বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

থ্রিলার গল্প : নরক-০১

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X || থ্রিলার গল্প : নরক || - শুভাগত দীপ পর্ব -১ জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে একটা পাথুরে মেঝের ওপর শোয়া অবস্থায় আবিষ্কার করলো লোকটা। মাথা সহ সারা শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা তার। কপালের একপাশ কেটে গেছে মনে হচ্ছে। আচ্ছা, ডান হাতের মধ্যমাঙ্গুলিতে এত ব্যাথা হচ্ছে কেন! অসহ্য ব্যাথা। মনে হচ্ছে, ওটা কেউ গোড়া থেকে উপড়ে ছিঁড়ে নিয়েছে। কনুইয়ে ভর দিয়ে কোনমতে উঠে বসলো সে। সারা ঘর অন্ধকার। বিশ্রী পচা একটা গন্ধও নাকে আসছে। আচ্ছা, সে কি মারা গেছে! মরার পর কি নরকে জায়গা হয়েছে তার! কিন্তু নরকে কি শরীরের ব্যাথা-যন্ত্রণা টের পাওয়া যায়! কিছুই বুঝতে পারছেনা। প্রবল পানির তৃষ্ণা হলো ওর। গলা খাঁকারি দেয়ার চেষ্টা করলো, কিন্তু পারলোনা। আঙ্গুলের ব্যাথাটা চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ছে। জ্ঞান ফেরার পরও ঘন্টাখানেক আঙ্গুলের যন্ত্রণায় এমন অবস্থা হলো তার, যে সচেতন থেকেও অচেতন হয়ে যেতে প্রবল ইচ্ছা হলো। গুমোট বদ্ধ ঘরটির গরম পরিবেশে ভয়াবহরকম ঘামতে লাগলো সে। তারপর একসময় সত্যিই জ্ঞান হারালো। মিনিট দশেক পর ক্লিক শব্দে একটা মাঝারি পাওয়ারের লাইট জ্বলে উঠলো। ঘরটি প্রায় অর্ধেক দেখা গেলো এই আলোতে। মোটামুটি বড়সড় আকারের একটা ঘর। উপরে টিনশেড। কোন জানালা নেই। অনেক উপরে দুটো ভেন্টিলেটার আছে মুখোমুখি দুই দিকের দেয়ালে। সেগুলোও মাকড়সার জাল জমে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে আছে। ফ্যাকাশে দেয়ালের ঘরটি যে পুরোনো গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হত, তা বেশ বোঝা যায়। লাইটের আলোর প্রায় শেষ সীমায় একটা লোক বেকায়দা ভঙ্গিতে মেঝেতে পড়ে আছে। লোকটার শরীরের উপর অংশে কিছু নেই। নোংরা একটা জিন্সের প্যান্ট পরা লোকটা সংজ্ঞাহীন অবস্থায় আছে। ঘরটির একমাত্র দরজাটা বেশ বড়। কালচে খয়েরি রংয়ের দরজাটিতে হঠাৎ স্পন্দন দেখা গেলো। ওপাশ থেকে ভারী তালা খোলার ঘটাং টাইপ শব্দ শোনা গেলো। পুরোনো দরজা হলেও ওটার দুটো পাল্লা খুলতে কোন সমস্যাই হলোনা। বিন্দুমাত্র কর্কশ শব্দ না করে খুলে গেলো দরজাটা। খোঁড়াতে খোঁড়াতে এগিয়ে আসা কারো পদশব্দ শোনা গেলো। সংজ্ঞাহীন লোকটা যেখানে পড়ে আছে, সেখানে পৌঁছাতে খোঁড়া পায়ের মালিককে বেশ অনেকটা যেতে হবে। শব্দটা এগিয়ে আসছে। একজন মেয়েকে আসতে দেখা গেলো। সুন্দর মুখশ্রীতে কঠিন ও দুর্বোধ্য কিছু একটা আছে। চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ। সবচেয়ে যেটা আগে চোখে পড়ে, সেটা হলো মেয়েটার চিবুকের বামপাশের কালো তিলটা। মেয়েটার বাম পাটা সামান্য বাঁকা। তবে তাতে মেয়েটার দৈহিক সৌন্দর্যের কোন কমতি দেখা যাচ্ছেনা। মেয়েটা মেঝেতে পড়ে থাকা লোকটার সামনে এসে থামলো। হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে বসে লোকটার ডান কাঁধে নিজের ডান হাতের তর্জনি স্পর্শ করলো। লোকটা একটু নড়ে উঠলো। মেয়েটা তার কাঁধের পার্স থেকে নতুন একটি সিরিঞ্জ ও একটা ছোট্ট অ্যাম্পুল বের করলো। দুই আঙ্গুলের টোকায় অ্যাম্পুলটা চাপা টুন টুন শব্দ করলো। মেয়েটা সিরিঞ্জটা ধীরে ধীরে পূর্ণ করে নিলো অ্যাম্পুলটার লালচে গোলাপী তরলে। পিস্টনে হালকা চাপ দিয়ে বেশ কিছুটা তরল বের করে দিলো। লোকটার ডানপায়ের বুড়ো আঙ্গুল কয়েকবার নড়ে উঠলো। চেতনা ফেরার প্রাক্কালে চলে এসেছে সে। ঠিক এমনই সময় পাশে বসে থাকা মেয়েটা সিরিঞ্জের সবটুকু তরলের সদ্ব্যবহার করলো লোকটির ডানপাশের নগ্ন বাহুতে। লোকটা একটু নড়ে উঠলো, কিন্তু একটু পরই তার জাগতে থাকা স্নায়ুগুলো আবারো নেতিয়ে পড়লো। মেয়েটা এবার তার পার্স থেকে একটা সুইস নাইফ বের করলো। সেটার ছোট ফলাটা লাইটের ঘোলাটে সাদা আলোয় অদ্ভুত রকম আলোকিত দেখাচ্ছে। মেয়েটার ঠোঁটটা কেমন যেন বেঁকে গেলো হঠাৎ। মানসিক যন্ত্রণায়? হতে পারে। মেয়েটা লোকটার ডান হাতটা তুলে নিলো। বৃদ্ধাঙ্গুলির শুরুতে ঠেকালো চাকুর ফলাটা। ধীরে ধীরে পোঁচ মেরে কাটতে লাগলো। চাপা গা ঘিনঘিনে শব্দের উৎপত্তি হলো। রক্ত খুব একটা বের হচ্ছেনা। কারন সংজ্ঞাহীন লোকটা ২৪ ঘন্টা আগেও নিজের কনিষ্ঠাঙ্গুলটা হারিয়েছে। সেই সময় তার ওই ক্ষতস্থান থেকে অনেক রক্ত বেরিয়ে গেছে। মিনিটখানেক পর লোকটার বৃদ্ধাঙ্গুলি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে মেয়েটার হাতে চলে এলো। চাকরু ফলাটা টিস্যুপেপারে মুছে পার্সে রেখে দিলো মেয়েটা। তারপর বিচ্চিন্ন আঙ্গুলটা ছুঁড়ে ওপাশের অন্ধকার প্রান্তে ছুঁড়ে দিলো। ওপাশ থেকে শেকলে বাঁধা কোন প্রাণীর হুটোপুটি জানান দিলো ভারী শেকলের ধাতব ঝনঝন শব্দ। চোখের কোণে জমে থাকা পানি ডান হাতের উল্টোপিঠ দিয়ে মুছে ফেললো মেয়েটা। ঘুরে আবারো দরজার দিকে হাঁটা দিলো। আবার আগামীকাল আসতে হবে ওকে। ওর কাজ তো কেবল শুরু।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now