বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শুধুই গল্প
গোয়েন্দাগিরিঃ আত্মহত্যা
অসীম পিয়াস
১।
হাসপাতালের ক্যাফেতে বসে নাস্তার অর্ডার দিয়ে অপেক্ষা করছি। সরকারি হাসপাতালের ক্যাফে, যথারীতি নাস্তাগুলো যুতের না। কিন্তু কিছুই করার নেই, মাত্র পেশাগত জীবন শুরু হয়েছে। পকেট বেশিরভাগ সময়েই গড়ের মাঠ হয়ে থাকে। ভালো নাস্তা করতে মন চাইলেও সেই বিলাসিতা করার সুযোগ নেই। একসময় হয়ত টাকা পয়সা হবে কিন্তু তত দিনে খাওয়ার ইচ্ছা চলে যাবে কিংবা কোনো রোগ হয়ে খাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। এমন সময় হঠাৎ দরজায় দেখি রফিক সাহেবকে। রফিক সাহেব এখানকার ডিবির অফিসার। পেশাগত কারণেই কারণেই পরিচয় আছে। আমি এই মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগের লেকচারার। তাই এর আগেও লাশ কিংবা পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট নিয়ে কথা হয়েছে। আমি উনাকে দেখে হাত নাড়লাম। উনিও হাসি মুখে এগিয়ে এলেন আমার টেবিলের দিকে।
- কি ব্যাপার, কেমন আছেন?
- আর থাকা, সবসময় থাকতে হয় দৌড়ের উপর। রাত দিন বলে কিছুই নাই।
- তাই নাকি? আমার কাছেতো ব্যাপারটা খুবই অ্যাডভেঞ্চারাস মনে হয়।
- অ্যাডভেঞ্চার না ছাই। নিজে থাকলে বুঝতেন।
আমি ক্যাফের ছেলেটাকে ডেকে নাস্তার অর্ডার ডাবল করে দিয়ে বললাম
- গোয়েন্দা কাহিনী পড়ে পড়ে বড় হয়েছি। সারা জীবনের সাধ ছিল গোয়েন্দা হওয়া কিন্তু পারলাম কই? আপনাদের দেখে তাই হিংসা হয়।
রফিক সাহেব হেসে দিয়ে বললেন,
- সারা জীবনতো সলভড কেস ই পড়েছেন। কিন্তু বাস্তবে বেশিরভাগ কেসই আনসলভড থেকে যায়। আবার বহু খেটে সলভ করতে পারলেও শেষমেশ আসামীর কিছুই হয় না। সাক্ষী গায়েব হয়ে যায়, উপর মহল থেকে চাপ আসে আরো কত কি? অনেক সময় নিশ্চিত জানি আসামী কে তারপরও তার বিরুদ্ধে অ্যাকশান নিতে পারি না, অথচ লোকটা হয়ত চোখের সামনে দিয়েই ঘুরে বেড়ায়। গল্প আর বাস্তবে বহু তফাত। এত দৌড়াদৌড়ি তাই এখন আর ভালো লাগে না। আমারো আপনাদের দেখে হিংসা হয়। আপনাদের মত টেবিলের পিছনে বসে বসে টাকা গুনতে পারলেই বরং ভালো লাগত।
ডাক্তার মানেই এখন লোকে বোঝে টাকা, অথচ টাকাওয়ালা ডাক্তার মাথায় টাক পড়ার আগ পর্যন্ত হওয়া যায় না। আমি আর এ ব্যাপার ব্যাখ্যা করতে গেলাম না। তাছাড়া নাস্তা চলে এসেছে, তাই সিঙ্গাড়ায় কামড় বসিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম,
- আজকে এদিকে কি উপলক্ষে?
- একটা আত্মহত্যার কেস। আপনারতো জানার কথা, কালকে বহদ্দারহাট থেকে একটা মহিলার লাশ এসেছে না? ওইটা।
- নাম কি?
- দিলারা পারভীন। এক ডাক্তারের বৌ।
নাম বলায় চিনতে পারলাম। ৩০/৩১ বছরের একটা মহিলা। চেহারাটা মনে আছে, কারণ মহিলা ভয়ানক মোটা। ফ্যানের সাথে ফাঁশ লাগিয়ে আত্নহত্যা করেছে। ফাঁশ দেওয়ার পর ফ্যানটা খুলে এসেছিল কিনা, এই নিয়ে একটু হাসাহাসি হয়েছিল, এখন অবশ্য খারাপ লাগছে।
- কোন ডাক্তার?
