বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বার্ষিক পরীক্ষা
লেখক: নাফিজ আহমেদ
কিছু কিছু স্মৃতি জীবন থেকে হারিয়ে গেলে চাইলেও আর কখনো ফিরে পাওয়া যায় না। একটা সময় ছিল—বছর শেষে সবাই মিলে বার্ষিক পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করতাম। মনে ভয় হতো, না জানি পরীক্ষায় কী হবে! এই ভাবনাতেই কেটে যেত অনেকটা সময়। দিনের সিংহভাগ সময়ই কেটে যেত পড়ার টেবিলে। যে করেই হোক, পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতেই হবে—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে চলত পড়াশোনা।
দেখতে দেখতে মনের অজান্তেই কখন যে ফাইনাল পরীক্ষা চলে আসত, তা বুঝতেই পারতাম না। প্রবাদে বলে, “সময় বা স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না”—ঠিক তেমনটাই হতো। নিশুতি রাত, একাকী পড়ার টেবিলে কত ঘণ্টা যে কেটেছে তার কোন ইয়ত্তা নেই।
মাঝে মাঝে ঘরের বাইরে থেকে ব্যাডমিন্টন খেলার আওয়াজ কর্ণকুহরে আসত। ইচ্ছা থাকলেও আর উপায় ছিল না—পরীক্ষা যে সামনেই! তাও আবার যেনতেন পরীক্ষা নয়—ফাইনাল পরীক্ষা। এর ওপরই নির্ভর করবে আগামী বছরের ফলাফল, রোল—সবকিছু। তাই চাইলেও পড়ার টেবিল ছেড়ে ওঠা হতো না।
বার্ষিক পরীক্ষা হতো বছরের শেষ দিকে। নভেম্বর–ডিসেম্বর এলেই চারদিকের বাতাস কেমন যেন ভারী হয়ে উঠত। হৃদয়ের অতলে বাসা বাঁধত এক অজানা শঙ্কা—যদি পরীক্ষা খারাপ হয়! যদি রেজাল্ট ভালো না আসে!
পড়তে পড়তে যখন ক্লান্ত লাগত, তখন জানালার ধারে গিয়ে দাঁড়াতাম। কখনো কখনো জোছনা ভেজা রজনী খুব কাছ থেকে অবলোকন করতাম। চারদিক নিরব–নিস্তব্ধ। মানুষের কোলাহল নেই, যেন পরিবেশের প্রতিটি কীটপতঙ্গও গভীর নিদ্রায় তলিয়ে গেছে। সুবহে সাদিকের আগে এ নিদ্রা ভাঙারও উপায় নেই। একমাত্র আমিই তখনো জেগে থাকতাম।
মাঝেমধ্যে আবার জোছনা হঠাৎ মিলিয়ে যেত। চাঁদ আলো হারিয়ে ফেলত। চারদিকে বিরাজ করত নিকষ আঁধার। জানালার ফাঁক দিয়ে বিস্তৃত আকাশের দিকে তাকালে কিছুই দেখা যেত না—যেন পুরো পৃথিবী আঁধারের চাদরে মোড়া।
কিছুক্ষণ জানালার পাশে হাঁটাহাঁটি করে, বা এদিক–ওদিক ঘুরে, ঘুমকে বিদায় জানিয়ে আবার পড়তে বসতাম। পড়তে পড়তে যখন ক্লান্তি চরমে উঠত, মনে মনে পরিকল্পনা করতাম—পরীক্ষা শেষে সময়টা কীভাবে কাটাব, কোথায় যাব, কী করব… কত যে পরিকল্পনা মাথায় আসত!
এভাবেই কাটত বার্ষিক পরীক্ষার দিনগুলো।
শেষ পরীক্ষার দিন তো আনন্দে লেখায় মনই বসত না। বারবার মনে হতো—এই বুঝি পরীক্ষা শেষ, আর আমি ছুটে যাব নানির বাড়ি। আমাদের দেশে বেশিরভাগ বাড়িতেই এমন হয়—বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হলেই পরিবার সবাই মিলে কোথাও বেড়াতে যায়। শীতের ছুটিটাও খুব ভালো কাটত। রাতে ব্যাডমিন্টন খেলা, তারপর ক্লান্ত শরীর নিয়ে নিজের নীড়ে ফেরা—কত আনন্দের ছিল সেইসব সময়!
গ্রামে শীতের রাত ছিল আরও বেশি মধুময়—সকল মিলে আগুন পোহানো, গল্প করা… এসব মুহূর্তের সৌন্দর্য শব্দে বর্ণনা করা সম্ভব নয়।
কিছুদিন পরই ঘোষণা আসত—অমুক দিনে বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবে। শুনলেই বুকের ভেতর কেমন জানি চিনচিন করত। ফলাফলের দিন সবাই মিলে শিশিরভেজা ঘাসের ওপর দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতাম—কখন রেজাল্ট দেওয়া হবে।
ফলাফল ভালো হলে আনন্দের সীমা থাকত না। বন্ধুদের সঙ্গে মিলেমিশে নৈশভোজের আয়োজন করতাম। সেইসব দিনগুলো কত সুন্দরভাবে কেটে গেছে—তার হিসাব নেই।
কিন্তু এখন আর আমাদের বার্ষিক পরীক্ষা হয় না। নভেম্বর–ডিসেম্বর এলেই মনে পড়ে যায় আগের দিনের কথা। জীবনের যেখানে-যে অবস্থাতেই থাকি না কেন—বছরের শেষ সময় এলেই স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে সেই বার্ষিক পরীক্ষার দিনগুলি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now