বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভ্যস্ত নাগরিক সভ্যতা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X অভ্যস্ত নাগরিক সভ্যতা আশিক পিয়াল লোকটি তড়িঘড়ি করে বাসে ওঠার সময় হেল্পারের কনুইয়ে টাক খেয়েছিল একটা। সে জায়গায় আধঘন্টা পর এখনো চিনচিন করে। বাহিরে ঝুম বৃষ্টি। জানালার ঘোলা গ্লাস বৃষ্টিতে আরো ঘোলা। কতখানি রাস্তা আর বাকি আছে ঘোলা গ্লাস, বৃষ্টি এবং অন্ধকারে বোঝার উপায় নেই। হোটেল থেকে গরম গরম দুটো মোগলাই কিনেছিল, বাসায় গিয়ে গোশতের ঝোল দিয়ে খাবে। গরম কমে যাচ্ছে। লোকটি হাতঘড়ি দেখল। রাত ৮টা। ঠিক তার পাঁচ মিনিট পরই বাসটি ভয়াবহ এক্সিডেন্ট করে। ছেলেটার বয়স সতেরো। গার্মেন্টসে কাজ করে। হাতে টিফিনকারি। এইমাত্র নতুন কিনলো। আলাদা আলাদা বক্সে লাঞ্চ নেয়া ঝামেলা। তবু কিনবে না কিনবে না করে কিনেই ফেলল। নতুন টিফিনকারির এই টাকাটা দিয়ে ছেলেটা একটা চকমকে স্যু কিনতে চেয়েছিল। এজন্য কিছুটা হতাশ এবং উদাস হয়ে সে হাঁটছে। ঠিক তার পাঁচ মিনিট পরই ছেলেটা ভয়াবহ এক্সিডেন্ট করে। সুনয়না তার নাম। সুনয়না রয়। রিকশা করে ফিরছে। একটা চাকরির ইন্টার্ভিউ দিতে গিয়েছিল, টিকে গিয়েছে। পূজো কাটিয়ে একবারে জয়েন করার অনুমতি পেয়েছে বিধায় খুশি। এখন শুধু হোস্টেলে ফিরে ব্যাগ গুছিয়ে তারপর রাতের ট্রেনে সোজা বাড়ি। অন্যসময় বৃষ্টির ছিটে পায়ের জুতা চপচপ করতে থাকলে সুনয়নার মেজাজ গরম হত, আজ হচ্ছে না। ঠিক তার পাঁচ মিনিট পরই রিকশাটি ভয়াবহ এক্সিডেন্ট করে। শেষ দৃশ্য: তিনরাস্তা জুড়ে ভয়াবহ জ্যাম। মানুষের চিল্লাচিল্লি, ট্রাফিক পুলিশকে গালাগালি। কাদা পানি ছিটিয়ে ফুটপাত দিয়ে মোটরসাইকেল চলে যায়। রিকশাওয়ালারা-ও এটা করার সুযোগে আছে। 'খেয়ে-দেয়ে আর কাজ নেই' ধরনের একগাদা মানুষ উঁকিঝুকি দিতে দিতে আওড়ায়, "ঐখানে কি হইছে ভাই? ঐখানে কি হইছে চাচা?" ট্রাফিক সার্জেন্ট গরু ভেবে গাড়ি পিটায় এবং গাড়ির ড্রাইভার হাত মুঠ করে ঝগড়া লাগায়। ব্যস্ত শহর। সবাই কত কিছু নিয়ে ব্যস্ত। দুটো মোগলাই ভরা প্যাকেট কিংবা নতুন কেনা টিফিনকারি, এদের কোন ব্যস্ততা নেই। দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া রিকশার ভিতর কেউ একজন ছিল, এখনো হয়ত আছে। কিন্তু তার চুল ছাড়া আর কিছুকে নড়াচড়া করতে দেখা গেল না। বৃষ্টির পানিতে চপচপে জুতা জোড়াও না। অতঃপর শেষ দৃশ্যটি শেষ হল। দৃশ্যপট কালো হয়ে গেল। তার উপর গুটিগুটি হরফে লেখার পর লেখা উঠতে লাগল। ভালো ভাবে কান পাতলে শোনা যাবে ব্যাকগ্রাউন্ডে কিছু একটা সুর। মেঘ-বৃষ্টির সুর।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অভ্যস্ত নাগরিক সভ্যতা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now