বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রাকপুরুষের চশমা-০৭

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ¤¤¤ প্রাকপুরুষের চশমা ¤¤¤ (সপ্তম পর্ব) লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা । সারা রাতের আডভেঞ্চারের পর ভোরে ওরা চিলেকোঠা থেকে নেমে এলো। চোখে সানগ্লাস লাগিয়ে নামাতে যেয়ে আরিফ বার দুয়েক হোচট খেলেও সামলে নিলো। তারপর একান্ত বাধ্য হয়েই সানগ্লাসটা খুলে নিজের ভারী চশমাটা পরে নিল ও। সানগ্লাস পরে চলতে গেলে নির্ঘাত না দেখে কোথাও না কোথাও হোচট খেয়ে পড়বে। সুজানা নামলো তার পেছন পেছন। সবার শেষে রুকন। তার হাতে সেই পলিথিন ব্যাগ যার ভেতর কতগুলি মাটি ভর্তি ঔষধের কৌটা। ডাক্তার আলফ্রেডের যুদ্ধের অম্লান স্মৃতি চিহ্ন। নীচে নেমে ওদের কেউই আর ঘুমাতে চাইলো না। কারো চোখেই রাত জাগার ক্লান্তির লেশ মাত্র নেই। বুড়ো বয়সে কত রাত বিছানায় জেগে জেগে কাটতে কাটাতে ওদের অভ্যেস হয়ে গেছে। গত রাতটা না হয় বিছানার বদলে চিলেকোঠায় কাটালো। নীচে নেমেই সুজানা কিচেনে ঢুকলো বুড়ো দুটোর জন্যে নাস্তা বানাতে। আরিফ ও রুকন টিভি ছেড়ে সকালের খবর দেখতে লাগলো। এই খবর দেখতে বসেও রুকনের বিটলামি চলল সমান তালে। রুকন: "দেখ আরিফ, রাণী এলিজাবেথের চেহারায় কত ভাজ পড়েছে। মুখটা যেন ঠিক বাংলাদেশের মানচিত্র। নদী নালা আর খালবিলে ভরা। আরিফ: "হা হা হা হা। আর বলিস না। বুড়িটা আমাদের থেকেও বয়ষ্ক। সম্ভবত তোর দাদা বুড়োর কোন এক কালের গার্লফ্রেন্ড হবে। হা হা হা। সুজানা রান্নাঘর থেকে হাঁক তুলে, " এলিজাবেথের দিকে তাকানোর আগে আয়নায় নিজেদের দিকে একবার তাকাও। নিজেদের চেহারাই তো চন্দ্রপৃষ্টের মতো এবড়োখেবড়ো।" রুকন পাল্টা হাঁক ছাড়ে, রুকন: "আমাদের চেহারা এবড়োখেবড়ো হলেও তো সমস্যা নেই। আমরা তো আর ওই বুড়ির মতো ৩২ টা দাঁত বের করে ক্যামেরার সামনে পোজ দিচ্ছি না।" সুজানা: "কি আর করবি রুক্কু, চামড়ার ভাজ ও তো আল্লাহরই দান। চেহারায় ভাজ পড়েছে বলে কি ক্যামেরার সামনে আসা বন্ধ করে দতে হবে?" রুকন: "ক্যামেরার সামনে আসতে নিষেধ করেছে কে? কেবল ৩২ টা দাঁত বের করে পোজ না দিলেই তো হয়। বুড়ি যখন দাঁত বের করে হাসে তখন ওর চেহারার ভাজগুলি আরো ভয়ঙ্কর দেখায়। আরিফ: "কি যে বলিস রুকন। ওই বুড়ির আবার ৩২টা দাঁত আসবে কোথা থেকে? দু একটা যা ও আছে সবগুলিই তো পোকায় খাওয়া। হা হা হা।" এসব হাসি ঠাট্টার মাঝেই সুজানা নাস্তা নিয়ে ড্রয়িংরুমে প্রবেশ করে। তারপর খোশগল্প করতে করতেই ওরা সবাই নাস্তা খায়। গতরাতের গোমট ভাবটা আজ সকালে একেবারেই নেই। তার বদলে হাসির বন্যায় ভেসে যাচ্ছে ড্রয়িংরুমটা। নাস্তা শেষে ওরা চলল সাগর পাড়ে। উদ্দেশ্য প্রাতঃভ্রমণ ও স্মৃতিময় মাটি গুলি সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া। হাতে পলিথিন ব্যাগটা নিয়ে রুকন চলল সবার আগে আগে। পেছন পেছন আরিফ ও সুজানা হাত ধরে হাটতে লাগলো। খানিক হাটার পর সাগরের উত্তালতম অংশের সামনে দাড়িয়ে, কৌটাগুলির মুখ খুলে রুকন সেগুলিকে ছোড়ে ফেলে দিল। বাল্টিকের উত্তাস সাদা জলরাশি মুহুর্তেই সেগুলিকে গ্রাস করে নিল। তারপর আরো কিছুক্ষণ এদিক সেদিক ঘুরাফেরা করে ওরা বাড়িতে ফেরৎ আসল। বাড়ি ফিরে আরিফ আর সুজানা ঘিরের ভেতর ঢুকতে যাচ্ছিলো কিন্তু রুকন