ি ড্রাইভিং শুরু করলো সাথে মিমিকে কাছে টেনে নিল চলন্ত গাড়িতে।রকি আর মিমি দুজনেই চলন্ত গাড়িতে ঘনিষ্ঠ হওয়াটা অনেক উপভোগ করে..... .. ... কি ভাবছেন...... রকি আর মিমি প্রেমিক প্রেমিকা? স্বামী স্ত্রী? একে অন্যের বাগদত্তা? আরে এসবের কিছুই না..... রকি হল মিঃ রকি সাহেব। বিবাহিত, বয়স ২৯। বিয়ের বয়স ৩বছরে পড়েছে। একটা বেসরকারি ব্যাংক এর ব্রাঞ্জ ম্যানেজার। . আর মিমি হল মিসেস মিমি আহমেদ। বিবাহিত, বয়স ৩১। স্বামী প্রবাসে থাকে।ঢাকায় একা ফ্লাটে থাকে। স্বামী বছরে একবার করে আসেন দেশে।মিমির বিদেশে ভাল লাগে না তাই দেশেই তার স্বামীর নিজস্ব ফ্লাট এ থাকে। .. ... মিমির ATM কার্ড এ সমস্যার কারনে রকির ব্রাঞ্জে যায় একদিন মিমি। সেদিন মিমির হাতে সময় খুব কম থাকার কারনে মিমি কার্ড টা রকি কে দিয়ে আসে আর সাথে তার মোবাইল নাম্বার দেয়া নেয়া হয়। তারপরের দিন রকি কার্ড ঠিক করিয়ে মিমি কে ফোন দিয়ে ডেকে কার্ড দিয়ে দেয়। এবং সেদিন ভাল ভাবেই পরিচয় পর্ব টা শেষ করে। .. ... তারপর ধিরে ধিরে দুজনের কথা, মাঝে মাঝে দেখা করা। আর মিমি সারাদিন একা একা বোর হয়ে যেতো তাই রকিও মিমি কে সময় দেয়া শুরু করে। এদিকে মিমি একটা বিবাহিত মেয়ে একা থাকে তাই রকিও তার সংস্পর্শ টা উপভোগ করতে থাকে।হাজার হোক ছেলে মানুষ। আর ছেলেদের অন্যদের বউকে কাছে পাবার একটা আলাদা টান থাকে। রকিও ব্যতিক্রম ছিল না।আর মিমির ও জৈবিক চাহিদা ছিল।একটা ভরা যুবতী মেয়ে একা থাকা টা অনেক কষ্টের। তাই কয়েকদিন এভাবে চলার পর রকি রেগুলার সন্ধ্যার পর মিমির ফ্লাটে যেতে শুরু করলো।নিজের আর মিমির দুজনেরই জৈবিক চাহিদা পুরনের জন্য।যদিও রকি বিবাহিত সেটা মিমি আর রকি দুজনেই জানে। এভাবেই দুজনেই অবৈধ সুখে নিজের জৈবিক কামনার সাগরে মিশে যেত প্রায় প্রতি দিনই মাত্র ১০-১৫দিনের পরিচয়েই। .. ... আজ লং ড্রাইভ এ রকি আর মিমি দুজনেই খুব বেশি উত্তেজিত হয়ে গেছে।কারন আজকে মিমি কে অনেক বেশি সেক্সি আর কামুক লাগছে।তাই তারাতারি করে রকি মিমির ফ্লাটের উদ্দেশে গাড়ি ঘোরায়। কিছুক্ষনের মধ্যেই মিমির ফ্লাটে চলে আসে।তারপর দুজনের অবৈধ যৌনলীলা শেষ করেই ১০টার মধ্যেই পতিব্রতা স্ত্রী এর গুণধর স্বামী হয়ে বাসায় ফিরেই স্ত্রী কপালে একটা চুম্বন দিয়ে ঘরে ঢুকবে।তাতেই তার স্ত্রী এত এত এত খুশি যে তার মতে পৃথিবীর শ্রেষ্ট স্বামীর ঘর করতে পেরে নিজেকে ধন্য ভাবতে ভাবতে ঘুমাই যাবে এই রকির বুকে মাথা রেখে.... .. ... ঘটনা (২)...... .. ... :আমি এভাবে পারছি না আর নিরুপমা। তুমি কি চাইছো সেটা বলে দিলেই পারো। কেন এমন করছো আমার সাথে? কি দোষ করলাম আমি।