- ডাক্তার সেলিম। জেনারেল হাসপাতালে প্রাক্টিস করেন।
- হুম। কিন্তু মহিলাতো আত্মহত্যাই করেছে। খুন হয়নি। পোস্ট মর্টেমে তা-ই পাওয়া গিয়েছে।
- হুম, তা-ই তো দেখছি।
- কি ব্যাপার কেসটা খুনের না হওয়ায় মনে হয় বেজার হলেন?
রফিক সাহেব আবার হেসে দিলেন,
- তা বলতে পারেন, ইদানিং কারো অপরাধ প্রমাণিত না হলে কেমন যেন লাগে। বোঝেন-ই তো, এদের পিছে ঘুরতে ঘুরতে সবাইকেই একই ক্যাটাগরিতে ফেলে দেই মনের অজান্তেই। তাই নিজের ধারনা ভুল প্রমাণিত হলে খারাপতো লাগেই।
- তো এখন কি হবে? এই কেস তো ডিসমিস?
- হুম বাট পুরোপুরি না। আরো কিছু তদন্ত হবে। অনেক সময় শ্বশুর বাড়ির অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অনেকে আত্মহত্যা করে। নাইলে একটা সুস্থ স্বাভাবিক মহিলা এই কাজ করবে কেনো? আপনি-ই বলুন।
- কিন্তু মহিলার গায়ে তো কোনো ফিজিক্যাল টর্চারের আলামত পাওয়া যায়নি।
- তা যায়নি কিন্তু মানসিক টর্চারওতো করা যায়। যৌতুকের জন্য মানুষের অমানবিকতার কিছুই এখনো আপনি দেখেননি। এই ডিপার্টমেন্টে থাকেন আরো কিছুদিন। দেখতে পাবেন।
- যৌতুকের ব্যাপার স্যাপার আছে নাকি এতে?
- হুম। সেটাই এখন ভালমত খতিয়ে দেখা হবে। ডাক্তারের বৌ যখন, এ ধরনের ব্যাপার না থাকারই কথা। তারপরও দেখা যাক। মানুষকে বিশ্বাস নেই।
ততক্ষনে নাস্তা শেষ হয়ে গেছে। রফিক সাহেব উঠে পড়লেন। যাওয়ার আগে জোর করে বিলটাও দিয়ে দিলেন। আমি বললাম,
- কি হয় আমাকে প্লীজ জানাবেন। এসব ব্যাপারে আমার ভীষণ আগ্রহ বললাম-ই তো। তার উপর ব্যাপারটায় একজন ডাক্তার জড়িত।
উনি সম্মতি জানিয়ে বিদায় নিলেন।
২।
দু’দিন পর রাত দশটার দিকে বাসায় ফিরছি। এখানকার এক বেসরকারি হাসপাতালে কিছু প্র্যাকটিস করার চেষ্টা করি। গেটের সামনে রিকশার জন্য দাড়ানো। হঠাৎ সামনে একটা মাইক্রোবাস থামল। জানালা নামানো হলে দেখি রফিক সাহেব,
- কি পিয়াস সাহেব, কোথায় যান?
- কোথাও না, বাসায় ফিরছি। আপনি?
- আরে আপনার সেই কেসটার ব্যাপারে যাচ্ছি। আপনাকে দেখে থামলাম। হাতে কাজ না থাকলে আসতে পারেন। আপনার গোয়েন্দাগিরির কৌতুহল মিটবে।
এই প্রস্তাবেতো আমি সানন্দে রাজি। বলামাত্র উঠে পড়লাম মাইক্রোতে। বেশ একটা ভাব এসে গেল, মনে মনে থ্রিলিং সব সাউন্ডট্রাক বাজতে লাগলো।
- আসলেন কোত্থেকে আর যাচ্ছি কোথায় আমরা?
- দিলারা পারভীনের বাবার বাড়ি থেকে ফিরলাম, যাচ্ছি ডাক্তার সেলিমের বাসায়।
- ওখানে কি জেরা করবেন সবাইকে?
