বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটি মিথ্যে অতঃপর মৃত্যু

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md Tarikul Islam (০ পয়েন্ট)

X কষ্ট হলেও দয়াকরে সবাই পুরোটা পাড়বেন : বড় করে আড়মোড়া ভেঙ্গে ঘুম ভাঙ্গে হাফিজের। চোখ না মেলেই বিছানায় শুয়েই বালিশের বাম পাশে মোবাইল টা হাতাচ্ছে। মিনিট দুয়েক হাতিয়ে মোবাইলটাকে তার কোমরের নিচে আবিষ্কার করে। মোবাইলে ফেসবুকিং করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছিলো তা মনে নেই। ঘুম ঘুম চোখে মোবাইলটাতে চোখ রাখে। টাইমের দিকে খেয়াল করতেই ওর চোখের ভ্রম দূর হয়ে যায়। হতচকিত অবস্থায় দেখলো যে অনেকটা দেরি করেই ঘুম থেকে জেগেছে। হায় হায়..!! আজ হাফিজের ভার্সিটি জীবনের প্রথম দিন....অন্যান্য দিনের মতো আজকে লেট করা ঠিক হবেনা তাছাড়া "ফার্স্ট ডে অ্যাট ভার্সিটি" বলে কথা। মনে মনে এসব ভাবলো সে। ধুর এত্তসব ভাবার মতো সময় এখন নেই। তাই তরিঘরি করে খুব দ্রুত ফ্রেশ হয়ে নিলো সে। নাকে মুখে কিছু খেয়ে দ্রুত রুম থেকে প্রস্থান করে অতঃপর ভার্সিটির দিকে ছুটে চললো। : দ্রুত সিড়ি বেয়ে উঠার সময় ৩য় তলার মাঝামাঝি এসেছে। মোড় ঘুরবে ঠিক তখনই তার অগোচরে বিপরীত পাশ থেকে আসা একটি মেয়ের সাথে এক ধাক্কা....//// : --কি ব্যাপার চোখে দেখতে পাননা নাকি..? (বলেই এক চড়) : --Sorry আসলে দেরি করে ফেলেছি তো তাই তাড়াহুড়ো করে মোড় ঘুরতে গিয়ে আপনার সাথে ধাক্কা লেগে গেছে। : --হয়েছে.. আর বলতে হবেনা। সুন্দরী মেয়ে দেখলে এভাবেই ধাক্কা লেগে যায়। যত্তোসব ক্ষ্যাত ছেলেপেলে... কোথা থেকে আসে এসব...// (বলেই চলে গেল) : হাফিজ কিছুই বললোনা। চড় খাওয়ার পর অনেকটাই আত্নসম্মানে লাগলেও সবচেয়ে বেশি খারাপ লেগেছে ওকে খুব বাজে কথা শুনতে হলো। এমনিতে ও কোন মেয়েদের সাথে খুব একটা কথা বলেনা। তাই চুপ করে হজম করলো। সব অপমান গুলো চেপে রেখে বিব্রতকর একটা মুখ নিয়ে ক্লাসে প্রবেশ করলো। একে তো লেট করে ভার্সিটিতে এসেছে তারপরে আবার ৩য় তলায় ঘটে যাওয়া কাহিনী টা। : ক্লাসে ঢুকে আবার স্যারের কথা শুনতে হলো। (১ম দিন, এতো দেরি করে কি কেউ আসে..?) সবাই ব্যাপারটা বেশ ইনজয় করেছে। : কিছু চিন্তা ভাবনা মাথায় উপস্থিত থাকা সত্তেও ১ম দিনের ক্লাস গুলো করে বাসায় আসলো। : হাফিজ বাসায় এসে রাতে আজকের দিনের কতোগুলো ধকলের কথা ভাবতে লাগলো। নতুন একটা ডায়রি তে সবগুলো মুহূর্তের কথা লিখে রাখলো। : কয়েকমাস কেটে গেল। একটা সেমিস্টার পরীক্ষা শেষ হলো। আজ রেজাল্ট দিবে। হাফিজ কোনরকম চিন্তা ছাড়াই রেজাল্টের অপেক্ষা করছে। রেজাল্ট দিলে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ভার্সিটিতে সবার চেয়ে ভালো রেজাল্ট করলো। সবার চোখে ভালো ছাত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করলো। সবার কাছেই সম্মান পেতে লাগলো। সবাই ওকে কংগ্রাস জানালো। হাফিজ ভার্সিটি থেকে বাড়ি যাচ্ছে। এমন সময় কাম্পাসে ঐ মেয়েটিকে দেখতে পায়। হাফিজকেও দেখে ফেলে। হাফিজ পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিল এমন সময়.... : --Excuse me....(হাফিজকে ডাকলো) : --আজ কি আবার একটা চড় দিবেন নাকি..? দিলে দিতে পারেন...(ভয়ে ভয়ে কাছে গিয়ে বললো হাফিজ) : --I am extremely Sorry... আসলে সেদিনের ঘটনায় আমি খুব দুঃখিত। আপনার সম্পর্কে না জেনে কতোগুলো বাজে কথা বলেছি। প্লিজ আমাকে ক্ষমা করুন। : --না আপনি সরি বলছেন কেন..? আমি খারাপ ছেলে... সুন্দরী মেয়েদের দেখলেই ধাক্কা দেই। চড় তো খেতেই হবে। : --প্লিজ আমাকে ক্ষমা করুন। আর বলবেন না প্লিজ। : --It's ok...(বলেই চলে যাচ্ছিলো) : --কি ব্যাপার আমি আপনার সাথে কথা বলছি আর আপনি চলে যাচ্ছেন..? : --জ্বী বলেন... : --Many many congras for your brilliant result..... : --many many thanks... : --bye the way.... আমি কি আপনার বন্ধু হতে পারি...?? : --sorry.... আমি মেয়েদের সাথে বন্ধুত্ব করিনা আর আপনার সাথে তো একদমই না... : --কেন...? আমার সাথে বন্ধুত্ব করা যাবেনা কেন..? : --আমার চড় খাওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই। : অবশেষে অনেক কথার ফেরে হাফিজ মেয়েটির সাথে বন্ধুত্ব করতে রাজি হয়।মেয়েটির নাম নিতু। ওর সাথে একই ডিপার্টমেন্টে পড়ে। পড়াশুনায়ও মোটামুটি ভালো। নিতু ছিলো অসম্ভব সুন্দরী একটা মেয়ে। সবারই নজর কারার মতো ছিলো চাহনি। কিছুদিনের মধ্যেই ওদের বন্ধুত্বটা বেশ জমে ওঠে। অন্যান্য বন্ধু-বান্ধবীদের থেকে ওরা অনেকটাই আলাদা। নিতু সবসময় হাফিজের টেইক কেয়ার করতো। সবসময় ওর দুষ্টু মিষ্টি শাসনে ওকে মাতিয়ে রাখতো। বেচারা হাফিজের অবস্থা তো পুরো কেরোসিন। সবসময় ওর কথায়ই চলতো। ওর পছন্দগুলোকে প্রাধান্য দিতো। প্রত্যেকটা মুহূর্তেই হাফিজের খবর নিতো। ওদের বন্ধুত্বটা অনেক গভীরে পৌছে যায়। অন্য সব ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীরা ওদের দুজনকে এক নামে চিনতো। কেউ হাফিজের নামে উল্টা পাল্টা বললে তার একটা হ্যাস্তন্যাস্ত করে ছাড়তো