তুমি প্রতিনিয়ত প্রতিদিন ইচ্ছে করেই ঝগড়া করছো আমার সাথে সেটা আমি বুঝতে পারতেছি।কিন্তু কেন এসব করছো সেটা আমি বুঝতেছি না।প্লিজ আমার কোন কিছুতে তোমার সমস্যা হলে আমাকে বলো আমি সেটা সমাধান করার চেষ্টা করবো। . :পারবে না তুমি নিলয়। :বলেই দেখো একবার। : তাহলে শোনো, আমার সমস্যা টা হলো তুমি.... তুমি নিলয় আমার সমস্যা... তোমার সাথে আমি আর আমাদের সম্পর্ক টা টানতে চাচ্ছি না।আমি ভেবেছিলাম কয়েকদিন ঝগড়া ঝাটি রাগারাগি করলে তুমি নিজেই ব্রেক আপ করে চলে যাবে।কিন্তু না সেটা আর হচ্ছেই না তুমি তো জোঁকের মত পিছে লেগে আছো। . :এসব কি বলছো নিরুপমা?কিছুই বুঝতেছি না আমি? আমাদের ৪বছরের সম্পর্কের পর তুমি আজ এসব কি বলছো? . :যা বলছি ঠিক ই বলছি। নিলয় তোমার সাথে আমার আর যাচ্ছে না।হ্যা আমি জানি তুমি আমাকে অনেক ভালবাসো আমিও তোমাকে অনেক #ভালবাসতাম।হ্যা নিলয় আমি তোমাকে ভালবাসতাম।কিন্তু এখন আর তোমাকে ভালবাসি না আমি।তোমাকে ভালবাসতে পারছি না। . :কিন্তু আমার কি দোষ? আমি কি করছি না তোমার জন্য? আর কি চাও বল আমি তোমার জন্য সব করবো... . :আমি জানি নিলয় তুমি আমার জন্য সব করতে পারো আর পারবে সেটা আমি জানি।কিন্তু নিলয় আমি আর চাই না তুমি আমার জন্য কিছু করো।তুমি তোমার নিজের জন্য কিছু করো আমার জন্য নয়। আমাকে আমার মত থাকতে দাও। . :কিন্তু নিরুপমা, তোমাকে নিয়েই তো আমার সব কিছুর শুরু আর শেষ হয়... তোমাকে ছাড়া নিজেকে কল্পনা করতেও কষ্ট হচ্ছে.... . :নিলয়, এইসব ইমোশনাল কথা বলে লাভ নেই।তোমাকে তাহলে সত্যি কথা টা বলেই দেই.... . . :কি সত্যি কথা নিরুপমা???? . :সত্যি টা হল, আমার আব্বুর বন্ধুর ছেলের সাথে আমার আব্বু আমাকে বিয়ে দিতে চাইছে।আর ছেলে বিদেশ থেকে লেখাপড়া শেষ করে দেশে এসেছে মাস তিনেক হয়।আর এক মাস আগে আমাকে প্রোপজ করেছিল।আমিও তাকে হ্যা বলে দিয়েছি। আর আমি এখন ওকেই ভালবাসি।আর সে আমাকে পাগলের মত ভালবাসে।অনেক হ্যান্ডসাম, গুডলুকিং, আমার মনের মত সে।তাই আমার তোমার উপর ভালবাসা টা এখন আর নাই।এখন আমার সব টা জুড়ে সে।