বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শহরটা ছাড়িয়ে যেতেই দুপাশের ধানক্ষেত
থেকে সবুজ ঘ্রাণের একটা বাতাস এসে নাকে
ধাক্কা মারল। মনে হল, এই বাতাসে শ্বাস নিয়েই
আমি অর্ধেক সুস্থ হয়ে গেছি। দুদিকে যতদূর
চোখ যাচ্ছে গাড় সবুজ রং। সেই রং শেষ
হয়েছে দিগন্তে গিয়ে। আবার দিগন্ত থেকেই
নীল ছড়ানো শুরু হয়েছে।
আম্মু পাশ থেকে বলল,‘এখন খানিকটা ভাল
লাগছে?’
আমি হাসিমুখে বললাম, “অনেকটা।” বলেই বাসের
জানালা দিয়ে হড়হড় করে বমি করে দিলাম। নাড়িভুঁড়ি
সব যেন পাঁক দিয়ে পেট থেকে বেরিয়ে
আসতে চাইলো। পেটে যা কিছু ছিল একবারে
বেরিয়ে গেল।
আম্মুর দিকে তাকিয়ে ফ্যাকাসে ভাবে হাসার চেষ্টা
করলাম।
আম্মু বলল,‘এই তোর ভাল হবার নমুনা?’
বললাম, “ব্যাপার না। বুলাবুর কাছে গেলেই
এক্কেবারে ভাল হয়ে যাব।”
***
আব্বুর কাছে রাতে ঘুমোবার আগে গল্প
শোনার অভ্যাস আমার বহুদিনের। জ্বীন-পরীর
গল্প, দৈত্য-দানোর গল্প, রাজপুত্র-রাজকন্যার
গল্প, মুক্তিযুদ্ধের গল্প, সুখের গল্প, দুঃখের
গল্প, ভালবাসার গল্প আর ঘৃণার গল্প। সেই গল্প
শুনতে শুনতেই জেনেছিলাম, প্রতিটা মানুষের
না'কি একটা করে আত্মা আছে। বুকের মধ্যে
একটা ছোট্ট খাঁচায় সেই আত্মার বসবাস। আত্মা
যেদিন ফুড়ুৎ করে উড়ে যায়। সেদিন মানুষ মরে
যায়। আত্মা নামের জিনিসটাকে দেখার খুব শখ ছিল
আমার। ওটা দেখতে কেমন? এখন বুঝতে পারি,
আমার আত্মাকে আমি দেখেছি। আমার আত্মাটা
দেখতে মানুষেরই মত। আমার আত্মার নাম
“বুলাবু।”
বুলাবু আমাদের গ্রামেরই মেয়ে। গ্রামের
লক্ষ্মীছাড়া মেয়ে। গ্রামের মধ্যে তার তিনটা নাম
প্রচলিত ছিল। বুলাবুর বিধবা মা তাকে ডাকত “অয়
হারামজাদী বুলা” বলে। গ্রামের আর সবাই ডাকত
“অয় ছেমড়ি” বলে। আর আমরা ডাকতাম “বুলাবু।”
আমার বয়সী যত পুঁচকে পাঁচকা ছিল গ্রামে তাদের
সবার গুরু ছিল বুলাবু। আমরা সবাই তার সাগরেদ।
সবাইকে পেছনে নিয়ে বুলাবু যখন কোথাও
হেঁটে যেত, আমাদের একটা সেনাবাহিনীর মতই
মনে হত।
অবশ্য সেনাবাহিনীর কাজে খানিকটা বিচিত্রতা ছিল।
আমাদের সেনাবাহিনীর প্রধান দায়িত্ব ছিল সবাইকে
ভারমুক্ত করা। কার গাছের আম পেকেছে, কার
গাছের ডাব বেশি মিষ্টি, কার গাছের লিচুর রং ধরতে
শুরু করেছে, কার গাছের কাঁচামিঠা আম বেশি মিষ্টি,
কার গাছের পানিফল বড় হয়, কার গাছের সফেদা হয়
ভাল – এর সবকিছু আমাদের নখদর্পণে ছিল। বুলাবুর
সুযোগ্য নেতৃত্বে আমরা এর সবকিছু থেকে
গ্রামের মানুষদের ভারমুক্ত করতাম। যখন খেয়ে
দেয়ে ভারমুক্ত করা যেত না, তখন আমরা নষ্ট
করে ভারমুক্ত করতাম। দেখা গেল আম এত খাওয়া
হয়ে গেছে যে কারও পেটে এক ফোঁটা
