বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এঙ্গেইজমেন্ট রিং-০১

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X এঙ্গেইজমেন্ট রিং *** ‘যা তো মা, কে আসছে দেখে আয়!’ অনেকক্ষণ থেকে কলিংবেলটা বেজে চলছে, অথচ মিলা সোফায় বসে থেকেও দরজাটা খুলতে উঠছে না । অলস মেয়ে! হামিদা জামান রান্না ঘর থেকে চেঁচিয়ে মেয়েকে তৃতীয় বারের মত কে আসছে দেখার জন্য বললেন। ‘যাচ্ছি!’মনে মনে শাপশাপান্ত করতে করতে দরজা খোলার জন্য উঠল মিলা । দরজা খুলে অকারণেই খুশি খুশি হয়ে উঠল ওর মন।রাহাত এসেছে, ভাইয়ার বন্ধু! ‘কি রে, কেমন আছিস ? তোর ভাইয়া কই?’ ‘আপনাকে না বলছি তুই তুই করবেন না ।’ অকারণে খেপে উঠে লিমা, এই মানুষটা কি কিছুই বুঝে না? ‘তো কি আপনি আপনি করে বলব?’ গাঁ জ্বালানো একটা হাসি দেয় রাহাত, তারপর সোজা আদনানের রুমের দিকে হাটা দেয় । ‘কি রে শালা ? সারাদিন কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা ছাড়া আর কোন কাজ নেই?’ মাথায় বিশাল এক চটকানা খেয়ে ভার্চুয়াল জগত থেকে বাস্তব জগতে ফিরে আসে আদনান । ‘আরে তুই ? এই অসময়ে ?’ মাথা তুলে দেয়াল- ঘড়ির দিকে তাকায় আদনান, অথচ কম্পিউটারের ডেস্কটপেই সময় দেখাচ্ছে, ৬ টা ২৭ মিনিট।কিছু কিছু অভ্যাস মানুষ বদলাতে পারে না কেন জানি! ‘তোর রুমটা ঘন্টাখানেকের জন্য ছাড়তে হবে, দোস্ত।’ মেকি একটা হাসি দেয় ও, শুনে আদনানের চোখ কপালে ওঠে। ‘মানে কি?’ ‘আমার প্রচণ্ড মাথা ব্যথা, ঘন্টাখানেক ঘুমাতে হবে, আর আমার পাশের ফ্লাটে কার জানি বার্থডে পার্টি হচ্ছে।বুঝতেই পারছিস...।’ ওর করুণ মুখ দেখে মায়া লাগে আদনানের, কিছু না বলে কম্পিউটার বন্ধ করে রুমটা ছেড়ে চলে যায় ও। *** আদনান রুম থেকে বের হতেই একটু অপেক্ষা করে রাহাত।হাতে করে আনা ব্যাগ থেকে কাপড় বের করে বদলে নেয়, তারপর এতক্ষণ যে গুলো পড়ে ছিল সে গুলো ব্যাগে ঢুকিয়ে আস্তে করে বারান্দায় বেরিয়ে আসে ও।বারান্দায় শুধু কোমর সমান রেলিং।এই কারণেই আদনানদের বাসাটা বেছে নিয়েছে ও।রেলিং টপকাতে যাবে,এমন সময় লিমার উদ্বিগ্ন গলা শোনা যায়।‘ভাইয়া, কিছু লাগবে তোমার ?’ মেয়েটার জন্য করুণা লাগে রাহাতের।রুমে এসে বলে যায় যে ওর কিছু লাগবে না, শুধু ডিস্টার্ব না করলেই হবে। *** অন্ধকারে চুপচাপ সিগারেট টানছে রাহাত, আর অপেক্ষা করছে সিয়ামের জন্য। একটু আগে একটা ফোন বুথ থেকে ফোন করে সিয়ামকে এখানে আস্তে বলেছে রাহাত, গুরুত্বপূর্ণ কাজে ।আজ সিয়ামের বিয়ে, একটু পরেই বের হওয়ার কথা কমিউনিটি সেন্টারে যাওয়ার জন্য।অন্য কিছুর জন্য হলে কিংবা অন্যকোন ছেলে হলে জীবনেও বের হত না, কিন্তু রাহাত ডেকেছে বলে কথা ।রাহাতের কাছে ঋণী সিয়াম, ওর কারণেই আজ এত কিছু।না এসে যাবে কই ? *** ক্যাবটা ছেড়ে দিয়ে যেখানে দাঁড়াতে বলেছে সেখানে এসেই দাঁড়াল সিয়াম।রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে,অপেক্ষা করছে রাহাত কখন এসে পৌঁছাবে। একটু পরেই রিহা চিরতরে ওর হবে, রিহার হাসি মুখটা এক পলক দেখার জন্য লুকোচুরি করতে হবে না আর,দেখা করতে হবে না ওর ভাইদের চোখ এড়িয়ে। ‘রাহাত ভাই একজন দেবতা’,মনে মনে ভাবে সিয়াম। অন্ধকারে ওর হাসিটা কারো চোখে পড়ে না । হঠাৎ করেই একটা শক্ত-সমর্থ একটা হাত পেছন থেকে এসে মুখের উপর এঁটে বসেছে সিয়ামের, কিছু বুঝে উঠার আগেই।চিন্তা করার জন্য কয়েক সেকেন্ড সময় পেল ও, কিন্তু কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগেই ডান দিক থেকে কণ্ঠনালী আর ঘাড়ের মাঝখানের নরম আর ফাঁপা জায়গাটাতে ধারালো ৬ ইঞ্চি ছোরার ফলাটা ঢুকে গেল ধমনী-শিরা সব এফোঁড়-ওফোঁড় করে। গরু জবাই করার পর যেমন ঘরঘরে একটা শব্দ বের হয়,সিয়ামের গলা দিয়েও একইরকম শব্দ বেরিয়ে আসছে এখন।আর বেড়িয়ে আসছে গরম-আঠালো রক্ত,ফিনকি দিয়ে।থরথর করে কাঁপছে সিয়ামের শরীরটা,খিচুনি শুরু হয়েছে। কি মনে করে ওর কাঁপতে থাকা হাত থেকে এঙ্গেইজমেন্টের আংটিটা খুলে নিল খুনী! *** সকাল থেকেই অনেক ভেবে-চিন্তে যায়গাটা বাছাই করেছে রাহাত, এখান থেকে লাশটা সরিয়ে ফেলা অনেক সহজ । লাশটা এমন একটা জায়গায় লুকালো যেখান থেকে কখনই আবিষ্কৃত হওয়ার কথা না, লাশের সাথে ছুড়িটাও গায়েব করে দিল । মোবাইলের কল হিস্ট্রি ডিলিট করে পার্টস গুলো আলাদা আলাদা করে ভেঙ্গে ফেলল।তারপর এসে খুনের জায়গাটা পরিষ্কার করল এবং সবশেষে নিজের ফ্লাটে গিয়ে হাজির হল ও। ওর ফ্লাট ৪তলায়।তার উপর এই ফ্লাটে না আছে লিফট, না আছে দারোয়ান।তবু এই ফ্লাটটাই ও বেছে নিয়েছে, কারণ এটা অনেক নির্জন। কেউ কারো ধার ধারে না। ***


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now