তাই তুমিও অন্য কাউকে নিয়ে নতুন করে শুরু করো। আমি ওকে তোমার আর আমার সম্পর্কের কথা বলি নি আর আমি চাই না এটা সে কোনভাবে জানতে পারুক... . :নিরুপমা...... এমন করে তুমি কিভাবে বলতে পারছো? আমি তোমাকে ভালবাসি আর কতটা ভালবাসি সেটা তো তুমি জানই... . :হ্যা জানি... আর জানি বলেই বলছি, নিলয় তুমি আমাকে ভালবাসো আর আমি এখন তোমাকে ভালবাসি না। ছোট্ট একটা কথা... আমি এখন অন্য একজন কে ভালবাসি। আর আমি চাই না তুমি আমার জীবনে আর থাকো.... . :এভাবে বলো না প্লিজ অনেক কষ্ট হচ্ছে নিরুপমা... . :প্লিজ নিলয় এইসব নেকামি ছাড়ো... তুমি আর আমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করিও না আর হ্যা যদি আমাকে এক সেকেন্ড এর জন্য ও ভালবেসে থাকো কখনো তাহলে প্লিজ আমার কোন ক্ষতি করতে যেও না.... . :নিরুপমা, তোমার বলা কথা গুলো যদি সত্যি হয় তাহলে তুমি একদিন পস্তাবে.... হ্যা আজকের পর থেকে আমি আর তোমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবো না আর আজকের পর থেকে তুমি নিলয় নামের আর কাউকে তোমার তীর সীমানায় দেখবে না কখনোই। কিন্তু... এমন একটা দিন আসবে যখন তুমি এই নিলয় কে প্রতি টা সেকেন্ডে মনে করবে।প্রতি টা মুহুর্তে এই নিলয় কে খুজবে একটু মাফ চাওয়ার জন্য। কিন্তু আফসোস সেদিন তুমি আমাকে কোথাও পাবে না...... আর আমি বেঁচে থাকতে তোমার কোন ক্ষতি করবো না.... শুধু একটা কথা মনে রেখো... "সুখ শান্তি আল্লাহর দান..... ভাল থেকো চললাম......... .. ... এমন করেই তিন তিনটে বছর পেরিয়ে গেছে... সেদিনের পর নিলয় কে আর কখনোই কোথাও দেখতে পায়নি নিরুপমা। একবার নিরুপমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টাও করেনি নিলয়।নিরুপমা ও তার স্বামী সংসার নিয়ে অনেক সুখী ই আছে। .. ... ঘটনা (৩) .. .. সন্ধ্যায় বাসায় আসতেই কাজের মেয়েটা একটা পার্সেল বাক্স হাতে নিয়ে এসে বললো, ম্যাডাম একটা লোক এসে এই পার্সেল বক্স টা আর এই খাম টা দিয়ে আপনাকে দিতে বলছে। আর বলছে পার্সেল টা খুলে দেখার পর যেন খাম টা খুলেন.... বলেই একটা পার্সেল এর বাক্স এর বেশ সুন্দর করে সাজানো আর আর্ট করা একটা খাম দিয়ে চলে গেল কাজের মেয়েটি। মেয়েটি কাজের মেয়ে হলেও মোটামুটি শিক্ষিত।এস এস সি পাশ করেছিল।কিন্তু অভাবের জন্য এখানে কাজের মেয়ের কাজ করে।বাড়ির দেখাশুনা আর রান্নাকরা টাই কাজ.... .. ... বাক্স টা হাতে নিয়ে উপরে চলে গেল নিরুপমা। তারপর ফ্রেশ হয়ে এসে বাক্স টা খুলে দেখতে পেল কয়েক টা ডিভিডি ডিস্ক। সাথে উপরে একটা ছোট্ট চিরকুট। তাতে লিখা.... "প্রতিটা ডিস্ক শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একা একা দেখবেন".... .. ... নিরুপমা কিছুটা অবাক হল... কারন পার্সেল টা কে দিয়েছে তার কোন নাম নেই।