জায়গা নেই। তখন সবাই মিলে শুরু করতাম ইটা মারা।
গাছের প্রতিটা আমে অন্তত একটা ক্ষতস্থান সৃষ্টির
আগ পর্যন্ত আমাদের কারও শান্তি হত না।
আর আমাদের কার্যক্রমের পরে শান্তি হত না
গাছের মালিকদের। ঘুণাক্ষরেও যে টের পেত,
তার গাছে আমাদের সেনাবাহিনী হামলা করেছে,
সাথে সাথে হাতের কাছে লাঠি-ঝাড়ু যা পেত তাই
নিয়ে আমাদের হামলা করত। গেরিলা হামলায়
আমাদের সেনাবাহিনী বিশেষ পারদর্শী ছিল
বলে, পালিয়ে যেতেও আমাদের খুব বেশি
বেগ পেতে হত না। কেউ দৌড়ে পগার পার।
তো কেউ লাফিয়ে দীঘিতে নেমে যেত।
কেউ ধানক্ষেত, কেউ পাটক্ষেতের মধ্যে
গিয়ে লুকোতো। কেউ বাড়িতে ফিরে সুবোধ
ছেলের মত পড়তে শুরু করত– “সকালে উঠিয়া
আমি মনে মনে বলি / সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে
চলি।” এমনও হয়েছে আমাদের সেনাবাহিনী
গুপ্ত আক্রমণ করার সময় ধরা পড়লে, কেউ যে
গাছে হামলা করা হয়েছে, সেই গাছেই লুকিয়ে
থাকত। হামলা আর লুকোনোর কাজে এমনই দক্ষ
ছিল আমাদের সেনাবাহিনী। আমরা সবাই আমাদের
সেনাবাহিনীকে নিয়ে গর্ব করতাম। তবে
সবচাইতে বেশি গর্ব ছিল আমাদের বুলাবুকে
নিয়ে। আর গ্রামের মানুষের সবচাইতে বড়
দুশ্চিন্তার নামও ছিল বুলাবু।
***
মাওয়া ঘাটে এসে বাস থামল। বাস থেকে নেমে
লঞ্চ ঘাটের দিকে পা বাড়ালাম। আম্মু আমার হাতে
আম্মু ভানিটি ব্যাগ ধরিয়ে দিয়ে হাঁটতে শুরু করল।
আমি লজ্জায় মুখ লুকোনোর জায়গা পাই না। এখন
ক্লাস সিক্সে পড়ি। অথচ আম্মুর ভাব দেখলে
মনে হয়, আমি এখনও সেই ছোট্ট বাবুটা রয়ে
গেছি। এখনও কোথাও গেলে, আম্মু হাতে
কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে আমার গলায় আম্মুর ভানিটি ব্যাগ
ঝুলিয়ে দেয়।
লঞ্চে ঢুকে আম্মুর ভানিটি ব্যাগ আম্মুকে বুঝিয়ে
দিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। আম্মুকে
ভেতরে বসিয়ে আমি বাইরের দিকে পা বাড়ালাম।
আম্মু হাত ধরে জ্বর কেমন বোঝার চেষ্টা
করল। আম্মুর মুখ দেখে বোঝা গেল, জ্বর
এখনও বেশ আছে। হাতে একটা পলিথিন ধরিয়ে
দিয়ে বলল,‘বমি আসলে কারও মাথার ওপর করিস না
যেন!’
আমি উঁকিঝুঁকি মেরে দেখলাম, কেউ আবার শুনে
ফেলল না'কি। তিন সারি পরে একটা মেয়েকে
দেখা যাচ্ছে। দেখতে খারাপ না। আনমনে
নিজের পায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। শুনে
ফেলেনি তো? আমি তাড়াতাড়ি বেরিয়ে ডেক এ
এসে দাঁড়ালাম। ভোঁওও আওয়াজ তুলে লঞ্চ
ছেড়ে দিল। ঠাণ্ডা বাতাস আর শেষ বিকেলের
মিষ্টি একটা রোদে শরীরটা জুড়িয়ে গেল। এই
বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়ার জন্যে আমি কতদিন ধরে
হাহাকার করছি!
