বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
সাক্ষী
"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান promit (০ পয়েন্ট)
X
বাসের ভেতর আলো কম। নন্দিনী সামনের সিটে বসে ছিল। ব্যাগটা শক্ত করে ধরে। হঠাৎ পাশের সিট থেকে কেউ বলল,
- কোথায় যাবেন?
সে তাকাল না। লোকটা আবার বলল...
ওড়নাটা কিন্তু বেশ সুন্দর!
এরপর আচমকা টান। নন্দিনী চমকে উঠল।
এই ছাড়ুন!
বাসের ভেতর শব্দটা চাপা পড়ে গেল। একজন, তারপর আরেকজন। একটার পর একটা ছায়া উঠে দাঁড়াল। নয়জন পুরুষ। একজন কিশোরী। কারও চোখে প্রতিবাদ নেই। নয়জন মানুষরূপী পশু তাকে ভোগ করার চেষ্টা করছে। কারও মুখে কোনো শব্দ নেই। নন্দিনীর মুখ চেপে ধরা হলো। ওড়না ছিঁড়ে গেল। চিৎকার বেরোল না তার গলা থেকে কারণ তার কণ্ঠরোধ করা। ঠিক তখনই বাস থামল। একজন উঠে দাঁড়াল।শান্ত অদ্ভুত শান্ত। নন্দিনী ভেবেছিল, সেও তাদেরই একজন।তাকে ভোগ করার জন্য আসছে।
কিন্তু না। লোকটা পকেট থেকে ধীরে একটি ছুরি বের করল।
প্রথম আঘাত -গলাতে।
দ্বিতীয় আঘাত - পেটেতে।
তৃতীয় আঘাত - বুকেতে ।
চিৎকার করার আগেই শরীরগুলো পড়ে গেল। রক্ত ছিটকে পড়ল মেঝেতে। নয়জন মানুষরূপী পশুকে যেন ছেলেটি একাই কর্মফল দিয়ে দিল। নন্দিনী কাঁপছিল চোখ বন্ধ করে।লোকটা তার গায়ের শার্ট খুলে দিল। নন্দিনীর দেহ আবরণ করে দিল।শান্ত কণ্ঠে বলল,
-বাসায় চলে যাও।
-কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করবে।
-কাপড়গুলো আলাদা করে রাখবে।
-আর আত্মহত্যার কথা ভাববে না।
একটু থেমে যোগ করল,
-এখন আর কেউ কিছু করবে না আর এগুলো কেউকে বলার প্রয়োজন নেই।
বাসের দরজা খোলা ছিল। নন্দিনী দৌড়ে নামল বাস থেকে। পেছনে তাকায়নি।ছেলেটির কেমন দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।এ দৃষ্টি যেন নিষ্ঠতার নয় আবার ঘৃণারও নয়।
ব্রেকিং নিউজ
গতকাল মিরপুরে এক বাসে নয়জনের উলঙ্গ লাশ পাওয়া গেছে।কে বা কারা খুন করেছে জানা এখনও জানা যায় নি।তথ্যসুত্র বলছে,লোকগুলো ঐ বাস পরিবহনের কর্মচারী। আর তাদেরকে একটি ছুরি দিয়ে হত্যা করা হয়।পুলিশ এই নিয়ে তদন্ত করছে।বাকি খবর জানতে আমাদের পাশেই থাকুন।"
টিভিটা বন্ধ করে দিল নন্দিনী।শুধু তিক্ত লাগছে তার কাছে এই দুনিয়া।
দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে নন্দিনী চমকে উঠল।
ঠক ঠক ঠক।
ঘড়িতে সকাল দশটা। টিভি বন্ধ করা অবস্থাতেই ছিল।নন্দিনী দরজার দিকে তাকিয়ে রইল কয়েক সেকেন্ড।তারপর আবার শব্দ।
ঠক ঠক ঠক।
সে উঠে গিয়ে দরজা খুলল।
-কে?
দরজার ওপাশে দুজন মানুষ। একজন মাঝবয়সী, চোখে ক্লান্তি। আরেকজন তরুণ, নোটপ্যাড হাতে।
-আমি ওসি শহিদ উদ্দিন, মিরপুর থানার।
নন্দিনীর মুখে কোনো বিস্ময় ফুটল না।সে যেন আগে থেকেই জানে পুলিশ তার কাছে আসবে।
সে শান্ত গলায় বলল...
-ভেতরে আসুন।
ঘরের ভেতর ঢুকে ওসি একবার চারপাশে তাকাল। পরিপাটি ছোট ফ্ল্যাট।একজন একা মেয়ের থাকার মতোই।
-গত রাতের ঘটনাটা নিশ্চয়ই খবরের কাগজে দেখেছেন?
ওসি বলল।
-দেখেছি।
-বাসে নয়জন মানুষ খুন হয়েছে।
-জানি।
ওসি এবার সরাসরি তাকাল তার দিকে। সেই বাসের সিসিটিভি ফুটেজে আপনাকে দেখা গেছে। নন্দিনী একটুও বিচলিত হলো না।ব্যাগ থেকে একটি পলিথিন বের করল।
-এই নিন প্রমাণ।
ওসি থমকে গেল।
-এগুলো কী?
-গত রাতে ওরা আমাকে ধ*র্ষণ করতে চেয়েছিল।
এই কাপড়, এই রিপোর্ট সব প্রমাণ।
ঘরে কয়েক সেকেন্ড নিস্তব্ধতা।সহকারী অফিসার কলম থামিয়ে তাকিয়ে রইল।
-তাহলে...
ওসি গলা পরিষ্কার করে বলল,
-খুনটা কে করেছে?
নন্দিনী ধীরে বসে পড়ল।
-আমি করিনি।
-তাহলে কে?
নন্দিনী জানালার দিকে তাকাল।বাইরে রোদ।স্বাভাবিক এক সকাল।
-একজন ছেলে।
-নাম?
-অকৃ।
কলম থেমে গেল।ওসির চোখে অস্বস্তি।
-আপনি নিশ্চিত?
-হ্যাঁ।
-বয়স...
- কুড়ির থেকে ত্রিশের মধ্যে।
-সে কী বলেছিল?
নন্দিনী চোখ নামাল।
-বলেছিল…
“পুলিশকে শুধু আমার নাম বলবেন।
আমার নাম মিডিয়ায় আসবে না।
-আর কিছু?
নন্দিনী একটু থেমে বলল...
-বলেছিল...
“এই দুনিয়ায় কিছু অপরাধের বিচার মানুষ করে না।
তাই কেউ কেউ বাধ্য হয় নিজেই সেটির বিচার করে।
ঘরটা আবার চুপ হয়ে গেল। ওসি উঠে দাঁড়াল।
-আপনাকে থানায় যেতে হবে।
-জানি।
-ভয় পাচ্ছেন না?
নন্দিনী প্রথমবারের মতো সরাসরি তাকাল।
-ভয় তো কাল রাতে পেয়েছিলাম। আজ নয়।
ওসি দরজার দিকে এগোল।
সহকারী নিচু গলায় বলল.
-স্যার, অকৃ তাহলে ফিরে এসেছে না তো …
ওসি কড়া স্বরে বলল...
-চুপ!!
নন্দিনীর মনে শুধু একটাই প্রশ্ন ঘুরছে...
যে মানুষটা তাকে বাঁচাল, সে কি খুনি নাকি এই সমাজের আয়না?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now