বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অভিনয়

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Israt Zahan (০ পয়েন্ট)

X প্লিজ গল্পটা সবাই পড়বেন,, মেয়েদের অভিমানটা হয়তো ছেলেরা বুঝতে পারেনা,,মেয়েরাও ভালবাসতে জানে???????? >> আমি আর সম্পর্ক কে এগিয়ে নিতে যেতে চাচ্ছি না। >> মানে? >> হ্যা, এখন আর অভিনয় করতে ভালো লাগছে না >> অভিনয়?? আমাদের সম্পর্ক তোমার কাছে অভিনয়? >> হ্যা, অভিনয় নয়তো আর কি?? >> তুমি আমাকে ভালোবাসো না?? >> না, আমাদের মাঝে যা ছিলো সবটাই অভিনয় >> তিন তিনটে বছর তোমার কাছে অভিনয়? >> হ্যা, >> কেনো করলে আমার সাথে এমন?? >> তোমার মা,বাবার তোমাকে নিয়ে খুব অহংকার তাই >> তুমি এতটা নীচ?? >> হ্যা,বাবা আমার বিয়ে ঠিক করেছে,, ছেলে অস্ট্রেলিয়া থাকে >> অহ এই কথা... >> হ্যা, আশা করি আমাকে আর ডিস্টার্ব করবে না। >> হ্যা করবো না। তবে একটা কথা কি জানো? >> কি?? তোমার মত নীচ মেয়েকে আমি না চিনতে পারলেও আরেফিন ঠিক চিনতে পেরেছিল। >> ভালো তো। আশা করি আমাকে দেয়া কথা তোমার মনে আছে? >> কি কথা?? >> নিজের কখনো কোন ক্ষতি করবে না >> তোমার মত একটা মেয়ের জন্য অবশ্যই করবো না। >> ধন্যবাদ, ভালো থেকো। এই বলে মায়া চলে যায়। কথা হচ্ছিলো মায়া এবং ফাহাদের সাথে। দুজনের সম্পর্ক তারা কাজিন কিন্তু তিন বছর তাদের সাথে অন্য সম্পর্ক ছিলো। আজ মায়া সেই সম্পর্ক শেষ করে দিয়ে চলে গেলো। ভাগ্যিস আরফিন ছিলো। মেয়েটা পারেও বটে। ফাহাদের এই সময়ে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। না হয় ফাহাদ অনেক ডিপ্রেশন এ চলে যেতো। দেখতে দেখতে পনেরো দিন চলে গেছে। মায়া সেদিন অনেকবার কল দিয়েছে, আরফিন ধরতে দেয়নি। বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলো মায়ার কলে। শেষে আরফিন যেনো কি বললো মায়াকে। তারপর সেদিন সিম চেঞ্জ করে ফেলে ফাহাদ। আজ ঈদেরছুটি তে বাড়ি যাচ্ছে। যেতে যেতে অনেক রাত হয়ে গেছে। খুব টায়ার্ড। তাই ঘুমালো। ঘুমানোর সময় মনে হল আচ্ছা মায়া কি বাড়ি এসেছে?? নাকি অস্ট্রেলিয়া চলে গেছে?? ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে যায়। পরদিন সকালে উঠে ফাহাদ বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। বাহ শিউলিতলা তো ফুলে ভরে গেছে। বাড়ির সামনে কবরস্থান। একটা নতুন কবর। ফাহাদ চিন্তা করতে থাকে আবার কে মারা গেলো?? অদ্ভুত তো কবরের উপরে শিউলি ফুল দিয়ে রেখেছে কে? আবার মোম জ্বালানো ছিলো মনে হয়..... এইসব ভাবতে ভাবতে চাচাতো ভাই রাহাত কে ডাক দেয়। >> আচ্ছা কে মারা গেছে রে?? নতুন কবর.... >> একটা মেয়ে >> কিভাবে?? >> কাহিনী শুনবি?? >> হ্যা,বল,, যদি