***
অবশ্য ফলফলারির মৌসুম সবসময় থাকত না। তাই মৌসুম
বদলে গেলে আমাদের সেনাবাহিনীর
কার্যক্রমও বদলে যেত। তখন আমাদের আক্রমণ
পরিচালিত হত 'নাসা'দের ওপর। নাসা হচ্ছে পিঁপড়া
প্রজাতির একটা সহিংস জীব। এর ডিম মাছের খুব
প্রিয়। কিন্তু, কাজটা যে কতটা বিপজ্জনক সেটা যে
নাসার কামড় খায়নি, সে কখনও বুঝবে না। নাসার কামড়
খাওয়ার চাইতে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা খাওয়া সহজ।
এই মহান বিপজ্জনক কাজ আমাদের জন্য করে দিত
বুলাবু। নাসারাও বোধহয় বুলাবুকে খুব সম্মান করত।
কখনও কোন নাসা বুলাবুকে কামড় দিয়েছে বলে
শোনা যায় নি। মেহগনি গাছের কয়েকটা পাতা
জোড়া লাগিয়ে নাসারা বাসা বানাত। পাতা জোড়া
লাগানোর আঠা তারা কোথায় পেত সেটা আমরা
কেউ জানতাম না। সবাই বলাবলি করত বুলাবু না'কি
ওদের বাসা বানানোর জন্য আঠা দিত। আর তাই বুলাবু
ওদের সাধের ডিম নিয়ে গেলেও কেউ কিছু
বলত না। বুলাবু তরতর করে গাছে উঠে নাসার বাসা
ছিঁড়ে নিচে ফেলে দিত। আমরা কেউ তার ধারে
কাছেও থাকতাম না। যাদের সাহস একটু বেশি, তারা
আশেপাশে থেকে উঁকি ঝুঁকি দিয়ে যেত। বুলাবুই
আবার গাছ থেকে নেমে বাসা ধরে দু'টো ঝাঁকি
দিত। যত নাসা বাকি থাকত বাসার মধ্যে, তার প্রায় সবই
পড়ে যেত। আর বাকিগুলোকে মহা আনন্দে
পানিতে চুবানো হত। বাসা হতে নাসা দূরীকরণ পর্ব
শেষ হলে ডিম নিয়ে বুলাবু একটু একটু করে
যাদের বঁড়শি আছে, তাদের ভাগ করে দিত। মাছ
ধরার চেয়ে নাসাদের গৃহহারা করার দিকেই
আমাদের বেশি আগ্রহ ছিল।
রাইফেলের মত বড়শি কাঁধে ঝুলিয়ে আমাদের
সেনাবাহিনী রওনা দিত মাছ শিকারে। এটাও ছিল
ভীষণ বিপজ্জনক অভিযান। নিত্য ঠাকুরের পুকুরে
তেলাপিয়ার চাষ হত। তাই সেদিকেই আমাদের নজর
থাকত সবচেয়ে বেশি। কিন্তু, যদি দেখা যেত
পুকুরে বেশি মানুষ গোসল করছে, তাহলে আমরা
চলে যেতাম আছর মোল্লার পুকুরে। ওখানে
দু'টো কারণে যেতে ইচ্ছে করত না। আছর
মোল্লা চাষ করত সিলভার কার্প এর। ওটা খেতে
একটুও ভাল না। আর আছর মোল্লা পুকুরে গোবর
দিত। মাছ না'কি ওসব ভাল খায়। ওয়াক থুহ্! তাই আছর
মোল্লার পুকুরে মাছ ধরলেও আমরা কখনও সেই
মাছ খেতাম না।
ধরা পড়ার ভয় এখানেও ছিল। যদি কোন ভাবে মাছ
ধরার কথা টের পেয়ে যেত, তাহলেই ইয়া বড়
এক বাঁশের কঞ্চি নিয়ে সবাইকে ধাওয়া করত।
কিন্তু, পালানোর দক্ষতায় আমরা বরাবরই সিদ্ধহস্ত।
আর কোন পথ থাক বা না থাক, একবারে পুকুরে
লাফ দিতাম। এক সাঁতারে পুকুরে পার হয়ে
ধানক্ষেতের মধ্যে দিয়ে সবাই পগার পার।
***
লঞ্চ থেকে নেমে একটা হোটেলে ঢুকলাম।
খিদেয় পেট চো চো করছে। গরম ধোঁয়া ওঠা
ভাত, পদ্মাপারের ইলিশ ভাজা, শুকনো মরিচ ভাজা আর
মাছ ভাজা তেল – সবটা মিলিয়ে অমৃত।
রবীন্দ্রনাথের ভাষায় “সমস্তটি লইয়া কী যে
মহিমা, তা আমি বলিতে পারি না।”
হোটেলে ঢুকে সবার আগে হোটেলের
সাথে লাগোয়া কলপাড় থেকে হাতমুখ ধুয়ে নিলাম।
খেতে বসে গপাগপ সব শেষ করে ফেললাম।
