বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ-০৫

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ( সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। গল্পটিতে কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে, তাই অপ্রাপ্তবয়স্ক পাঠকরা দয়া করে গল্পটি পড়বেন না) "শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ" লেখক : গাই. এন. ক্রিস্টি অনুবাদ : অনীশ দাস অপু ------------------------- পর্ব ৫ কথা বলার সময় মেয়েটা এমন ভাবে শরীরে ঝাঁকি দিল যেন ঠিকরে বেরল একটা আলো। গাউনের ভেতর দিয়ে রেখা এঁকে গেল ওর স্তনচূড়া। ক্রিস বলল, " আমরা যে আসব আপনি কি করে জানলেন? " " গতকাল আপনাদের আসতে দেখেছিলাম। এখানে যে-ই আসুক, আমার দোকানে একবার ঢুঁ মারতেই হবে। তাই ভাবছিলাম কখন আসবেন? বলুন কি দরকার?" " আপাতত কয়েকটা মোমবাতি দরকার।" বিরক্তির সুরে বলল ক্যারেন। মুক্তোর মতো শুভ্র দাঁত বের করে হাসল যুবতী। " দিচ্ছি" বলে কয়েক পা এগিয়ে এল। তারপরই বলল, " ও হো, আমার নামটাই তো বলা হয়নি। আমার নাম লিন্ডা কক্স। সুন্দর না নামটা? আমার পুরো নাম মালিন্ডা ব্রিজিত কক্স। নামটা নিজেই ছোট করে নিয়েছি। খারাপ করেছি? কি বলেন? " " না, খারাপ তো করেন নি। "ক্রিস বলল, " আমার নাম ক্রিস হ্যালোরান, ইনি আমার স্ত্রী ক্যারেন।" লিন্ডাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ক্যারেন প্রায় ধমকে উঠে বলল, " মোমবাতি আছে? রঙিন?" পাত্তা দিল না লিন্ডা। বলল, " আছে, মিসেস হ্যালোরান। কোনটা নেবেন? ছোট, বড়, মাঝারি? লাল, নীল, সবুজ, লম্বা, খাঁজকাটা? বলতে বলতে ক্যারেনের সামনে এসে সে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল, " বলুন। " ক্যারেন লিন্ডার টান টান শরীরটা দেখল। ক্যারেনের ফিগারও প্রশংসনীয় ঠিকই, একসময় সাঁতারু হিসেবে প্রচুর নামডাক ছিল, মডেলিংও করেছে, যে কোনও পুরুষ ওকে দেখে মুগ্ধ হয়েছে, কিন্তু লিন্ডার মতো পুরুষের শরীর-মনে ঝড় তোলার মতো ক্ষমতা ক্যারেনের নেই। একথা ক্যারেন মনে মনে স্বীকার করল। ক্রিস এই ছুঁড়িটার পাল্লায় না পড়লেই হল। ক্রিস হ্যালোরান সুদর্শন যুবক, পেশীবহুল শরীর। স্বামী হিসেবে গর্ব করার মতো। " ডিনার টেবিলের জন্য কয়েকটা লম্বা মোমবাতি দিন। রঙিন। " ক্যারেন বলল। " কি রঙের নেবেন?", লিন্ডা জানতে চাইল, " আচ্ছা দেখাচ্ছি আপনাদের। চয়েস করুন।" মোমবাতির কার্টন থেকে ছটা ফিকে সবুজ রঙের মোমবাতি চয়েস করে বের করে নিল ক্যারেন। লিন্ডা যখন মোমবাতিগুলো প্যাক করছিল, ক্যারেন ওর স্বামীর গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, " আপনি কোথায় থাকেন, লিন্ডা?" " দোকানের পেছনেই আমার ঘর। ছোট, তবে একা মানুষ, দিব্যি চলে যায়।" একটু বিরতি দিয়ে জিজ্ঞেস করল, " আর কিছু লাগবে?" " না, দরকার পড়লে আবার আসব। চলো ক্রিস।" ক্যারেন একরকম ঠেলেই ক্রিসকে দোকানের বাইরে বের করে নিয়ে এল। বলল, " মেয়েটা যেন গিলছিল তোমায়। আর কি পোষাকে দোকানদারি করছে রে বাবা! আর তুমি তো চোখই সরাতে পারছিলে না ওর থেকে!" " মেয়েটা কিন্তু খুব সাঙ্ঘাতিক! " ক্রিস ক্যারেনের কোমর জড়িয়ে ধরে বলল, " চেহারা আর ফিগারের কথা বাদ দাও, মেয়েটা কেমন বেপরোয়া, দেখেছ?" রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে ক্রিস ক্যারেনের গালে টুক করে একটা চুমু খেল। বলল, " এখন কোথায় যাবে? চলো একটু ঘুরে আসি। তোমার কিছু লাগবে না আর?" ক্যারেন বলল," রুটি আর দুধ পাওয়া যাবে এখানে?" " পাওয়া যেতে