ওদের পেছন থেকে ডেকে থামাল। রুকন: "আমি আর ঢুকছি না রে ভেতরে। এখান থেকেই বিদায় দিয়ে দে। যাবার সময় হয়ে এল প্রায়। " রুকনের কথা শুনে আরুফ ও সুজানা যেন আকাশ থেকে পড়লো! সুজানা: "একি! আজই চলে যাবি? কি বলিস এসব? এখন তো আর কাজ কর্মের তাড়া নেই। আরো সপ্তাহ খানেক থেকে যা।" আরিফ আরেকটু আগ বাড়িয়ে বলে, "সপ্তাহখানেক নয়। বাকিটা জীবন এখানেই কাটিয়ে দে। সুইডেনে ফিরে কি করবি তুই? তারচেয়ে তিনজন মিলে এভাবে ঘুরে ফিরেই বাকীটা জীবন কাটিয়ে দেব।" কিন্তু রুকন বেকেঁ বসে। "না রে। আমি কাবাবে হাড্ডি হতে চাই না। তোদের সুখি জীবনে আমার মতো এক ভাঙ্গাকুলাকে মানায় না।" আরিফ: "ওভাবে বলছিস কেন? অভিমান করেছিস না কি?" রুকন: "না রে। আসলে কাল আমার আর দৃপ্তির আন্যিভার্সারি ছিল। একা থাকলে ওকে খুব মিস করি। তাই খোজ নিয়ে তোদের এখানে চলে এলাম। এ বছরের আন্যিভার্সারিটা ভালই হাসি খুশি আর ফুর্তি করে কাটিয়েছি। তোদের আপত্তি না থাকলে প্রতি বছর আন্যিভার্সারির দিনটা তোদের এখানে এসে কাটাবো, কেমন?" সুজানা: "আপত্তি থাকবে কেন? বরং তোকে ছাড়াই আমাদের খারাও লাগবে। থেকে গেলে কি হয়? আরেকবার ভেবে দেখ না প্লীজ।" আরিফ: "হা রে রুকন। থেকে যা না প্লীজ।" রুকন: "নাহ, তা হয় না। তবে চিন্তা করিস না। আগামী বছর এমন দিনে ফের আসবো তোদের দেখতে। সেইটুকু পর্যন্ত অপেক্ষা করিস। আবার মরে টরে যাস না যেন।" আরিফ: "কি যে বলিস না। আমরা তো তোর পথের দিকে তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে থাকবো রে।" রুকন: "ভালই জোক্স বললি, হা হা হা। যা হোক এবার যাওয়া যাক।" এ কথা বলেই রুকন তার ফোর্ডটার চাবি নিয়ে লোফালুফি করতে করতে গ্যারেজের দিজে হাটা দেয়। ওকে চলে যেতে দেখেই রুকন ব্যাস্ত কণ্ঠে বলে, "দুঃখিত সুজানা, আমার একটু বাথরুম চেপেছে। আমি আসছি।" সুজানা আরিফের ফন্দিটা ধরে ফেলে। ও আবার বিদায় ক্ষণটা এড়িউএ যেতে চাইছে। ও খপ করে আরিফের হাতটা খামচে ধরে। আজ কিছুতেই পালিয়ে যেতে দেবে না। কে জানি আগামী বছর সত্যিই আবার রুকনের সাথে ফের দেখা হবে কি না। এমন অনিশ্চয়তার মুখে বিদায় মুহুর্তটা এড়িয়ে যাওয়া সমীচীন হবে না। আরিফ কিছুক্ষণ জোরাজোরি করে রণে ভঙ্গ দেয়। সুজানা সর্বশক্তিতে হাতটা আকড়ে ধরেছে। কিছুতেই ছাড়ানো সম্ভব না। জোর করে ছাড়াতে গেলে বরং ওর আঙুল ভেঙে যেতে পারে। অগত্যা ওকে রুকনের বিদায় মুহুর্তে উপস্থিত থাকতেই হয়। রুকন গাড়িতে উঠে ইঞ্জিন স্টার্ট দিয়ে জানালা দিয়ে হাত নাড়ে। বিদায় মুহুর্তে আরিফ ও সুজানা দুজনের চোখই জলে ভরে উঠে। কিন্তু রুকন তার চিরায়ত হাসিটা মুখে ধরে রেখেই গাড়িটা ছুটিয়ে দেয়। ওর গাড়িটা চোখের আড়াল হতেই সুজানা আরিফকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। আরিফের কেমন যেন একটু হিংসা হয়। জীবনে তো কখনো ওর জন্যে এভাবে কাঁদেনি সুজানা। রুকন চলে যাওয়ার পর সুজানা সাংসারিক কাজে মন লাগায়। কোন একটা কাজে মন ডুবিয়ে দিয়ে ও রুকনের চলে যাওয়াটা ভুলতে চাইছে। ওদিকে ঈর্ষান্বিত আরিফ দোতলার পেছনের বেলকনিতে রাখা ইজি চেয়ারটায় বসে আপন মনে দোল খায়। হঠাৎ কি মনে হতেই নিজের চশমাটা খুলে সেই সানগ্লাসটা পরে নেয় ও। তারপর আনমনে উন্মত্ত সাগরের দিকে উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now