এবং খাওয়া শেষ করে একটা বিশাল ঢেকুর তুলতেই
হড়বড় করে বমি করে সব বের করে দিলাম।
আম্মুর দিকে তাকিয়ে ফ্যাকাসে ভাবে হাসার চেষ্টা
করলাম। খুব বেশি কাজে দিল বলে মনে হল না।
***
অতঃপর মাছের মৌসুমও শেষ হত। আমাদের নতুন
কিছু নিয়ে পড়তে হত। সেই নতুন কিছু হচ্ছে
“গাসসি।” চড়ুইভাতি এর মত একটা বিষয়। পার্থক্য
হচ্ছে, চড়ুইভাতি দূরে কোথাও বেড়াতে গিয়ে
করতে হয়। আর গাসসি ঘরের উঠানেই করা যায়।
তখন নতুন নতুন ধান কাটা হত। কারও হাতে যেমন
কাজের অভাব থাকত না, তেমনি অভাব থাকত না টাকা
পয়সারও। তাই এই সময়টায় দৌড়ানি-দাবড়ানি তুলনামূলক
ভাবে কম খাওয়া লাগত।
এ ঘর থেকে এক মুঠো চাল, ও ঘর থেকে
এক মুঠো ডাল, ওর পুকুর থেকে দুটো মাছ, এর
ওর ঘর থেকে তেল-নুন-পেয়াজ-মরিচ জোগাড়
করে, বুলাবুদের উঠান খোঁড়া শুরু হত উনুন
বানানোর জন্যে। বুলাবুর বুড়ো মা সারাটা ক্ষণ
আমাদের শাপশাপান্ত করত। চিৎকার-চেঁচামেচি করে
আমাদের চৌদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার করে ফেলত। আমরা
কেউ কানেও নিতাম না। বুলাবুদের ত্যাড়া হাড়িতে ভাত
চাপানো হত। এক গাসসিতে সে ভাত হয়ে যেত
'জাউ' তো আরেকবার থাকত পাথরের মত শক্ত।
মাছ পুড়ে কালো কয়লা হয়ে যায় নি, এমনটা খুব
কমই হয়েছে। বুলাবুদের ফুটো কড়াই থেকে
মাছ থালায় নামানোর পরে, আমরা একবার মাছের
দিকে তাকাতাম; আরেকবার তাকাতাম উনুনের কয়লার
দিকে। দুটোর মধ্যে পার্থক্য খুঁজে পেতে
আমাদের প্রায়শই হালুয়া টাইট হয়ে যেত। এর ওর
বাড়ি থেকে আনা হত বলে, একেকবার ডাল জমা
হত একেক রকম। কিন্তু, ডাল প্রতিবার সমানই
লাগবে। তাই একবার সেটা হত হাত ধোয়া পানি তো
আরেকবার হয়ে যেত ডাল-চচ্চড়ি।
অতঃপর সেই রান্নাই আমরা সবাই মিলে গোগ্রাসে
গিলতাম। খাবার স্বাদ নয়, গাসসির আনন্দটাই সেখানে
মুখ্য। অতি সাধারণ খাবারও তখন অমৃত হয়ে যেত।
পুরোটা সময় শাপশাপান্ত করার পর, বুলাবুর মাও
আমাদের সেই অমৃত আস্বাদনে যোগ দিত।
***
হোটেল থেকে বেরিয়ে ভাংগা'র বাসে উঠলাম।
বিশ্বাস করুন কিংবা না করুন – ভাংগা একটা জায়গার নাম।
আগে নাম ছিল ভাঙ্গা। এখন সেটাকে ঘুরিয়ে ভাংগা
লেখা হয়। এলাকাবাসীর ইজ্জতের প্রশ্ন!
বাসটার খানিকটা বর্ণনা দেয়া যায়। প্রতিটা সিটের পাশে
জানালা আছে। কিন্তু, একটা জানালাতেও কাঁচ নেই।
বৃষ্টি এলে সবার গোসল হয়ে যাবে নিশ্চিত।
আমরা যে সিটে বসেছি, তার সামনের সিটের
পেছনে লেখা -“মেয়ে বন্ধু চাই –
০১৭৩৬******।”
কেউ যদি এখন চোখ বন্ধ করে বাসে বসে
থাকে, তবে তার এই ভেবে ভুল হতে পারে
যে, সে একটা জেট প্লেনে বসে আছে।
জেট প্লেনের ইঞ্জিনেও এত শব্দ হয় কিনা
জানা নেই।
কিন্তু, সবকিছু একবারে ভুলে গেলাম যখন রাস্তার
পাশের টলটলে খাল আর খাল পেরিয়ে আদিগন্ত
জোড়া ধানক্ষেতে চোখ গেল। সেই
সবুজের নৈশব্দের কাছে ইঞ্জিনের প্রকট
গর্জনও হার মানল। টকটকে সবুজে তখন
