বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বাবা–মেয়ের অতৃপ্ত ভালোবাসা
লেখক: নাফিজ আহমেদ
জীবনের এই ছোট্ট অধ্যায়ে প্রতিনিয়ত জমা হয় নানা রকম গল্প। সোনার চামচ মুখে নিয়ে তিন সদস্যের পরিবারে নতুন আলো হয়ে পৃথিবীতে আসে মিম। মা–বাবার একমাত্র মেয়ে—যত্ন তো পাওয়াই কথা। কিন্তু এই সাময়িক আদর–ভালোবাসা কি সত্যিই তার জীবনে স্থায়ী হবে?
ধীরে ধীরে আনন্দে কাটতে থাকে মিমের দিনগুলো। সময়ের সাথে সে বড় হতে থাকে। বাবার চোখের মনির থেকেও যেন বেশি আদরের ছিল সে। সাধারণত আমাদের সমাজে বাবারা মেয়েদের একটু বেশিই ভালোবাসে—মিমও তার ব্যতিক্রম ছিল না। বাবা শামসুর রহমান তাকে খুব স্নেহ করতেন, সবসময় চোখে চোখে রাখতেন। প্রয়োজন–অপ্রয়োজন সব আবদারই তিনি পূরণ করে দিতেন। বাবারা মনে হয় এমনই—পকেটে টাকা না থাকলেও সন্তানের কাছে সে কষ্টটা কখনো প্রকাশ করেন না।
দেখতে দেখতে বড় হয়ে যায় মিম। ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হলো। আজ তার জীবনের প্রথম ক্লাস। বাবা নিজেই তাকে স্কুলে পৌঁছে দিলেন। ছোট্ট মিম কিছুই বুঝতে পারে না, তবুও বাবার উপদেশগুলো মাথা নাড়িয়ে শুনল। মুচকি হেসে বাবা কাজে চলে গেলেন, আর মিম ঢুকে গেল তার ক্লাসরুমে।
প্রতিদিন সকাল সকালে মা উঠে নাশতা বানিয়ে দেয় মিম ও তানভীরকে। তানভীর—মিমের থেকে চার বছরের বড় একমাত্র ভাই। ভাই–বোনের স্বাভাবিক ভালোবাসা, সম্মান আর দুষ্টুমিতে ভরা তাদের সম্পর্ক।
বাবা প্রতিদিন রুটিনমাফিক মিমকে স্কুলে পৌঁছে দিতেন। এটি ছিল তার দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ। মিমও মন্দ ছাত্রী ছিল না; ক্লাসে প্রতিবারই প্রথম স্থান অধিকার করত। তাই স্কুলে যাওয়া তার খুব ভালো লাগত।
সমাপনী পরীক্ষায় যথারীতি সবাইকে অবাক করে শুধু স্কুল নয়, পুরো ইউনিয়নে জিপিএ ৫.০০ পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করল সে। বাবা শামসুর রহমান তো খুশিতে আত্মহারা। যতটুকু পারেন মেয়ের চাওয়া–পাওয়া পূরণ করলেন। লেখাপড়ায় ভালো হওয়ায় উপজেলার সেরা স্কুলে ভর্তির সুযোগ পেল মিম। বাবা পেশাগত কারণে প্রতিদিনই উপজেলা শহরে যেতেন, তাই মিমও বাবার সাথে আগের মতোই যেতে লাগল।
এভাবে কেটে গেল চারটি বছর। এখন মিম নবম শ্রেণিতে পড়ে।
হঠাৎ এক নিরালা দুপুরে তার বাবা কর্মস্থলে স্ট্রোক করলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সকল মায়া–মমতা পিছনে ফেলে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন শামসুর রহমান। তার সঙ্গে যারা কাজ করতেন, কেউ কল্পনাও করতে পারেননি ঘটনা এত দ্রুত ঘটে যাবে।
মিম তখনো জানে না তার বাবা আর নেই—চিরকালের জন্য হারিয়ে গেছে। খবর পেয়েই পরিবারসহ উপজেলা হাসপাতালে ছুটে গেলো। হাসপাতালে এক কোণে শায়িত বাবার নিথর দেহ—যে মানুষটিকে সবাই কয়েক ঘণ্টা আগেও নাম ধরে ডাকছিল, এখন তাকে সবাই “লাশ” বলছে! এটাই কি পৃথিবীর নিয়ম?
মিম নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। তাকে বলা হয়েছিল বাবা অসুস্থ, কিন্তু যে তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন তা কেউ জানায়নি। বাবার বন্ধ চোখ দেখে চিৎকার করে উঠল সে।
যে মানুষটি সকালে সুস্থ–সবল অবস্থায় মোটরসাইকেল চালিয়ে অফিসে গেল, সে কীভাবে দুপুরেই নিথর দেহ হয়ে ফিরে আসে? এ যেন এক দুঃস্বপ্ন—চোখ খুললেই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু কিছু দুঃস্বপ্নও আর ঠিক হয় না, কারণ সেগুলো স্বপ্ন নয়—কঠোর বাস্তব।
কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাবার দেহ বাড়িতে আনা হলো। সকালের সুস্থ দেহটাই বিকেলে মৃত হয়ে ফিরল! সত্যিই আজব এই পৃথিবী। কান্নায় ভেঙে পড়ল মিম, তার মা, ভাই ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। পরে দাফন করা হলো তাকে।
এরপর শোক–দুঃখে কেটে যেতে লাগল মিমের জীবন…
পরে শুনেছি, তার বিয়ে হয়ে গেছে।
আজ ব্যস্ত শহরের ভিড়ে এক ঝলক যেন তাকে দেখলাম। সত্যিই কি সে মিম?
জানি না।
তাই এই কিছু স্মৃতি মনে করে লিখে রাখলাম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now