বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ-১৬

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X (গল্পটিতে কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে, তাই অপ্রাপ্তবয়স্ক পাঠকরা দয়া করে গল্পটি পড়বেন না) "শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ" লেখক : গাই. এন. ক্রিস্টি অনুবাদ : অনীশ দাস অপু ------------------------ পর্ব ১৬ সন্ধ্যার পর ক্রিস বন থেকে বেড়িয়ে এলে চুম্বনের আশায় স্বামীর সামনে দাঁড়াল ক্যারেন। ক্রিস তাকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে বলল, " ভাল লাগছে না। " তারপর কি মনে হতে জিজ্ঞেস করল, " তুমি কি কাঁদছিলে?" " কাঁদব না। তুমি যা কান্ড করছ?" " আমি আবার কি কান্ড করলাম!" ক্রিস বিস্মিত। " চলো, কালই আমরা রিজেন্ট পার্কে ফিরে যাই।" " কোথায়? এসপেন ছেড়ে?" " হ্যাঁ।" " অসম্ভব! " টেবিলে সজোরে ঘুঁষি মারল ক্রিস। " কিন্তু তোমার শরীর ভাল নেই।" " কে বলল?" রেগে উঠল ক্রিস, " আমার শরীর একদম ভাল আছে। যাব না এখান থেকে।" " তাহলে আমি একাই যাব", জোর গলা ক্যারেনের। ক্রিস চোখ কুঁচকে কি যেন ভাবল। তারপর বলল, " ও আচ্ছা, ঠিক আছে যাব। কিন্তু গোছগাছ করতেও তো দু-তিনদিন সময় লাগবে।" ক্যারেন খুশী হয়ে উঠল। ক্রিস বলল, " তাহলে মার্টিনি হয়ে যাক।" কিন্তু মার্টিনি মুখে দিতেই কেমন সবকিছু গুলিয়ে গেল। অথচ এই পানীয়টি আগে তার কাছে কত প্রিয় ছিল! ক্যারেন লক্ষ্য করল, ক্রিস ভাল করে খেতেই পাচ্ছে না পানীয়টা। ক্যারেন এবার পর্ক চপ এনে দিয়ে বলল, " নাও সলিড খাবার খাও। " সেটাও মুখে দিতে পারল না ক্রিস। বলল, " দূর! পুড়িয়ে ফেলেছ একেবারে! " " পর্ক চপ তো এভাবেই বানায় ক্রিস।" " কচু বানায়! যাও তো, আমার সামনে থেকে এখন এসব দূর কর।" আর কথা হল না দুজনের। চুপচাপ শুয়ে পড়ল তারা। একটু পরে ঘুমিয়ে পড়ল ক্যারেন। কিন্তু চোখে ঘুম নেই ক্রিসের। সারা শরীরের গাঁটে গাঁটে দুঃসহ ব্যথা। ছটফট করতে করতে ও একসময় বিছানা ছেড়ে উঠে এল জানলার কাছে। জানলার পর্দা সরিয়ে দেখল, কি সুন্দর বনভূমি! অরণ্য যেন ডাকছে ওকে! নাইট গাউন ছেড়ে জামা প্যান্ট গায়ে চড়িয়ে আস্তে করে দরজা খুলে বেড়িয়ে পড়ল ক্রিস। বনের মধ্যে দিয়ে চলতে লাগল ও। ইচ্ছে হল পাতার গাদায় শুয়ে পড়ে। ঠিক তখনিই কাঁধে অসহ্য ব্যথা অনুভব করল ক্রিস। দাঁড়িয়ে পড়ল ও। একি! কাঁধে এরকম ব্যথা লাগছে কেন! সঙ্গে সঙ্গে ওর দুই হাঁটু যেন কেউ মুচড়ে দিল। ফিরে যাবে? কোথায় ফিরে যাবে? ক্রিস চারপাশে তাকিয়ে বুঝল এখানেই লিন্ডা কক্সের সাথে ওর মিলন হয়েছিল। আহ, কি অসাধারণ সুখকর অনুভূতি! কিন্তু শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে কেন? জামাটাকে মনে হচ্ছে ফাঁসের মতো! জামা জুতো মোজা খুলে ঘাসে পা রাখতেই কেমন শান্তি অনুভব করল