সোনালী রং লাগতে শুরু করেছে। আর সেই
সোনালী সবুজ যেখানে শেষ হয়েছে,
সেখানে বিকেলের সূর্য তার লালচে নকশা
ছড়াতে শুরু করেছে।
***
হেমন্তের নতুন ধানের ব্যস্ততা যখন শেষ হয়ে
যেত আর যখন পৌষের হিম-ভাব পড়তে শুরু করত,
তখন আমরা সাঁঝের ঠাণ্ডা কাটাতে নাড়া পোড়াতাম। ধান
কাটা হয়ে গেলে, ধানের নিচের যে অংশটা
থেকে যায়, সেটাকে নাড়া বলে। পশ্চিম আকাশে
সূর্যটা যখন লাল হয়ে মিলিয়ে যেতে শুরু করত,
তখন আমরা সবাই মিলে নাড়া জড়ো করতাম। আর
সাথে কিছু কাচা লতাপাতা। কাচা লতাপাতার ওপরে নাড়া
দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিতাম। খানিকটা আগুন ধরেই
লতাপাতার জন্য ভাপসা ধোঁয়া উড়তে শুরু করত। একটু
লাফালাফির পর স্থির হয়ে অদ্ভুত সুন্দর রেখায়
ধোঁয়াগুলো আকাশের দিকে উড়াল দিত। আমরা
সবাই মুগ্ধ হয়ে চেয়ে থাকতাম।
ধোঁয়ার দিকে আমরা তাকিয়ে থাকতাম সকাল
বেলাতেও। বিকেলের লতাপাতার মত তার ঝাঁঝ
থাকত না। সকালের ধোঁয়াটা হত অনেক মিষ্টি আর
দারুণ সুগন্ধি। ধোঁয়াটা আসত জ্বাল দেয়া রস
থেকে। বিশাল চারকোনা চুলায় জ্বাল দেয়া হত
খেজুরের রস। আমরা সকালে রসে ভিজিয়ে মুড়ি
খেয়ে বুলাবুদের চুলার পাশে গোল হয়ে বসে
থাকতাম। বুলাবুদের অনেকগুলো খেঁজুর গাছ ছিল।
রস হত প্রচুর। সেটা জ্বাল দিত বুলাবুর মা। এক ঢিলে
আমাদের দুই পাখি মারা হয়ে যেত। শীতের
সকালে বিশাল চুলার পাশে বসলে শীতের দাদাও
আসার সাহস পেত না। আর সবশেষে তাফালের
গায়ে যেটুকু লেগে থাকত, সেটুকু আমাদের।
জ্বাল দেয়া হয়ে গেলে, হারপাট রসে চুবিয়ে
উঁচু করলে রস নিচে পড়ে যাবার সময় আশের মত
উড়ে যেত। সেটা দেখে বোঝা যেত জ্বাল
দেয়া হয়ে গেছে। জ্বাল দেয়া হয়ে গেলে
চুলা থেকে তাফাল নামানো বুলাবুর মায়ের সাধ্য ছিল
না। রস জ্বাল দেবার বিশাল চারকোনা পাত্রকে
বলে তাফাল। তখন আমরা সবাই হই হই করে তাফাল
নামাতাম। তাফাল নামানোর পরে দুর্বল শরীরে
ঘুটতেও পারত না বুলাবুর মা। রস ঘুটতে হয় হারপাট
নামের একটা জিনিস দিয়ে। একটা লাঠির আগায়
আড়াআড়ি ভাবে এক টুকরো কাঠ লাগানো থাকত।
সেটা দিয়ে জোরে জোরে তাফালের এ মাথা
থেকে ও মাথা পর্যন্ত ঘসতে হত। এই ঘষাঘষিকে
বলে ঘুঁটা। সেটা করত বুলাবু। বেশ খানিকক্ষণ ঘুঁটার
পর বেছুন উঠতে শুরু করত। এটা দেখে বুঝতে
হত রস এখন ছাঁচে ঢালতে হবে। নারকেলের
মালায় করে রস ছাঁচে ঢালা হত। তারপর তাফালের
গায়ে যেটুকু লেগে থাকত, সেটুকু আমরা
ঝিনুকের খোলস দিয়ে আঁচড়ে আঁচড়ে খেতাম।
রস খারাপ হলে, কোন কোন দিন বেছুন উঠত
না। সেইদিনগুলো ছিল আমাদের ঈদ। তখন পুরোটা
গুড় হয়ে যেত স্পঞ্জের মত। ওটাকে বলে
জটাগুড়। সেইদিনগুলোতে পুরোটাই আমাদের।
***
ভাংগায় বাস থেকে নেমে পুখুরিয়ার টেম্পোতে
উঠলাম। এখানের টেম্পোগুলো অভিজাত।
খোলসটা টেম্পোর আর ইঞ্জিন শ্যালো
(খেতে পানি সেচ দেয়ার) মেশিনের। শ্যালো
মেশিনের গগনবিদারী শব্দ যারা শোনেনি, তারা