- হ্যাঁ, ডাক্তার সাহেবের মা, দুই বোন, ছোট ভাই আর কাজের মেয়েটাকেও থাকতে বলেছি।
- আমি থাকলে সমস্যা হবে না?
- নাহ, এই মূহুর্তে আপনি আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট। আপনার ডাক্তার পরিচয় ভুলে যান।
- আমি কি দুয়েকটা প্রশ্ন করতে পারবো?
- কেন পারবেন না? লোকটা ডাক্তার, তাকে আপনি আরও ভালো বুঝতে পারবেন। বলতে পারেন অনেকটা সেজন্যই আপনাকে সাথে নেয়া।
- তারপর কি সাসপেক্ট করছেন। আসামী কি দোষী? মহিলার বাবার বাড়ীর লোকজন কি বলল?
- সম্ভবত না, আমরা যা খোজ খবর করেছি তাতে লোকটার ভিতর সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। মহিলার বাবার বাড়ীর পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ নেই। জাস্ট একটা রুটিন ইনভেস্টিগেশনের জন্য যাচ্ছি। দেখা যাক উনাদের সাথে কথা বলে কিছু পাওয়া যায় কিনা?
- যৌতুক বা লোকটার অবৈধ কোন সম্পর্ক নিয়ে উনারা কিছু সন্দেহ করেন নাকি?
- নাহ, একদম ক্লীয়ার।
- উনাদের মধ্যে কি খুব ঝগড়া ঝাটি হতো?
- নাহ, মহিলার বাবার বাড়ীর লোকজনতো সেলিম সাহেবের খুব প্রশংসা করলেন।
- তাহলে মহিলা এই কাজ করলো কেন?
- সে জন্যই তো মনটা খচখচ করছে। দেখা যাক।
রফিক সাহেবের একটা ফোন আসায় উনি কথায় ব্যস্ত হয়ে গেলেন। তবে আমার হাতে একটা ফাইল গুজে দিলেন। ডাক্তার সেলিম এর জীবন বৃত্তান্ত। ভদ্রলোক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ। ছয় বছর আগে দিলারা পারভীনের সাথে বিয়ে হয়। প্রাক্টিস করেন জেনারেল হাসপাতালে আর একটা বেসরকারি মেডিকেলে পড়ান। চেম্বার টাইম বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা। এরকম আরও কিছু টুকিটাকি তথ্য জানলাম। পড়তে পরতেই ডাক্তারের বাসায় পৌঁছে গেলাম।
ডাক্তারের বাসায় পৌঁছে দেখি সবাই উপস্থিত। ড্রয়িং রুমে আগে থেকেই ছিলেন সবাই। পুলিশ দেখে খুব বেশি অস্বস্তি দেখলাম না কারো মধ্যে। সম্ভবত গত কয়েক দিন অনেক বারই এদের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে এখন তারা অভ্যস্ত হয়ে গেছে। রফিক সাহেব আমাকে উনার সহকারি হিসাবেই পরিচয় দিলেন। জেরা করা হবে তাই একজন একজন করে আসতে বলা হল।
ডাক্তার সাহেবকে দিয়েই শুরু হলো। অবশ্য নতুন কিছু জানা গেল না।
তিনি জানালেন যে, স্ত্রীর সাথে তার খুবই চমৎকার সম্পর্ক ছিল। স্ত্রীর খুবই প্রশংসা করলেন। তাদের বিয়েতে যৌতুকের কোন ব্যাপার ছিল না। দুই পরিবারের আয়োজনে এবং তাদের উভয়ের সম্মতিতেই বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের আগে তার স্ত্রীর আর কারো সাথে কোন ধরনের সম্পর্ক ছিল না, এ ব্যাপারে তিনি পুরো নিশ্চিত। কিন্তু তার স্ত্রী কেন এমন করলো, তার ব্যাখ্যা দিতে পারলেন না।
ঝগড়াঝাটির কথা জিজ্ঞেস করায় বললেন, শেষ কবে কথা কাটাকাটি হয়েছে তা-ই তিনি মনে করতে পারছেন না।
ঐদিনের ঘটনার বিবরণ জানতে চাইলে তিনি বললেন যে, ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। ছিলেন চেম্বারে। রাত ৮টার দিকে বাসার কাজের বুয়া তাকে ফোন করে জানায় যে, ম্যাডামের ঘরের দরজা বন্ধ এবং উনি কোন সাড়া শব্দ করছেন না। শুনেই তিনি দ্রুত বাসায় ফেরেন। বাসায় ফিরে তিনিও অনেক ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে তার ভাইকে খবর দেন। ভাই আসলে তার সহায়তায় দরজা ভেঙ্গে দেখা যায় যে তার স্ত্রীর লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলছে। তারপর লাশ নামিয়ে যা যা করা দরকার তা তিনি করেন। উনার বলা শেষ হলে আমি জিজ্ঞেস করলাম,
- আচ্ছা আপনাদের বিয়ে হয়েছে ছয় বছর কিন্তু বাচ্চা কাচ্চা নেননি কেন?