ক্রিস। প্যান্টটাও কুটকুট করছে। প্যান্টটাকেও খুলে দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিল। বনের বাতাসে আর চাঁদের আলোয় যেন অবগাহন করছে ও। এখান থেকে ওখানে ছোটাছুটি করছে, লাফাচ্ছে-ঝাঁপাচ্ছে। সহসা ওর শরীরের প্রতি কোষে যেন বিদ্রোহ শুরু হল। তোলপাড় হতে লাগল তার ভেতরে। নিজেকে আর ধরে রাখতে পারল না ক্রিস। পড়ে গেল মাটিতে। কিন্তু একি! হাতদুটো আপনা থেকেই সামনে এগিয়ে যাচ্ছে! পা দুটো সরে যাচ্ছে পেছনে! সারা শরীর ভরে গেল হলদে রোঁয়ায়। পায়ের আঙুলগুলো গুটিয়ে থাবার আকার ধারণ করল। হাত-পা-মুখ সমস্ত দেহের গড়নটাই বদলে যেতে লাগল। মুখটা হয়ে গেল লম্বা। দাঁতগুলো লম্বায় বেড়ে হয়ে গেল ছুঁচল আর শাণিত। শরীরের পেছন থেকে একটা লেজও বেরিয়ে পড়ল ধীরেধীরে। ক্রিস বুঝল সে পশুতে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। এবং সঙ্গে সঙ্গে সে হারিয়ে ফেলল নিজের মানবিক বোধ। পরিণত হল এক হিংস্র ধূর্ত মাংসাশী প্রাণীতে। বনের মধ্যে মহানন্দে ছুটল নব রূপান্তরিত নেকড়ে। তাড়া করল দু একটা কাঠবেড়ালিকে। গত দুদিন ধরে না খাওয়া। দারুণ খিদে পেয়েছে তার। এখন সে খুঁজছে শিকার। ঠিক তখনি বনের অন্যদিক থেকে ভেসে এল আর একটি নেকড়ের কাতর আহ্বান। যে ডাক শুনে প্রতি রাতে ভয় পেয়েছে ক্যারেন। এটা কি কাতর কান্না, না আকুল আহ্বান না হাউলিং? কাতরভাবে সেই ভেসে আসা মাদি নেকড়ের আহ্বান টের পেল সদ্য রূপান্তরিত মর্দ নেকড়ে। সে ছুটল সেই ফাঁকা জায়গাটার দিকে, যেখানে এক রাতে ক্রিস আর লিন্ডা তাদের পূর্ণ মিলনে পেয়েছিল পরিতৃপ্তির স্বাদ। মর্দ নেকড়ে খোলা জায়গাটায় গিয়ে দেখল সুন্দরী এক মাদি নেকড়ে অপেক্ষা করছে তার জন্য। তাদের গলা থেকে ছড়িয়ে পড়ল চিৎকারধ্বনি। পুরুষ নেকড়ে প্রচণ্ড জৈবিক ক্ষুদা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে গেল মাদি নেকড়েটার ওপর। মাদি নেকড়েটা ছুটে পালাল। খেলা করতে লাগল মর্দাকে নিয়ে। ছুঁয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ওর শরীরে দাঁত বসায়। গায়ে গা ঘেঁষে। অবশেষে ধরা দিল সেই মাদি নেকড়ে। সবুজ চোখ। তারপর শুরু হল চরম মিলন। থাবা দিয়ে সঙ্গিনীকে আঁকড়ে ধরল পুরুষ নেকড়ে। তাদের শিৎকারে সমস্ত বনভূমি মুখরিত হল। শরীরে শরীর হল সংস্থাপিত। অবশেষে পাহাড়ের ওপারে ডুবে গেল চাঁদ। সঙ্গে সঙ্গে মেয়ে নেকড়েটা কোথায় যেন অদৃশ্য হয়ে গেল। এক জায়গায় দাঁড়িয়ে ছটফট করতে লাগল পুরুষ নেকড়ে। এ আর এক যন্ত্রণা। চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে এল প্রকৃতি। দেহের কোষে কোষে ঘটতে লাগল কুঞ্চন প্রসারণ। তারপর ধীরেধীরে বদলে গেল সব। পুরুষ নেকড়েটা ফের রূপান্তরিত হল ক্রিস হ্যালোরানে। বাড়ি ফিরল সে। বাড়ি এসে ক্রিস দেখে ক্যারেন ঘুমিয়ে আছে না ঘুমের ভান করে আছে। আস্তে আস্তে গোসলখানায় ঢুকে গোসল