বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পারস্পরিক প্রেম

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X পারস্পরিক প্রেম ---------------- Ato Tsubame ----------------- দু'জনে, গোপনে দু'জনার প্রেমে পড়লো। কিভাবে পড়লো তা দু'জনের একজনও জানে না, কেন পড়লো তাও জানে না! কেবল জানে একজনকে না দেখলে আর একজনের ভালো লাগে না। সারাদিন কেন যেন মনের আকাশে গাঢ় মেঘ করে থাকে। তাহলে এরই নাম কি ভালোবাসা?! বহুদিন পরে মেয়েটা আজকে অনেক সেজেছে, চোখে কাজল দিয়ে টানা টানা করেছে, গালে হালকা গোলাপি রং ব্রাশ করেছে, খোঁপায় একটা গন্ধরাজ ফুল গুজেছে। কেন সেজেছে সেটা সে জানে, ছেলেটাও হয়তো জানবে! রোজ দুপুরে নাওয়া খাওয়া ভুলে বারান্দার কাছে একবার করে আসে কেবলমাত্র তাকে দেখার জন্যই ছেলেটা। হয়তো এই আশাতেই আসে, একবার মেয়েটাকে দেখতে পাবে বলেই হানা দেয় রোজ। মেয়েটা জানে, কিন্তু কোনও দিন সাজে না। আজকে হটাৎ করেই সাজার শখ হয়েছে তার; ছেলেটাকে আজকে আর তীর্থের কাকের মতো রাস্তায় অপেক্ষা করিয়ে রাখতে তার ইচ্ছা হচ্ছে না, ওকে পুরস্কৃত করতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু কেন? কি এর ভবিষ্যৎ, মেয়েটা ভাবে, বুঝতে পারে না। তার বর্তমান যেন মেঘাচ্ছন্ন কুয়াশার মতো, সেখানে আঁধারও সাদা, সকল অনুভূতি অস্বচ্ছ। ছেলেটা আজকে রাস্তায় বের হয়নি। প্রচণ্ড জ্বর ওর, নিজের গায়ে নিজেই হাত দিতে পারছে না। যদিও শরীরের উত্তাপ মনের উত্তাপের কাছে যেন কিছুই নয়! শরীরের জ্বর ওষুধ খেলে কমে, মনের জ্বর কমে না, কেবল বাড়ে। কেন যে হুট করে প্রেমে পড়তে গেল, ধুর! কিচ্ছু ভালো লাগছেনা ওর। আচ্ছা, প্রেম কি প্রাপ্তিতে কমে? নাকি বাড়ে বহুগুনে? হয়তো বাড়ে! অতন্ত ছেলেটার তাই মনে হয়। তাছাড়া তার প্রেম এক তরফা, বাড়া কমার হিসাবগুলো একতরফা প্রেমে খাটে না, সেটা সে জানে, হুম। মেয়েটা দারুণ বিষণ্ণ, ছেলেটা আজকে আসেনি। কোনও বিপদ আপদ হল না তো আবার? ভয়টা কেবলই বিষণ্ণতাকে ছাপিয়ে যেতে চাইছে তার। আবেগ জটিল প্রক্রিয়া, মেয়েটা অনেক কিছুই বুঝতে পারে না, কিভাবে যেন হুট করে আবেগি হয়ে পড়ে যখন তখন। তবে মেয়েটা জানে, বিপদ হলেও ছেলেটা নিজে কিছুই বলতে পারবে না, উপায়ই বা কি ওর! খবর নিয়েছে মেয়েটা, ছেলেটা একা থাকে, একটা মেসঘরে, ছাদের উপরের একটা ঘরে, বাসাটাও একটু দূরেই, বারান্দা দিয়ে উঁকি দিলেই দেখা যায়। ছেলেটা কি বাসায় আছে? নাকি ওর উপর মন খারাপ করে দূরে কোথাও হারিয়ে গিয়েছে স্বেচ্ছায়? মেয়েটার ভয়টা বেড়ে উঠলো, সহসাই। এটা কি স্বপ্ন? বুঝতে পারছে না ছেলেটা? জ্বরের ঘোরে মানুষের চিন্তা ভাবনা ওলট পালট হয়ে যেতে পারে এটা সে জানে, তবুও এই ওলট পালট চিন্তাটাকেই সহসা আঁকড়ে ধরতে বড় লোভ হচ্ছে তার। লোভ হওয়াটাই স্বাভাবিক, দূর বারান্দার দেবী স্বয়ং আজ তার সদরে; দরজা ঠেলে ভেতরে উঁকি দিয়ে অবাক হয়ে তাকে দেখছে। হয়তো ভেতরে ঢুকতে সঙ্কোচ হচ্ছে মেয়েটার, মরিচিকারও কি তাহলে সংকোচ হয়?! নাহ! তাহলে হয়তো মরীচিকা না! ছেলেটা পরম শান্তিতে দু'চোখের পাতা এক করলো। মেয়েটা ছেলেটার মাথায় হাত দিয়ে বিছানার পাশে বসে আছে, নাহ আজ আর সঙ্কোচ নয়, প্রেম আর ভীতি দুটো পাশাপাশি চলতে দেওয়া যায় না, সে অন্তত দেবে না, ছেলেটার পাশে থাকা আজ অত্যান্ত প্রয়োজন। এটা করুনা নয়, বরং স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতি, ভালোবাসার তাড়নায় দূরত্বের পরিধির সংকোচন। ছেলেটা আর মেয়েটা পরস্পরের হাতে হাত রেখে রেখে আছে অনেকক্ষন। জ্বর এখনো কমেনি ছেলেটার, তবুও অনেক ভালো লাগছে তার, শরীর খারাপ ভাবটা আর নেই, প্রেমের প্রাপ্তিতে তা না কমলেও শরীরের যন্ত্রণা লোপ পায়, সেটা এখন তার কাছে জ্বলজ্বলে পরিষ্কার সত্য স্বরূপ। আচ্ছা, জ্বরটা আর কয়েকটা দিন আগে কেন হল না? মনে মনে কথাটা ভেবেই জ্বরের ঘোরে চোখ বন্ধ হয়ে থাকা ছেলেটার মুখে একচিলতে প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠলো। মেয়েটাও হাসল একই ভাবে। তাদের সুরবীণা আজ একই সুরে ঝংকার তুলছে। আর দ্বিধা নয়। এবার শুধুই শাশ্বত প্রেম উপভোগ করার সময়, এবার শুধুই চেতনার নির্বিকার উচ্ছ্বাস পরস্পরের সীমিত গণ্ডিতে কয়েদীর মতো বন্দী হয়ে রবে, যুগ যুগান্তর। (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now