নিতু। এমন কোনো দিন নেই যে হাফিজের সাথে নিতুর কথা না হয়। এভাবেই চলতে থাকে ওদের বন্ধুত্ব। শপিং করা, ঘুরতে যাওয়া, পার্টি দেওয়া সবখানেই হাফিজকে সঙ্গ দিতে ভুলতোনা। সব কিছু ঠিক রেখে ওরা পড়াশুনায়ও ছিলো দারুন খেয়ালী। : শুক্রবার। সকাল ৮:৪৭ বাজে। ঘুম থেকে হাফিজ জাগেনি। মনে হচ্ছে ঘুমের সাগরে ডুবে আছে। হঠাৎ.... : ক্রিং..ক্রিং... শব্দে ফোনটা বেজে উঠলো। নিতু ফোন করেছে। কিন্তু বেচারা হাফিজ তো ঘুমের ঘোরে আছে। প্রথম বার ফোনটা বেজে No Answer...... আসলো। নিতু কিছুটা বিরক্ত হলো। কারন ও বুঝতে পেরেছে যে হাফিজ এখনো জাগেনি। আবার ফোন করলো। এবার ঘুম ঘুম চোখে কলটা রিসিভ করে হাফিজ। : --হ্যালো.... (মোবাইলের দিকে খেয়াল না করে ঘুম ঘুম চোখে) : --এই শয়তান... এখনো বিছানায় কি করছিস... রাতে চুরি করেছিলি নাকি....? : --ধুর.. কলটা করে তো দিলি বারোটা বাজিয়ে ... : --বারোটা বাজালাম মানে...?? আমি আসলে কিন্তু তোর কপালে ভোগ আছে... : --ভোগ আর কি...?? দুটো চড়ই তো দিবি...কি সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখতেছিলাম... আর মহারাণী কল করে দিলেন সব গুলিয়ে... : --তোর দিবাস্বপ্ন দেখা বন্ধ করে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে রোজ গার্ডেনে চলে আয়। সময় মাত্র ১৫ মিনিট। : (হাফিজ পুনরায় হ্যালো বলতেই টুট..টুট..করে কলটা কেটে গেল.... কি আর করা... চড় খাওয়ার চেয়ে দ্রুত রেডি হয়ে ওর কাছে যাওয়াই ভালো। চট করে রেডি হয়ে চলে যায় ওর কাছে।) : নিতু একাই একটা টেবিলে বসে আছে। কিছুটা বিব্রত লাগছিলো ওর। একা একা বসে ভালো লাগছিলো না। ১০ মিনিট লেট হয়ে গেলেও হাফিজ আসছেনা। কিছুটা রেগেই যাচ্ছিলো। কিছুক্ষণ পরে... : --নিতু.... /// কিরে কিসের জরুরী তলব যে সকাল সকাল এখানে আসতে বললি...?? : --আগে বল ১০ মিনিট লেট করলি কেন..?? কান ধর জলদি... : --কি বলছিস.. এতো লোকের সামনে কান ধরতে হবে..? প্লিজ এভাবে পেসটিজ টা পাঞ্চার করে দিস না.... : --আচ্ছা...কান ধরতে হবেনা.. যদি এখনই এক মিনিটের মধ্যে আমাকে খুশি করাতে পারিস.... : --আচ্ছা...আমি রাজি.... চোখটা বন্ধ কর আর ৩০ সেকেন্ড পর চোখটা খুলে দেখ। : ওর কথা মতো নিতু চোখটা বন্ধ করে। ৩০ সেকেন্ড পরে চোখ খুলেই ও অবাক হয়ে যায়। হাফিজ আসার সময় ওর জন্য একটা বুকে নিয়ে এসেছিলো। সেটা ওর সামনে টেবিলে রাখা দেখে খুব খুশি হলো। আজকের মতো মাফ পেয়ে গেল হাফিজ। : --বুঝেছি.. এই জন্যই তো ১০ মিনিট লেট হয়েছিলো। : --হ্যা। কিন্তু কি কারনে