বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ব্যান্ডউইডথে বরকত

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোহাম্মদ শাহজামান শুভ (০ পয়েন্ট)

X লেখকঃ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ । কুমিল্লার তিতাস উপজেলার শান্ত একটি গ্রাম—বড়ই ঝলমলে এখন। এখানে ধানক্ষেতের মাঝখানে ওয়াই-ফাই চলে, আর মসজিদের পাশেই আছে “স্মার্ট ভাই মিডিয়া” নামে এক ডিজিটাল দোকান। দোকানের মালিক রাশেদ ভাই। আগে তিনি ছিলেন টেইলার মাস্টার, এখন “ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর”—এই পরিচয়েই গর্ব অনুভব করেন। একদিন সকালে তিনি দোকানে এসে নামাজের তসবিহ নামাতে নামাতে বললেন, —“ভাই, এখনকার আমলও অনলাইনে আপলোড হয়, জানো?” তার সহকারী বাবলু চোখ বড় করে বলল, —“আপলোড মানে?” —“মানে, আল্লাহ তায়ালা সার্ভারে সব ডাটা সেভ করে রাখেন। আমাদের কাজ হলো ‘হালাল ক্লাউডে’ লগইন থাকা!” বাবলু একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বলল, —“তাহলে ভাই, গীবত করলে সেটাও কি ব্যাকআপ হয়ে যায়?” রাশেদ ভাই গম্ভীর মুখে বললেন, —“এক্স্যাক্টলি! গীবত হলো ভাই ভাইরাস। একবার ঢুকলে আমলের হার্ডড্রাইভ শেষ।” দোকানে তখনো কেউ আসে নাই। তাই দুজনের আলাপ চলছিলো একেবারে দাওয়াতি কৌতুকের মতো। হঠাৎ পাশের মসজিদের ইমাম সাহেব ঢুকে বললেন, —“রাশেদ, তোমার দোকানে যে ছেলেটা ভিডিও বানায়, সে গতকাল আজানের সময় টিকটক করেছে! আমি নিজে দেখেছি।” রাশেদ হতভম্ব—“হায় আল্লাহ, আজানের সময়ও টিকটক!” ইমাম সাহেব বললেন, “আমি তো ভাবছিলাম, সে হয়তো ‘আযান চ্যালেঞ্জ’ দিচ্ছে!” সবাই হাসতে লাগল, কিন্তু রাশেদ ভাইয়ের মাথায় চিন্তা ঢুকে গেলো। সেদিন রাতে তিনি নিজের ফেসবুক স্ক্রল করতে গিয়ে দেখলেন—নিজেরই একটা ভিডিও ভাইরাল! ক্যাপশন: “রাশেদ ভাইয়ের তসবিহ চ্যালেঞ্জ—কে কে পারবেন?” ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তিনি নামাজের আগে সেলফি নিচ্ছেন, হাতে তসবিহ, পেছনে ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ব্যানার। ক্যামেরায় কেউ লিখেছে—#SpiritualInfluencer #TitasTrends। রাশেদ বললেন, “ইন্নালিল্লাহ! আমি তো শুধু টেস্ট করতে গেছিলাম ক্যামেরা কাজ করে কিনা!” স্ত্রী পাশ থেকে বলল, —“আপনি তো সেদিন বললেন, লাইভে নামাজ পড়লে ‘রিচ’ বাড়ে!” রাশেদ ধপাস করে সোফায় বসে বললেন, “রিচ বাড়ে, কিন্তু ঈমান কমে যায়!” পরদিন সকালে তিনি দোকানে গিয়ে একটা ব্যানার লাগালেন— “স্মার্ট ভাই মিডিয়া: শুধু হালাল কনটেন্ট!” এরপর থেকেই মজার মজার ঘটনা ঘটতে লাগল। একদিন এক লোক এলো— —“ভাই, একটা ভিডিও বানাবো। নাম হবে ‘গরুর হাটে ঈমান পরীক্ষা’। আমি গরুর দড়ি ধরে হাঁটবো, আপনি বলবেন—‘এই ভাইয়ের ঈমান কত টেকসই!’” রাশেদ শান্ত গলায় বললেন, —“ভাই, আপনার গরু বেচুন, ঈমানটাও সেভ করুন।” আরেকদিন এক বাচ্চা ছেলে এসে বলল, —“ভাই, আমি টিকটকে দোয়া শিখাতে চাই।” —“ভালো কথা!” —“তবে ব্যাকগ্রাউন্ডে হিন্দি গান বাজবে, তাতে ভাইব আসে।” রাশেদ এবার গম্ভীর মুখে বললেন, —“ভাইব না ভাই, ভাইরাস ঢুকবে!” কয়েকদিন পর রাশেদ ভাই নতুন উদ্যোগ নিলেন—‘ইমানের ওয়াই-ফাই’। এটা এমন এক ওয়াই-ফাই, যেখানে সংযুক্ত হলে শুধু ইসলামিক কনটেন্ট দেখা যায়। ইউটিউবে ঢুকলে কেবল আলেমদের ওয়াজ, ইসলামিক গজল, তাফসির, আর নামাজ শেখার ভিডিও। গ্রামের লোকজন হেসে