গল্পের মত করে লিখতে পারি..... >> পারবি... অবশ্যই পারবি..... তাহলে শোন,,,,, মেয়েটাকে আমরা সবাই চিনি। বলতে পারিস বাড়ির সবার চোখের মণি। মা,বাবার আদরের সন্তান, ভাইয়ের আবদার পূরণ এর চাবি, বান্ধবী দের ড্রামাকুইন.... >> আমি কি চিনি?? >> পুরোটা শোন কোন কথা বলবি না। >> আচ্ছা বল >> একদিন মেয়েটা অসুস্থ হয়ে পড়ে,, নাক দিয়ে ব্লাড এসে যায়। মেয়েটি হঠাৎ করে মাটিতে পড়ে যায়। তাই বাবা,মা মনে করে হয়তো নাক এর ভিতরে আঘাত লেগে কেটে গেছে এবং রক্ত পড়ছে। যখন দেখে অনেক ক্ষণ হয়ে গেলো মেয়ের সেন্স ফিরছে না দেখে ভয় পেয়ে যায়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ডক্টর কিছু টেস্ট দেয়। রিপোর্ট যে ভালো আসবে না, ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলো মেয়েটির পরিবার, ঠিক তাই হল। ডক্টর পনেরো দিনের সময় দিয়ে দেয়। মেয়েটি প্রথমে খুব কেঁদেছিলো কিন্তু পরে একদম শক্ত হয়ে যায়। বাবা, মা কে বলে শেষ কয়েকটা দিন সে গ্রামে সবার সাথে থাকতে চায়। বাবা, মা তার কথা মেনে নেয়। নিয়ে আসে তাকে বাড়িতে। জানিস প্রতিদিন এই শিউলিতলা তে এসে দাড়াতো। সবাই অসুস্থতার কথা শুনে দেখতে আসতো। এতে বিরক্ত হতো না, বরং হাসতো। বলতো দেখ, দেখ আমি কত ফেমাস। যেদিন মারা যায় সেদিন সকাল বেলা এই শিউলিতলা তে দাঁড়িয়েছিলো। পিছন থেকে এসে বলেছিলাম >> কিরে,, কি করিস? >> আজকের সকাল টা আর আসবে না রে >> আচ্ছা তোর ভয় করে না?? মৃত্যু তোর এত কাছে?? >> নারে.... কিন্তু জানিস এই কথা চিন্তা করলে ভয় হয় আমি অন্ধকারে কিভাবে থাকবো?? >> প্লিজ এইসব বলিস না। আচ্ছা এই মরা গাছে কোনদিন ফুল ফুটে না আর তুই এখানে দাঁড়িয়ে থাকিস কেনো? >> ফুটবে ফুটবে, যেদিন আমি থাকবো না সেদিন থেকেই ফুটবে। দেখবি এই শিউলিতলা ফুলে ফুলে ভরে যাবে। >> কবি কবি ভাব গেলো না >> জানিস আমি বলতাম আমাকে এখানে কবর দিতে। যখন তোরা আমার কবরের কাছে আসবি তখন ফুল ঝরবে ঠিক সানম তেরি কসম মুভির মত,,, কিন্তু আবার পরেই চিন্তা করি আবার রাতে তো ভয় পাবি। >> তোর শিউলি ফুল খুব ভালো লাগে তাইনা?? আপু তুমি এইসব বাদ দেও। পিছন থেকে বলে উঠে মেয়েটার ভাই। দুই ভাইবোনে এইখানে অনেকক্ষণ কান্না করে। মেয়েটির আবার ব্লিডিং শুরু হয়। জানিনা কাকে বার বার কল করছিলো। প্রথমে কল রিসিভ করছিলো না তারপর ফোন বন্ধ বলে। জানিস মেয়েটা খুব কাঁদতেছিলো। মেয়েটার বাবা বাড়ি ছিলো না। বাবাকে কল দিয়ে বাড়ি আসতে বলে। যখন সবাই বলে খারাপ লাগছে কি না?? সে তখন হাসতে থাকে। বাবা,মায়ের কাছে যখন বসে তখন বাড়িতে মানুষের অভাব নেই। মা বলে খারাপ লাগছে কিনা? বাবা জিজ্ঞেস করে কিছু খাবে কি না?? ভাই জিজ্ঞেস