ডেকে আনলি..? : --এখানে মানুষ আসে কেন..?? : --কি জন্য আবার..? খেতে আসে... : --তা যখন বুঝিস তখন জিজ্ঞেস করলি কেন..? তোর সাথে একসাথে খাবো বলেই তোকে ডেকেছি। : এই মেয়েটার কখন কি মনে চায় বোঝা দুষ্কর। ওর কথা না শুনেও উপায় নেই। আসলে নিতুকে অনেক ভালোবাসে হাফিজ। কিন্তু কখনো বলতে সাহস পায়না। কারন নিতু ছিলো বড়লোকের মেয়ে। অনেক সুন্দরী। তাই ভয়ে ওর সাথে সহজে কেউ ভালোবাসার কথা বলার সাহস পায়না। তাছাড়া ভার্সিটির প্রথম দিনের ৩য় তলার ঘটনার কথা মনে পরলে ওর ভালোবাসার কথা হৃদয়ে লুকিয়ে যায়। আসলে নিতুকে ঐ প্রথম দিনই ভালোবেসে ফেলেছিলো কিন্তু নিতুকে কখনো বুঝতে দিতোনা। হাফিজের বাড়ি গ্রামে। অনেক মেধাবী ছাত্র কিন্তু পরিবার ছিলো খুবই দারিদ্র। ওর পড়াশুনার খরচ বহন করতে ও পড়াশুনার পাশাপাশি ছোট একটা পার্টটাইম জব নেয়। আর ওর বাড়িতে ওর বড় ভাই পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন। বামুন হয়ে চাঁদে হাত দেওয়া ঠিক নয় ভেবে হাফিজ ওর ভালোবাসাটুকু অন্তরেই পুষে রাখতো। কখনো নিতুকে বুঝতে দিতোনা যে ও নিতুকে কতটা ভালোবাসে। সবসময় ভাবতো ও নিতুর যোগ্য নয়। কারন নিতুরা বড়লোক আর হাফিজ গ্রামের একটা দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাই পাহাড় সমান ভালোবাসা থাকার পরও নিতুর অগোচরে নিতুকে ভালোবেসে যাচ্ছে অবিরাম। একবার ভেবেছিলো নিতুকে ওর ভালোবাসার কথা জানাবে কিন্তু যদি নিতু ওকে ভালো না বাসে তবে ওর প্রতি নিতুর ধারনাটা যে কতটা খারাপ হতে পারে তাই ভেবে ওকে বললোনা। : : কিছুদিন পরে.... : বিকাল ৪:২৩। হাফিজ ওর রুমে বসে ওর ডায়রিতে লেখালেখি করতেছিলো। এমন সময় হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ পেল। ডায়রিটা খোলা রেখেই দরজা খুলে দেখলো নিতু দাড়িয়ে আছে। : --কিরে... ফোন না করেই হঠাৎ চলে এলি যে...?? : --আচ্ছা ঠিক আছে এখন আবার বাড়ি যাচ্ছি.. গিয়ে একটা কল করে তবে আবার আসবো। : --হয়েছে...আর বলতে হবেনা... ভিতরে আয়। : নিতু রুমে প্রবেশ করে। হাফিজ ১০ মিনিটের কথা বলে বাইরে চলে গেলো। এমন সময় নিতুর টেবিলের খোলা ডায়রির উপর চোখ যায়। ও ডায়রিতে লেখাগুলো দেখে দারুনভাবে অবাক হয়ে যায়। নিতু দেখলো যে হাফিজ ওকে অনেক ভালোবাসে কিন্তু কখনো নিতুকে বুঝতে দেয়নি। ওর সাথে ঘটে যাওয়া প্রত্যেকটা ঘটনাই ওই ওর ডায়রিতে লেখা ছিলো। নিতুকে দেখার প্রথম দিনই নাকি হাফিজ ওকে ভালোবেসে ফেলেছিলো। লেখাগুলো দেখে নিতুর মনটানা খুশিতে নেচে ওঠে। আসলে নিতুও হাফিজকে প্রচন্ড ভালোবাসতো। কিন্তু যদি হাফিজ না করে দেয়, কিংবা হাফিজ যদি ওর সাথে আর কথা না বলে... ওদের বন্ধুত্বটার যদি ইতি টেনে দেয় হাফিজ....