আবার ডিস্ক গুলো প্রতিটা একা একা দেখতে বলছে। নিরুপমা ভাবলো তার কোন বন্ধু বা বান্ধবী হয়তো মজা করে মুভি বা স্কুল কলেজের পুরোনো স্মৃতি গুলো মনে করিয়ে দেবার জন্য সেগুলোই ডিস্কের ভিতরে দিয়েছে। কারন কয়েকদিন পরেই যে নিরুপমা ২৫তম জন্মদিন। প্রতিবার তার জন্মদিনে যা যা করে তারা নিরুপমার ধারনার বাইরে থাকে সব।তাই এবার ও হয়তো এমন কিছুই প্লান করেছে ফাজিল গুলো ভাবতে ভাবতেই খুশিতে মন টা ভরে উঠলো। .. ... কাজের মেয়েটিকে ডেকে এক কাপ চা দিতে বললো। মেয়েটি চা দিয়ে গেলে নিরুপমা ভাবতে লাগলো ও আসতে তো এখনো অনেক দেরি তাই বসে বসে ডিস্ক গুলো দেখি। যেই ভাবা সেই কাজ... ল্যাপটপ টাকে বিছানার উপরে নিয়ে সিরিয়াল করার ডিস্ক গুলো থেকে ১নাম্বার ডিস্ক টা ল্যাপটপ এ ঢুকিয়ে প্লে করে দিল। এবার আর নিরুপমার হাসি থামতেছিল না। কারন ডিস্ক এ ভিডিও ছিল আর ভিডিও তে ছিল নিরুপমার স্বামী শাওয়ার নিয়ে বের হচ্ছে খালি গায়ে টাওয়েল পড়ে। নিরুপমা ভাবলো ফাজিল গুলো এই মানুষ টাকেও ছাড়লো না। .. ... নিরুপমা দ্বিতীয় ডিস্ক টি ওপেন করলো..... তারপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ার অবস্থা তার মাথার উপর।হ্যা এটাতেও তার স্বামী একটা মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে পাগলের মত কামনার চুম্বন দিচ্ছে ঠোটে, গালে ঘারে, গলায়।আর তার সোহাগে মেয়েটিও সোহাগী হয়ে যাচ্ছে। নিরুপমা আর দেখতে পারলো না... ডিস্ক টা বের করে ফেললো.... .. ... আবার তৃতীয় ডিস্ক টি ঢুকিয়ে ওপেন করলো... একই ঘর একই বিছানা একই মেয়ে।নিরুপমা স্বামী মেয়েটিকে বিছানায় শুইয়ে আদরে আদরে ভরে দিচ্ছে। আবার বের করে ফেললো ডিস্ক টি.... .. ... এবার চতুর্থ ডিস্ক টি ঢুকিয়ে ওপেন করলো নিরুপমা... এবার আর অন্য কিছু নেই... শুরুতেই চরম নোংরা যৌনলীলা সেটাও আবার তার স্বামীর সাথে অন্য একটা নারীর। .. ... একে একে দশম ডিস্ক পর্যন্ত শেষ করে ফেললো নিরুপমা... প্রতিটা ডিস্কেই তার স্বামীর সাথে ওই নারীর চরম নোংরা যৌনলীলা তে ভরা। নিরুপমা আর দেখতে পেল না.... সব বন্ধ করে বালিশ জড়িয়ে কাঁদতে লাগলো।হঠাত মনে হল একটা চিঠির খাম ও তো ছিল.... নিরুপমা খাম টা ছিড়ে একটা চিঠি পেল....... পড়তে শুরু করলো চিঠি টা...... .. ... "নিরুপমা নিরুপমা নিরুপমা....... আমার উপমাহীন নিরুপমা....... ভাল আছো তো.... জানি ভাল নেই... ভাল থাকারো কথা না। আশাকরি ডিস্ক গুলো দেখেছো। এই সেই ছেলে যে তোমার কাছে বেষ্ট চয়েজ ছিল।যার জন্য আমার চার বছরের ভালবাসা পায়ে দলে পিসে ফেলে তাকে বিয়ে করেছিলে সুখী হবার জন্য।সুখ কপালে থাকে।