করে খুব কষ্ট লাগছে কি না? সবার জবাবে হাসতে থাকে এবং বার বার ফোন দেখতে থাকে। কিছুক্ষণ চুপ থাকে তারপর বলে হুজুর কে ডাকতে। >> আচ্ছা হুজুর আমি তো প্রতিদিন তওবা পড়ি এখনো কি পড়তে হবে?? >> আপনার ইচ্ছা তবে কষ্ট হলে..... >> সমস্যা নেই, আমি পড়তে চাই। হুজুর তওবা পড়ানোর পর মায়ের কোলে মাথা রাখে এবং দুই হাত দিয়ে বাবা, ভাইয়ের হাত শক্ত করে ধরে থাকে। অনবরত নাক, মুখ দিয়ে ব্লিডিং হতে থাকে। সবাই কে অভাক করে দিয়ে মেয়েটা চলে যায়। সব থেকে আশ্চর্য কথা কি জানিস মেয়েটা নিজের জন্য সব করে রেখে যায়। . কথা গুলো বলে রাহাত কিছুক্ষণ চুপ থাকে। কিছু ক্ষণ পর রাহাত, ফাহাদের দিকে কিছু একটা এগিয়ে দিয়ে বলে তোর আমানত। . যখন তুমি এই চিঠি টা পড়বে তখন আমি নেই। থাকার কোন প্রশ্নই উঠে না। কারণ আমি আজকেই থাকবো না। আচ্ছা তুমি কল ধরলে না কেনো?? আরফিন কে দিয়ে ধরালে কেনো?? জানো আজ আমাকে অনেক খারাপ কথা বলেছে। তোমার সাথে কথা বলতে খুব ইচ্ছে করছিলো। তুমি বললে না?? দেখো না আজ তোমার কাছে আমি কোন জবাব চাইবো না। জানো সত্যি সেদিন অভিনয় করেছিলাম কিন্তু আমার ভালোবাসা ছিলো নিখাদ, তুমি বলেছিলে তুমি আমাকে ছাড়তে পারো আরফিন কে নয়। আবার বলেছিলে আমি যদি মারা না যাওয়া পর্যন্ত তোমার পিছন ছাড়বো না। দেখো না আজ আমি সত্যি চলে যাচ্ছি। তুমি ভালো থেকো। আর হ্যা, চিঠি টা ফেলে দিও,, আমার রক্ত লেগে আছে। নাপাক হয়ে গেছে তো। তুমি কিন্তু তোমার কথা রেখো,, নিজের খেয়াল রেখো। . কি অবাক হচ্ছিস?? হ্যা মেয়েটা মায়া। তুই ভাবলি কি করে মায়া তোকে ভালোবাসেনি?? অভিনয় করেছে তোর সাথে?? যে মেয়ে একা তোর জন্য বাড়ির সবার বিরুদ্ধে যেতে পারে, সে মেয়ে আর যাই পারুক ভালোবাসার অভিনয় পারে না। সব শুনে ফাহাদ নিজেকে খুব অপরাধী ভাবতে থাকে। কেনো সে আরফিনের কথা তে সেদিন কল রিসিভ করেনি। . সেই নতুন কবর টার পাশে বসে ফাহাদ খুব করে কাঁদছে। এবং জোড়ে জোড়ে বলছে একটিবার ফিরে আয় পাগলী একটি বার। একবার কথা বলবো একটি বার হাত ধরার জন্য,প্লিজ ফিরে আয়। কিন্তু না যে যায় সে ফিরে আসে না, আর মায়াতো এক বুক অভিমান নিয়েই চলে গেছে.......আর্তনাদ এর সুরে তাল মিলিয়ে প্রকৃতি যেনো কেঁদে উঠছে.......ll .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভালবাসার অভিনয়
→ "অভিনয় থেকে যদি দারুণ কিছু হয় তাহলে অভিনয়ই ভাল"
→ আমিও অভিনয় করতে শিখেগেছি
→ অভিনয়ের বাবা
→ অভিনয়
→ --অভিনয় থেকে ভালবাসা--
→ সবটাই ছিল তার অভিনয়
→ অভিনয়-শেষের পর্ব
→ অভিনয়-১
→ অভিনয় অতঃপর সার্থক
→ ভালোবাসার অভিনয়
→ অভিনয়
→ অভিনয়
→ অভিনয়

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now