এই ভেবে নিতুও হাফিজকে ওর ভালোবাসার কথা বলেনি আর বুঝতেও দেয়নি। কিন্তু.... আজ নিতু জানে হাফিজ ওকে অনেক ভালোবাসে। তাই ও খুব খুশি। কিন্তু নিতু ভাবলো যে যেমন করেই হোক হাফিজের মুখ থেকেই "ভালোবাসি" কথাটি শুনবে। : আর এজন্য ও একটা প্লান করে কিভাবে হাফিজের মুখ থেকে ভালোবাসি কথাটি শুনা যায়। ছোট্ট একটা প্লান এটে নিতু দুদিন পরে বিকেলে ওদের ভার্সিটির ক্যাম্পাসে হাফিজকে জরুরী কল করে আসতে বলে। হাফিজ চলে আসলো। : --কিরে এতো জরুরী ডাকলি কেন..? কি হয়েছে..? : --আবার বাবা আমার বিয়ে ঠিক করেছে। আগামী সপ্তাহের রবিবার আমার বিয়ের দিন ধার্য করা হয়েছে। : --তো কি হয়েছে..?? এটা তো খুশির খবর...পাগলী একটা...মেয়ে হয়েছিস বিয়ে তো হবেই...(অনেকটাই হালকা একটা অভীমানের সুরে কথাগুলো বলছিলো হাফিজ কিন্তু বুঝতে দিলোনা নিতুকে। অন্তরটা ফেটে যাচ্ছিলো তবুও চোখের চোখে অশ্রু আসতে দিলোনা) : হাফিজের কথাগুলো বলতে যে অনেক কষ্ট হচ্ছিলো সেটা বুঝতে বাকি থাকলোনা নিতুর। হাফিজ ওর কি যেন কাজের ব্যস্ততা দেখিয়ে চলে যাচ্ছিলো। নিতু তখন ভাবলো না ওর মুখ থেকে শোনা যাবেনা। ওকেই বলতে হবে। তাই ও সিদ্ধান্ত নেয়। ও বাড়ি চলে যায়। : রাতে হাফিজকে নিয়ে কতো কল্পনা, কতো ভালোবাসার গল্প মনে মনে ভাবতে লাগলো। সিদ্ধান্ত নিলো.. নাহ.. ::ছেলেটাকে আর কষ্ট দেওয়া ঠিক হবেনা। আগামীকাল সকালেই হাফিজকে নিতুর ভালোবাসার কথা জানাবে। একরাশ স্বপ্ন দেখে পরদিন নিতুর ঘুম ভাঙ্গে। এক অপরূপ সাজ সেজে নিতু আজ হাফিজের সামনে গিয়ে ওর ভালোবাসার কথা জানাবে এই ভেবে খানিক ল্জ্জা পেয়ে নিজের অজান্তেই হেসে উঠলো নিতু। হাফিজ যে আজ কতো খুশি হবে তা ভাবনার বাইরেই রাখলো। অপরূপ এক পড়ীর সাজে নিতু ওর ড্রেসিং টেবিলের লুকিং গ্লাসে তাকিয়ে আছে। নিজের সৌন্দর্যরূপ দেখে নিজের কাছেই হিংসে হলো। প্রতিবিম্বকে বললো কে হয়ে মায়াবতী সুন্দরী যে আমার সামনে দাড়িয়ে আছো। ; নিতু তেরি হয়ে যায়। ভাবলো এখন হাফিজকে একটা কল করা যাক। ওকে আমার সাথে দেখা করার কথা জানিয়ে দেই। ওর কাছে কল দিলো..... : রিং হচ্ছে কিন্তু কল রিসিভ হচ্ছে না। ২য় বার ট্রাই করলে একটা মেয়ে কলটা রিসিভ করে.... : --হ্যালো... কে বলছেন....?? : --আমি নিতু... কিন্তু আপনি কে..? : --আমি শাহনাজ। হাফিজ ভাইয়ার পাশের রুমে থাকি। : --আচ্ছা...