এই টেম্পোগুলোর মহাত্ম বুঝতে পারবে না।
ভটভট ভটভট শব্দ কানের ভেতর দিয়ে ঢুকে
মাথাটাকে ফালাফালা করে দেয়। কিন্তু, আমার মধ্যে
তার কোন প্রতিক্রিয়াই হল না। আমি তখন বুলাবুর
কাছে যাবার স্বপ্নে বিভোর।
***
আমার জন্যে আলাদাভাবে প্রতি তিন মাস পরপর একটা
করে ঈদ আসত। এই ঈদ হচ্ছে, আব্বু বাড়িতে
আসার। যে দুটো দিন থাকত, আমার খুশির কোন
সীমা পরিসীমা থাকত না। অবশ্য আব্বু বাড়িতে
এলে, তাকে কাছে পেতাম খুব কমই। সারাটা সময়
ব্যস্ত কাটাত। সবার খোঁজ খবর নেয়া, জমিজমা-
ফসলের তদারকি করা, সকালে বাজারে গিয়ে
সবচেয়ে বড় মাছটা নিয়ে আসা - সব মিলিয়ে
ব্যস্ত সময় কাটাত। তার পরও অদ্ভুত একটা শিহরণ কাজ
করত আব্বু বাড়িতে এলে। সেবারও কাজ করেছিল
সেই শিহরণ। কিন্তু, একদিন পরেই সেটা মিলিয়ে
গেল যখন শুনলাম এবার আব্বু আমাদের নিয়ে
শহরের চলে যাবে। ওখানে নিয়ে আমাকে হাই
স্কুলে ভর্তি করে দেবে। আমার প্রাইমারি
স্কুলের পড়া শেষ। এখানকার হাইস্কুল অনেক
দূরে সেটা সত্যি। অবশ্য সেটা নিয়ে আমি
ভেতরে ভেতরে খানিকটা উচ্ছ্বাসিত ছিলাম। কারণ,
বেশির ভাগ বাবা-মা তাদের ছেলেদের এত
দূরের স্কুলে পাঠায় না। আমিও ভেবেছিলাম, আমার
স্কুল নামের যন্ত্রণা হয়তো এবার শেষ হবে।
কিন্তু, আব্বুর সিদ্ধান্ত আমার কাছে ছিল বিনা মেঘে
বজ্রপাতের মত।
যথারীতি আব্বুর সাথে আমরা রওনা দিলাম। আমার
এখনও মনে পড়ে, সেদিন বুলাবু তার দলবল নিয়ে
আমাদের বাড়ির সামনে ভিড় জমিয়েছিল। একটা
পলিথিনে খানিকটা গুড়-মুড়ি বেধে আমাকে দিয়ে
বলেছিল, “যেতে যেতে খাস।”
আমি ডুকরে কেঁদে উঠে বলেছিলাম,‘বুলাবু, আমি
যাব না।’
বুলাবু ঝাঁঝালো গলায় বলেছিল,‘বলদা, যাবি না ক্যান?’
আমি বলার মত কিছু খুঁজে না পেয়ে বলে
ফেলেছিলাম,‘আমি তোমারে ছেড়ে যাব না।’
বুলাবু ফিক করে হেসে দিয়েছিল।
বলেছিল,‘ক্যান? আমারে বিয়া করবি? যা ভাগ। শহর
থিকা বড় কেলাস পাশ কইরা আসিস। তারপর বিয়া করুম
তোরে।’
শুনে আমিও হেসে ফেলেছিলাম।
আমার এখনও মনে পড়ে, সেদিন বুলাবু তার দলবল
নিয়ে আমাদের ভ্যানের পেছনে দৌড়াতে
দৌড়াতে আটরশি পর্যন্ত এসেছিল। হয়তো আটরশি
গিয়ে বাসে ওঠার পর সেই বাসের পেছনেও
দৌড়েছিল। দেখি নি। পেছন দিকে আর তাকাতে
পারি নি। আমি তখন আম্মুর বুকে মাথা গুজে ফুঁপিয়ে
ফুঁপিয়ে কান্নায় ব্যস্ত।
শহরে এলাম। নতুন স্কুলে ভর্তি হলাম। কিন্তু,
কিছুতেই শহরের যান্ত্রিকতা আর বাঁধাধরা নিয়মের
সাথে খাপ খাওয়াতে পারলাম না। স্কুলে থাকার প্রতি
মুহূর্তে আমার মন আকুপাকু করত বেড়া ডিঙ্গিয়ে
স্কুল পালানোর জন্য। কিন্তু, সেই কংক্রিটে গাঁথা
স্কুলে কোন বেড়া ছিল না। বরং মেইন গেইটে
আতিকায় গোঁফ-ওয়ালা দুজন দারোয়ান ছিল।
সেখানে বাঁদরামি করার জন্য কোন সবুজ আমগাছ
ছিল না। বরং রাস্তার দু'ধারে স্টিলের ল্যাম্পপোস্ট
গাঁথা ছিল। পুকুরে দাপিয়ে বেড়ানো ছিল না, নাসার
বংশ নির্বংশ করা ছিল না, গাসসি ছিল না, জটাগুড় ছিল না...