পারে। টেবর ইভান্স কি যেন একটা স্টোরের নাম বলছিল?" " অলিভার্স প্রভিন্স স্টোর্স।" " চল ওদিকটায় দেখি।" দোকানটা খুঁজে পেতে বেশী অসুবিধে হল না ওদের। একটা পাকা বাড়ি, সামনে কাঠের শেড, সাইনবোর্ড লাগানো। অলিভার্স প্রভিন্স স্টোর্স। লিন্ডার দোকানের চেয়ে অনেক বড়। তিন ধাপ সিঁড়ি উঠে গিয়ে একটা বারান্দা। দোকানটায় হাতুড়ি পেরেক থেকে শুরু করে শাকসবজি, ফলমূল, ফুল ছাড়াও রুটি, দুধ, মাছ, মাংস, পনীর সবই পাওয়া যায়। তবে খুব স্বল্প পরিমাণে। দোকানের ভেতর একটা কেমন প্রাচীন গন্ধ। এক ধারে পুরনো একটা ক্যাশ কাউন্টার। টেলিফোন, একজন মোটাসোটা ভদ্রমহিলা দাঁড়ানো , চোখে রিমলেস চশমা। চীনাদের মতো দেখতে। দোকানে ক্রিস আর ক্যারেন ছাড়া আর কোনও ক্রেতা নেই। বাড়ি ঠিক করার সময় ক্রিস কয়েকবার এই দোকানটায় এসেছে। ভদ্রমহিলা ক্রিসকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বলল, " এসো ক্রিস ।" তারপর পাশে ক্যারেনের দিকে ঈশারা করে বলল, " ইনি?" ক্রিস বলল, " আমার স্ত্রী ক্যারেন হ্যালোরান। " এবার ক্যারেনের দিকে তাকিয়ে ভদ্রমহিলার পরিচয় দিতে গিয়ে বলল, " ইনি মার্সিয়া অলিভার।" কাউন্টার ছেড়ে মহিলা অর্থাৎ মার্সিয়া এসে ক্যারেনের হাত দুটো ধরে ক্রিসের দিকে তাকিয়ে বলল, " বাঃ, বেশ সুন্দর বউ তো তোমার! তোমাদের জুটি খুব মিলেছে!" " থ্যাঙ্ক ইউ।" মার্সিয়া বলল, " ওই যে দেখছ মিটশেফের পাশে যে ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে আছেন, উনি আমার স্বামী, উইলিয়াম। " ওরা তাকাল উইলিয়ামের দিকে, উইলিয়ামও তাকাল ওদের দিকে, বোধহয় হাসবার চেষ্টা করল। চেহারায় কেমন যেন রুক্ষ ভাব। মার্সিয়া বলল, " আমাদের গ্রামে নতুন মানুষ সচরাচর আসেই না। এলেও দু একদিন থাকে। অনেকদিন পর আমাদের গ্রামে নতুন মানুষ এল। তোমাদের যখনই প্রয়োজন হবে, চলে এসো। ভাল না লাগলেও অন্তত গল্প করতেও এসো। " ওরা মার্সিয়ার দোকান থেকে রুটি, দুধ, ডিম, মাখন কিনে, কফি খেয়ে, মার্সিয়াকে আবার ওর দোকানে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ল। ভালই লাগছিল ক্যারেনের। এত ছায়াঘেরা রাস্তা, এত গাছপালা আর এত নির্জনতা কখনো দেখেনি ক্যারেন। একটা বাড়ির সামনে দশ-বারো বছরের দুটি ছেলেমেয়েকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল ক্যারেন। কিন্তু কেমন পান্ডুর, ম্লান আর অনুজ্জ্বল ওদের চোখমুখগুলো! বয়স্কদের মতো গম্ভীর মুখ। ওদের দিকে কেমন অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকাল। চোখে কেমন হিংস্র, বুভুক্ষু দৃষ্টি! অবাক হয়ে গেল ক্যারেন। এরকম দৃষ্টি কেন এদের চোখে! এইসময় বাড়ির ভেতর থেকে একজন মহিলা এসে ওদের কি বলল, ওরা ছুটে গিয়ে ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল। " যাক, এতক্ষণে দুটো বাচ্চার চেহারা দেখা গেল," ক্যারেন বলল, " তবে এরকম শূন্য কেন গ্রাম? একটা কুকুর পর্যন্ত নেই!" " আছে, আছে, সব আছে। বাচ্চারা হয়ত গেছে স্কুলে। কুকুর হয়ত নেই এখানে। লোকজন তো এমনিতেই কম এখানে।" " কিন্তু স্কুল এখানে কোথায়? যে কটা বাড়ি দেখলাম, সেগুলো তো স্কুল বলে মনে হল না।" ঠোঁট উলটে ক্রিস বলল, " কে জানে হয়ত হ্যামিল্টনে পড়তে যায় ওরা। কিংবা পাশের শহরে।" " কেন? অত দূরে পড়তে যাবে কেন ওরা?" ক্যারেন আশ্চর্য হয়ে বলতে লাগল, " আমার তো কেমন যেন রহস্যময় লাগছে সবকিছু। তবু দোকানের ঐ ভদ্রমহিলা মার্সিয়াকে ভালই লাগল। চমৎকার মহিলা।" (চলবে) ------------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now