- আসলে আমার স্ত্রীর সমস্যা ছিল, এ জন্য আমাদের বাচ্চা হয়নি।
- এ জন্য কি উনি খুব ডিপ্রেসড ছিলেন?
- তা তো একটু ছিলই।
- আপনি বা আপনার ফ্যামিলীর কেউ কি এ ব্যাপারে উনাকে খুব বেশি ব্লেম করতেন?
- ছি ছি। না। এ খবরে সবারই মন খুব খারাপ হয়েছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে কেউ কখনো দিলারাকে কিছু বলেনি। তাছাড়া আমি চিকিৎসার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। সামনের বছর বিদেশ যাব এ পরিকল্পনাও ছিল।
আমি আর কিছু না বলে রফিক সাহেবের দিকে তাকালাম। উনার ঠোটের কোণে মৃদু হাসি।
এরপর বাকী সবাইকে জেরা করা হলো। এবার সবাইকে এই বাচ্চা হওয়ার পয়েন্টটায় জোর দেওয়া হলো। কিন্তু সবাই বললো এই ব্যাপারে কখনোই মহিলাকে কষ্ট দেওয়া হয়নি বরং পরিবারের সবাই পুরো সাপোর্ট দিত তাকে। ডাক্তার সাহেবের মা অবশ্য দুঃখ করলেন যে, তার এমন লক্ষী বৌ যে এমন একটা কাজ করতে পারে তা তিনি কল্পনাও করেন নি। কিন্তু জীবিত অবস্থার এমন লক্ষী বৌ মরার পরে এমন তাদের এমন বিপদে ফেলেছে বলে তাকে বেশ বিরক্ত মনে হলো।
কাজের মহিলাকে সবচে ভালো ভাবে জেরা করা হলো। কারণ সে পরিবারের বাইরের লোক আর এদের সবচে কাছাকাছি এ-ই ছিল। সে ও আগের সবার মতই একই কথা বললো। প্রায় পাঁচ বছর এখানে আছে। সাহেবের সাথে ম্যাডামের ঝগড়া হতে সে কখনো দেখেনি। বাচ্চা না হওয়ার কারণে এই ফ্যামিলীর কাউকে মহিলাকে কখনো কিছু বলতে শোনেনি। যদিও এই কারণে উনার মন খারাপ থাকতো। ঘটনার দিন রাতে কি রান্না হবে জানার জন্য সন্ধ্যার দিকেই সে ম্যাডামকে ডাকতে গিয়েছিল, কিন্তু কোন জবাব না পেয়ে ফিরে আসে। ভেবেছিল হয়ত ম্যাডাম খারাপ লাগায় ঘুমাচ্ছেন বা রেস্ট নিচ্ছেন। পরে আরও কয়েকবার ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে সে সাহেবকে ফোন করে। তবে শেষ মুহুর্তে একটা নতুন তথ্য দিল সে, মহিলার শরীর আর মন দুটোই নাকি গত কয়েক মাস একটু বেশিই খারাপ ছিল। প্রায়ই নাকি তার নাক দিয়ে রক্ত পড়ত। নাক মুখ শুকিয়ে যেত। সারাক্ষণ একাকী থাকতো। সবার সাথে খিটমিট করতো। তবে সাহেব ভালো মানুষ বলে কিছু মনে করতো না।
জেরা শেষ হলো, অস্বাভাবিক কোন কিছুর আলামতই পাওয়া গেল না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সেলিম সাহেব পুরোই নির্দোষ। রফিক সাহেবও একমত হলেন। কিন্তু এত ভালো থাকার পরও মহিলা এই কাজ কেন করলেন, তার ব্যাখ্যা মিলল না।
মন একটু খারাপই হল, সত্য কথা। আসার সময় সারা রাস্তা চিন্তা করেছি ঝানু গোয়েন্দাদের মত জেরায় কাবু করে অপরাধী সনাক্ত করে ফেলব। তা আর হলো না।