বুঝলাম। কিন্তু হাফিজ কোথায়...?? : --জানিনা কথাটা শুনে আপনার বিশ্বাস হবে কিনা তবে সত্যি তো বলতেই হবে। হাফিজ ভাইয়া এখন আর এই দুনিয়ায় বেঁচে নেই। : কথাটা শুনে যেন মনে হলো নিতুর মাথায় বজ্র এসে পড়লো। মুহূর্তের মধ্যেই যেন চারদিক থেকে অন্ধকার এসে নিতুকে ঘিরে ধরলো। কিছুই যেন ও বিশ্বাস করতে পারছিলো না। স্বপ্নের সেই ছোট্ট কুটিরটায় যেন একটা সুনামির মতো ধ্বংসলীলা বয়ে যাচ্ছিলো। ও কি শুনলো কিছুই যেন বুঝে উঠতে পারছিলো না। তাড়াতাড়ি করে হাফিজের বাসায় পৌছে যায় নিতু। ওর নিথর দেহটা পরে আছে মেঝেতে। টেবিলে সেই অসমাপ্ত ডায়রির উপরে একটা খোলা চিঠি পরে ছিলো। : *★★জানি এতোক্ষনে আমার বিদায়ের সংবাদটুকু পেয়ে গেছো। কি করবো বলো..? এ ছাড়া যে আমার কাছে অন্য কোনো পথ খোলা ছিলনা। তোমাকে পাগলের মতো ভালোবেসেছিলাম। কিন্তু তোমাকে এতো কাছে থেকে হারাবো তা ভাবিনি কখনো। তোমাকে ছেড়ে থাকতে পারবোনা বলেই আজ আমি ওপারে চলে গেলাম। তোমাকে এতো ভালোবেসেছি যাকে হারিয়ে বাঁচতে পারবো বলে মনে হয়নি। জানি আমি তোমার যোগ্য নই তাই তোমাকে মনের কথাগুলো বলিনি। আজ আমি নেই... না বলা কথাগুলো বলে গেলাম। নিজের থেকেও হয়তো অনেক বেশি ভালোবেসেছিলাম তাই হয়তো তোমাকে হারিয়ে বেঁচে থাকতে পারবো বলে ভাবিনি। তারপরেও আমি তোমাকেই ভালোবাসি। সত্যিই বড় ভালোবেসেছিলাম তোমাকে। তোমাকে এতো কাছ থেকে হারানোর কষ্ট সইতে পারবোনা জেনেই আমি মহাকালের পথে পাড়ী জমালাম। ভালো থেকো তুমি...... : ইতি : তোমারই বন্ধু হাফিজ : :চিঠিটা পড়ে নিতু কেঁদে কেঁদে যেন নিঃশ্বেস হয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু আজ কেঁদে কি হবে। হাফিজ যে আর কোনদিনও ফিরে আসবেনা। একটা মিথ্যে আজ হাফিজকে নিতুর কাছ থেকে, এই পৃথিবীর কাছ থেকে কেড়ে নিলো। মহাকালের পথে ঠেলে দিলো। আজ নিতুর মুখে যেন কথা ফুটে না। নিতু আজ যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে। : : বিঃদ্রঃ মিথ্যা বলিও না। কিছু মিথ্যা তোমার কাছে খুবই ছোট মনে হতে পারে কিন্তু এই মিথ্যার প্রভাবটা কতো ভয়ংকর হতে পারে তা এই গল্পের পাঠকদের অজানা নয়। তোমার সামান্য মজার জন্য একটা জীবনও চলে যেতে পারে। তাই সকল পাঠকদের কাছে আমার একটা অনুরোধ কেউ কখনো মিথ্যা কথা বলবেন না। যে মিথ্যা পাপের জননী তাকে পরিহার করাই ভালো। যে মিথ্যা একটি জীবন পর্যন্ত কেড়ে নিতে পারে সে মিথ্যাকে গুড বাই জানিয়ে সত্যের সন্ধানে সন্ধানী হওয়াই উচিত।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now