করতে লাগল ক্রিস। অনেকক্ষণ ধরে গরম পানিতে গোসল করল ক্রিস। তারপর তোয়ালে দিয়ে ভাল করে গা হাত পা মুছে ঘরে এসে দেখে ক্যারেন লেপ মুড়ি দেওয়া অবস্থায় শুয়ে ছাদের দিকে অপলক ভাবে তাকিয়ে রয়েছে। ক্যারেনের সঙ্গে একটিও কথা না বলে ক্রিস ওর পাশে শুয়ে পড়ল এবং সঙ্গে সঙ্গে ঘুম। সারারাত এবং সারাদিন ঘুমিয়ে পরদিন সন্ধ্যায় বিছানা ছাড়ল ক্রিস। অবসন্ন দেহে বসে রইল বিছানায়। ওকে কিছু খেতে অনুরোধ করল ক্যারেন। কিন্তু সে খেল না। রাত বাড়লে আবার শরীরের ভেতর সেই ডাক অনুভব করল ক্যারেন। নিজেকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করল ক্রিস। ফায়ারপ্লেসের সামনে বসে শক্তি যোগাড় করার চেষ্টা করল ক্রিস। কিন্তু পারল না। এখন কি করবে? স্বামীর অস্থিরতা লক্ষ্য করে আতঙ্কিত হয়ে পড়ল ক্যারেন। কিছু বলতে সাহস না পেয়ে সে চুপচাপ কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ল। নিজেকে আর ধরে রাখতে পারল না ক্রিস। অস্বাভাবিক কাঁপুনি আর ঝাঁকুনিতে ঘরের ভেতরই রূপান্তর শুরু হল ওর। পুরোপুরি নেকড়েতে রূপান্তরিত হওয়ার আগে সে চুপিসারে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। পায়ে টেনিস শু জোড়া তখনো রয়েছে। বেরোবার আগে একবার ক্যারেনের দিকে তাকাল। ক্যারেন কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে। ওকে লক্ষ্যই করল না। ক্যারেনদের বাড়ি থেকে ফেরার পর শেরিল 'ট্রু' পত্রিকার জন্য ওয়্যারউল্ফ সম্পর্কে একটা প্রবন্ধ লিখেছে। সেটা ফ্রেশ করার সময় বারবার ক্যারেনের কথা মনে হতে লাগল ওর। কি করছে এখন ক্যারেন? ক্যারেন আর সে নিশ্চিত, এসপেনে ওয়্যারউলফ আছে। কিন্তু কে সেই ওয়্যারউলফ? শেরিলের বদ্ধমূল ধারণা ওয়্যারউলফকে সে চিনতে পেরেছে। ক্যারেনকে সতর্ক করে দেওয়া দরকার। ক্রিস হ্যালোরানের ব্যাপারেও সতর্ক করা দরকার। ঘড়ি দেখল শেরিল। বেশ রাত হয়েছে। এখনই কি যাওয়া যাবে? না, দেরী করা ঠিক হবে না। গাড়ি নিয়ে এলগিন থেকে শেরিল বেরল এসপেনের দিকে। পাকা রাস্তা ছেড়ে এসপেনের দিকে যেতে কাঁচা রাস্তায় গাড়ি ঘোরাতেই অজান্তেই গা টা ছমছম করে উঠল ওর। চারদিক অন্ধকার। থমথমে। অশুভ আশঙ্কায় বাতাস বইতেও যেন ভুলে গেছে। হঠাৎ ওর গাড়ির সামনে থেকে কি যেন সরে গেল। কে? শেরিল গাড়ি থামাল। ক্যাজুরিনার গেট বন্ধ। গেটটা খুলতে গাড়ি থেকে নামতেই একটা কালো ছায়া ঝাঁপিয়ে পড়ল শেরিলের ওপর। মাটিতে চিৎ করে ফেলে দিল ওকে। বুকের ওপর চেপে বসল। কন্ঠনালী ছিন্ন করে ফেলল ধারাল নখ আর দাঁত দিয়ে। তিনদিন ধরে না খেয়ে আছে পুরুষ নেকড়ে রূপী ক্রিস। দারুণ খিদে পেয়েছে ওর। শেরিলের শরীর থেকে বড় বড় মাংসের টুকরো ছিঁড়ে খেতে লাগল নেকড়েরূপী ক্রিস। ক্যারেনকে আর খবর দেওয়া হল না শেরিলের। ( ক্রমশ) ------------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now