বলল, —“রাশেদ ভাই, এইটা আবার কী?” তিনি গর্ব করে বললেন, —“এই হলো ঈমানের ওয়াই-ফাই। যার পাসওয়ার্ড—‘আস্তাগফিরুল্লাহ২০২৫’।” প্রথম দিনই কয়েকজন কানেক্ট করল। একজন বলল, “ভাই, আমার ফোনে ইউটিউব খোলেনা।” —“খুলবে না, কারণ আপনি ‘নাচগান’ সার্চ দিচ্ছেন। এখানে কেবল ‘নামাজ’ খুলবে।” আরেকজন বলল, “ফেসবুক খুলছে না।” —“ফেসবুক খোলে, তবে শুধু ইসলামিক গ্রুপগুলা। আর ‘কমেন্টে ঝগড়া’ দিতে চাইলে সঙ্গে সঙ্গে লগআউট!” ধীরে ধীরে এই ওয়াই-ফাই গ্রামে জনপ্রিয় হয়ে গেলো। মেয়েরা কোরআন শেখার ভিডিও দেখে, ছেলেরা নামাজের সময় মনে রাখে, এমনকি গ্রামের এক চাচা পর্যন্ত বললেন— —“আগে তো আমি ফোনে গেম খেলতাম, এখন দেখি গুনাহের লেভেল কমছে!” কিন্তু একদিন এক বিপত্তি ঘটল। বাবলু ভুলে পাসওয়ার্ড পাল্টে দিলো। নতুন পাসওয়ার্ড: “bismillah007”। এতে করে আশেপাশের গ্রামের লোকজনও কানেক্ট হয়ে গেল। কেউ ভাবল, এটা ফ্রি ওয়াই-ফাই! ফলাফল? এক রাতে হঠাৎ নেট ধীর হয়ে গেল। রাশেদ ভাই দেখলেন, নেটওয়ার্কে সংযুক্ত ৪৭ জন, আর ডেটা শেষ! তিনি লগ চেক করে দেখলেন, এক ছাত্র “তিলাওয়াত” লিখতে গিয়ে ভুল করে “টিকটক তিলাওয়াত” সার্চ দিয়েছে! আরেকজন “ইমান বৃদ্ধি” লিখেছে, কিন্তু নিচে অটোসাজেস্টে “ইমানি নাচ” খুলে গেছে! রাশেদ চেঁচিয়ে বললেন, “ইন্নালিল্লাহ! ইমানের ওয়াই-ফাইও ফিতনায় পড়ে গেছে!” সেদিন তিনি জরুরি বৈঠক ডাকলেন মসজিদের বারান্দায়। সবাই জড়ো হলো। ইমাম সাহেব বললেন, —“ভাই রাশেদ, আপনার ওয়াই-ফাইটা মাশাআল্লাহ, কিন্তু মানুষ তো মানুষই—যদি সংযম না থাকে, তাহলে আল্লাহর নামেও তারা ভিডিও বানাবে।” রাশেদ মাথা নিচু করে বললেন, —“ঠিকই বলেছেন, হুজুর। আসল ওয়াই-ফাই তো আল্লাহর সাথে সংযোগ, নেট নয়।” তখন পাশের হাটের কাবাবওয়ালা মজিদ বলল, —“তবে একটা কথা ভাই, আপনি যদি এই ওয়াই-ফাইয়ের নাম দেন ‘আত্মসমালোচনার নেটওয়ার্ক’, তাহলেই বুঝি কাজ হবে।” সবাই হেসে উঠল। রাশেদও হেসে বললেন, —“ঠিক আছে, নাম পাল্টে দিচ্ছি—‘TAQWA Net’। লগইন করলে একটা পপআপ আসবে: ‘আজ আপনি আল্লাহকে কতবার স্মরণ করেছেন?’” এরপর থেকে আশ্চর্য এক পরিবর্তন হলো গ্রামে। মানুষ আগে ফেসবুকে লিখত—“আজ নামাজে গিয়েছি, সবাই দোয়া করবেন।” এখন তারা শুধু হৃদয়ে বলে, কিন্তু পোস্ট দেয় না। বাচ্চারা ইউটিউবে “ভাইরাল ডান্স” না দেখে “ভাইরাল দোয়া” দেখে। আর রাশেদ ভাই? তিনি প্রতিদিন দোকানে বসে বলতেন, —“ভাই, সোশ্যাল মিডিয়া তো ছুরি—তুমি ইফতার কাটবে না গলা, সেটা তোমার হাতে।” একদিন ইমাম সাহেব এসে বললেন, —“রাশেদ, তুমি সত্যি বিজয়ী। এখনকার যুগে সোশ্যাল মিডিয়ায় থেকেও যে মানুষ নিজের ঈমান বাঁচাতে পারে, সে-ই প্রকৃত সফল।” রাশেদ মৃদু হেসে বললেন, —“হুজুর, আমি শুধু সংযোগটা পাল্টেছি—নেট থেকে নিয়ত।” তারপর তিনি ফোনটা পকেটে রাখলেন, মসজিদের দিকে হাঁটতে লাগলেন। স্ক্রিনে তখনও নোটিফিকেশন ভাসছে—“আপনার ভিডিও ‘ইমানের ওয়াই-ফাই’ ১০ হাজার বার দেখা হয়েছে।” তিনি চুপচাপ সেটি মুছে দিলেন, মুখে বললেন, —“ভাইরাল না হোক, হিদায়াত ছড়াক।” গ্রামের আকাশে আজান ভেসে উঠল। চারদিকের মানুষ জানত, এ যুগে যার ফোনের স্ক্রিনে আল্লাহর স্মরণ থাকে, সেই-ই প্রকৃত অনলাইন মুমিন। —শেষ— (এই গল্পটি একটি রম্য দাওয়াতি বার্তা বহন করে: প্রযুক্তি নয়, নিয়তই ঠিক করে ঈমানের দিকনির্দেশ।)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now