আর বুলাবু ছিল না।
মাস দুয়েকের মধ্যেই প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে
পড়লাম। কিছুই খেতে পারতাম না। খাবার সাথে
সাথেই বমি করে সব ফেলে দিতাম। ঘন ঘন জ্বর
লেগেই ছিল। সাথে শুকনো কাশি। ডাক্তার
দেখানো হল। ডাক্তার বদল করা হল। কিছুতেই কিছু
হল না। আমি জানতাম, আমার ডাক্তার কে। আব্বুকে
বলেছিলামও। কিন্তু, আব্বু মানতে রাজি ছিল না। বরং
একটার পর একটা ডাক্তার বদল করে চলল। একগাদা
টেস্ট করানো হল। খাবারের বদলে ওষুধ
খেয়েই পেট ভরে গেল। প্রায় সময়ই স্যালাইন
চলল। কিন্তু, কিছুতেই কিছু হল না। অবশেষে
আব্বু হার স্বীকার করল।
আম্মুর সাথে আমি রওনা দিলাম, আমার আত্মার সাথে
দেখা করতে।
***
ভাংগায় এসে বাস থেকে নামতেই মাথা ঘুরে পড়ে
যেতে গেলাম। আম্মু ধরে ফেলল। বুঝল,
অবস্থা বেশি সুবিধার না। এখন আটরশির
টেম্পোতে ওঠার কথা। সেটা না করে সরাসরি বাড়ি
পর্যন্ত ভ্যান নিয়ে নিলো। ততক্ষণে সূর্য ডুবে
আঁধার হয়ে গেছে অনেকক্ষণ হল। রাস্তার
দু'ধারে ধানক্ষেত পেরিয়ে টিমটিমে বাতির
আলো দেখা যাচ্ছে। অন্ধকারে মনে হচ্ছে,
আকাশ থেকে কতগুলো তারা দল বেধে মাটিতে
ঘুরতে বেরিয়েছে। সেই তারা দেখতে
দেখতে পৌঁছে গেলাম।
ঘড়িতে দেখলাম, নয়টা বাজে। এতক্ষণে গ্রামের
সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। তাই বুলাবুর সাথে দেখা হবে
কালকেই। বাড়িতে ঢুকে খানিকক্ষণ জিরিয়ে নিলাম।
তারপর কলপাড়ে গেলাম হাতমুখ ধুতে। সম্ভবত
কলের আওয়াজ শুনেই পেছন থেকে পেছন
থেকে কে যেন গুটি গুটি পায়ে এসে হঠাৎ
চিৎকার করে উঠল, ‘রবিন আইছস!’
নিশুতি রাতে হঠাৎ শব্দ শুনে আমার মাথা ঘুরে পড়ে
যাবার দশা। পেছনে তাকিয়ে দেখি, সালাম। অবাক
হয়ে বললাম,‘তুই ঘুমাস নাই এখনও?’
‘জানস না তুই কিছু?’
আমি অবাক হয়ে বললাম,‘না! কী জানব?’
‘বুলাবুরে তো ভুতে ধরছে। আইজকা রাইত নয়টায়
ভুত তাড়াইব।’
আমি রীতিমত চমকে উঠলাম। মাথার ভেতরটা বো
বো করে ঘুরতে শুরু করল। পাগলের মত
সালামকে জিজ্ঞেস করলাম,‘কীভাবে কী হল?’
‘কাইল বিয়ানে (সকালে) বুলাবুরে ধান খ্যাতের
মইদ্দে পাওয়া গেছে। জামা কাপড় সব ছিড়াবিড়া।
গতরে অনেক মাইরের দাগ। খিমচা খিমচির দাগ।
বেহুশ আছিল। হুশ আবার পর খালি চিল্লাচিল্লি করে।
যারে দেখে তারেই মারতে যায়। আইজকা নয়টার
সময় ভুত তাড়াইব। বাপে ঘুমানোর পর আমি দেখার
জন্য বাইরইছিলাম। তোগো কলপাড়ে শব্দ শুইনা
আইসা দেখি তোরা আইছত।’
আমি খানিকটা এগিয়ে ঘরে আলতো করে উঁকি
দিলাম। আমি ঘর গোছাচ্ছে। তারপর সালামের কাছে
এসে বললাম, ‘চল।’
দুজনে একসাথে দৌড় দিলাম।
বুলাবুদের বাড়ির কাছে আসতেই তার চিৎকার শোনা
গেল। দৌড়ের গতি বাড়ালাম। বুলাবুদের উঠানে গিয়ে
দেখি তিন চারটা হ্যারিকেনের আলোয় অনেকে
বসে আছে। উঠানের মাঝখানে একটা খুঁটি গাঁথা। তার
সাথে বাঁধা বুলাবু। হাতে একটা লাঠি নিয়ে একটা
লোক বুলাবুকে বেদম মারছে। বুঝলাম, এ ফকির;
ভুত তাড়াতে এসেছে।
ফকির বারবার জিজ্ঞেস করছে,‘ক, কেডা তুই?