আল্লাহ্‌র দান। .. ... তোমার স্বামীকে যে মেয়েটার সাথে যৌনকর্ম লিপ্ত দেখলা সে ঢাকার একজন নিম্নমানের পতিতা... হ্যা পতিতা। বুঝো নাই?? তোমাদের ভাষায় বেশ্যা।যার বুকে প্রতিরাতে তোমার স্বামী সুখ খুজে পায় যেটা হয়তো তোমার কাছে পায় না অথবা যে সুখ টা তুমি দিতে পারো না। . আচ্ছা ভাবো তো... তোমার স্বামী তার ঐ ঠোট দিয়ে একটা বেশ্যার ঠোটে কামনার চুমু দেয়।আবার সেই ঠোট দিয়ে তোমার ঠোটেও কামনার চুমু দেবে??? যেই হাত দিয়ে একটা বেশ্যা কে কামবাসনা চরিতার্থ করার জন্য উত্তেজিত করে সেই হাতে তোমাকে ছুয়ে দিবে? যেই বুকে মাথা রেখে তুমি শান্তির ঘুম নিদ্রা যাও সেই বুকে চেপে ধরে এক বেশ্যা কে। তোমারি স্বামী.... .. ... ভাবো প্রতিরাতে একটা বেশ্যার কামনার ঘামে সিক্ত শার্ট টা গন্ধ টা তোমার কাছে কেমন লাগবে? কেমন লাগবে যখন তোমাকে সেই মানুষ টা আদর করে কাছে টেনে নিবে যে কিনা শরীরের কামনা মেটানোর জন্য একটা বেশ্যা কেও কাছে টানে..... তার কাছে তুমি আর সেই পতিতার পার্থক্য কোথায়? .. ... বাদ দাও এসব.... আর হ্যা শুনো এই ছেলেটির ঘর ই তোমার করে যেতে হবে আমৃত্যু। কারন তাকে তো তুমি ভালবেসেই বিয়ে করেছো। তাই না? এখন ভাবো, প্রতিরাতে এই মানুষ টা তোমাকে স্পর্শ করবে।কামনা মেটানোর জন্য কাছে টানবে? আচ্ছা নিরুপমা তোমার ঘেন্না করবে না? ঘেন্নায় শরীর টা রি রি করে উঠবে না? বমি বমি করে গা টা গুলিয়ে যাবে না যখন বেশ্যার ঠোটে কামনার চুম্বন দেয়া ঠোট তোমার ঠোটে চেপে ধরবে...??? .. ... কি আর করবে বলো?? কিছুই করার নেই তোমার??? এখন থেকে স্বামী নামক পশুটার হাতে প্রতিরাতে নিরবে ধর্ষিত হবে তাই না??? কি বলবে তোমার স্বামী কে?? কি জিজ্ঞেস করবে?? কেন এসব করে সে?? কিভাবে প্রশ্ন করবে তুমি??? তোমার স্বামী তাহলে তোমাকে প্রশ্ন করবে তুমি এসব কিভাবে জানো?? কি উত্তর দিবে তুমি??? বলবে তাকে যে আমার এক্স বয়ফ্রেণ্ড এগুলো দিয়েছে আমাকে প্রমান সহ... কিন্তু সেটা তো তুমি করতে পারবে না।কারন তুমি তো তাকে বলই নি যে তোমার আগে একটা ছেলের সাথে ৪বছরের সম্পর্ক ছিল। তুমি তো তাকে বলেছো সেই তোমার প্রথম প্রেম, সেই তোমার প্রথম পুরুষ। .. ... এখন কথা হল, তুমি না হয় বলেই দিলে যে তোমার এক্স বয়ফ্রেণ্ড দিয়েছে, তখন সে তোমার দিকে সন্দেহের তীর ছুড়বে।তোমার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। কারন, আব্বু বলে, "অসুস্থ লোকের চিন্তাভাবনাও অসুস্থ" যেহেতু সে নিজের কামনার জন্য ঘরে বউ রেখে বেশ্যার কাছে যেতে পারে তাহলে সে তোমার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলতে আমার মনে হয় না এক সেকেন্ড সময় নিয়ে ভাববে।