যাই হোক সেলিম সাহেবের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরুতে যাব এমন সময় হঠাৎ আমার মনে হলো গোয়েন্দাদের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা পয়েণ্ট আমি মিস করেছি। ক্রাইম সীনটাই আমি দেখিনি। রফিক সাহেবকে সেটা বলতেই উনি বললেন, আপনি চাইলে একবার দেখে আসতে পারেন। আমি কয়েকবার দেখেছি। আর এখন ওখান থেকে সব এভিডেন্স সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
আমি তাও যেতে চাওয়ায় রফিক সাহেবের অনুরোধে সেলিম সাহেব তাদের বেডরুমে আমাকে নিয়ে গেলেন। একদম নর্মাল বেডরুম। খাট, আলমারি, ড্রেসিং টেবিল আর একটা ওয়ার্ড্রোব। ফ্যানের সাথে ফাঁশ লাগিয়ে ড্রেসিং টেবিলের টুলটা ব্যবহার করা হয়েছে আত্মহত্যা করতে। সব ছিমছাম। ঘটনার দিন আসলেও হয়ত কিছু চোখে পড়ত। আমিতো আর প্রশিক্ষিত গোয়েন্দা না যে, এখান থেকেও কিছু বের করে ফেলব। তাই হতাশ হলাম আরেকবার। ওয়ার্ড্রোবের উপর বাধানো একটা ছবি দেখে এগিয়ে গেলাম। ডাক্তার সাহেবের সাথে এক মহিলা। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে উনার দিকে তাকাতেই বললেন,
- আমাদের হানিমুনের ছবি। তখন ও চিকন ছিল।
- এত মোটা হলেন কিভাবে?
- বছর তিনেক আগে টাইফয়েড হয়েছিল। তারপর থেকেই ও মোটা হয়ে গেছে।
- এই বিষয়ে উনি কী উনি আপসেট ছিলেন?
- নাহ, আমাকে অন্তত কখনো বলেনি।
মহিলার অসুখের আগে পরে পুরো দুই রূপ। আগে বেশ সুন্দরী ছিলেন কিন্তু এখন আসলেই কুৎসিত হয়ে গেছিলেন।
ওয়ার্ড্রোবের উপর কয়েক বাক্স ওষুধ। ট্রায়াঙ্গেল কোম্পানির isotretinoin।
এতগুলো ওষুধ একসাথে দেখে এমনি জিজ্ঞেস করে বসলাম, আচ্ছা এগুলো কার ওষুধ? প্রশ্নটা শুনে উনি কেমন অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন। দ্রুত বললেন, আরে এটা প্রেসারের ওষুধ। দিলারা মোটা হওয়ার পর ওর প্রেসার ও হয়েছিল, তাই খাওয়া লাগত।
শুনে খুব অবাক হলাম কারণ এটা প্রেসারের ওষুধ না। একজন ডাক্তারের প্রেসারের ওষুধ ভুল হওয়ার কথা না। তাহলে উনি মিথ্যা বলবেন কেন?
কিন্তু আমিতো এখানে ডাক্তার হিসাবে আসিনি, তাই অবাক হলেও আর কিছু জিজ্ঞেস করলাম না।
সেদিনের মত বিদায় নিয়ে চলে এলাম।
রফিক সাহেব বললেন, মন খারাপ নাকি? দেখলেন তো নিজের ধারণা না মিললে সব সময়ই এমনটা হয়।
আমি শুকনো একটা হাসি হাসলাম। কিন্তু আমার মনের মধ্যে তখন অন্য চিন্তা। ব্যাপারটা আগে সিওর হতে হবে। তারপর দেখা যাবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now