কইততে আইছস? তাড়াতাড়ি ক। নাইলে জানে
মাইরালামু।’
বুলাবু চিৎকার করেই সারা। অন্য কিছু বলার অবসর
পাচ্ছে না।
বুলাবুর মা এক কোণে বসে সমানে চিৎকার করে
যাচ্ছে, আমার মাইয়াডারে ছাইড়া দ্যাও... ‘মাইয়াডা মইরা
যাইবো... আল্লা অরে বাঁচাও।’ আর পাশে বসে
কয়েকটা মহিলা তাকে সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছে,
এভাবেই বুলাবুকে ভাল করতে হবে নইলে পরে
বড় একটা অঘটন ঘটে যাবে।
একটু পরে মারতে মারতে ক্লান্ত হয়ে ফকির
থামল। বুলাবু তখন বলল,‘আতাহার ভাই, আমারে...।’
বুলাবু কথা শেষ করতে পারল না। তার আগেই ফকির
লাফ দিয়ে উঠে আবার মারতে শুরু করল। দ্বিগুণ
উদ্যমে।
আমি অবাক হয়ে সালামের দিকে তাকালাম। সালাম
বলল,‘হাছন মেম্বরের বউ বুলাবুর মায়রে গুড়ি
কুটতে (ঢেঁকিতে চাল গুড়ো করতে) দিছিল।
কুটতে কুটতে আন্ধার হই গেছিল। মেম্বারের
বাড়িতে পৌছায় দিতে দিতে নিশুতি রাইত। হের
লেইগা, মেম্বরের মাইঝা পোলা আতাহার বুলাবুরে
আগায় দিতে আইছিল। কিন্তু, ধান খ্যাতের কাছে
আসবার লগে লগে এক বিশাল আলখাল্লা পরা ভুত
আইসা নাকি বুলাবুরে তুইলা নিয়া যায়। আতাহার ভাই জান
বাঁচানোর লেইগা সাথে সাথে দৌড়... ওই আলখাল্লা
কী জানস?’
কথার উত্তর দেয়ার আগেই আবার বুলাবুর প্রকট
চিৎকার কানে গেল। বুলাবুর শরীর ফেটে রক্ত
বেরোতে শুরু করেছে। আমি আর সহ্য
করতে পারলাম না। দৌড়ে গিয়ে বুলাবুকে জড়িয়ে
ধরলাম। বেখেয়ালে ফকিরের একটা লাঠির বাড়ি
আমার পিঠে পড়ল। মনে হল পিঠ পার হয়ে কেউ
যেন আমার হৃদপিণ্ডে বাড়ি দিয়েছে। এখুনি নিঃশ্বাস
বন্ধ হয়ে আমি মারা যাব। এলিয়ে পড়ে গেলাম।
চারদিকে বসে থাকা মানুষের মধ্যে একটা গুঞ্জন
শুরু হল... এইডা কেডা?... আফজালের পোলা
লাগে না? হেরা না শহরে গেছিল গা! আইল
কবে?...
আমাকে না পেয়ে আম্মুও ততক্ষণে চলে
এসেছে। এসে বুলাবু আর আমার এই অবস্থা
দেখে রীতিমত চিৎকার করে উঠল। সাথে সাথে
গিয়ে বুলাবুর বাঁধন খুলে দিল। বেশ কয়েকজন বাধা
দেয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু, কিছু করতে পারল না।
মেয়ে মানুষের এত বাড়া ঠিক না... দেশ থেকে
লাজ শরম সব উঠে গেছে... আল্লার গজব
পড়বে - এমন কানাকানি শোনা গেল। আম্মু
সেদিকে খেয়াল করল না।
রাতে ফকিরের ফেরার জন্য ভ্যান এনে রাখা
হয়েছিল। সেটায় করেই আম্মু বুলাবু আর আমাকে
নিয়ে উপজেলা হাসপাতালের দিকে রওনা দিল।
***
বুলাবু মারা যায় দুদিন পর। হাসপাতালে যাবার পর শুধু
একবারই কথা বলতে পেরেছিল। আমার হাতটা ধরে
বলেছিল,‘ওই বলদা, আমারে বিয়া করবি? আগে পাশ
কইর আয়, যাহ!’
আমি কিছু বলতে পারি নি। বলার মত কিছু খুঁজে পাই নি।
আমি এখন আবার শহরে ফিরে যাচ্ছি। আশা করি,
এখন আর সেখানে মানিয়ে নিতে কোন সমস্যা
হবে না। আমার আত্মাটাকে এখন আর আমি গ্রামে
ফেলে আসি নি। আমার আত্মাটাকে আমি নিজ হাতে
মাটি দিয়ে কবর দিয়ে এসেছি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now