তার উপর তুমি আগেই মিথ্যে বলেছো যে তোমার সম্পর্ক ছিল না।... .. ... আজ থেকে তোমার শাস্তি শুরু... সে শাস্তি টা শুধু তুমিই পাবে বিনা আঘাতে। মনে পড়ে আমি বলছিলাম... আমি তোমার সাথে যোগাযোগ করবো না কিন্তু তুমি প্রতিটা সেকেন্ড আমাকে মনে করবে।আজ থেকে সেই সময় টার শুরু নিরুপমা.... তোমাকে বলেছিলাম তোমার কোন ক্ষতি করবো না আর হতেও দিবো না... তোমার কিছুই করি নি অথচ আমার ভালোবাসার অপমানের, আমার সাথে মিথ্যে প্রেমের প্রতারনার শাস্তি তোমাকে দিয়ে গেলাম আমৃত্যু। এত দিন তো তুমি দেখেছো আমি কতটা ভাল বাসতে পারি..... আজ থেকে অনুভুব করিও আমি কতটা ঘৃনা করতে পারি। তুমি আমার ভালবাসাটা দেখেছিলে... ঘৃনা টা দেখবা না??? আমার প্রেম তো তুমি দেখেছো এখন ঘৃনা টা দেখিও... প্রেমের গল্প শুনেছো ঘৃনার গল্প টা অনুভব করিও... আজ থেকে দেখিও.... খুজে পাবে না আমাকে.... আজ থেকে তোমার শাস্তি শুরু......"" REVENGES HAS MANY FACE'S .. ... নিরুপমা চিঠিটা শেষ করে চিৎকার করে কেঁদে উঠলো আর বলতে লাগলো নিলয়.... এই শাস্তির চেয়ে তুমি আমাকে মেরে ফেললে না কেন??? প্লিজ নিলয় তুমি আমাকে মেরে ফেলে যাও তবুও আমি এই শাস্তি সইতে পারবো না নিলয়.... আমাকে মাফ করে দাও নিলয়... আমাকে মেরে ফেল তবুও আমি এই শাস্তি নিতে পারবো না.... রকি তুমি এতটা খারাপ হতে পারো না রকি.... তুমি আমার বিশ্বাস এভাবে ভেঙে দিতে পারো না রকি.... .. ... ঘটনা (৪) .. ... মিঃ রকি সাহেব লাঞ্চের পর অফিসে বসে কম্পিউটারে কাজ করছে। হঠাত তার ফোনে একটা আননোন নাম্বার থেকে কল আসে। রকি ফোন টা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে বলে উঠে, "নিজের বল থাকলে নিজের বল টাই খেলতে হয়... অন্যের বল খেলতে গেলে যে পা ভাঙতে পারে সেটা তো জানা দরকার ছিল আপনার মিঃ রকি সাহেব" রকি বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলো কি যা তা বলছেন?? কে আপনি? ওপাশ থেকে বলে উঠলো, আপনি রোজ রাতে যে ফুল টা নিয়ে খেলা করেন সেই ফুলের মালিক আমি। আর বাকি টা জানতে আপনার ই-মেইল টা একটু চেক করুন, বুঝতে পারবেন.... আমি ১০মিনিট পর আবার কল দিবো... বাই. .. ... রকি তড়িঘড়ি করে নিজের মেইল ওপেন করে দেখে যে ৩মিনিটের একটি ভিডিও ক্লিপ যেখানে মিমি আর রকি কে যৌনকার্য লিপ্ত অবস্থায় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। রকি মিমিকে ফোন দেয় সাথে সাথে জিজ্ঞেস করে এসব কে করলো। মিমি বলে তার স্বামী খবর না দিয়েই হঠাত করে দেশে চলে এসেছে আর আগে থেকেই তার ফ্লাটে সে CCTV ক্যামেরা ফিট করে রেখেছিল। তাই সব জেনে গেছে.... এখন তার আর কিছু করার নেই। .. ... ১০মিনিট পর রকির নাম্বারে আবার সেই নাম্বার থেকে ফোন আসলো :কি রকি সাহেব কি বুঝলেন? ট্রেলার টা কেমন লাগলো।এমন ৩ঘন্টার ১০টা ফুল মুভি আমার কাছে আছে আপনার। :আপনি কি চান? আর এসব কি?? এগুলো দিয়ে কি বুঝাতে চাচ্ছেন? : কই কিছুই নাতো... আমি শুধু বলছি আপনি মিমির কার্ডের যে একাউন্ট নাম্বার টা জানেন সেটাতে আজ অফিস টাইম শেষ হবার আগেই ৫লক্ষ টাকা ডিপোজিট করবেন... যেটা আপনার জন্য অনেক ছোট একটা কাজ.... :আপনার মাথা খারাপ হয়ে গেছে এত টাকা দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব না।আপনি যা ইচ্ছা করেন, নেট এ ভিডিও ছেড়ে দেবার ভয় আমাকে দেখিয়ে লাভ নেই। .. ... : আহ হা হা রকি সাহেব মাথা ঠাণ্ডা রাখুন.. উত্তেজিত হবেন না। কে বললো আমি ভিডিও গুলো নেট এ দিবো? আমি তো শুধু ভিডিও গুলোর ৩টা কপি করবো আর প্রথম কপি আপনার আব্বু আম্মুর কাছে... দ্বিতীয় কপি আপনার স্বশ্বুর স্বাশ্বুরীর কাছে.... আর তৃতীয় কপি মানে ক্লাইম্যাক্স কপি টা আপনার প্রিয়তমা স্ত্রী কে গিফট করবো। কেমন হবে বলেন তো.....? এখন আপনার কাছে আর ২ঘন্টা সময় আছে... জলদি করুন..... .. ... রকি মহা বিপাকে পড়ে গেল। নিজের একাউন্ট এ মাত্র ৩লক্ষ টাকা আছে।ভিডিও গুলো কোন ভাবেই কারো কাছে পৌছানো যাবে না।তাই যে করেই হোক টাকা টা ডিপোজিট করতে হবে।তাই নিরুপমা একাউন্ট থেকে আর নিজের মিলিয়ে ৫লক্ষ টাকা মিমির একাউন্ট এ ডিপোজিট করে দেয়। আর দশ মিনিটের মধ্যেই মিমির একাউন্ট থেকে টাকা গুলো অন্য একটা সিক্রেট একাউন্ট এ ট্রানফার করে নিয়ে মিমির একাউন্ট টা ক্লোজ করে দেয়। .. ... ১০মিনিট পর রকির নাম্বারে ফোন আসে। আর বলে আপনার গাড়ীর বনেট টা চেক করবেন.... আপনার কাঙ্ক্ষিত ডিস্ক গুলো পেয়ে যাবেন.... বাই........ .. ... রকি নিচে নেমে নিজের গাড়িতে গিয়ে ডিস্ক গুলো পেয়ে পুড়িয়ে ফেলে।স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বাসায় চলে যায় নিরুপমা কাছে..... .. ... ঘটনা (৫) .. ... :এই নাও রুহি (মিমি আহমেদ সেই পতিতার আসল নাম) এখানে ৫লক্ষ টাকা আছে।এটা দিয়ে নতুন করে নিজের জীবন টা সাজিয়ে নিও। এই শহর ছেড়ে নতুন কোথাও চলে যাইও। গিয়ে নতুন করে শুরু করিও একটা ভাল ছেলে দেখে বিয়ে করে সংসার করিও এই নোংরা জীবন ছেড়ে। :ভাইয়া এত গুলো টাকা কিসের জন্য? :এই টাকা গুলো রকির কাছে নেয়া টাকা।এগুলো আমার লাগবে না।তুমি নাও। : আচ্ছা ভাইয়া.... কিন্তু ভাইয়া একটা প্রশ্ন থেকে গেল মনে..... :কি প্রশ্ন? :আপনি নিরুপমা আপুকে শাস্তি দেবার জন্য আমাকে দিয়ে রকি কে ফাদে ফেলে আপু কে শাস্তি দিলেন কিন্তু রকি কে শাস্তি দেবার কি দরকার ছিল? রকি তো কোন দোষ করেনি. .. ... : হা হা হা হাসালে তুমি আমাকে রুহি। রকি সেই মানুষ টাকে ঠকিয়েছে অন্য একটা মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে যাকে আমি আমার থেকে বেশি ভালবাসি। তাকে মাফ করি কি করে?? : ভাইয়া, আপনার মন টা অনেক ভাল। আপনি যদি সেদিন ওই কুত্যাগুলোর হাত থেকে আমাকে বাঁচিয়ে হাসপাতালে না নিতেন তাহলে হয়তো আমি সেদিন মরেই যেতাম। :পুরোনো কথা বাদ দাও... আজকের পর থেকে আর যেন তোমাকে শরির বিক্রির রাস্তায় যেতে না হয়....। যাও এই টাকা দিয়ে নিজের জীবন নতুন করে সাজাও। :আপনি কি করবেন ভাইয়া.... :আমি? ছেড়ে যাবো এই শহর। এই শহরে আমার আর কোন কাজ নেই...... ভাল থেকো তুমি.... যাও...... .. ... রুহি মেয়েটা চলে যাচ্ছে.... ওহ হ্যা বলা হয়নি.... আমি নিলয়... আমি ই এইসবের মাস্টার প্লানার। রুহি মেয়েটা একজন পতিতা ছিল।কোন এক রাতে রাস্তায় ৫-৬জন মিলে ওকে ধর্ষন করে ফেলে রেখে যায়।পতিতা বলে কেউ তাকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিল না।সেদিন আমি ওকে হাসপাতাল এ নিয়ে যাই আর নিজের এক ব্যাগ রক্ত দেই। সেদিনের মত ওর জীবন বেঁচে যায়। মেয়েটি সুস্থ হলে আমাকে কি দেবে ভেবে পাচ্ছিল না। তাই আমি আমার এই সাহায্য টুকু করতে বলি.... তখনি সে রাজি হয়ে যায়..... .. ... নতুন একটা ফ্লাট ভারা নিয়ে এক মাসের জন্য ওর থাকার ব্যবস্থা করি। তারপর রকির ব্রাঞ্চে তার ATM কার্ডের সমস্যা , মিমি নামে পরিচয়,নাম্বার দেয়া নেয়া, বিয়ে কাহিনী, প্রবাসী স্বামীর গল্প, ফ্লাটে নিয়ে আসা, সেক্স, ভিডিও সব আমার প্লান মতই হয়...... আর আজ আমার প্রতিশোধ নেয়া হয়ে গেছে.... সাথে মেয়েটির জীবন টাও হয়তো একটা কুল খুজে পেয়েছে.... ৫লক্ষ টাকায় হয়তো নতুন করে জীবন টা সাজাতে পারবে নতুন কোন শহরে...... আর আমি?? আমার কেউ কখনোই ছিল না... আমিও ছেড়ে যাবো নিরুপমার শহর... আমার কাছে বেঁচে থাকাটাই জীবন.... ভাল থাকা টা বিলাসিতা....... REVENGES HAS MANY FACES... . < সমাপ্ত > .. ... প্রেম ও ঘৃণার গল্প.... লেখকঃ নিলয় আহসান নিশো . .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now